ক্ষীরের পুতুল ২: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর/Kheerer Putul 2

Image

 

সন্ধেবেলা সোনার জাহাজ সোনার পাল মেলে অগাধ সাগরের নীল জল কেটে সোনার মেঘের মতো পশ্চিমে মুখে ভেসে গেল।

ভাঙা ঘরে দুওরানী নীল সাগরের পানে চেয়ে,ছেঁড়া কাঁথায় পড়ে রইলেন। আর আদরিনী সুওরানী সাতহল অন্তঃপুরে,সাতশো সখীর  মাঝে,গহনার কথা ভাবতে ভাবতে, সোনার পিঞ্জরে সোনার পাখির গান শুনতে-শুনতে,সোনার পালঙ্কে ঘুমিয়ে পড়লেন।

রাজাও জাহাজে চড়ে দুঃখিনী বড়রানীকে ভুলে গেলেন । বিদায়ের  দিনে ছোটরানীর সেই  হাসি-হাসি মুখ মনে পড়ে আর ভাবেন—এখন রানী কি করছেন ? বোধ হয় চুল বাঁধছেন । এবার রানী কি করছেন? বুঝি রাঙা পায়ে আলতা পরছেন । এবার রানী সাত মালঞ্চে ফুল তুলছেন,এবার বুঝি সাত মালঞ্চের সাত সাজি ফুলে রানী মালা গাঁথছেন আর আমার কথা ভাবছেন । ভাবতে-ভাবতে বুঝি দুই চক্ষে জল এল,মালা আর গাঁথা হল না । .সোনার সুতো, ফূলের সাজি পায়ের  কাছে পড়ে রইল ; বসে বসে সারা  রাত কেটে গেল, রানীর চক্ষে ঘুম  এল না ।

সুওরানী—ছোটরানী রাজার আদরিনী,রাজা তারই কথা ভাবেন ।  আর বড়রানী রাজার জন্যে পাগল,তাঁর কথা একবার মনেও পড়ে না ।

এমনি করে জাহাজে দেশ-বিদেশে রাজার বারো-মাস কেটে গেল।

তেরোমাসে রাজার জাহাজ মানিকের দেশে এল ।

মানিকের দেশে সকলই মানিক । ঘরের দেওয়াল মানিক, ঘাটের  সান্‌ মানিক,পথের কাঁকর মানিক। রাজা সেই মানিকের দেশে সুওরানীর চুড়ি গড়ালেন । আট হাজার মানিকের আটগাছা চুড়ি, পরলে মনে হয় গায়ের রক্ত ফুটে পড়ছে ।

রাজা সেই মানিকের চুড়ি নিয়ে,সোনার দেশে এলেন । সেই সোনার দেশে স্যাকরার দোকানে নিরেট সোনার দশগাছা মল  গড়ালেন । মল জ্বলতে লাগল যেন আণ্ডনের ফিন্‌কি, বাজতে লাগল যেন বীণার ঝঙ্কার—মন্দিরার রিনি-রিনি ।

রাজা মানিকের দেশে মানিকের চুড়ি নিয়ে, সোনার দেশে সোনার মল গড়িয়ে, মুক্তোর রাজ্যে এলেন ।

সে দেশে রাজার বাগানে দুটি পায়রা । তাদের মুক্তোর পা, মানিকের  ঠোঁট, পান্নার গাছে মুক্তোর ফল খেয়ে মুক্তোর ড়িম পাড়ে । দেশের রানী সন্ধ্যাবেলা সেই মুক্তোর মালা গাঁথেন, রাতের বেলায় খোঁপায়  পরেন, সকাল বেলায় ফেলে দেন ।

দাসীরা সেই বাসি মুক্তোর হার এক জাহাজ রুপো নিয়ে বাজারে  বেচে আসে ।

রাজা এক জাহাজ রুপো দিয়ে সুওরানীর গলায় দিতে সেই মুক্তোর এক ছড়া হার কিনলেন ।

তারপর মানিকের চুড়ি নিয়ে, সোনার দেশে সোনার মল গড়িয়ে,  মুক্তোর রাজ্যে মুক্তোর হার গাঁথিয়ে, ছ’মাস পরে রাজা এক দেশে  এলেন । সে দেশে রাজকন্যের উপবনে নীল মানিকের গাছে নীল  গুটিপোকা নীলকান্ত মণির পাতা খেয়ে,জলের মতো চিকন,বাতাসের মতো ফুরফুরে,আকাশের মতো নীল রেশমের গুটি বাঁধে । রাজার মেয়ে সারা রাত ছাদে বসে,আকাশের সঙ্গে রঙ  মিলিয়ে, সেই নীল রেশমের শাড়ি বোনেন । একখানি শাড়ি বুনতে ছ’মাস যায় । রাজকন্যে একটি দিন সেই আকাশের মত নীল, বাতাসের মত ফুরফুরে, জলের মত চিকন শাড়ি পরে  শিবের মন্দিরে মহাদেব নীলকণ্ঠের পূজা করেন। ঘরে এসে শাড়ি ছেড়ে দেন,দাসীরা যার কাছে সাত জাহাজ সোনা পায় তার কাছে শারি বেচে। রাজা সাত জাহাজ সোনা দিয়ে আদরিনী সুওরানীর শখের শাড়ি কিনে নিলেন ।

তারপর আর ছ’মাসে রাজার সাতখানা জাহাজ সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে  ছোটোরানীর মানিকের চুড়ি, সোনার মল, মুক্তোর মালা, সাধের শাড়ি নিয়ে দেশে এল। তখন রাজার মনে পড়ল বড়রানী বাঁদর চেয়েছেন।

রাজা মন্ত্রীকে বললেন—মন্ত্রীবর,বড় ভুল হয়েছে। বড়রানীর বাঁদর আনা হযনি, তুমি একটা বাদরের সন্ধানে যাও

রাজমন্ত্রী একটা বাঁদরের সন্ধানে চলে গেলেন। আর রাজা শ্বেতহস্তী চড়ে, লোকারণ্য রাজপথ দিয়ে, ছোটরানীর সাধের গহনা, শখের শাড়ি নিয়ে অন্তঃপুরে চলে গেলেন।

ছোটোরানী সাত-মহল বাড়ির সাত-তলার উপরে সোনার আয়না সামনে রেখে সোনার কাঁকুইয়ে চুল চিরে, সোনার কাঁটা সোনার দরি দিয়ে খোঁপা বেঁধে সোনার চিয়াড়িতে সিঁদুর নিয়ে ভুরুর মাঝে টিপ পরছেন, কাজল-লতায় কাজল পেড়ে চোখের পাতায় কাজল পরছেন, রাঙা পায়ে আলতা দিচ্ছেন, সখীরা ফুলের থালা নিয়ে,পানের বাটা নিয়ে রাজরানী ছোটোরানীর  সেবা করছে—রাজা সেখানে এলেন।

স্ফটিকের সিংহাসনে রানীর পাশে বসে বললেন—এই নাও, রানী! মানিকের  দেশে মানিকের  ঘাট,মানিকের বাট—সেখান থেকে হাতের চুড়ি এনেছি। সোনার  দেশে সোনার ধুলো, সোনার বালি—সেখান থেকে পায়ের মল এনেছি । মুক্তোর রাজ্যে মুক্তোর পা, মানিকের ঠোঁট, দুটি পাখি মুক্তোর ডিম পাড়ে । দেশের রানী সেই  মুক্তোর হার গাঁথেন, রাতের বেলায় খোঁপায় পরেন, ভোরের বেলায় ফেলে দেন । রানী, তোমার জন্যে সেই মুক্তোর হার এনেছি। রানী, এক দেশে রাজার  মেয়ে এক-খী রেশমে সাত-খী সুতো কেটে নিশুতি রাতে ছাদে বসে  ছ’টি মাসে একখানি শাড়ি বোনেন, এক দিন পরে পূজো করেন, ঘরে  এসে ছেড়ে দেন । রানী, আমি সেই রাজার মেয়ের দেশ থেকে সাত  জাহাজ সোনা দিয়ে রাজকন্যার হাতে বোনা শাড়ি এনেছি। তুমি  একবার চেয়ে দেখ ! পৃথিবী খুজে গায়ের গহনা, পরনের শাড়ি আনলুম, একবার পরে দেখ !

রানী -তখন দু’হাতে আটগাছা চুড়ি পরলেন; মানিকের চুড়ি রানীর হাতে  ঢিলে হল, হাতের চুড়ি  কাধে উঠল।

রানী তখন দু’পায়ে দশ-গাছা মল পরলেন; রাঙা পায়ে সোনার মল আল্‌গা হল; দু-পা যেতে দশ-গাছা মল সানের উপর  খসে পড়ল। রানী  মুখ ভার করে  মুক্তোর  হার গলায় পরলেন ; মুক্তোর  দেশের মুক্তোর হার রানীর গলায় খাটো হল, হার পরতে গলার মাস কেটে গেল।  রানী  ব্যথা পেলেন !

সাত-পুরু করে শখের শাড়ি অঙ্গে পরলেন ; নীল রেশমের নীল  শাড়ি হাতে-বহরে কম পড়ল। রানীর চোখে জল এল ।

তখন মানিনী  ছোটরানী আট-হাজার মানিকের আট-গাছা চুড়ি খুলে  ফেলে, নিরেট সোনার দশ-গাছা মল পায়ে ঠেলে, মুক্তোর  মালা,শখের শাড়ি ধুলোয় ফেলে, বললেন—ছাই গহণা ! ছাই  এ-শাড়ি ! কোন পথের কাঁকর কুড়িয়ে এ-চুড়ি গড়ালে ? মহারাজ, কোন দেশের ধুলো বালিতে এ-মল গড়ালে ? ছি ছি, এ কার বাসি মুক্তোর বাসি হার ! এ কোন রাজকন্যার পরা শাড়ি! দেখলে যে ঘৃণা আসে, পরতে যে লজ্জা হয় ! নিয়ে যাও মহারাজ,এ পরা-শাড়ি পরা-গহণায় আমার কাজ নেই ।

রানী অভিমানে গোসা-ঘরে খিল দিলেন । আর রাজা মলিন-মুখে সাত জাহাজ সোনা দিয়ে কেনা সেই সাধের গহনা,শখের শাড়ি নিয়ে রাজসভায় এলেন ।

রাজমন্ত্রী রাজসিংহাসনের এক পাশে, রাজ্যের মাঠ-ঘাট দোকান-পাট সন্ধান করে, যাদুকরের দেশের এক বণিকের জাহাজ থেকে কানা-কড়ি দিয়ে একটি বাঁদরছানা কিনে বসে আছেন ।

রাজা এসে বললেন—মন্ত্রীবর, আশ্চর্য হলুম ! মাপ দিয়ে ছোটরানীর  গায়ের গহনা,পরনের শাড়ি  আনলুম, সে-শাড়ি, সে-গহনা রানীর গায়ে  হল না !

তখন সেই বনের বানর রাজার পায়ে প্রণাম করে বললে—বড় ভাগ্যবতী পুণ্যবতী না হলে দেবকন্যের হাতে বোনা,নাগকন্যের হাতে গাঁথা, মায়া-রাজ্যের এ  মায়া-গহনা, মায়া-শাড়ি পরতে পারে না । মহারাজ, রাজভাণ্ডারে তুলে রাখ, যাকে বৌ করবে তাকে পরতে দিও ।

বানরের কথায় রাজা অবাক হলেন । হাসতে হাসতে মন্ত্রীকে বললেন—মন্ত্রী, বানরটা বলে কি? ছেলেই হল না বৌ আনব কেমন করে ? মন্ত্রী, তুমি স্যাকরার দোকানে ছোটরানীর নতুন গহনা গড়তে দাওগে, তাঁতির তাঁতে রানীর নতুন শাড়ি বুনতে দাওগে। এ-গহনা, এ-শাড়ি রাজভাণ্ডারে তুলে রাখ; যদি বৌ ঘরে আনি তাকে পরতে দেব।

রাজমন্ত্রী স্যাকরার দোকানে ছোটরানীর নতুন গহনা গড়াতে গেলেন । আর রাজা সেই বাঁদর-কোলে বড়রানীর কাছে গেলেন ।

দুঃখিনী বড়রানী, জীর্ণ আঁচলে পা মুছিয়ে,ভাঙা ঘরে ছেঁড়া কাঁথায় রাজাকে  বসতে দিয়ে কাদঁতে-কাদঁতে বললেন—মহারাজ, বোসো। আমার এই ভাঙা ঘরে ছেঁড়া কাঁথায় বোসো । আমার আর কি আছে তোমায় বসতে দেব ? হায়,মহারাজ,কতদিন পরে তুমি ফিরে এলে,আমি এমনি অভাগিনী তোমার জন্যে ছেঁড়া কাঁথা পেতে দিলুম ।

রানীর কথায় রাজার চোখে জল এল । ভাঙা ঘরে ছেঁড়া কাঁথায় বসে বড়রানীর কোলে বাঁদর-ছানা দিয়ে বললেন—মহারানী, তোমার এ ছেঁড়া কাঁথা ভাঙা ঘর, ছোটরানীর সোনার সিংহাসন, সোনার ঘরের চেয়ে লক্ষ গুণে ভালো । তোমার এ-ভাঙা ঘরে আদর আছে, যত্ন আছে, দুটো মিষ্টি কথা  আছে, সেখানে তা তো  নেই।  রানী,সাত জাহাজ সোনা দিয়ে গায়ের গহনা, পরনে শাড়ী দিয়েছি, ছোটরানী পায়ে ঠেলেছে; আর কানা-কড়ি দিয়ে তোমার বাঁদর এনেছি, তুমি আদর করে কোলে নিয়েছ । রানী, আমি আর তোমায় দুঃখ দেব না । এখন  বিদায় দাও, আমি আবার আসব রানী ! কিন্তু দেখো, ছোটরানী যেন জানতে না পারে ! তোমার কাছে এসেছি শুনলে আর রক্ষে রাখবে না !  হয় তোমায়, নয়তো আমায় বিষ খাওয়াবে ।

রাজা বড়রানীকে প্রবোধ দিয়ে চলে গেলেন । আর বড়রানী সেই ভাঙা ঘরে দুধ-কলা দিয়ে সেই বাঁদরেরর ছানা মানুষ করতে লাগলেন।

এমনি করে দিন যায়। ছোটরানীর সাতমহলে সাতশ দাসীর মাঝে দিন যায়; আর বড়রানীর  ভাঙা ঘরে ছেঁড়া কাঁথায় বাঁদর-কোলে দিন যায়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে গেল! বড়রানীর যে দুঃখ সেই দুঃখই রইল, মোটা চালের ভাত, মোটা সুতোর শাড়ি আর ঘুচলো না। বড়রানী সেই ভাঙা ঘরের দুঃখের দুখী, সাথের সাথী বনের বানরকে কোলে নিয়ে ছোটরানীর সাতমহল বাড়ি,সাতখানা ফুলেরবাগানের দিকে চেয়ে চেয়ে কাঁদেন। বানর বড়রানীকে যখন দেখে তখনই রানীর চোখে জল,একটি দিন হাসতে দেখেনা।

একদিন বানর বললে—হ্যাঁ মা,তুই কাদিস কেন? তোর কিসের দুঃখ ? রাজবাড়ির দিকে চেয়ে চেয়ে কেন কাঁদিস, মা ? ওখানে তোর কে আছে?

রানী বললেন—ওরে বাছা,ওখানে আমার সব আছে আমা্র সাতমহল বাড়ি আছে,সাতশ দাসী আছে,সাতসিন্দুক গহনা আছে, সাতখানা মালঞ্চ আছে। আর বাছা, ওই সাতমহল বাড়িতে রাজার ছোটোরানী আমার এক সতীন আছে। সেই রাক্ষসী আমার রাজাকে জাদু করে আমার সাতমহল বাড়ি, সাতশ দাসী, সাত সিন্দুক গহনা কেড়ে নিয়ে ওই ফুলের মালঞ্চে সোনার মন্দিরে সুখে আছে; আমার সর্বস্বধন রাজাকে নিয়ে আমায় পথের কাঙ্গালিনী করেছে। ওরে বাছা, আমার কিসের দুঃখ! আমি রাজার মেয়ে ছিলুম, রাজার বৌ হলুম, সাতশ দাসী পেলুম, সাতমহল বাড়ি পেলুম, মনের মত রাজস্বামী পেলুম। সব পেলুম তবু কে জানে কার অভিশাপে, চিরদিনে পেলুম না কেবল রাজার কোলে দিতে সোনার চাঁদ রাজপুত্র! হায়, কতজন্মে কত পাপ করেছি, কত লোকের কত সাধে বাধ সেধেছি, কত মায়ের প্রাণে ব্যথা দিয়েছি, তাই এজন্মে সোনার সংসার সতীনকে দিয়ে, রানীর গরবে, স্বামীর সোহাগে, রাজপুত্রের আশায় ছাই দিয়ে পথের কাঙ্গালিনী হয়েছি! বাছারে, বড় পাষাণী তাই এতদিন এত অপমান, এত যন্ত্রণা বুকে সয়ে বেঁচে আছি!

 

***

 

The golden ship unfurled its golden sails and sailed across the endless blue waters of the sea towards the west like a golden cloud.

The Duorani lay on her tattered bed in her broken down room and gazed towards the blue sea. The beloved Shuyorani fell asleep on her golden bed, listening to the golden plumed song birds in their golden cages as she thought of the jewellery she would soon have and her seven hundred hand maidens sat about her.

The king too forgot his sorrowful elder queen as soon as he boarded the ship. All he remembered was the smiling face of the younger queen on the day he had left her.  He thought of her all day; what was she doing then? Perhaps she was doing her hair. What was she doing now? She must have been colouring the soles of her feet; now she must be collecting flowers now from the seven gardens to make garlands from seven baskets filled with blooms while she thinks of me. As she remembers me, her eyes well with tears and the garlands never get made. The golden thread and the basket lie at her feet; she sits there sleepless with worry.

The young Shuyorani is his one love, he only thinks of her. He never once remembers the older queen, the one who is madly in love with him.

The king spent twelve months at sea roaming various lands.

In the thirteenth month the king came to the land of the rubies.

In the land of rubies everything was made of that precious stone. The walls were made of stones as were the steps by the river and the gravel on the streets. The king had bracelets made for his younger queen. The eight thousand stones on her eight bracelets glowed red like droplets of blood on skin.

With the bracelets of rubies, he journeyed to the land of gold. He bought ten pairs of solid gold anklets from the gold smiths of the land. The anklets shone like molten fires, they rang against each other like the tinkling of cymbals and the flourish of veenas.

After he had bought the ruby bracelets from the land of rubies and the golden anklets from the land of gold his ship arrived in the land of pearls.

The king of the land had two pigeons in his gardens. They had feet of pearl and beaks of rubies with which they plucked pearl fruit from emerald trees and laid pearl eggs. His queen made garlands in the evening from those eggs, dressed her hair with them at night and threw them away each day at dawn.

Her maids took those cast offs to sell them at the markets for a ship filled with silver.

Our king bought one of those necklaces with a ship’s cargo of silver for the slender throat of Shuyorani.

Six months after he had bought the bracelets of rubies, the anklets of gold and the necklace of pearls, the king arrived in a new land. In the pleasure gardens of the princess of that land, blue silkworms grew upon sapphire trees. They fed on blue leaves and wove cocoons of blue silk that was as silky as water, as light as the air and as blue as the sky. The princess sat upon her roof all night and wove a blue sari to match the colour of the sky above her. Each sari took her six months. The princess wore the sari which was as silky as water, as light as the air and blue as the sky on the day that she worshipped at the temple of the blue throated god Lord Shiva. When she came home from the temple she discarded the sari on the floor and her handmaidens sold it to anyone who could pay them with seven ships filled with gold. Our king bought this sari for his beloved with seven ships worth of gold.

Six more months passed after that and then the seven ships traversed the seven seas and the thirteen rivers and came back to his own country with rubies for the queen’s arms, gold for her ankles, pearls for her neck and a sari as blue as the sky for her form. Now the king remembered that Duorani had asked for a monkey.

The kind said to his minister, ‘There has been a mistake. I do not have the monkey that the older queen wanted; you must go and look for one.’

The minister went off in search of a monkey. The king rode on a white elephant along streets filled with cheering subjects and went to the palace with all the jewellery and the sari for the younger queen.

She was sitting in the palace with the seven floors, on the seventh floor. She had a golden mirror before her and she combed her hair with a golden comb, tied it with golden cords and fixed it with pins of gold before using a golden nib to paint a dot between her eyebrows. She then drew kohl lines on her eyes, applied red dye to her feet and allowed her handmaidens to tend to her with flowers and trays of mouth freshener. The king came to see her there.

He sat by his queen on a crystal throne and said, ‘Here is what you asked for, my queen! In the land of rubies, the very steps are made of rubies! From there I have brought you bracelets for your arms. In the land of gold the very dust is made of gold! From there I brought you anklets for your feet. In the land of pearls the pigeons with feet of pearls and beaks of rubies lay eggs of pearl. The queen makes necklaces from them, wears them at night and throws them away at dawn. From there I bought them for you. In another country the princess weaves seven measures of silken thread from one measure of silk and sits up at night for six months to make herself a sari. She wears this for a day and never touches it again. I bought that sari for seven ships filled with the yellowest gold, so that you might have it. Here it is! I have roamed the world to bring you jewels for your throat and silk for your skin, wear them once, for me.

The queen then pulled the eight bracelets over her hands but the rubies hung limply against her arms and the bangles rode all the way to her shoulders.

She drew the anklets on to her feet but they were loose about her ankles; as she walked but two paces, they fell off her feet with a clanging sound. She sullenly fastened the pearl necklace around her throat; but the pearls from the land of pearls were too tight around her neck and cut into her flesh, hurting her.

She wore the sari after wrapping it around herself seven times but the blue silk sari was too short for her. Tears welled in her eyes.

The petulant young queen then pulled off the bracelets with their eight thousand rubies, the solid gold anklets, the pearls about her throat and the treasured sari! She said – Fie on these jewels, this sari! Where did you get the pebbles to make these bracelets? Where did you gather the dust to make these anklets? Shame on you for bringing me someone else’s cast off pearls! I hate the sight of this used sari, I am ashamed to wear them all! Take these away king, for I have no use for these old things!

The queen then locked herself in her chamber of anger and sulked. The king grew sombre and brought the sari and the jewels he had bought with seven ships filled with gold to his court.

The minister sat waiting by the king’s throne with a baby monkey that he had bought from a merchant from the land of magic for just a coin.

The king said to his minister, ‘How strange, minister that the things I had made for my younger queen do not fit her!’

The wild monkey then paid his respects to the king and said – Only the very fortunate are allowed to wear what the daughters of gods and snakes weave and make for themselves; these jewels and saris from the lands of make-believe. Put these away in the royal treasury, give them to your daughter-in-law when she comes into the family.

The king was astonished at the monkey’s words. He laughed and said to the minister, ‘What is this monkey saying? I do not even have a son yet! How will I greet a granddaughter-in-law? Go and order new jewels for the younger queen and new saris from the weavers. Put these jewels and clothes away in the royal treasuries for now; if there is ever a daughter-in-law in this house, she will have all these.’

The minister went to the goldsmith to order new jewels for the young queen. The king went to the older queen with the monkey she had wished for.

The unfortunate queen wiped his feet with the end of her threadbare sari, and made the king sit on a tattered mat in her broken room. She wept and said, ‘Sit down, my king. This is all I have to give you as a seat after all these days of absence. How miserable am I!’

The king’s eyes filled with tears when he heard her words. He gave her the monkey child as he sat in her broken room upon her tattered quilt. He said, ‘My queen, your tattered rags and broken doors are a million times better than the other queen’s thrones and rooms of gold. There is kindness and compassion here, there are sweet words to be heard; she has none of that. She kicks away the jewels I bought and the  sari I gave her. Yet, you are embracing the monkey I gave you which did not cost anywhere near that amount. I will not be the cause of your sorrow any more. Bid me farewell, I will return to you again, my queen. But beware, let not the young queen hear of this. She will not rest if she hears of this; she will either poison you and kill me.

The king went away after consoling the queen. She continued to live in her broken room raising the monkey on milk and bananas.

The days passed, as days always do. The younger queen spent her days in the palace with the seven floors surrounded by seven hundred hand maidens; while the older queen lay on a tattered rag in her broke down room, hugging a monkey to her bosom. Days became months and months turned into years. The older queen’s plight did not change; she had coarse rice to eat and coarse clothes to wear. She lay on her broken room, clutched her only companion the monkey to her breast and wept as she looked at the palace and its seven gardens. The monkey always saw her with tears in her eyes.

One day it asked, ‘Mother why do you cry? Why do you cry as you look at the palace? Whom have you lost there?’

The queen said, ‘Child, I have everything there. I have a house with seven floors, seven hundred hand maidens to serve my every need, seven chests filled with jewels and seven gardens to wander in. But in that seven floored palace lives my rival, the younger queen. That witch has cast a spell on my king and taken my house, my maids and my jewels from me; she lives happily in my gardens while I live in poverty. Dear child, what sorrow do I have! I was a king’s daughter, I became a king’s wife with seven hundred handmaidens and a seven floored palace; my husband was what I had dreamed of. I had everything but some curse meant that I could never give the king the heir he desired; a prince as precious as burnished gold! I must have sinned so much, been in the way of so many wishes being fulfilled, hurt so many mothers’ feelings and that is why I have to see my position taken by a usurper who has my all; while I taste only the ashes of disappointment after losing my king and kingdom and with it all hopes of giving him a prince. My child, I am so stony hearted that such ignominy and pain has not been able destroy me.’

 

 

 

4 thoughts on “ক্ষীরের পুতুল ২: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর/Kheerer Putul 2

  1. Animikha, why don’t you add FB like buttons on your site? I am so impressed by your site, would love to see more people visit the site and enjoy the beauty in translated form too

  2. Thank you for this lovely effort. God bless you.

    When will you upload the next part of Khirer Putul ? Waiting anxiously.

Comments are closed.