খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন/Khokababur Protyaborton/The return of the young master

খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

কিন্তু চন্ন বলিয়া কেহ উত্তর দিল না , দুষ্টামি করিয়া কোনো শিশুর কন্ঠ হাসিয়া উঠিল না ; কেবল পদ্মা পূর্ববৎ ছল্‌ছল্‌ খল্‌খল্‌ করিয়া ছুটিয়া চলিতে লাগিল , যেন সে কিছুই জানে না, এবং পৃথিবীর এই-সকল সামান্য ঘটনায় মনোযোগ দিতে তাহার যেন এক মুহূর্ত সময় নাই ।

সন্ধ্যা হইয়া আসিলে উৎকন্ঠিত জননী চার দিকে লোক পাঠাইয়া দিলেন । লন্ঠন হাতে নদীতীরে লোক আসিয়া দেখিল , রাইচরণ নিশীথের ঝোড়ো বাতাসের মতো সমস্ত ক্ষেত্রময় “ বাবু খোকাবাবু আমার ” বলিয়া ভগ্নকন্ঠে চীৎকার করিয়া বেড়াইতেছে । অবশেষে ঘরে ফিরিয়া রাইচরণ দড়াম করিয়া মাঠাকরুনের পায়ের কাছে আসিয়া আছাড় খাইয়া পড়িল । তাহাকে যত জিজ্ঞাসা করে সে কাঁদিয়া বলে , “ জানি নে, মা । ”

যদিও সকলেই মনে মনে বুঝিল পদ্মারই এই কাজ , তথাপি গ্রামের প্রান্তে যে এক দল বেদের সমাগম হইয়াছে তাহাদের প্রতিও সন্দেহ দূর হইল না । এবং মাঠাকুরানীর মনে এমন সন্দেহ উপস্থিত হইল যে, রাইচরণই বা চুরি করিয়াছে ; এমন-কি , তাহাকে ডাকিয়া অত্যন্ত অনুনয়পূর্বক বলিলেন , “ তুই আমার বাছাকে ফিরিয়ে এনে দে — তুই যত টাকা চাস তোকে দেব । ” শুনিয়া রাইচরণ কেবল কপালে করাঘাত করিল । গৃহিণী তাহাকে দূর করিয়া তাড়াইয়া দিলেন ।

অনুকূলবাবু তাঁহার স্ত্রীর মন হইতে রাইচরণের প্রতি এই অন্যায় সন্দেহ দূর করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন ; জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, রাইচরণ এমন জঘন্য কাজ কী উদ্দেশ্যে করিতে পারে । গৃহিণী বলিলেন , “ কেন । তাহার গায়ে সোনার গহনা ছিল । ”

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

রাইচরণ দেশে ফিরিয়া গেল । এতকাল তাহার সন্তানাদি হয় নাই , হইবার বিশেষ আশাও ছিল না । কিন্তু দৈবক্রমে বৎসর না যাইতেই তাহার স্ত্রী অধিক বয়সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করিয়া লোকলীলা সংবরণ করিল ।

এই নবজাত শিশুটির প্রতি রাইচরণের অত্যন্ত বিদ্বেষ জন্মিল । মনে করিল , এ যেন ছল করিয়া খোকাবাবুর স্থান অধিকার করিতে আসিয়াছে । মনে করিল , প্রভুর একমাত্র ছেলেটি জলে ভাসাইয়া নিজে পুত্রসুখ উপভোগ করা যেন একটি মহাপাতক । রাইচরণের বিধবা ভগ্নী যদি না থাকিত তবে এ শিশুটি পৃথিবীর বায়ু বেশিদিন ভোগ করিতে পাইত না ।

আশ্চর্যের বিষয় এই যে , এই ছেলেটিও কিছুদিন বাদে চৌকাঠ পার হইতে আরম্ভ করিল এবং সর্বপ্রকার নিষেধ লঙ্ঘন করিতে সকৌতুক চতুরতা প্রকাশ করিতে লাগিল । এমন-কি , ইহার কন্ঠস্বর হাস্যক্রন্দনধ্বনি অনেকটা সেই শিশুরই মতো । এক-একদিন যখন ইহার কান্না শুনিত রাইচরণের বুকটা সহসা ধড়াস্‌ করিয়া উঠিত; মনে হইত, দাদাবাবু রাইচরণকে হারাইয়া কোথায় কাঁদিতেছে ।

ফেল্‌না — রাইচরণের ভগ্নী ইহার নাম রাখিয়াছিল ফেল্‌না — যথাসময়ে পিসিকে পিসি বলিয়া ডাকিল । সেই পরিচিত ডাক শুনিয়া একদিন হঠাৎ রাইচরণের মনে হইল, ‘ তবে তো খোকাবাবু আমার মায়া ছাড়িতে পারে নাই , সে তো আমার ঘরে আসিয়াই জন্মগ্রহণ করিয়াছে । ‘

এই বিশ্বাসের অনুকূলে কতকগুলি অকাট্য যুক্তি ছিল, প্রথমত , সে যাইবার অনতিবিলম্বেই ইহার জন্ম । দ্বিতীয়ত , এতকাল পরে সহসা যে তাহার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান জন্মে এ কখনোই স্ত্রীর নিজগুণে হইতে পারে না । তৃতীয়ত , এও হামাগুড়ি দেয় , টল্‌মল্‌ করিয়া চলে, এবং পিসিকে পিসি বলে । যে-সকল লক্ষণ থাকিলে ভবিষ্যতে জজ হইবার কথা তাহার অনেকগুলি ইহাতে বর্তিয়াছে ।

তখন মাঠাকরুনের সেই দারুণ সন্দেহের কথা হঠাৎ মনে পড়িল — আশ্চর্য হইয়া মনে মনে কহিল , ‘ আহা , মায়ের মন জানিতে পারিয়াছিল তাহার ছেলেকে কে চুরি করিয়াছে । ‘ তখন , এতদিন শিশুকে যে অযত্ন করিয়াছে সেজন্য বড়ো অনুতাপ উপস্থিত হইল । শিশুর কাছে আবার ধরা দিল ।

এখন হইতে ফেল্‌নাকে রাইচরণ এমন করিয়া মানুষ করিতে লাগিল যেন সে বড়ো ঘরের ছেলে । সাটিনের জামা কিনিয়া দিল । জরির টুপি আনিল । মৃত স্ত্রীর গহনা গলাইয়া চুড়ি এবং বালা তৈয়ারি হইল । পাড়ার কোনো ছেলের সহিত তাহাকে খেলিতে দিত না; রাত্রিদিন নিজেই তাহার একমাত্র খেলার সঙ্গী হইল । পাড়ার ছেলেরা সুযোগ পাইলে তাহাকে নবাবপুত্র বলিয়া উপহাস করিত এবং দেশের লোক রাইচরণের এইরূপ উন্মত্তবৎ আচরণে আশ্চর্য হইয়া গেল ।

ফেল্‌নার যখন বিদ্যাভ্যাসের বয়স হইল তখন রাইচরণ নিজের জোতজমা সমস্ত বিক্রয় করিয়া ছেলেটিকে কলিকাতায় লইয়া গেল । সেখানে বহুকষ্টে একটি চাকরি জোগাড় করিয়া ফেল্‌নাকে বিদ্যালয়ে পাঠাইল । নিজে যেমন-তেমন করিয়া থাকিয়া ছেলেকে ভালো খাওয়া , ভালো পরা , ভালো শিক্ষা দিতে ত্রুটি করিত না । মনে মনে বলিত , ‘ বৎস , ভালোবাসিয়া আমার ঘরে আসিয়াছ বলিয়া যে তোমার কোনো অযত্ন হইবে , তা হইবে না । ‘

এমনি করিয়া বারো বৎসর কাটিয়া গেল । ছেলে পড়ে শুনে ভালো এবং দেখিতে শুনিতেও বেশ , হৃষ্টপুষ্ট উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ — কেশবেশবিন্যাসের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি , মেজাজ কিছু সুখী এবং শৌখিন । বাপকে ঠিক বাপের মতো মনে করিতে পারিত না । কারণ , রাইচরণ স্নেহে বাপ এবং সেবায় ভৃত্য ছিল , এবং তাহার আর-একটি দোষ ছিল সে যে ফেল্‌নার বাপ এ কথা সকলের কাছেই গোপন রাখিয়াছিল । যে ছাত্রনিবাসে ফেল্‌না বাস করিত সেখানকার ছাত্রগণ বাঙাল রাইচরণকে লইয়া সর্বদা কৌতুক করিত এবং পিতার অসাক্ষাতে ফেল্‌নাও যে সেই কৌতুকালাপে যোগ দিত না তাহা বলিতে পারি না । অথচ নিরীহ বৎসলস্বভাব রাইচরণকে সকল ছাত্রই বড়ো ভালোবাসিত; এবং ফেল্‌নাও ভালোবাসিত , কিন্তু পূর্বেই বলিয়াছি ঠিক বাপের মতো নহে- তাহাতে কিঞ্চিৎ অনুগ্রহ মিশ্রিত ছিল ।

রাইচরণ বৃদ্ধ হইয়া আসিয়াছে । তাহার প্রভু কাজকর্মে সর্বদাই দোষ ধরে । বাস্তবিক তাহার শরীরও শিথিল হইয়া আসিয়াছে , কাজেও তেমন মন দিতে পারে না , কেবলই ভুলিয়া যায় — কিন্তু , যে ব্যক্তি পুরা বেতন দেয় বার্ধক্যের ওজর সে মানিতে চাহে না । এ দিকে রাইচরণ বিষয় বিক্রয় করিয়া যে নগদ টাকা সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছিল তাহাও নিঃশেষ হইয়া আসিয়াছে । ফেলনা আজকাল বসনভূষণের অভাব লইয়া সর্বদাই খুঁতখুঁত করিতে আরম্ভ করিয়াছে ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

একদিন রাইচরণ হঠাৎ কর্মে জবাব দিল এবং ফেল্‌নাকে কিছু টাকা দিয়া বলিল , “ আবশ্যক পড়িয়াছে , আমি কিছুদিনের মতো দেশে যাইতেছি । ” এই বলিয়া বারাসাতে গিয়া উপস্থিত হইল । অনুকূলবাবু তখন সেখানে মুন্সেফ ছিলেন ।

অনুকূলের আর দ্বিতীয় সন্তান হয় নাই , গৃহিণী এখনো সেই পুত্রশোক বক্ষের মধ্যে লালন করিতেছিলেন ।

একদিন সন্ধ্যার সময় বাবু কাছারি হইতে আসিয়া বিশ্রাম করিতেছেন এবং কর্ত্রী একটি সন্ন্যাসীর নিকট হইতে সন্তানকামনায় বহু মূল্যে একটি শিকড় ও আশীর্বাদ কিনিতেছেন, এমন সময়ে প্রাঙ্গনে শব্দ উঠিল “ জয় হোক, মা ” ।

বাবু জিজ্ঞাসা করিলেন , “ কে রে । ”

রাইচরণ আসিয়া প্রণাম করিয়া বলিল , “ আমি রাইচরণ । ”

বৃদ্ধকে দেখিয়া অনুকূলের হৃদয় আর্দ্র হইয়া উঠিল । তাহার বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে সহস্র প্রশ্ন এবং আবার তাহাকে কর্মে নিয়োগ করিবার প্রস্তাব করিলেন ।

রাইচরণ ম্লান হাস্য করিয়া কহিল , “ মাঠাকরুনকে একবার প্রণাম করিতে চাই । ”

অনুকূল তাহাকে সঙ্গে করিয়া অন্তঃপুরে লইয়া গেলেন । মাঠাকরুন রাইচরণকে তেমন প্রসন্নভাবে সমাদর করিলেন না; রাইচরণ তৎপ্রতি লক্ষ না করিয়া জোড়হস্তে কহিল , “ প্রভু , মা , আমিই তোমাদের ছেলেকে চুরি করিয়া লইয়াছিলাম । পদ্মাও নয় , আর কেহও নয় , কৃতঘ্ন অধম এই আমি — ”

অনুকূল বলিয়া উঠিলেন , “ বলিস কী রে । কোথায় সে । ”

“ আজ্ঞা , আমার কাছেই আছে , আমি পরশ্ব আনিয়া দিব । ”

সেদিন রবিবার , কাছারি নাই । প্রাতঃকাল হইতে স্ত্রীপুরুষ দুইজনে উন্মুখভাবে পথ চাহিয়া বসিয়া আছেন । দশটার সময় ফেল্‌নাকে সঙ্গে লইয়া রাইচরণ আসিয়া উপস্থিত হইল ।

অনুকূলের স্ত্রী কোনো প্রশ্ন কোনো বিচার না করিয়া , তাহাকে কোলে বসাইয়া , তাহাকে স্পর্শ করিয়া , তাহার আঘ্রাণ লইয়া , অতৃপ্তনয়নে তাহার মুখ নিরীক্ষণ করিয়া , কাঁদিয়া হাসিয়া ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন । বাস্তবিক ছেলেটি দেখিতে বেশ — বেশভূষা আকারপ্রকারে দারিদ্র্যের কোনো লক্ষণ নাই । মুখে অত্যন্ত প্রিয়দর্শন বিনীত সলজ্জ ভাব । দেখিয়া অনুকূলের হৃদয়েও সহসা স্নেহ উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল ।

তথাপি তিনি অবিচলিত ভাব ধারণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , “ কোনো প্রমাণ আছে ? ”

রাইচরণ কহিল , “ এমন কাজের প্রমাণ কী করিয়া থাকিবে । আমি যে তোমার ছেলে চুরি করিয়াছিলাম সে কেবল ভগবান জানেন , পৃথিবীতে আর কেহ জানে না । ”

অনুকূল ভাবিয়া স্থির করিলেন যে , ছেলেটিকে পাইবামাত্র তাঁহার স্ত্রী যেরূপ আগ্রহের সহিত তাহাকে আগলাইয়া ধরিয়াছেন এখন প্রমাণসংগ্রহের চেষ্টা করা সুযুক্তি নহে ; যেমনই হউক , বিশ্বাস করাই ভালো । তা ছাড়া রাইচরণ এমন ছেলেই বা কোথায় পাইবে । এবং বৃদ্ধ ভৃত্য তাঁহাকে অকারণে প্রতারণাই বা কেন করিবে ।

ছেলেটির সহিতও কথোপকথন করিয়া জানিলেন যে , সে শিশুকাল হইতে রাইচরণের সহিত আছে এবং রাইচরণকে সে পিতা বলিয়া জানিত , কিন্তু রাইচরণ কখনো তাহার প্রতি পিতার ন্যায় ব্যবহার করে নাই , অনেকটা ভৃত্যের ভাব ছিল ।

অনুকূল মন হইতে সন্দেহ দূর করিয়া বলিলেন , “ কিন্তু রাইচরণ , তুই আর আমাদের ছায়া মাড়াইতে পাইবি না । ”

রাইচরণ করজোড়ে গদ্‌গদ কণ্ঠে বলিল , “ প্রভু বৃদ্ধ বয়সে কোথায় যাইব । ”

কর্ত্রী বলিলেন , “ আহা, থাক্‌ । আমার বাছার কল্যাণ হউক । ওকে আমি মাপ করিলাম । ”

ন্যায়পরায়ণ অনুকূল কহিলেন , “ যে কাজ করিয়াছে উহাকে মাপ করা যায় না । ”

রাইচরণ অনুকুলের পা জড়াইয়া কহিল , “ আমি করি নাই, ঈশ্বর করিয়াছেন । ”

নিজের পাপ ঈশ্বরের স্কন্ধে চাপাইবার চেষ্টা দেখিয়া অনুকূল আরো বিরক্ত হইয়া কহিলেন , “ যে এমন বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করিয়াছে তাহাকে আর বিশ্বাস করা কর্তব্য নয় । ”

রাইচরণ প্রভুর পা ছাড়িয়া কহিল , “ সে আমি নয়, প্রভু । ”

“ তবে কে । ”

“ আমার অদৃষ্ট । ”

কিন্তু এরূপ বৈফিয়তে কোনো শিক্ষিত লোকের সন্তোষ হইতে পারে না ।

রাইচরণ বলিল , “ পৃথিবীতে আমার আর কেহ নাই । ”

ফেল্‌না যখন দেখিল সে মুন্সেফের সন্তান , রাইচরণ তাহাকে এত দিন চুরি করিয়া নিজের ছেলে বলিয়া অপমানিত করিয়াছে , তখন তাহার মনে মনে কিছু রাগ হইল । কিন্তু তথাপি উদারভাবে পিতাকে বলিল , “ বাবা , উহাকে মাপ করো । বাড়িতে থাকিতে না দাও , উহার মাসিক কিছু টাকা বরাদ্দ করিয়া দাও । ”

ইহার পর রাইচরণ কোনো কথা না বলিয়া একবার পুত্রের মুখ নিরীক্ষণ করিল , সকলকে প্রণাম করিল ; তাহার পর দ্বারের বাহির হইয়া পৃথিবীর অগণ্য লোকের মধ্যে মিশিয়া গেল । মাসান্তে অনুকূল যখন তাহার দেশের ঠিকানায় কিঞ্চিৎ বৃত্তি পাঠাইলেন তখন সে টাকা ফিরিয়া আসিল । সেখানে কোনো লোক নাই ।

But no one answered with a childish Channo, no childish voice laughed in response, only the Padma flowed past as before, whirling and gurgling, as if she knew nothing and did not have the time to pay attention to such trivial matters.

As it grew dark, the alarmed mother sent people all over the place. People came with search lights to the river’s side and found Raicharan roaming the area like a restless wind, crying, “Babu, young master!” in a broken voice. Eventually he came home and collapsed at her feet, answering all questions that were asked of him with, “I do not know!”

Even though people knew that the river was responsible, they still suspected that the band of gypsies camped outside the village were involved in some way. The child’s mother even suspected Raicharan of kidnapping; asking him with many a supplication, “Bring my child back to me, I will give you as much money as you want…” Raicharan only clapped his hands to his brow in response. She sent him away in anger. Anukul attempted to plead on Raicharan’s behalf with his wife, asking her why he would do such a thing. She replied, “He had gold on his wrists and his feet!”

Raicharan went back to his village. He had no children previously, but in a cruel twist of fate, within a year, his wife died in the process of giving birth to a son.

Raicharan felt a great sense of animosity towards the boy. He felt that the child had come to usurp his little master’s position. He suffered, thinking that it was a sin to enjoy the company of his own son after having failed to save his employer’s son from drowning. In fact, this child would not have survived for very long without the care of Raicharan’s widowed sister.

Most amazingly, this child too started crossing the threshold and started breaking various restrictions with amusing willfulness. Even his cries of distress and joy sounded very similar to the departed child. Some days when he heard his son cry, his heart used to skip a beat, it was as though the little master was crying for Raicharan!

Phelna, the foundling – Raicharan’s sister had named the boy thus, started calling his aunt Pishi at the right age. When Raicharan heard him use this familiar form of address, he suddenly thought, “It does not seem like the little master could leave me after all, he has come back to me.” There were some reasons behind such a thought, Phelna had been born shortly after the tragic death of the other child. Secondly, he did not believe that his wife was to be entirely credited for the birth of a child after all this time. Thirdly this child too crawled and walked unsteadily, and called his aunt Pishi. This was an indication of his future potential as a judge.

He suddenly remembered the terrible suspicions voiced by his employer’s wife and thought with amazement, “How did her mother’s heart know the truth about who had stolen her child?” He began to regret his previous neglect of his son and once again surrendered himself to a child.

From then on, Raicharan began raising his son in a manner befitting a child born to wealthy parents. He bought satin shirts and brocade caps. His wife’s gold was melted down to make bangles for the child. Phelna was not allowed to play with the neighbourhood boys as Raicharan was now his only play mate. These boys started to refer to him as Prince whenever they had the opportunity and everyone thought that Raicharan had completely lost his senses.

When Phelna was old enough to start school, Raicharan sold what little land he had and took the boy off to Kolkata. He found employment with great difficulty and enrolled the boy at a school. He provided Phelna with everything the child asked for while ignoring his own needs, saying to himself, “Just because you came to my family out of love, does not mean I shall give you any less.”

Twelve years passed thus. The boy did well at school and turned out to be a good-looking child, even if he did pay a little too much attention to his hair, and was just a little too fond of comfort and luxury. He was never quite able to think of Raicharan as his father. There were two reasons behind this, the first being the fact that Raicharan was a father in his affections but remained a servant in the way he cared for the boy. The second was the fact that he concealed the boy’s parentage from everyone. The students from Phelna’s boarding school all joked about Raicharan’s rustic ways; sadly, even Phelna took part in this when Raicharan was not around. This was in spite of the fact that they all, including Phelna, loved kindhearted old Raicharan; but as I have said earlier, Phelna could never look upon Raicharan without an element of pity in his heart.

Raicharan was getting older. His employer constantly found fault with what he did. Raicharan was actually feeling worn out and kept forgetting things at work. Unfortunately employers do not accept old age as an excuse. At home, the situation was hardly better; the money he had got from the sale of his land was almost gone, and Phelna was starting to complain about the lack of new clothes.

One day Raicharan suddenly resigned from his job and gave Phelna some money, saying, “There is a pressing need for me to go back to the village.” He then went to Barasat, where he knew Anukul was working in the Court.

Anukul and his wife had not had another child since their first son died, and his wife continued to nurse her loss.

One evening, he was resting at home. His wife was about to pay a mendicant a great deal of money for a cure for her childless state, when someone called out, “God bless you, Mother!”

Anukul asked, “Who is it?”

Raicharan entered and said, “It’s me.”

Anukul felt mortified at the sight of his old caregiver. He enquired about his current position and asked him to start working for them again.

Raicharan smiled weakly and said, “Let me first go and say hello to your wife.”

Anukul took him into the house. His wife was not pleased to see Raicharan, who paid little heed to the distinctly cool reception and said, hands folded in entreaty, “I was the one who stole your child! Not the river, not the gypsies, it was this ungrateful wretch.”

Anukul said, “What are you saying? Where is he?”

“He is at my home. I will bring him here the day after tomorrow.”

The day was a Sunday. Anukul did not have to go to work. The couple watched the road with great eagerness. At ten o’clock, Raicharan appeared with Phelna.

Anukul’s wife had no questions or doubts about him as she drew him close, touched his face and looked at him with all the unsatisfied love that was in her heart. Tears poured down her face. He was a handsome boy, with no visible signs of poverty in his clothing or his appearance. His manner was very pleasant, polite and slightly apologetic. Even Anukul felt his heart fill with love as he looked upon the child.

He still put on a calm exterior and asked, “What proof do you have?”

Raicharan answered, “What proof can there be? Only God knows that I stole your child.”

Anukul saw his wife’s reaction to the child and thought that it would not be wise to ask for proof at this stage. It was easier to believe. Besides, he asked himself, where would Raicharan ever find such a child? Why would he trick them like this again?

He also spoke to the boy and found that he had lived with Raicharan all his life and had known him as his father, but Raicharan had behaved less as a father and more like a servant.

All doubt now removed from his lie, Anukul said, “Raicharan, you are never to come to our house ever again!”

Raicharan said emotionally, “Master, where else will I go at this age?”

Anukul’s wife said, “Poor creature! I forgive him! May my child be blessed in return!”

Anukul, who could be very righteous, said, “He cannot be forgiven after what he did.”

Raicharan implored Anukul, “I did not do it, God made me do it!”

Anukul grew even more annoyed at what he saw as an attempt to blame God for his wrongdoings on Raicharan’s part, saying, “One can never believe such a treacherous man.”

Raicharan stopped pleading and said, “That was not me.”

“Then who was it?”

“It was my fate.”

But such an answer was unlikely to satisfy an educated man such as Anukul.

Raicharan said, “I have no one else in the world.”

Phelna was quite annoyed that he had been kidnapped by Raicharan and kept in penury all his life, even though he was a son of a District official. In spite of that, he said rather magnanimously, “Father, forgive him. Let us give him a monthly allowance, if he is to never return here.”

Raicharan looked at his son’s face once, said nothing more and left the house after saluting everyone, to blend into the great anonymous sea of humanity. When Anukul sent a small sum of money to his village at the end of that month, it came back. There was no one living there anymore.

3 thoughts on “খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন/Khokababur Protyaborton/The return of the young master

  1. Dear Ruma: Thanks a lot indeed for giving me the opportunity to go through the great short story once again after many years. All the very best wishes. Reza Rahman, Dhaka, Cell # 88-01713013771

  2. didi…thanlks a million🙂 je golpo gulo age just porar jonno porechi seta notun kore porar sujog kore dile…i changed, my feelings changed therefore my understanding with this story has changed…thank u again

Comments are closed.