চার অধ্যায় /Char Adhyay/Four Chapters

চার অধ্যায়
ভূমিকা

ভূমিকা

এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা বলছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা বলা মেয়ের একটা ব্যসন বললেই হয়। এজন্যেই সে শাস্তি পেয়েছে সব-চেয়ে বেশি। সকল রকম অবিচারের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা তার স্বভাবে প্রবল হয়ে উঠেছে। তার মার কাছে মনে হয়েছে, এইটেই স্ত্রীধর্মনীতির বিরুদ্ধ।

একটা কথা সে বাল্যকাল থেকে বুঝেছে যে, দুর্বলতা অত্যাচারের প্রধান বাহন। ওদের পরিবারে যে-সকল আশ্রিত অন্নজীবী ছিল, যারা পরের অনুগ্রহ-নিগ্রহের সংকীর্ণ বেড়া-দেওয়া ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসহায়ভাবে আবদ্ধ তারাই কলুষিত করেছে ওদের পরিবারের আবহাওয়াকে, তারাই ওর মায়ের অন্ধ প্রভুত্বচর্চাকে বাধাবিহীন করে তুলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থার প্রতিক্রিয়ারূপেই ওর মনে অল্পবয়স থেকেই স্বাধীনতার আকাঙক্ষা এত দুর্দাম হয়ে উঠেছিল।

এলার বাপ নরেশ দাশগুপ্ত সাইকলজিতে বিলিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। তীক্ষ্ণ তাঁর বৈজ্ঞানিক বিচারশক্তি, অধ্যাপনায় তিনি বিশেষভাবে যশম্বী। প্রাদেশিক প্রাইভেট কলেজে তিনি স্থান নিয়েছেন যেহেতু সেই প্রদেশে তাঁর জন্ম, সাংসারিক উন্নতির দিকে তাঁর লোভ কম, সে-সম্বন্ধে দক্ষতাও সামান্য। ভুল করে লোককে বিশ্বাস করা ও বিশ্বাস করে নিজের ক্ষতি করা বারবারকার অভিজ্ঞতাতেও তাঁর শোধন হয় নি। ঠকিয়ে কিংবা অনায়াসে যারা উপকার আদায় করে তাদের কৃতঘ্নতা সব-চেয়ে অকরুণ। যখন সেটা প্রকাশ পেত সেটাকে মনস্তত্ত্বের বিশেষ তথ্য বলে মানুষটি অনায়াসে স্বীকার করে নিতেন, মনে বা মুখে নালিশ করতেন না। বিষয়বুদ্ধির ত্রুটি নিয়ে স্ত্রীর কাছে কখনো তিনি ক্ষমা পান নি, খোঁটা খেয়েছেন প্রতিদিন। নালিশের কারণ অতীতকালবর্তী হলেও তাঁর স্ত্রী কখনো ভুলতে পারতেন না, যখন-তখন তীক্ষ্ণ খোঁচায় উসকিয়ে দিয়ে তার দাহকে ঠাণ্ডা হতে দেওয়া অসাধ্য করে তুলতেন। বিশ্বাসপরায়ণ ঔদার্যগুণেই তার বাপকে কেবলই ঠকতে ও দুঃখ পেতে দেখে বাপের উপর এলার ছিল সদাব্যথিত স্নেহ–যেমন সকরুণ স্নেহ মায়ের থাকে অবুঝ বালকের ‘পরে। সব-চেয়ে তাকে আঘাত করত যখন মায়ের কলহের ভাষায় তীব্র ইঙ্গিত থাকত যে, বুদ্ধিবিবেচনায় তিনি তাঁর স্বামীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এলা নানা উপলক্ষ্যে মায়ের কাছে তার বাবার অসম্মান দেখতে পেয়েছে, তা নিয়ে নিষ্ফল আক্রোশে চোখের জলে রাত্রে তার বালিশ গেছে ভিজে। এ-রকম অতিমাত্র ধৈর্য অন্যায় বলে এলা অনেক সময় তার বাবাকে মনে মনে অপরাধী না করে থাকতে পারে নি।

অত্যন্ত পীড়িত হয়ে একদিন এলা বাবাকে বলেছিল, “এ-রকম অন্যায় চুপ করে সহ্য করাই অন্যায়।”

নরেশ বললেন, “স্বভাবের প্রতিবাদ করাও যা আর তপ্ত লোহায় হাত বুলিয়ে তাকে ঠাণ্ডা করতে যাওয়াও তাই, তাতে বীরত্ব থাকতে পারে কিন্তু আরাম নেই।”

“চুপ করে থাকাতে আরাম আরও কম”– বলে এলা দ্রুত চলে গেল।

এদিকে সংসারে এলা দেখতে পায়, যারা মায়ের মন জুগিয়ে চলবার কৌশল জানে তাদের চক্রান্তে নিষ্ঠুর অন্যায় ঘটে অপরাধহীনের প্রতি। এলা সইতে পারে না, উত্তেজিত হয়ে সত্য প্রমাণ উপস্থিত করে বিচারকর্ত্রীর সামনে। কিন্তু কর্তৃত্বের অহমিকার কাছে অকাট্য যুক্তিই দুঃসহ স্পর্ধা। অনুকূল ঝ’ড়ো হাওয়ার মতো তাতে বিচারের নৌকো এগিয়ে দেয় না, নৌকো দেয় কাত করে।

এই পরিবারে আরও একটি উপসর্গ ছিল যা এলার মনকে নিয়ত আঘাত করেছে। সে তার মায়ের শুচিবায়ু। একদিন কোনো মুসলমান অভ্যাগতকে বসবার জন্যে এলা মাদুর পেতে দিয়েছিল– সে মাদুর মা ফেলে দিলেন, গালচে দিলে দোষ হত না। এলার তার্কিক মন, তর্ক না করে থাকতে পারে না। বাবাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলে, “আচ্ছা এই সব ছোঁয়াছুঁয়ি নাওয়াখাওয়া নিয়ে কটকেনা মেয়েদেরই কেন এত পেয়ে বসে? এতে হৃদয়ের তো স্থান নেই, বরং বিরুদ্ধতা আছে; এ তো কেবল যন্ত্রের মতো অন্ধভাবে মেনে চলা।” সাইকলজিস্ট বাবা বললেন, “মেয়েদের হাজার বছরের হাতকড়ি-লাগানো মন; তারা মানবে, প্রশ্ন করবে না,–এইটেতেই সমাজ-মনিবের কাছে বকশিশ পেয়েছে, সেইজন্যে মানাটা যত অন্ধ হয় তার দাম তাদের কাছে তত বড়ো হয়ে ওঠে। মেয়েলি পুরুষদেরও এই দশা।” আচারের নিরর্থকতা সম্বন্ধে এলা বারবার মাকে প্রশ্ন না করে থাকতে পারে নি, বারবার তার উত্তর পেয়েছে ভর্ৎসনায়। নিয়ত এই ধাক্কায় এলার মন অবাধ্যতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

নরেশ দেখলেন পরিবারিক এই সব দ্বন্দ্বে মেয়ের শরীর খারাপ হয়ে উঠেছে, সেটা তাঁকে অত্যন্ত বাজল। এমন সময় একদিন এলা একটা বিশেষ অবিচারে কঠোরভাবে আহত হয়ে নরেশের কাছে এসে জানাল, “বাবা, আমাকে কলকাতায় বোর্ডিঙে পাঠাও। প্রস্তাবটা তাদের দুজনের পক্ষেই দুঃখকর, কিন্তু বাপ অবস্থা বুঝলেন, এবং মায়াময়ীর দিক থেকে প্রতিকূল ঝঞ্ঝাঘাতের মধ্যেও এলাকে পাঠিয়ে দিলেন দূরে। আপন নিষ্করুণ সংসারে নিমগ্ন হয়ে রইলেন অধ্যয়ন-অধ্যাপনায়।

মা বললেন, “শহরে পাঠিয়ে মেয়েকে মেমসাহেব বানাতে চাও তো বানাও কিন্তু ওই তোমার আদুরে মেয়েকে প্রাণান্ত ভুগতে হবে শ্বশুরঘর করবার দিনে। তখন আমাকে দোষ দিয়ো না।” মেয়ের ব্যবহারে কলিকালোচিত স্বাতন্ত্র৻ের দুর্লক্ষণ দেখে এই আশঙ্কা তার মা বারবার প্রকাশ করেছেন। এলা তার ভাবী শাশুড়ীর হাড় জ্বালাতন করবে সেই সম্ভাবনা নিশ্চিত জেনে সেই কাল্পনিক গৃহিণীর প্রতি তাঁর অনুকম্পা মুখর হয়ে উঠত। এর থেকে মেয়ের মনে ধারণা দৃঢ় হয়েছিল যে, বিয়ের জন্যে মেয়েদের প্রস্তুত হতে হয় আত্মসম্মানকে পঙ্গু করে, ন্যায়-অন্যায়বোধকে অসাড় করে দিয়ে।

এলা যখন ম্যাট্‌রিক পার হয়ে কলেজে প্রবেশ করেছে তখন মায়ের মৃত্যু হল। নরেশ মাঝে মাঝে বিয়ের প্রস্তাবে মেয়েকে রাজি করতে চেষ্টা করেছেন। এলা অপূর্ব-সুন্দরী, পাত্রের তরফে প্রার্থীর অভাব ছিল না, কিন্তু বিবাহের প্রতি বিমুখতা তার সংস্কারগত। মেয়ে পরীক্ষাগুলো পাস করলে, তাকে অবিবাহিত রেখেই বাপ গেলেন মারা।

সুরেশ ছিল তাঁর কনিষ্ঠ ভাই। নরেশ এই ভাইকে মানুষ করেছেন, শেষ পর্যন্ত পড়িয়েছেন খরচ দিয়ে। দু-বছরের মতো তাঁকে বিলেতে পাঠিয়ে স্ত্রীর কাছে লাঞ্ছিত এবং মহাজনের কাছে ঋণী হয়েছেন। সুরেশ এখন ডাকবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। কর্ম উপলক্ষ্যে ঘুরতে হয় নানা প্রদেশে। তাঁরই উপর পড়ল এলার ভার। একান্ত যত্ন করেই ভার নিলেন।

সুরেশের স্ত্রীর নাম মাধবী। তিনি যে-পরিবারের মেয়ে সে-পরিবারে স্ত্রীলোকদের পরিমিত পড়াশুনোই ছিল প্রচলিত; তার পরিমাণ মাঝারি মাপের চেয়ে কম বই বেশি নয়। স্বামী বিলেত থেকে ফিরে এসে উচ্চপদ নিয়ে দূরে দূরে যখন ঘুরতেন তখন তাঁকে বাইরের নানা লোকের সঙ্গে সামাজিকতা করতে হত। কিছুদিন অভ্যাসের পরে মাধবী নিমন্ত্রণ-আমন্ত্রণে বিজাতীয় লৌকিকতা পালন করতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। এমন-কি, গোরাদের ক্লাবে ও পঙ্গু ইংরেজি ভাষাকে সকারণ ও অকারণ হাসির দ্বারা পূরণ করে কাজ চালিয়ে আসতে পারতেন।

এমন সময় সুরেশ কোনো প্রদেশের বড়ো শহরে যখন আছেন এলা এল তাঁর ঘরে; রূপে গুণে বিদ্যায় কাকার মনে গর্ব জাগিয়ে তুললে। ওঁর উপরিওআলা বা সহকর্মী এবং দেশী ও বিলিতি আলাপী-পরিচিতদের কাছে নানা উপলক্ষ্যে এলাকে প্রকাশিত করবার জন্যে তিনি ব্যগ্র হয়ে উঠলেন। এলার স্ত্রীবুদ্ধিতে বুঝতে বাকি রইল না যে, এর ফল ভালো হচ্ছে না। মাধবী মিথ্যা আরামের ভান করে ক্ষণে ক্ষণে বলতে লাগলেন, “বাঁচা গেল– বিলিতি কায়দার সামাজিকতার দায় আমার ঘাড়ে চাপানো কেন বাপু। আমার না আছে বিদ্যে, না আছে বুদ্ধি।” ভাবগতিক দেখে এলা নিজের চারিদিকে প্রায় একটা জেনানা খাড়া করে তুললে। সুরেশের মেয়ে সুরমার পড়াবার ভার সে অতিরিক্ত উৎসাহের সঙ্গে নিলে। একটা থীসিস লিখতে লাগিয়ে দিলে তার বাকি সময়টুকু। বিষয়টা বাংলা মঙ্গলকাব্য ও চসারের কাব্যের তুলনা। এই নিয়ে সুরেশ মহা উৎসাহিত। এই সংবাদটা চারদিকে প্রচার করে দিলেন। মাধবী মুখ বাঁকা করে বললেন, “বাড়াবাড়ি।”

স্বামীকে বললেন, “এলার কাছে ফস করে মেয়েকে পড়তে দিলে! কেন, অধর মাস্টার কী দোষ করেছে? যাই বল না আমি কিন্তু–”

সুরেশ অবাক হয়ে বললেন, “কী বল তুমি! এলার সঙ্গে অধরের তুলনা!”

“দুটো নোটবই মুখস্থ করে পাস করলেই বিদ্যে হয় না,”– বলে ঘাড় বেঁকিয়ে গৃহিণী ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন।

একটা কথা স্বামীকে বলতেও তাঁর মুখে বাধে–“সুরমার বয়স তেরো পেরোতে চলল, আজ বাদে কাল পাত্র খুঁজতে দেশ ঝেঁটিয়ে বেড়াতে হবে, তখন এলা সুরমার কাছে থাকলে– ছেলেগুলোর চোখে যে ফ্যাঁকাসে কটা রঙের নেশা– ওরা কি জানে কাকে বলে সুন্দর?” দীর্ঘনিশ্বাস ফেলেন আর ভাবেন, এ-সব কর্তাকে জানিয়ে ফল নেই, পুরুষরা যে সংসার-কানা।

যত শীঘ্র হয় এলার বিয়ে হয়ে যাক এই চেষ্টায় উঠে পড়ে লাগলেন গৃহিণী। বেশি চেষ্টা করতে হয় না, ভালো ভালো পাত্র আপনি এসে জোটে– এমন সব পাত্র, সুরমার সঙ্গে যাদের সম্বন্ধ ঘটাবার জন্য মাধবী লুব্ধ হয়ে ওঠেন। অথচ এলা তাদের বারে বারে নিরাশ করে ফিরিয়ে দেয়।

ভাইঝির একগুঁয়ে অবিবেচনায় উদ্বিগ্ন হলেন সুরেশ, কাকী হলেন অত্যন্ত অসহিষ্ণু। তিনি জানেন সৎপাত্রকে উপেক্ষা করা সমর্থবয়সের বাঙালি মেয়ের পক্ষে অপরাধ। নানারকম বয়সোচিত দুর্যোগের আশঙ্কা করতে লাগলেন, এবং দায়িত্ববোধে অভিভূত হল তাঁর অন্তঃকরণ। এলা স্পষ্টই বুঝতে পারলে যে, সে তার কাকার স্নেহের সঙ্গে কাকার সংসারের দ্বন্দ্ব ঘটাতে বসেছে।

এমন সময় ইন্দ্রনাথ এলেন সেই শহরে। দেশের ছাত্রেরা তাঁকে মানত রাজচক্রবর্তীর মতো। অসাধারণ তাঁর তেজ, আর বিদ্যার খ্যাতিও প্রভূত। একদিন সুরেশের ওখানে তাঁর নিমন্ত্রণ। সেদিন কোনো এক সুযোগে এলা অপরিচয়সত্ত্বেও অসংকোচে তাঁর কাছে এসে বললে “আমাকে আপনার কোনো একটা কাজ দিতে পারেন না?”

আজকালকার দিনে এ-রকম আবেদন বিশেষ আশ্চর্যের নয় কিন্তু তবু মেয়েটির দীপ্তি দেখে চমক লাগল ইন্দ্রনাথের। তিনি বললেন, “কলকাতায় সম্প্রতি নারায়ণী হাই স্কুল মেয়েদের জন্যে খোলা হয়েছে। তোমাকে তার কর্ত্রীপদ দিতে পারি, প্রস্তুত আছ?”

“প্রস্তুত আছি যদি আমাকে বিশ্বাস করেন।”

ইন্দ্রনাথ এলার মুখের দিকে তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টি রেখে বললেন, “আমি লোক চিনি। তোমাকে বিশ্বাস করতে আমার মুহূর্তকাল বিলম্ব হয় নি। তোমাকে দেখবামাত্রই মনে হয়েছে, তুমি নবযুগের দূতী, নবযুগের আহ্বান তোমার মধ্যে!”

হঠাৎ ইন্দ্রনাথের মুখে এমন কথা শুনে এলার বুকের মধ্যে কেঁপে উঠল।

সে বললে, “আপনার কথায় আমার ভয় হয়। ভুল করে আমাকে বাড়াবেন না। আপনার ধারণার যোগ্য হবার জন্যে দুঃসাধ্য চেষ্টা করতে গেলে ভেঙে পড়ব। আমার শক্তির সীমার মধ্যে যতটা পারি বাঁচিয়ে চলব আপনার আদর্শ, কিন্তু ভান করতে পারব না।”

ইন্দ্রনাথ বললেন, “সংসারের বন্ধনে কোনোদিন বদ্ধ হবে না এই প্রতিজ্ঞা তোমাকে স্বীকার করতে হবে। তুমি সমাজের নও তুমি দেশের।”

এলা মাথা তুলে বললে “এই প্রতিজ্ঞাই আমার।”

কাকা গমনোদ্যত এলাকে বললেন “তোকে আর কোনোদিন বিয়ের কথা বলব না। তুই আমার কাছেই থাক্‌। এখানেই পাড়ার মেয়েদের পড়াবার ভার নিয়ে একটা ছোটোখাটো ক্লাস খুললে দোষ কী।”

কাকী স্নেহার্দ্র স্বামীর অবিবেচনায় বিরক্ত হয়ে বললেন, “ওর বয়স হয়েছে, ও নিজের দায় নিজেই নিতে চায়, সে ভালোই তো। তুমি কেন বাধা দিতে যাও মাঝের থেকে। তুমি যা-ই মনে কর না কেন, আমি বলে রাখছি ওর ভাবনা আমি ভাবতে পারব না।”

এলা খুব জোর করেই বললে, “আমি কাজ পেয়েছি, কাজ করতেই যাব।”

এলা কাজ করতেই গেল।

Four Chapters
The introduction

Ela remembers that the beginnings of her life were enveloped in opposition. Her mother Mayamoyee was obsessive by nature, her behavior refusing to take any path dictated by logical thinking. She would throw her family into despair with the ups and downs of the inconsiderate ranting of her illogical nature, she would discipline unjustly and suspect for no reason at all. When her daughter refused to admit to doing something wrong, she would suddenly say, ‘You are lying!’ And yet being completely truthful was one of the characteristics of the girl for which she was punished the most. Her nature grew antagonistic to every kind of injustice. To her mother, it was this very characteristic in her daughter that seemed to go against all the tenets of femininity.

One thing she had observed since childhood was that weakness was the chief spur to oppression. The people who lived as dependents in their family were the ones who poisoned the air at home, encircled as they were within the confines of abuse and benevolence of others; they were the ones who fed her mother’s blind need to oppress without opposition. Her mind revolted against this unhealthy atomosphere and craved freedom more than anything else.

Ela’s father Naresh Dasgupta had a degree in psychology from a foreign university. His powers of scientific analysis were brilliant and he was famous as a teacher. He had taken a position in a private provincial college as he had been born in the province; he paid little attention to his own advancement and knew even less about how to achieve it. Even after being tricked by people repeatedly after trusting them he was still able to trust his fellow men. The ingratitude of those who obtain favours by trickery or with ease is the most unforgiving and cruel. When he was faced with this, he never thought to question the justice of the behavior, preferring instead to explain it as a typical psychological phenomenon. His wife never forgave him for his lack of sense when it came to financial acumen and railed against him daily. Even though the events had happened in the past she was unable to forget them and her sudden barbed comments did nothing to sooth the torment they caused him. Ela was filled with sympathy and love for her father as she saw him betrayed and hurt again and again – the kind of love felt by a mother for an innocent child. She felt worst of all when her mother spitefully alluded in the course of her tirades that she was wiser than her husband. Ela saw many examples of her mother’s disrespect for her father and shed tears in helpless anger at night when she was alone. She could not help blaming her father for the great harm he did by displaying such excessive patience with his wife.

Greatly hurt, she said to her father one day, ‘Putting up with this behavior in silence is just as wrong as the behavior itself.’

Naresh said, ‘Protesting against someone’s nature is like trying to cool heated metal by stroking it, the action might be brave but there is little comfort to be gained from either.’

‘Putting up with it in silence is far less useful,’ Ela said as she walked away.

She had noticed that the people who were good at placating her mother also conspired against those who had done nothing wrong to ensure they were treated cruelly. Ela could not bear this and would often present proof to the contrary to her mother. But irrefutable reason is always seen as unbearable insolence by the superior blinded by pride. It never advances the ship of justice like a fair wind should, but topples it instead.

There was another negative aspect to her family life which hurt Ela’s sensibilities daily. Her mother was obsessive about caste. One day Ela had spread out a grass mat for a Muslim guest; after he left, her mother threw it out, but Ela knew for certain that if she had asked him to sit on the carpet, there would have been no question of disposing of it. Ela’s nature would not be satisfied without questioning things. She asked her father one day, ‘Why do all these rules and restrictions about touching things and bathing if one does touch inappropriate things always seem to apply to women? These do not speak of the kindness of the soul; infact they go against it; there is a sense of blindly adhering in a mechanical way.’ Her psychologist father answered, ‘Women have minds that have been shackled for a thousand years; they follow, they do not question, and this is the very behavior that is rewarded by society, the more unquestioning and blind their submission, the more prized they are by society. Effeminate men have the same problem.’ Ela could not desist from questioning her mother repeatedly about the futility of her rules, but she was always answered with rebukes. This constant sniping was gradually making her grow argumentative.

Naresh noticed that Ela was affected by the discord around her; this was a source of great pain to him. One day Ela came to him after a particularly harsh and unnecessary episode and said, ‘Father, send me away to a boarding school in Kolkata.’ The idea was distressing for both but her father understood and even though Mayamoyee presented many objections to it, Ela was sent away while he remained, immersed in his studies and his teaching in his unhappy household.

Mayamoyee observed, ‘If you want to make your daughter into one of those fancy Westernised types then do so, but your darling will suffer when the day comes for her to live with another family. Do not blame me then!’ She had often expressed her views about her daughter’s desire for independence being a sign of the ill fated times and voiced great sympathy for Ela’s future mother – in – law, a woman who would have to put up with all manner of misbehavior in the near future. This had enforced an idea in Ela’s mind that women prepared for marriage by blunting all sense of self respect and numbing every understanding of what was right and what was wrong.

Her mother passed away when Ela had entered college after finishing her matriculation. Naresh tried to get Ela to agree to proposals of marriage every now and then. Ela was extremely beautiful and there was no shortage of prospective grooms but she was completely averse to the idea of marriage. As a consequence when she finished all her examinations her father passed away too, leaving her unwed.

Suresh was his younger brother. Naresh had helped to raise this sibling and had even paid for his studies. He had suffered many barbs from his wife and had even incurred debts after sending Suresh abroad for two years. Suresh was now employed in a high post in the Postal Department. He had to tour various areas as part of his job. He became Ela’s guardian, a responsibility he accepted with great joy.

His wife was Madhabi. She came from the sort of family where women were required to be educated to a certain degree and not a great deal by any means. When her husband took up his position and had to engage socially with various people, Madhabi managed to pick up foreign pleasantries and mannerisms with ease. She was even able to make do in the British clubs with a smattering of rudimentary English which she disguised by laughing often, with or without reason.

Ela came to their household when Suresh was posted in one of the larger provincial towns; her beauty, her brains and her qualities made him proud of her. He was eager to show her off on various occasions to his superiors and colleagues and to the foreigners he knew. Ela’s feminine intuition told her little good would come of this. Madhabi feigned relief and said, ‘Thank God! Why place the responsibility of these complex social interactions on me? I am neither able nor educated enough!’ Ela understood what was really being said and she put up various restrictions around herself. She took on the duty of guiding Suresh’s daughter, her cousin Surama, with an enthusiasm that was far in excess of the task. She devoted the rest of her time to writing a thesis. The topic was a comparison between the Mangal literature of Bengal and Chaucer’s poetry. Suresh was very interested in this. He spread the news around. Madhabi smirked and said, ‘What next!’

She said to her husband, ‘Why are you letting Ela take on responsibility for Surama? What is she doing that Adhar Master did not do? I don’t think that..’
Suresh said with astonishment, ‘What are you saying? How can you compare Ela with Adhar!’
‘One does not become educated just by learning a couple of notebooks by heart!’ Madhabi said, before leaving the room with a flounce.

Even so she stopped short of saying to Suresh, ‘Your daughter is thirteen. If Ela is still around when you start thinking of her marriage, and the way all these men want pale skinned women, will anyone look at Surama at all? What do they know of beauty?’ She would sigh deeply and think there was little point in telling her husband these things; men were so blind when it came to life.

She stepped up her efforts to organize Ela’s marriage quickly. There was hardly any need to do much as good matches seemed to turn up easily, men that Madhabi would have dearly loved to see wed to her own daughter Surama. And yet, Ela refused them all.

Suresh was worried by this obstinate lack of judgment in his niece while her aunt became very impatient. She knew that dismissing good prospective husbands was a crime for Bengali women of marriageable age. She worried about various possible disasters that were sure to occur given Ela’s age and her heart was overwhelmed with a sense of responsibility. Ela clearly saw that her uncle’s affection for her would soon be at loggerheads with the happiness of his family.

Around this time, Indranath came to the town. The students of the country used to revere him as a true leader. He was extraordinarily brilliant and widely respected for his learning. One day when he was invited to Suresh’s house, Ela came up to him and despite their complete lack of familiarity with each other said to him, ‘Can you not get me a job?’
Even though this is not a request completely unheard of these days, Indranath was startled by the strength of conviction that seemed to shine from Ela. He said, ‘A new high school for girls has been started in Kolkata, Narayani High. I can give you a position as the headmistress there, are you ready to take that on?’
‘I am ready if you are willing to believe in me.’

Indranath looked at Ela with his piercing eyes and said, ‘I know people. It did not take me a minute to believe in you. As soon as I saw you I felt you were a messenger of the new age, you will be able to spread the word!’

Ela trembled when she heard this.

She said, ‘Your words make me afraid. Do not make me out to be any better than I am. If I have to attempt more than I am capable of in order to be worthy of your trust, I will fail. I will do only what I can, but I will not give you false hope.’

‘You must promise never to submit to the bonds of family life. You are not just you, you belong to the nation.’

Ela raised her head and said, ‘This is my pledge, today and always.’

Her uncle said to Ela as she prepared to leave them, ‘I will never say anything to you ever again about getting married. Please stay with me. What harm is there in opening a class for the local girls here?’

Annoyed at her husband’s affectionate and ill thought out interference, his wife said ‘She is old enough! If she wants to be responsible for her own well being, let her be! Why are you stopping her? I don’t care what you might think, I have no desire to be responsible for her.’

Ela said, ‘I have found a job, I will have to go and work.’

And so she did, she went away to work.