বলাকা ১, Poem 1, Bolaka

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক’রে
পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।

খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায়;
আর তো কিছুই নড়ে না রে
ওদের ঘরে, ওদের ঘরের দাওয়ায়।
ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা,
চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা,
ঝিমায় যেন চিত্রপটে আঁকা
অন্ধকারে বন্ধ করা খাঁচায়।
আয় জীবন্ত, আয় রে আমার কাঁচা।

বাহিরপানে তাকায় না যে কেউ,
দেখে না যে বাণ ডেকেছে
জোয়ার-জলে উঠছে প্রবল ঢেউ।
চলতে ওরা চায় না মাটির ছেলে
মাটির ‘পরে চরণ ফেলে ফেলে,
আছে অচল আসনখানা মেলে
যে যার আপন উচ্চ বাঁশের মাচায়,
আয় অশান্ত, আয় রে আমার কাঁচা।

তোরে হেথায় করবে সবাই মানা।
হঠাৎ আলো দেখবে যখন
ভাববে এ কী বিষম কাণ্ডখানা।
সংঘাতে তোর উঠবে ওরা রেগে,
শয়ন ছেড়ে আসবে ছুটে বেগে,
সেই সুযোগে ঘুমের থেকে জেগে
লাগবে লড়াই মিথ্যা এবং সাঁচায়।
আয় প্রচণ্ড, আয় রে আমার কাঁচা।

শিকল-দেবীর ওই যে পূজাবেদী
চিরকাল কি রইবে খাড়া।
পাগলামি তুই আয় রে দুয়ার ভেদি।
ঝড়ের মাতন, বিজয়-কেতন নেড়ে
অট্টহাস্যে আকাশখানা ফেড়ে,
ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে
ভুলগুলো সব আন্‌ রে বাছা-বাছা।
আয় প্রমত্ত, আয় রে আমার কাঁচা।

আন্‌ রে টেনে বাঁধা-পথের শেষে।
বিবাগী কর্‌ অবাধপানে,
পথ কেটে যাই অজানাদের দেশে।
আপদ আছে, জানি অঘাত আছে,
তাই জেনে তো বক্ষে পরান নাচে,
ঘুচিয়ে দে ভাই পুঁথি-পোড়োর কাছে
পথে চলার বিধিবিধান যাচা।
আয় প্রমুক্ত, আয় রে আমার কাঁচা।

চিরযুবা তুই যে চিরজীবী,
জীর্ণ জরা ঝরিয়ে দিয়ে
প্রাণ অফুরান ছড়িয়ে দেদার দিবি।
সবুজ নেশায় ভোর করেছি ধরা,
ঝড়ের মেঘে তোরি তড়িৎ ভরা,
বসন্তেরে পরাস আকুল-করা
আপন গলার বকুল-মাল্যগাছা,
আয় রে অমর, আয় রে আমার কাঁচা।

শান্তিনিকেতন, ১৫ বৈশাখ, ১৩২১

joras

You are young, thankfully unripe,
Green and unconcerned with rules,
So revive these half dead beings with blows.
On this dawn, drunk with blood red light
Let them say whatever they can,
Laugh off all their words with ease
Fan out your feathers with pride.
Come, with your indefatigable will and raw youth.

The cage shakes gently in the breeze;
Nothing else has ever moved I think,
In their rooms or their courtyards.
Look, there sit the old, the excessively wise,
Eyes and ears covered in ragged wings,
Dozing like a painted carnival clown
In a darkened cage.
Come, flooding with life force and youth.

No one looks once to the outer world
They do not see the rise of the tide
As it leaps into great waves,
They do not see that they are of the earth
With feet that still tread the dust,
They love to be idle in their own worlds
Seated high in their own estimation,
Come, to shake these feeble foundations, blessed youth.

Everyone will resist you at first
When the first light pierces the gloom
They will think it a catastrophe of events
Your blows will make their anger rage,
Making them rise from their beds,
That will be the chance to wake them up
To see truth battle it out with lies.
Come, with tremendous might, come my young ones.

That altar to the goddess of chains
Will that remain raised forever?
Break down these doors with whimsical spirit.
In the raging of the storm fly the pennants high
Let your laughter split open the sky,
Shake out the hoards of the ever asleep
Bring out every kind of misadventure and folly.
Come, insanity, come insatiable youth.

Pull us to the ends of the marked paths
Make us seek the call of the unknown,
And tread our own roads into lands never seen.
There will be danger, there may well be pain,
That is the very thing that makes the heart thrill,
Destroy every illusion in the books they read
That one must ask for directions indeed.
Come, blessed freedom, come untrammeled youth.

You will live forever, eternal youth,
Casting aside this ravaged skin of age
You will spread endless life wherever you go.
Your green abandon fills the earth,
You are the lightning in the storm cloud,
You are the one who embraces Spring
Wearing your garlands of mimosa bloom,
Come, everlasting, come eternal youth.

Santiniketan 1914

One thought on “বলাকা ১, Poem 1, Bolaka

Comments are closed.