Chokher Bali 7/চোখের বালি ৭

courtesan-kalighat-painting-PA02_l

রাজলক্ষ্মী জন্মভূমিতে পৌঁছিলেন। বিহারী তাঁহাকে পৌঁছাইয়া চলিয়া আসিবে এরূপ কথা ছিল; কিন্তু সেখানকার অবস্থা দেখিয়া, সে ফিরিল না।

রাজলক্ষ্মীর পৈতৃক বাটিতে দুই-একটি অতিবৃদ্ধা বিধবা বাঁচিয়া ছিলেন মাত্র। চারি দিকে ঘন জঙ্গল ও বাঁশবন, পুষ্করিণীর জল সবুজবর্ণ, দিনে-দুপুরে শেয়ালের ডাকে রাজলক্ষ্মীর চিত্ত উদ্‌ভ্রান্ত হইয়া উঠে।

বিহারী কহিল, “মা, জন্মভূমি বটে, কিন্তু “স্বর্গাদপি গরীয়সী’ কোনোমতেই বলিতে পারি না। কলিকাতায় চলো। এখানে তোমাকে পরিত্যাগ করিয়া গেলে আমার অধর্ম হইবে।”

রাজলক্ষ্মীরও প্রাণ হাঁপাইয়া উঠিয়াছিল। এমন সময় বিনোদিনী আসিয়া তাঁহাকে আশ্রয় দিল এবং আশ্রয় করিল।

বিনোদিনীর পরিচয় প্রথমেই দেওয়া হইয়াছে। এক সময়ে মহেন্দ্র এবং তদভাবে বিহারীর সহিত তাহার বিবাহের প্রস্তাব হইয়াছিল। বিধিনির্বন্ধে যাহার সহিত তাহার শুভবিবাহ হয়, সে লোকটির সমস্ত অন্তরিন্দ্রিয়ের মধ্যে প্লীহাই ছিল সর্বাপেক্ষা প্রবল। সেই প্লীহার অতিভারেই সে দীর্ঘকাল জীবনধারণ করিতে পারিল না।

তাহার মৃত্যুর পর হইতে বিনোদিনী, জঙ্গলের মধ্যে একটিমাত্র উদ্যানলতার মতো, নিরানন্দ পল্লীর মধ্যে মুহ্যমান ভাবে জীবনযাপন করিতেছিল। অদ্য সেই অনাথা আসিয়া তাহার রাজলক্ষ্মী পিস্‌শাশঠাকরুণকে ভক্তিভরে প্রণাম করিল এবং তাঁহার সেবায় আত্মসমর্পণ করিয়া দিল।

সেবা ইহাকেই বলে। মুহূর্তের জন্য আলস্য নাই। কেমন পরিপাটি কাজ, কেমন সুন্দর রান্না, কেমন সুমিষ্ট কথাবার্তা।

রাজলক্ষ্মী বলেন, “বেলা হইল মা, তুমি দুটি খাও গে যাও।”

সে কি শোনে? পাখা করিয়া পিসীমাকে ঘুম না পাড়াইয়া সে উঠে না।

রাজলক্ষ্মী বলেন, “এমন করিলে যে তোমার অসুখ করিবে মা।”

বিনোদিনী নিজের প্রতি নিরতিশয় তাচ্ছিল্য প্রকাশ করিয়া বলে, “আমাদের দুঃখের শরীরে অসুখ করে না পিসিমা। আহা কতদিন পরে জন্মভূমিতে আসিয়াছ, এখানে কী আছে, কী দিয়া তোমাকে আদর করিব।”

বিহারী দুইদিনে পাড়ার কর্তা হইয়া উঠিল। কেহ তার কাছে রোগের ঔষধ কেহ-বা মোকদ্দমার পরামর্শ লইতে আসে, কেহ-বা নিজের ছেলেকে বড়ো আপিসে কাজ জুটাইয়া দিবার জন্য তাহাকে ধরে, কেহ-বা তাহার কাছে দরখাস্ত লিখাইয়া লয়। বৃদ্ধদের তাসপাশার বৈঠক হইতে বাগ্‌দিদের তাড়িপানসভা পর্যন্ত সর্বত্র সে তাহার সকৌতুক কৌতূহল এবং স্বাভাবিক হৃদ্যতা লইয়া যাতায়াত করিত– কেহ তাহাকে দূর মনে করিত না, অথচ সকলেই তাহাকে সম্মান করিত।

বিনোদিনী এই অস্থানে পতিত কলিকাতার ছেলেটির নির্বাসনদণ্ডও যথাসাধ্য লঘু করিবার জন্য অন্তঃপুরের অন্তরাল হইতে চেষ্টা করিত। বিহারী প্রত্যেক বার পাড়া পর্যটন করিয়া আসিয়া দেখিত, কে তাহার ঘরটিকে প্রত্যেক বার পরিপাটি পরিচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে, একটি কাঁসার গ্লাসে দু-চারটি ফুল এবং পাতার তোড়া সাজাইয়াছে এবং তাহার গদির এক ধারে বঙ্কিম ও দীনবন্ধুর গ্রন্থাবলী গুছাইয়া রাখিয়াছে। গ্রন্থের ভিতরের মলাটে মেয়েলি অথচ পাকা অক্ষরে বিনোদিনীর নাম লেখা।

পল্লীগ্রামের প্রচলিত আতিথ্যের সহিত ইহার একটু প্রভেদ ছিল। বিহারী তাহারই উল্লেখ করিয়া প্রশংসাবাদ করিলে রাজলক্ষ্মী কহিতেন, “এই মেয়েকে কিনা তোরা অগ্রাহ্য করিলি।”

বিহারী হাসিয়া কহিত, “ভালো করি নাই মা, ঠকিয়াছি। কিন্তু বিবাহ না করিয়া ঠকা ভালো, বিবাহ করিয়া ঠকিলেই মুশকিল।”

রাজলক্ষ্মী কেবলই মনে করিতে লাগিলেন, “আহা, এই মেয়েই তো আমার বধূ হইতে পারিত। কেন হইল না।’

রাজলক্ষ্মী কলিকাতায় ফিরিবার প্রসঙ্গমাত্র উত্থাপন করিলে বিনোদিনীর চোখ ছলছল করিয়া উঠিত। সে বলিত, “পিসিমা, তুমি দুদিনের জন্যে কেন এলে! যখন তোমাকে জানিতাম না, দিন তো একরকম করিয়া কাটিত। এখন তোমাকে ছাড়িয়া কেমন করিয়া থাকিব।”

রাজলক্ষ্মী মনের আবেগে বলিয়া ফেলিতেন, “মা, তুই আমার ঘরের বউ হলি নে কেন, তা হইলে তোকে বুকের মধ্যে করিয়া রাখিতাম।”

সে কথা শুনিয়া বিনোদিনী কোনো ছুতায় লজ্জায় সেখান হইতে উঠিয়া যাইত।

রাজলক্ষ্মী কলিকাতা হইতে একটা কাতর অনুনয়পত্রের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁহার মহিন জন্মাবধি কখনো এতদিন মাকে ছাড়িয়া থাকে নাই– নিশ্চয় এতদিনে মার বিচ্ছেদ তাহাকে অধীর করিয়া তুলিতেছে। রাজলক্ষ্মী তাঁহার ছেলের অভিমান এবং আবদারের সেই চিঠিখানির জন্য তৃষিত হইয়া ছিলেন।

বিহারী মহেন্দ্রের চিঠি পাইল। মহেন্দ্র লিখিয়াছে, “মা বোধ হয় অনেক দিন পরে জন্মভূমিতে গিয়া বেশ সুখে আছেন।”

রাজলক্ষ্মী ভাবিলেন, “আহা, মহেন্দ্র অভিমান করিয়া লিখিয়াছে। সুখে আছেন! হতভাগিনী মা নাকি মহেন্দ্রকে ছাড়িয়া কোথাও সুখে থাকিতে পারে।’

“ও বিহারী, তার পরে মহিন কী লিখিয়াছে, পড়িয়া শোনা না বাছা।”

বিহারী কহিল, “তার পরে কিছুই না মা।” বলিয়া চিঠিখানা মুঠার মধ্যে দলিত করিয়া একটা বহির মধ্যে পুরিয়া ঘরের এক কোণে ধপ করিয়া ফেলিয়া দিল।

রাজলক্ষ্মী কি আর স্থির থাকিতে পারেন। নিশ্চয়ই মহিন মার উপর এমন রাগ করিয়া লিখিয়াছে যে, বিহারী তাঁহাকে পড়িয়া শোনাইল না।

বাছুর যেমন গাভীর স্তনে আঘাত করিয়া দুগ্ধ এবং বাৎসল্যের সঞ্চার করে, মহেন্দ্রের রাগ তেমনি রাজলক্ষ্মীকে আঘাত করিয়া তাঁহার অবরুদ্ধ বাৎসল্যকে উৎসারিত করিয়া দিল। তিনি মহেন্দ্রকে ক্ষমা করিলেন। কহিলেন, “আহা, বউ লইয়া মহিন সুখে আছে, সুখে থাক্‌– যেমন করিয়া হোক সে সুখী হোক। বউকে লইয়া আমি তাহাকে আর কোনো কষ্ট দিব না। আহা, যে মা কখনো তাহাকে এক দণ্ড ছাড়িয়া থাকিতে পারে না সেই মা চলিয়া আসিয়াছে বলিয়া মহিন মার “পরে রাগ করিয়াছে!’ বার বার তাঁর চোখ দিয়া জল উছলিয়া উঠিতে লাগিল।

সেদিন রাজলক্ষ্মী বিহারীকে বার বার আসিয়া বলিলেন, “যাও বাবা, তুমি স্নান করো গে যাও। এখানে তোমার বড়ো অনিয়ম হইতেছে।”

বিহারীরও সেদিন স্নানাহারে যেন প্রবৃত্তি ছিল না; সে কহিল, “মা, আমার মতো লক্ষ্মীছাড়ারা অনিয়মেই ভালো থাকে।”

রাজলক্ষ্মী পীড়াপীড়ি করিয়া কহিলেন, “না বাছা, তুমি স্নান করিতে যাও।”

বিহারী সহস্র বার অনুরুদ্ধ হইয়া নাহিতে গেল। সে ঘরের বাহির হইবামাত্রই রাজলক্ষ্মী বহির ভিতর হইতে তাড়াতাড়ি সেই কুঞ্চিতদলিত চিঠিখানি বাহির করিয়া লইলেন।

বিনোদিনীর হাতে চিঠি দিয়া কহিলেন, “দেখো তো মা, মহিন বিহারীকে কী লিখিয়াছে।”

বিনোদিনী পড়িয়া শুনাইতে লাগিল। মহেন্দ্র প্রথমটা মার কথা লিখিয়াছে; কিন্তু সে অতি অল্পই, বিহারী যতটুকু শুনাইয়াছিল তাহার অধিক নহে।

তার পরেই আশার কথা। মহেন্দ্র রঙ্গে রহস্যে আনন্দে যেন মাতাল হইয়া লিখিয়াছে।

বিনোদিনী একটুখানি পড়িয়া শুনাইয়াই লজ্জিত হইয়া থামিয়া কহিল, “পিসিমা, ও আর কী শুনিবে।”

রাজলক্ষ্মীর স্নেহব্যগ্র মুখের ভাব এক মুহূর্তের মধ্যেই পাথরের মতো শক্ত হইয়া যেন জমিয়া গেল। রাজলক্ষ্মী একটুখানি চুপ করিয়া রহিলেন, তার পরে বলিলেন, “থাক্‌।” বলিয়া চিঠি ফেরত না লইয়াই চলিয়া গেলেন।

বিনোদিনী সেই চিঠিখানা লইয়া ঘরে ঢুকিল। ভিতর হইতে দ্বার বন্ধ করিয়া বিছানার উপর বসিয়া পড়িতে লাগিল।

চিঠির মধ্যে বিনোদিনী কী রস পাইল, তাহা বিনোদিনীই জানে। কিন্তু তাহা কৌতুকরস নহে। বার বার করিয়া পড়িতে পড়িতে তাহার দুই চক্ষু মধ্যাহ্নের বালুকার মতো জ্বলিতে লাগিল, তাহার নিশ্বাস মরুভূমির বাতাসের মতো উত্তপ্ত হইয়া উঠিল।

মহেন্দ্র কেমন, আশা কেমন, মহেন্দ্র-আশার প্রণয় কেমন, ইহাই তাহার মনের মধ্যে কেবলই পাক খাইতে লাগিল। চিঠিখানা কোলের উপর চাপিয়া ধরিয়া পা ছড়াইয়া দেয়ালের উপর হেলান দিয়া অনেকক্ষণ সম্মুখে চাহিয়া বসিয়া রহিল।

মহেন্দ্রের সে চিঠি বিহারী আর খুঁজিয়া পাইল না।

সেইদিন মধ্যাহ্নে হঠাৎ অন্নপূর্ণা আসিয়া উপস্থিত। দুঃসংবাদের আশঙ্কা করিয়া রাজলক্ষ্মীর বুকটা হঠাৎ কাঁপিয়া উঠিল– কোনো প্রশ্ন করিতে তিনি সাহস করিলেন না, অন্নপূর্ণার দিকে পাংশুবর্ণ মুখে চাহিয়া রহিলেন।

অন্নপূর্ণা কহিলেন, “দিদি, কলিকাতার খবর সব ভালো।”

রাজলক্ষ্মী কহিলেন, “তবে তুমি এখানে যে?”

অন্নপূর্ণা কহিলেন, “দিদি, তোমার ঘরকন্নার ভার তুমি লও’সে। আমার আর সংসারে মন নাই। আমি কাশী যাইব বলিয়া যাত্রা করিয়া বাহির হইয়াছি। তাই তোমাকে প্রণাম করিতে আসিলাম। জ্ঞানে অজ্ঞানে অনেক অপরাধ করিয়াছি, মাপ করিয়ো। আর তোমার বউ, (বলিতে বলিতে চোখ ভরিয়া উঠিয়া জল পড়িতে লাগিল) সে ছেলেমানুষ, তার মা নাই, সে দোষী হোক নির্দোষ হোক সে তোমার।” আর বলিতে পারিলেন না।

রাজলক্ষ্মী ব্যস্ত হইয়া তাঁহার স্নানাহারের ব্যবস্থা করিতে গেলেন। বিহারী খবর পাইয়া গদাই ঘোষের চণ্ডীমণ্ডপ হইতে ছুটিয়া আসিল। অন্নপূর্ণাকে প্রণাম করিয়া কহিল, “কাকীমা, সে কি হয়? আমাদের তুমি নির্মম হইয়া ফেলিয়া যাইবে?”

অন্নপূর্ণা অশ্রু দমন করিয়া কহিলেন, “আমাকে আর ফিরাইবার চেষ্টা করিস নে, বেহারি– তোরা সবে সুখে থাক্‌, আমার জন্যে কিছুই আটকাইবে না।”

বিহারী কিছুক্ষণ চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তার পরে কহিল, “মহেন্দ্রের ভাগ্য মন্দ, তোমাকে সে বিদায় করিয়া দিল।”

অন্নপূর্ণা চকিত হইয়া কহিলেন, “অমন কথা বলিস নে। আমি মহিনের উপর কিছুই রাগ করি নাই। আমি না গেলে সংসারের মঙ্গল হইবে না।”

বিহারী দূরের দিকে চাহিয়া নীরবে বসিয়া রহিল। অন্নপূর্ণা অঞ্চল হইতে এক জোড়া মোটা সোনার বালা খুলিয়া কহিলেন, “বাবা, এই বালাজোড়া তুমি রাখো– বউমা যখন আসিবেন, আমার আশীর্বাদ দিয়া তাঁহাকে পরাইয়া দিয়ো।”

বিহারী বালাজোড়া মাথায় ঠেকাইয়া অশ্রু সংবরণ করিতে পাশের ঘরে চলিয়া গেল।

বিদায়কালে অন্নপূর্ণা কহিলেন, “বেহারি, আমার মহিনকে আর আমার আশাকে দেখিস।” রাজলক্ষ্মীর হস্তে একখানি কাগজ দিয়া বলিলেন, “শ্বশুরের সম্পত্তিতে আমার যে অংশ আছে, তাহা এই দানপত্রে মহেন্দ্রকে লিখিয়া দিলাম। আমাকে কেবল মাসে মাসে পনেরোটি করিয়া টাকা পাঠাইয়া দিয়ো।”

বলিয়া ভূতলে পড়িয়া রাজলক্ষ্মীর পদধূলি মাথায় তুলিয়া লইলেন এবং বিদায় হইয়া তীর্থোদ্দেশে যাত্রা করিলেন।

7
Rajlakshmi reached her home. Bihari had planned to settle her there and leave but he could not do that after seeing the condition of the house.

There were only a couple of ancient widows remaining in the house. It was overgrown all around, the pond water was green with neglect and algae and Rajlakshmi’s soul quaked at the sounds of jackals yelping nearby in the day time.

Bihari said, ‘Mother, even though this is your home, I cannot say that it is much of a haven any more. Let us go back to Kolkata. It would be a sin to abandon you here.’

Rajlakshmi too had had enough. But Binodini appeared on the scene, both seeking company and giving it back in equal measure.
The reader has already met Binodini. At one time she was considered as a possible bride for Mahendra and then for Bihari. The man who was fated to be her husband was however endowed with an enlarged spleen and this sadly took him from this planet before long.

After his death Bindodini had been languishing in the joyless village like a lonely garden plant exiled to a forest. She came to greet Rajakshmi who had been her late husband’s aunt and devoted her entire time to looking after her from that moment onwards.

This was indeed true care. She never allowed herself a moment of rest. Her work was neat beyond compare, her skills in the kitchen matched only by the sweetness of her conversation.

Rajlakshmi would say, ‘Go and have your lunch, it is getting late.’

But would she listen? She would not stop fanning Rajlakshmi until she had fallen asleep.

Rajlakshmi said, ‘You will fall ill if you carry on like this.’

Binodini would express extreme disinterest in her own well being and say, ‘Unfortunate people like me never fall ill Aunt. I am only worried that you have come home after so many days and there is so little here with which I can make your stay pleasant for you.’

Bihari became a kind of a leader of the local society in a very short while. Some came to him for medicines, others for legal advice. Others wished he would help them in getting their sons employment in the city or even in writing a letter. He moved easily from the staid card games of the elderly to the noisy drinking sessions of the Bagdi villagers without losing his eager interest in things and his natural friendliness. Everyone thought of him as their own without losing their respect for him.

Binodini tried to lessen the trials of being stranded in the village as much as she could for Bihari although she lived in the inner quarters. Whenever he came in after visiting in the neighbourhood he would find that someone had tidied his room, placing a couple of flowering stems in a brass glass and leaving books written by Bankim Chandra Chattopadhyay and Dinabandhu Mitra on a table by the side of his bed. On the title page would be the name Binodini, written in a well formed feminine hand.

This was quite different from the hospitality usually found in a village. When Bihari praised this Rajlakshmi said, ‘Yet you lot thought she was not suitable!’

Bihari smiled saying, ‘Ma, we have made a mistake, but it is better to be tricked into not marrying rather than be tricked after marriage.’

Rajlakshmi frequently thought with great regret that this was the woman who should have been her daughter-in-law.

Whenever Rajlakshmi raised the topic of returning to Kolkata, Binodini would become tearful. She said, ‘Aunt, why did you come for such a short time? When I did not know you, the days passed well enough. How will I live without you if you leave now?’

Rajlakshmi would sometimes say extremely emotionally, ‘Why did you not become a part of my family, I would have loved you with all my heart.’

This kind of talk made Binodini so embarassed that she would soon leave after inventing an excuse.

Rajlakshmi had been waiting for a letter filled with misery and pleading from Mahin in Kolkata. He had never lived without her since the day he was born – he must have grown anxious at her prolonged absence. Rajlakshmi was ready for a letter filled with words full of repentance and loving.

Finally Bihari did receive a letter from Mahendra. He had written, ‘My mother must be enjoying herself in her childhood home.’

Rajlakshmi thought, ‘Poor Mahendra! He has written of my happiness! How can his poor mother be happy anywhere without him?’

‘Bihari, why don’t you read out what Mahin has written after that?’

Bihari said, ‘There is not much that is important after that,’ crushing the letter in his palm and pushing it between the pages of a book before throwing that in the corner of the room.

Rajlakshmi could bear it no longer. She was certain that Bihari was not telling her what Mahendra had written about her because they were written in anger.

Just as a calf butts its mother’s udders to both get milk and arouse her affection, Mahendra’s anger shook Rajlakshmi into feeling all her suppressed love for him surge forth again. She immediately forgave Mahendra and said to herself, ‘If he is happy with his wife, let him be. I will never cause him any pain again over that issue. How sad he must be that the mother who could never leave him for a moment has now left him alone for so long! He must be so upset with me!’ Tears welled in her eyes again and again as she thought of this.

Rajlakshmi went to Bihari’s room a few times and said, ‘Son, go and bathe. You are not sticking to your usual routine here at all.’

Bihari too seemed to not want a bath that day; he said, ‘Ma, for a vagabond like me, a few departures from routine are part of the routine.’

Rajlakshmi kept urging him, ‘No dear, you really should go and have a bath.’

Bihari went to bathe after being asked a thousand times. As soon as he left, Rajlakshmi extracted the crumpled letter out of its hiding place within the pages of the book.

She gave the letter to Binodini and said, ‘Can you read out to me what Mahendra wrote to Bihari?’

Binodini read it out aloud. Mahendra had indeed enquired after his mother, but that portion was very short, no more than the few lines that Bihari had already read out to her.

He had then moved on to writing about Asha. It was as though his bliss had made him lose his senses and pour his soul out to his friend.

Binodini read a little bit more and then stopped in shame. She said, ‘There is little that I should be reading aloud in the rest of this!’

Rajlakshmi’s expression of eager affection turned to stone in a minute. She remained quiet for a while and then said, ‘That is enough.’ She did not ask for the letter back and left the room shortly.

Bindodini went to her room with the letter and lay down on the bed to read it after locking the door.

Only she could have told us what she gained from reading the letter. But it was not amusement. As she read it over and over, her eyes stung like sand under the midday sun and her breath fell like the hot winds of the desert.

All she could think about was what Mahendra and Asha were like and how loving their relationship was. She sat for a long time with her back against the wall, staring into space, her legs spread before her with the letter in her lap.

If Bihari had looked he would never have found that letter from Mahendra again.

Annapurna arrived unannounced that day around noon, Rajlakshmi’s heart was instantly filled with dire thoughts of bad news but she could not voice her fears. She looked at Annapurna’s face, pale and mute with apprehension.

‘Everyone is fine in Kolkata,’ Annapurna assured her.

Rajlakshmi asked, ‘Then why have you come here?’

Annapurna said, ‘Elder sister, you can have the responsibility of your household back. I have no wish to stay here anymore. I have left home to go to Varanasi and that is why I came here to say farewell and seek your blessings. I have wronged you in many ways; both knowingly and without my own knowledge, forgive me for that. Your daughter-in-law is young, she has no mother, and despite any faults she may have, she is yours to love.’ As she said this her eyes brimmed with tears and she could speak no more.

Rajlakshmi hurried off to make preparations for Annapurna’s bath and her meal. Bihari hurried home from Godai Ghosh’s house as soon as he heard the news. He bent down to touch Annapurna’s feet saying, ‘Aunt, how can this be? You are abandoning your family with such steely resolve?’

Annapurna held her tears back and said, ‘Do not try to keep me here – I want all of you to be happy; you will find that nothing will cease just because I am leaving.’

Bihari sat in silence for a while. He then said, ‘Mahendra is unfortunate indeed, he has forced you into leaving.’

‘Do not say that! I am not angry with Mahin at all. But if I do not leave, there will never be peace in this house.’ Annapurna protested quickly.

Bihari sat quietly staring into the distance. She brought out a pair of heavy gold bangles from underneath her anchol and said, ‘Son, keep these two- for when your wife comes and give them to her with my blessings.’

Bihari raised the pair of bangles to his forehead in respect and went into the next room to suppress his pain.

Before she left, Annapurna said to him, ‘Bihari, please look after Mahin and Asha for me.’

She then handed Rajlakshmi a sheet of paper saying, ‘I have willed my portion of my father-in-law’s property to Mahendra. It will be quite enough for me if you send fifteen rupees each month in my name.’

After prostrating herself at Rajlakshmi’s feet in farewell, she left on her journey to the sacred sites .