Chokher Bali 22, Part 2/চোখের বালি ২২ দ্বিতীয় ভাগ

বিনোদিনী তিন বার স্বীকার করিল। আশা কহিল, “ভাই চোখের বালি, সেই যদি রহিলেই তবে এত করিয়া সাধাইলে কেন। শেষকালে আমার স্বামীর কাছে তো হার মানিতে হইল।”

বিনোদিনী হাসিয়া কহিল, “ঠাকুরপো, আমি হার মানিয়াছি, না তোমাকে হার মানাইয়াছি?”

মহেন্দ্র এতক্ষণ স্তম্ভিত হইয়া ছিল; মনে হইতেছিল, তাহার অপরাধে যেন সমস্ত ঘর ভরিয়া রহিয়াছে, লাঞ্ছনা যেন তাহার সর্বাঙ্গ পরিবেষ্টন করিয়া। আশার সঙ্গে কেমন করিয়া সে প্রসন্নমুখে স্বাভাবিকভাবে কথা কহিবে। এক মুহূর্তের মধ্যে কেমন করিয়া সে আপনার বীভৎস অসংযমকে সহাস্য চটুলতায় পরিণত করিবে। এই পৈশাচিক ইন্দ্রজাল তাহার আয়ত্তের বহির্ভূত ছিল। সে গম্ভীরমুখে কহিল, “আমারই তো হার হইয়াছে।” বলিয়াই ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

অনতিকাল পরেই আবার মহেন্দ্র ঘরের মধ্যে ঢুকিয়া বিনোদিনীকে কহিল, “আমাকে মাপ করো।”

বিনোদিনী কহিল, “অপরাধ কী করিয়াছ, ঠাকুরপো।”

মহেন্দ্র কহিল, “তোমাকে জোর করিয়া এখানে ধরিয়া রাখিবার অধিকার আমাদের নাই।”

বিনোদিনী হাসিয়া কহিল, “জোর কই করিলে, তাহা তো দেখিলাম না। ভালোবাসিয়া ভালো মুখেই তো থাকিতে বলিলে। তাহাকে কি জোর বলে। বলো তো ভাই, চোখের বালি, গায়ের জোর আর ভালোবাসা কি একই হইল।”

আশা তাহার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হইয়া কহিল, “কখনোই না।”

বিনোদিনী কহিল, “ঠাকুরপো, তোমার ইচ্ছা আমি থাকি, আমি গেলে তোমার কষ্ট হইবে, সে তো আমার সৌভাগ্য। কী বল ভাই চোখের বালি, সংসারে এমন সুহৃদ কয় জন পাওয়া যায়। তেমন ব্যথার ব্যথী, সুখের সুখী, অদৃষ্টগুণে যদিই পাওয়া যায়, তবে আমিই বা তাহাকে ছাড়িয়া যাইবার জন্য ব্যস্ত হইব কেন।”

আশা তাহার স্বামীকে অপদস্থভাবে নিরুত্তর থাকিতে দেখিয়া ঈষৎ ব্যথিতচিত্তে কহিল, “তোমার সঙ্গে কথায় কে পারিবে ভাই। আমার স্বামী তো হার মানিয়াছেন, এখন তুমি একটু থামো।”

মহেন্দ্র আবার দ্রুত ঘর হইতে বাহির হইল। তখন রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করিয়া বিহারী মহেন্দ্রের সন্ধানে আসিতেছিল। মহেন্দ্র তাহাকে দ্বারের সম্মুখে দেখিতে পাইয়াই বলিয়া উঠিল, “ভাই বিহারী, আমার মতো পাষণ্ড আর জগতে নাই।” এমন বেগে কহিল, সে কথা ঘরের মধ্যে গিয়া পৌঁছিল।

ঘরের মধ্য হইতে তৎক্ষণাৎ আহ্বান আসিল, “বিহারী-ঠাকুরপো।”

বিহারী কহিল, “একটু বাদে আসছি, বিনোদ-বোঠান।”

বিনোদিনী কহিল, “একবার শুনেই যাও না।”

বিহারী ঘরে ঢুকিয়াই মুহূর্তের মধ্যে একবার আশার দিকে চাহিল– ঘোমটার মধ্য হইতে আশার মুখ যতটুকু দেখিতে পাইল, সেখানে বিষাদ বা বেদনার কোনো চিহ্নই তো দেখা গেল না। আশা উঠিয়া যাইবার চেষ্টা করিল, বিনোদিনী তাহাকে জোর করিয়া ধরিয়া রাখিল– কহিল, “আচ্ছা, বিহারী-ঠাকুরপো, আমার চোখের বালির সঙ্গে কি তোমার সতিন-সম্পর্ক। তোমাকে দেখলেই ও পালাতে চায় কেন।”

আশা অত্যন্ত লজ্জিত হইয়া বিনোদিনীকে তাড়না করিল।

বিহারী হাসিয়া উত্তর করিল, “বিধাতা আমাকে তেমন সুদৃশ্য করিয়া গড়েন নাই বলিয়া।”

বিনোদিনী। দেখছিস ভাই বালি, বিহারী-ঠাকুরপো বাঁচাইয়া কথা বলিতে জানেন– তোর রুচিকে দোষ না দিয়া বিধাতাকেই দোষ দিলেন। লক্ষ্ণণটির মতোএমন সুলক্ষণ দেবর পাইয়াও তাহাকে আদর করিতে শিখিলি না– তোরই কপাল মন্দ।

বিহারী। তোমার যদি তাহাতে দয়া হয় বিনোদ-বোঠান, তবে আর আমার আক্ষেপ কিসের।

বিনোদিনী। সমুদ্র তো পড়িয়া আছে, তবু মেঘের ধারা নইলে চাতকের তৃষ্ণা মেটে না কেন।

আশাকে ধরিয়া রাখা গেল না। সে জোর করিয়া বিনোদিনীর হাত ছাড়াইয়া বাহির হইয়া গেল। বিহারীও চলিয়া যাইবার উপক্রম করিতেছিল। বিনোদিনী কহিল, “ঠাকুরপো, মহেন্দ্রবাবুর কী হইয়াছে, বলিতে পার?”

শুনিয়াই বিহারী থমকিয়া ফিরিয়া দাঁড়াইল। কহিল, “তাহা তো জানি না। কিছু হইয়াছে নাকি।”

বিনোদিনী। কী জানি ঠাকুরপো, আমার তো ভালো বোধ হয় না।

বিহারী উদ্বিগ্ন মুখে চৌকির উপর বসিয়া পড়িল। কথাটা খোলসা শুনিবে বলিয়া বিনোদিনীর মুখের দিকে ব্যগ্রভাবে চাহিয়া অপেক্ষা করিয়া রহিল। বিনোদিনী কোনো কথা না বলিয়া মনোযোগ দিয়া চাদর সেলাই করিতে লাগিল।

কিছুক্ষণ প্রতীক্ষা করিয়া বিহারী কহিল, “মহিনদার সম্বন্ধে তুমি কি বিশেষ কিছু লক্ষ্য করিয়াছ।”

বিনোদিনী অত্যন্ত সাধারণভাবে কহিল, “কী জানি ঠাকুরপো, আমার তো ভালো বোধ হয় না। আমার চোখের বালির জন্যে আমার কেবলই ভাবনা হয়।” বলিয়া দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া সেলাই রাখিয়া উঠিয়া যাইতে উদ্যত হইল।

বিহারী ব্যস্ত হইয়া কহিল, “বোঠান, একটু বোসো।” বলিয়া একটা চৌকিতে বসিল।

বিনোদিনী ঘরের সমস্ত জানালা-দরজা সম্পূর্ণ খুলিয়া দিয়া কেরোসিনের বাতি উস্কাইয়া সেলাই টানিয়া লইয়া বিছানার দূরপ্রান্তে গিয়া বসিল। কহিল, “ঠাকুরপো, আমি তো চিরদিন এখানে থাকিব না– কিন্তু আমি চলিয়া গেলে আমার চোখের বালির উপর একটু দৃষ্টি রাখিয়ো– সে যেন অসুখী না হয়।” বলিয়া যেন হৃদয়োচ্ছ্বাস সংবরণ করিয়া লইবার জন্য বিনোদিনী অন্য দিকে মুখ ফিরাইল।

বিহারী বলিয়া উঠিল, “বোঠান, তোমাকে থাকিতেই হইবে। তোমার নিজের বলিতে কেহ নাই– এই সরলা মেয়েটিকে সুখে দুঃখে রক্ষা করিবার ভার তুমি লও– তুমি তাহাকে ফেলিয়া গেলে আমি তো আর উপায় দেখি না।”

বিনোদিনী। ঠাকুরপো, তুমি তো সংসারের গতিক জান। এখানে বরাবর থাকিব কেমন করিয়া। লোকে কী বলিবে।

বিহারী। লোকে যা বলে বলুক, তুমি কান দিয়ো না। তুমি দেবী– অসহায়া বালিকাকে সংসারের নিষ্ঠুর আঘাত হইতে রক্ষা করা তোমারই উপযুক্ত কাজ। বোঠান, আমি তোমাকে প্রথমে চিনি নাই, সেজন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমিও সংকীর্ণ-হৃদয় সাধারণ ইতরলোকদের মতো মনে মনে তোমার সম্বন্ধে অন্যায় ধারণা স্থান দিয়াছিলাম; একবার এমনও মনে হইয়াছিল, যেন আশার সুখে তুমি ঈর্ষা করিতেছ– যেন– কিন্তু সে-সব কথা মুখে উচ্চারণ করিতেও পাপ আছে। তার পরে, তোমার দেবীহৃদয়ের পরিচয় আমি পাইয়াছি– তোমার উপর আমার গভীর ভক্তি জন্মিয়াছে বলিয়াই, আজ তোমার কাছে আমার সমস্ত অপরাধ স্বীকার না করিয়া থাকিতে পারিলাম না।

বিনোদিনীর সর্বশরীর পুলকিত হইয়া উঠিল। যদিও সে ছলনা করিতেছিল, তবু বিহারীর এই ভক্তি-উপহার সে মনে মনেও মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিতে পারিল না। এমন জিনিস সে কখনো কাহারো কাছ হইতে পায় নাই। ক্ষণকালের জন্য মনে হইল, সে যেন যথার্থই পবিত্র উন্নত– আশার প্রতি একটা অনির্দেশ্য দয়ায় তাহার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। সেই অশ্রুপাত সে বিহারীর কাছে গোপন করিল না, এবং সেই অশ্রুধারা বিনোদিনীর নিজের কাছে নিজেকে পূজনীয়া বলিয়া মোহ উৎপাদন করিল।

বিহারী বিনোদিনীকে অশ্রু ফেলিতে দেখিয়া নিজের অশ্রুবেগ সংবরণ করিয়া উঠিয়া বাহিরে মহেন্দ্রের ঘরে গেল। মহেন্দ্র যে হঠাৎ নিজেকে পাষণ্ড বলিয়া কেন ঘোষণা করিল, বিহারী তাহার কোনো তাৎপর্য খুঁজিয়া পাইল না। ঘরে গিয়া দেখিল, মহেন্দ্র নাই। খবর পাইল, মহেন্দ্র বেড়াইতে বাহির হইয়াছে। পূর্বে মহেন্দ্র অকারণে কখনোই ঘর ছাড়িয়া বাহির হইত না। সুপরিচিত লোকের এবং সুপরিচিত ঘরের বাহিরে মহেন্দ্রের অত্যন্ত ক্লান্তি ও পীড়া বোধ হইত। বিহারী ভাবিতে ভাবিতে ধীরে ধীরে বাড়ি চলিয়া গেল।

বিনোদিনী আশাকে নিজের শয়নঘরে আনিয়া বুকের কাছে টানিয়া দুই চক্ষু জলে ভরিয়া কহিল, “ভাই চোখের বালি, আমি বড়ো হতভাগিনী, আমি বড়ো অলক্ষণা।”

আশা ব্যথিত হইয়া তাহাকে বাহুপাশে বেষ্টন করিয়া স্নেহার্দ্রকণ্ঠে বলিল, “কেন ভাই, অমন কথা কেন বলিতেছ।”

বিনোদিনী রোদনোচ্ছ্বসিত শিশুর মতো আশার বক্ষে মুখ রাখিয়া কহিল, “আমি যেখানে থাকিব, সেখানে কেবল মন্দই হইবে। দে ভাই, আমাকে ছাড়িয়া দে, আমি আমার জঙ্গলের মধ্যে চলিয়া যাই।”

আশা চিবুকে হাত দিয়া বিনোদিনীর মুখ তুলিয়া ধরিয়া কহিল, “লক্ষ্মীটি ভাই, অমন কথা বলিস নে–তোকে ছাড়িয়া আমি থাকিতে পারিব না– আমাকে ছাড়িয়া যাইবার কথা কেন আজ তোর মনে আসিল।”

মহেন্দ্রের দেখা না পাইয়া বিহারী কোনো একটা ছুতায় পুনর্বার বিনোদিনীর ঘরে আসিয়া মহেন্দ্র ও আশার মধ্যবর্তী আশঙ্কার কথাটা আর-একটু স্পষ্ট করিয়া শুনিবার জন্য উপস্থিত হইল।

মহেন্দ্রকে পরদিন সকালে তাহাদের বাড়ি খাইতে যাইতে বলিবার জন্য বিনোদিনীকে অনুরোধ করিবার উপলক্ষ লইয়া সে উপস্থিত হইল। “বিনোদ-বোঠান” বলিয়া ডাকিয়াই হঠাৎ কেরোসিনের উজ্জ্বল আলোকে বাহির হইতেই আলিঙ্গনবদ্ধ সাশ্রুনেত্র দুই সখীকে দেখিয়াই থমকিয়া দাঁড়াইল। আশার হঠাৎ মনে হইল, নিশ্চয়ই বিহারী তাহার চোখের বালিকে কোনো অন্যায় নিন্দা করিয়া কিছু বলিয়াছে, তাই সে আজ এমন করিয়া চলিয়া যাইবার কথা তুলিয়াছে। বিহারীবাবুর ভারি অন্যায়। উহার মন ভালো নয়। আশা বিরক্ত হইয়া বাহির হইয়া আসিল। বিহারীও বিনোদিনীর প্রতি ভক্তির মাত্রা চড়াইয়া বিগলিতহৃদয়ে দ্রুত প্রস্থান করিল।

সেদিন রাত্রে মহেন্দ্র আশাকে কহিল, “চুনি, আমি কাল সকালের প্যাসেঞ্জারেই কাশী চলিয়া যাইব।”

আশার বক্ষঃস্থল ধক্ করিয়া উঠিল-কহিল, “কেন।”

মহেন্দ্র কহিল, “কাকীমাকে অনেক দিন দেখি নাই।”

শুনিয়া আশা বড়োই লজ্জাবোধ করিল; এ কথা পূর্বেই তাহার মনে উদয় হওয়া উচিত ছিল; নিজের সুখদুঃখের আকর্ষণে স্নেহময়ী মাসিমাকে সে যে ভুলিয়াছিল, অথচ মহেন্দ্র সেই প্রবাসী-তপস্বিনীকে মনে করিয়াছে, ইহাতে নিজেকে কঠিনহৃদয়া বলিয়া বড়োই ধিক্কার জন্মিল।

মহেন্দ্র কহিল, “তিনি আমারই হাতে তাঁহার সংসারের একমাত্র স্নেহের ধনকে সমর্পণ করিয়া দিয়া চলিয়া গেছেন– তাঁহাকে একবার না দেখিয়া আমি কিছুতেই সুস্থির হইতে পারিতেছি না।”

বলিতে বলিতে মহেন্দ্রের কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হইয়া আসিল; স্নেহপূর্ণ নীরব আশীর্বাদও অব্যক্ত মঙ্গলকামনার সহিত বারংবার সে আশার ললাট ও মস্তকের উপর দক্ষিণ করতল চালনা করিতে লাগিল। আশা এই অকস্মাৎ স্নেহাবেগের সম্পূর্ণ মর্ম বুঝিতে পারিল না, কেবল তাহার হৃদয় বিগলিত হইয়া অশ্রু পড়িতে লাগিল। আজই সন্ধ্যাবেলায় বিনোদিনী তাহাকে অকারণ স্নেহাতিশয্যে যে-সব কথা বলিয়াছিল, তাহা মনে পড়িল। উভয়ের মধ্যে কোথাও কোনো যোগ আছে কি না, তাহা সে কিছুই বুঝিল না। কিন্তু মনে হইল, যেন ইহা তাহার জীবনে কিসের একটা সূচনা। ভালো কি মন্দ কে জানে।

ভয়ব্যাকুলচিত্তে সে মহেন্দ্রকে বাহুপাশ বদ্ধ করিল। মহেন্দ্র তাহার সেই অকারণ আশঙ্কার আবেশ অনুভব করিতে পারিল। কহিল, “চুনি, তোমার উপর তোমার পুণ্যবতী মাসিমার আশীর্বাদ আছে, তোমার কোনো ভয় নাই, কোনো ভয় নাই। তিনি তোমারই মঙ্গলের জন্য তাঁহার সমস্ত ত্যাগ করিয়া গেছেন, তোমার কখনো কোনো অকল্যাণ হইতে পারে না।”

আশা তখন দৃঢ়চিত্তে সমস্ত ভয় দূর করিয়া ফেলিল। স্বামীর এই আশীর্বাদ অক্ষয়কবচের মতো গ্রহণ করিল। সে মনে মনে বারংবার তাহার মাসিমার পবিত্র পদধূলি মাথায় তুলিয়া লইতে লাগিল, এবং একাগ্রমনে কহিল, “মা, তোমার আশীর্বাদ আমার স্বামীকে সর্বদা রক্ষা করুক!”

পরদিনে মহেন্দ্র চলিয়া গেল, বিনোদিনীকে কিছুই বলিয়া গেল না। বিনোদিনী মনে মনে কহিল, “নিজে অন্যায় করা হইল, আবার আমার উপরে রাগ! এমন সাধু তো দেখি নাই। কিন্তু এমন সাধুত্ব বেশিদিন টেঁকে না।’

Kalighat-Paintings-04

Binodini made the three promises needed to seal the pact. Asha said, ‘Dear Bali, if you were going to stay why did you make us beg you so much? You had to bow to my husband’s requests, did you not?’

Binodini smiled and answered, ‘Sir, did I lose or did I cause you to admit defeat?’

Mahendra had been stupefied into silence all this time; he felt as though his wrongs filled the room and shame surrounded him on all sides. How was he to ever speak to Asha with any semblance of normalcy and a smile on his face? How would he transform the terrible lack of propriety he had shown into a joke that evoked laughter? The degree of evil required to carry off such pretence was beyond his scope. He said unsmilingly, ‘I am the one who lost,’ and immediately left the room.

A few moments later he came back into the room and said to Binodini, ‘Forgive me.’

Binodini said, ‘What have you done wrong?’

Mahendra answered, ‘We have no right to keep you here against your wishes.’

Binodini smiled and said, ‘I didn’t see you force me. You asked me with affection. That is hardly forcing me to stay. Tell me, dearest Bali, love is hardly the same as brute strength!’

Asha completely agreed with her and said, ‘Never!’

Binodini said, ‘Dear Sir, it is my good fortune that you wish for me to stay and that you will miss me when I leave. What do you say Bali, it is rare to find such a friend in life. If I have found such a person thanks to my good fortune, who is constant in sadness and in joy, why should I want to forsake them?’

Asha noticed her husband’s discomfiture and said, slightly pained, ‘Who can match you in verbal sparring? He has admitted defeated, now let my husband be.’

Mahendra left the room hurriedly again. Bihari was on his way to see Mahendra after talking to Rajlakshmi and as soon as Mahendra saw him in front of the doorway he exclaimed, ‘There is none as cruel as me in the world, Bihari!’ He said this so loudly that the words were clearly heard from the room.

There was an immediate call for Bihari from within. It was Binodini.

Bihari said,’I am coming in a short while, madam.’

Binodini urged, ‘It is important that you come right now.’

Bihari entered and took a quick look at Asha- the little that he could see of her face showed no traces of pain or sadness. She was about to get up to leave when Binodini held her back and asked Bihari, ‘Why is there such animosity between you and my friend Bali, as though you are both wives to the same man? She simply cannot bear being in the same room as you.’

Asha was horrified by her words and urged her to be silent.

Bihari smiled and answered, ‘Perhaps it is because I was not blessed with good looks by my maker.’

Binodini: See Bali, Bihari is very good at avoiding the real answers. Instead of blaming your taste he blamed his maker. You have such a charming brother-in-law, just like Lakshman to Ram and yet you have never learned to appreciate him – such is your misfortune.

Bihari: If you see fit to favour me Madam, why should I be sad?

Binodini: The Chataka bird sees the sea, but still craves the sweetness from the clouds. Why pray tell?

Asha would be detained no longer. She forcibly pulled away from Binodini’s grasp and left. Bihari was also about to leave when Binodini asked him, ‘What is going on with your friend Mahendra, do you know at all?’

Bihari immediately stopped and said, ‘I do not know that anything is wrong. Why do you ask?’

Binodini: I am not sure, but I do not like it at all.

Bihari sat down again with a worried look on his face. He looked eagerly at Binodini to hear what she would say. She said nothing and bent her head over her sewing.

After waiting a little while Bihari asked, ‘What have you observed about Mahendra in particular?’

Binodini answered calmly, ‘I do not like it at all. I worry so much about my dear Bali.’ She then sighed deeply and put her needlework down as if to leave.

Bihari said anxiously, ‘Madam, please sit a little while longer.’ He sat down too.

Binodini opened all the doors and windows, turned the kerosene lamp up and sat down again with her sewing at the far end of the bed. She said, ‘Look, I will not be able to stay here for eternity – but when I am gone, do keep an eye on my dear Bali, I do not wish her to be unhappy in any way.’ She seemed to be trying hard to control her emotions as she looked away.

Barely had she finished than Bihari spoke, ‘Madam, you will have to stay. You have no one of your own. Please take charge of this innocent girl – if you leave her I see no other way out.’

Binodini: Sir, you know the ways of the world. How can I stay here all the time? What will people say about that?

Bihari: Do not pay any heed to people; let them say what they want. You are a goddess – it befits you to take up the task of protecting the helpless girl from the cruel blows of life. I did not know you at first, do forgive me for that. I succumbed to narrow mindedness like the others and thought wrongly of you; to the extent that once I even thought you were jealous of Asha’s happiness and that – it is so wrong to even voice my thoughts. Since then I have had ample proof of the sanctity of your soul, I am admitting all this to you only because now I respect you so very deeply.

Binodini was thrilled to hear this. Even though she was pretending to be concerned about Asha’s wellbeing, Bihari’s respectful address was something that she could not ignore as being a lie. She had never received such recognition from anyone in her life. For a few short moments she truly did feel cleansed and pure – her eyes streaming with tears out of pity for Asha. She did not hide them from Bihari and in her own eyes the tears served to make her feel worthier of his worship than she really was.

Bihari suppressed his own tears at the sight of Binodini’s weeping and left the room to go to Mahendra. He could not understand why Mahendra had referred to himself as cruel. He found that Mahendra had gone out. In the past Mahendra had never been one to leave his house without cause. He felt very fatigued and pained when he was removed from the people and the places that he knew very well. Bihari thought about this as he walked home slowly.

Binodini took Asha to her own bedroom and drew her close, tearfully saying, ‘My dear Bali, I am a wretch, I am so ill fated.’

Asha was saddened by this and she hugged her saying gently, ‘Why are you saying these things?’

Binodini hid her face in Asha’s bosom like a child overcome with grief and said, ‘Wherever I am, there is naught but misfortune. Let me go, I beg you, I will go and back to the jungle which was once my home.’

Asha lifted her face by the chin and said, ‘Dearest, do not say such things, I will not be able to live without you – why did you think of leaving me today of all days!’

Bihari came to Binodini’s room once again when he failed to find Mahendra, hoping to hear a little more about her concerns about a misunderstanding between Mahendra and Asha.

He pretended he was there to ask Binodini to send Mahendra to his house for a meal the following morning. As he called her name from the doorway, he was struck when he saw the two women in a tearful embrace by the bright light of the kerosene lamp in the room. Asha thought that Bihari must have accused her friend of something wrongfully and made her feel she must leave. She felt this was very bad of him and that he was not a nice man. Asha left the room quite annoyed with his presence. Bihari left shortly after wards too, his heart overflowing with gratitude towards Binodini.

That night Mahendra said to Asha, ‘Chuni, I will go to Kashi by the early passenger train tomorrow.’
Asha was struck to the very core and asked, ‘Why?’
Mahendra said, ‘It has been a long time since I last saw our aunt.’

Asha was filled with shame when she heard this; she should have rightfully been the one to think of this; the fact that she had forgotten her loving aunt in the pursuit of her own happiness and that Mahendra was the one to remember that distant recluse made her aghast at the coldness of her heart.
Mahendra said, ‘She gave me the responsibility of looking after the only thing dear to her, I must see her just once if I am to calm myself.’

As he spoke Mahendra’s voice choked with feeling; he ran his right hand over Asha’s forehead and hair overwhelmed with affection and unspoken wishes for her welfare. Asha could not fathom the reason behind this sudden emotional display but her heart melted in tears. She remembered the spontaneous words of affection Binodini had said to her earlier in the evening. She did not connect the two events but she did feel that they marked a beginning of sorts in her life. She was not sure whether this was a good omen.

She held onto Mahendra tightly with a heart full of anxiety and misapprehension. Mahendra understood the emotional turmoil within her. He said, ‘Chuni, you have your good aunt’s blessings, you need not have any fear, none at all. She has forsaken everything for your well being, nothing bad can ever happen to you.’

Asha then determined to be unafraid and accepted her husband’s good wishes like a talisman. She mentally paid her respects to her aunt again and again and said with the greatest of sincerity, ‘Mother, may your blessings keep my husband safe at all times.’

Mahendra left the next day without saying anything to Binodini. She said to herself, ‘You are the one who is in the wrong and yet you are angry with me. I have never seen such a show of virtue. But you will not get to preserve it this easily.’