ক্ষীরের পুতুল ৩/ Kheerer Putul 3/ The Milk Doll 3

দুঃখের কথা বলতে-বলতে রানীর চক্ষের জলে বুক ভেসে গেল। তখন সেই বনের বানর রানীর কোলে উঠে বসে,  চোখের জল মুছে দিয়ে রানীকে বললে—মা,তুই কাঁদিস নে। আমি তোর  দুঃখ ঘোচাবো, তোর সাতমহল বাড়ি দেবো, সাতখানা মালঞ্চ দেবো, সাতশো দাসী ফিরে দেবো, তোকে সোনার মন্দিরে রাজার পাশে রানী করে কোলে নিতে সোনারচাঁদ ছেলে দেবো তবে আমার নাম বাঁদর। আমি যা বলি যদি তা করতে পারিস তবে তোর রাজবাড়িতে যেমন ঐশ্বর্য যেমন আদর ছিল তেমনি হবে।

বানরের কথায় রানীর চোখের কোণে জল, ঠোঁটের কোণে হাসি এল। রানী কেঁদে-কেঁদে হেসে বললেন—ওরে বাছা, দেবতার মন্দিরে কত বলি দিয়েছি, তীর্থে-তীর্থে কত না পুজো দিয়েছি, তবু একটি রাজপুত্র কোলে পাইনি। তুই কি তপস্যা করে কোন্‌ দেবতার বরে, বনের বানর হয়ে আমাকে রাজরানী করে রাজপুত্র কোলে এনে দিবি? বাছা থাক্‌, আমার রাজা সুখে থাক্‌, আমার সতীন সুখে থাক্‌, আমার যে দুঃখ সেই দুঃখই থাক্‌, তোর এ অসাধ্য-সাধনে কাজ নেই। রাত হল তুই ঘুম যা।

বানর বললে—না মা,আমার কথা না-শুনলে ঘুম যাব না।

রানী বললেন—ওরে তুই ঘুমো, রাত যে অনেক হল! পুব-পশ্চিমে মেঘ উঠল,আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এল,রাজ্য জুড়ে ঘুম এল,তুই আমার ঘুমো। কাল যা বলবি তাই শুনব,আজ তুই ঘুম যা। ভাঙা ঘরে দ্বার দিয়েছি—ঝড় উঠেছে,ঘরের মাঝে কাঁথা পেতেছি-শীত লেগেছে,তুই দুধের বাছা, আমার কোলে, বুকের কাছে ঘুম যা ।

বানর রানীর বুকে মাথা রেখে ঘুম গেল । রানি ছেঁড়া কাঁথায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন ।

এমনি করে রাত কাটল। ছোটরানীর সোনার পালঙ্কে ফুলের বিছানায়, রাজার পাশে রাত কাটল ; আর বড়রানীর জলে ঝড়ে,ভাঙা ঘরে, ছেঁড়া কাঁথায় রাত কাটল।

সকাল হল । রাজবাড়িতে প্রহরীখানায় প্রহর বাজল, নাকরাখানায় নবৎ বাজল, রাজারানীর ঘুম ভাঙলো।

রাজা সোনার ভৃঙ্গারে স্ফটিকজলে মুখ ধুয়ে, রাজবেশ অঙ্গে পরে রাজ-দরবারে নেবে গেলেন—আর ছোটরানী সোনার পালঙ্কে, ফুলের  বিছানায়, ফুলের পাখায় হাওয়া খেতে খেতে পাশ ফিরে ঘুম গেলেন ।

আর বড়রানী কি করলেন?

ভাঙা ঘরে সোনার রোদ মুখে পড়ল, রানী উঠে বসলেন । এদিক দেখলেন ওদিক দেখলেন, এপাশ দেখলেন ওপাশ দেখলেন—বানর নেই! রানী এ-ঘর খুঁজলেন ওঘর খুঁজলেন,ঘরের চাল খুঁজলেন, গাছের ডাল খুঁজলেন—বানর নেই! বড়রানী কাঁদতে লাগলেন ।

বানর কোথা গেল?

বানর ভাঙা ঘরে ঘুমন্ত রানীকে একলা রেখে রাত না-পোহাতে । রাজ-দরবারে চলে গেল।

রাজা বার দিয়ে দরবারে বসেছেন । চারিদিকে সভাসদ মন্ত্রী, দুয়ারে সিপাই-সান্ত্রী, আশেপাশে লোকের ভিড় । রানীর বানর সেই লোকের ভিড় ঠেলে,সিপাই-সান্ত্রীরর হাত এড়িয়ে, রাজার পায়ে প্রণাম করে বললে—মহারাজ, বড় সুখবর এনেছি, মায়ের আমার ছেলে হবে ।

রাজা বললেন—ওরে বানর বলিস কি ? একথা কি সত্য ? বড়রানী দুওরানী,তার ছেলে হবে ? দেখিস্‌ এ-কথা যদি মিথ্যা হয় তো তোকেও কাটব আর তোর মা দুওরানীকেও কাটব ।

বানর বললে—মহারাজ সে ভাবনা আমার । এখন আমায় খুশি কর, আমি বিদায় হই ।

রাজা গলার গজমোতি হার খুলে দিয়ে  বানরকে বিদায় করলেন ।

বানর নাচতে নাচতে—ভাঙা ঘরে দুওরানী পড়ে-পড়ে কাঁদছেন—সেখানে গেল ।

দুওরানীর চোখের জল, গায়ের ধুলো মুছিয়ে বানর বললে—এই দেখ্‌ মা, তোর জন্যে কি এনেছি ! তুই রাজার রানী, গলায় দিভে হার পাসনে,কাঠের মালা কিনে পরিস, এই মুক্তোর মালা পর !

রানী বানরের হাতে গজমোতি হার দেখে বললেন—এই হার তুই কোথা পেলি ? এ যে রাজার গলার গজমোতি হার ! যখন রানী ছিলুম রাজার জন্যে গেঁথেছিলুম, তুই-এ হার কোথায় পেলি ? বল্‌ বানর, রাজা কি এ-হার ফেলে দিয়েছেন, রাজপথে কুড়িয়ে পেলি ? বানর বললে -না মা, কুড়িয়ে পাইনি । তোর হাতে গাঁথা রাজার গলার গজমোতি হার কুড়িয়ে কি পাওয়া যায়?

রানী বললেন— তবে কি রাজার ঘরে চূরি করলি?

বানর বললে— ছি ছি মা, চুরি কি করতে আছে! আজ রাজাকে সু-খবর দিয়েছি তাই রাজা হার দিয়ে খুশি করেছেন ।

রানী বললেন-ওরে বাছা, তুই যে দুঃখীর সন্তান, বনের বানর । ভাঙা ঘরে দুঃখিনীর কোলে শুয়ে, রাজাকে দিতে কি সুখের সন্ধান পেলিযে  রাত না-পোয়াতে রাজবাড়িতে ছুটে গেলি!

বানর বললে— মা আমি স্বপ্ন পেয়েছি আমার যেন ভাই হয়েছে, তোর কোলে খোকা হয়েছে; সেই খোকা যেন রাজসিংহাসনে রাজা   হয়েছে। তাই ছুটে রাজাকে খবর দিলুম-রাজামহাশয়, মায়ের খোকা হবে। তাইত রাজা খুশি হয়ে গলার হার খুলে দিলেন ।  রানী বললেন— ওরে, রাজা আজ ণ্ডনলেন ছেলে হবে, কাল শুনবেন মিছে কথা ! আজ রাজা গলায় দিতে হার দিলেন, কাল যে মাথা নিতে  হুকুম দেবেন । হায় হায়, কি করলি ? একমুঠো খেতে পাই, একপাশে পড়ে থাকি, তবু বছর গেলে রাজার দেখা পাই, তুই আমার তাও ঘোচালি ? ওরে তুই কি সর্বনাশ করলি ? মিছে খবর কেন রটালি ? এ জঞ্জাল কেন ঘটালি!

বানর বললে— মা তোর  ভয় কি, ভাবিস কেন ? এ দশমাস চুপ করে থাক।  সবাই জানুক— বড় রানীর  ছেলে হবে । তারপর রাজা যখন ছেলে দেখবেন তখন তোর কোলে সোনার চাঁদ  ছেলে দেব, তুই রাজাকে দেখাস। এখন চল বেলা হল , খিদে পেয়েছে।

রানী বললেন— চল্‌ বাছা চল্‌। বাটি পুরে জল রেখেছি, গাছের ফল এনেছি, খাবি চল।

রানী ভাঙা পিঁড়েয় বানর কে খাওয়াতে বসলেন।

আর রাজা ছোটরানীর ঘরে গেলেন।

ছোটরানী কূস্বপ্ন দেখে জেগে উঠে সোনার পালঙ্কে বসে-বসে ভাবছেন এমন সময় রাজা এসে খবর দিলেন— আরে শুনেছ ছোটরানী, বড়রানীর ছেলে হবে ! বড় ভাবনা ছিল রাজসিংহাসন কাকে দেব, এতদিনে সে ভাবনা ঘুচল ! যদি ছেলে হয় তাকে রাজা করব, আর যদি মেয়ে হয়, তবে তার বিয়ে দিয়ে জামাইকে রাজ্য দেব । রানী, বড় ভাবনা ছিল, এতদিনে নিশ্চিন্ত হলুম ।

রানী বললেন— পারিনে বাপু, আপনার  জ্বালায় বাঁচিনে, পরের ভাবনা !

রাজা বললেন— সে কি রানী? এমন সুখের দিনে এমন কোথা বলতে হয়? রাজপুত্র কোলে পাব, রাজসিংহাসনে রাজা করব, একথা শুনে মুখ-ভার করে? রানী, রাজবাড়িতে সবার মুখে হাসি, তুমি কেন অকল্যাণ কর?

রানী বললেন–

আর পারিনে ! কার ছেলে রাজা হবে, কার মেয়ে রাজ্য পাবে,কে সিংহাসনে বসবে, এত ভাবনা ভাবতে পারিনে। নিজের জালায় মরি, পরের ছেলে মোলো বাঁচল তাঁর খবর রাখিনে। বাবারে, সকাল বেলা বকে বকে ঘুম হল না, মাথা ধরল, যাই নেয়ে আসি।

রাতভরে ছোটরানী আটগাছা চুরি, দশ গাছা মল ছমছমিয়ে একদিকে চলে গেলেন।

রাজার বড় রাগ হল। রাজকুমার কে ছোটরানী মর্‌ বললে। রাজা মুখ আঁধার করে বার-মহলে চলে এলেন। রাজা-রানী তে ঝগড়া হল। রাজা আর ছোটরানীর মুখ দেখলেন না, বররানীর ঘরেও গেলেন না— ছোট রানী শুনে যদি বিষ খাওয়ায়, বররানিকে নয় প্রাণে মারে! রাজা বার-মহলে একলা রইলেন।

একমাস গেল, দুমাস গেল, দু মাস গিয়ে তিন মাস গেল, রাজা-রানীর ভাব হল না।ঝগড়ায়-ঝগড়ায় চার মাস কাটল। পাঁচ মাসে দুওরানির পোষা বানর রাজার সঙ্গে দেখা করলে। রাজা বললেন— কি হে বানর,  খবর কি ?

বানর বললে—মহারাজ, মায়ের বড় দুঃখ !মোটা চালের ভাত মুখে রোচে না, মা আমার না খেয়েকাহিল হলেন।

রাজা বললেন— একথা তো আমি জানিনে । মন্ত্রীবর, যাও এখনি সরু চালের ভাত, পঞ্চাশ ব্যঞ্জন, সোনার থালে সোনার বাটিতে বড়রানীকে পাঠিয়ে দাও । আজ থেকে আমি যা খাই বড়রানীও তাই খাবেন । যাও মন্ত্রী, বানরকে হাজার মোহর দিয়ে বিদায় কর ।

মন্ত্রী বানরকে বিদায় করে রান্নাঘরে গেলেন । আর রানীর বানর মোহরের তোরা নিয়ে রানীর কাছে এল ।

রানী বললেন – আজ আবার কোথা ছিলি? এতখানি বেলা হল নাইতে পেলুম না,রাঁধব কখন? খাব কখন?

বানর বললে—মা,আর তোকে রাঁধতে হবে না । রাজবাড়ি থেকে সোনার থালায় সোনার  বাটিতে সরু চালের ভাত, পঞ্চাশ ব্যঞ্জন আসবে, তাড়াতাড়ি নেয়ে আয়।

রানী নাইতে গেলেন । বানর একমুঠো মোহর নিয়ে বাজারে গেল । ষোলো থান মোহরে ষোলজন ঘরামি নিলে, ষোলোগাড়ি খড় নিলে, ষোলশ বাঁশ নিলে। সেই ষোলশ বাঁশ দিয়ে, ষোলোগাড়ি খড় দিয়ে ষোলজন ঘরামি খাটিয়ে, চক্ষের নিমেষে দুওরানীর বানর ভাঙাঘর নতুন করলে। শোবার ঘরে নতুন কাঁথা পাতলে, খাবার ঘরে নতুন পিঁড়ি পাতলে, রাজবাড়ির ষোলো বামুনে রানীর ভাত নিয়ে এল; ষোলো মোহর বিদায় পেলে !

দুওরানী নেয়ে এলেন । এসে দেখলেন—নতুন  ঘর । ঘরের চাল নতুন ! চালের খড় নতুন ! মেঝেয় নতুন কাঁথা ! আলনায় নতুন শাড়ি ! রানী অবাক হলেন । বানর কে বললেন—বাছা, ভাঙা ঘর দেখে ঘাটে গেলুম, এসে দেখি নতুন ঘর ! কেমন করে হল ?

বানর বললে—মা, রাজা-মশায় মোহর দিয়েছেন। সেই মোহরে ভাঙা ঘর নতুন করেছি, ছেঁড়া কাঁথা নতুন করেছি, নতুন পিঁড়ে পেতেছি,  তুই সোনার থালে গরম ভাত; সোনার বাটিতে তপ্ত দুধ খাবি চল্‌।

রানী খেতে বসলেন । কতদিন পরে সোনার থালায় ভাত খেলেন,   সোনার ঘটিতে মুখ ধুলেন, সোনার বাটায় পান খেলেন, তবু মনে সুখ পেলেন না । রানী রাজভোগ খান আর ভাবেন—আজ রাজা সোনার থালে ভাত পাঠালেন, কাল হয়তো মশানে নিয়ে মাথা কাটবেন ।

এমনি করে ভয়ে-ভয়ে এক মাস, দুমাস, তিন মাস গেল । বড়রানীর নতুন ঘর পুরোনো হল, ঘরের চাল ফুটো হল, চালের খড় উড়ে গেল । বানর রাজার সঙ্গে দেখা করলে ।

রাজা বললেন—কি বানর, কি মনে করে ?

বানর বললে—মহারাজ, ভয়ে কবো না নির্ভয়ে কবো ?   রাজা বললেন—নির্ভয়ে কও ।

 

ccf0115201200000small

 

As she spoke of her sadness, the queen wept floods of tears. The monkey from the forest then climbed into her lap, dried her eyes and said to her, ‘Mother, do not cry! I will rid you of your sorrows, give you a seven storied house, seven gardens of your own and seven hundred maids to look after you; I am not a true monkey unless I manage to seat you beside the king in a temple of gold as his queen, with a son like a sliver of the golden moon. If you do all the things I tell you, you will get back all the wealth and affection you once had.

The queen heard what the monkey said and while tears welled in her eyes, her lips curled in a smile. She smiled through her tears and said – My child, I have sacrificed so many things to the gods, and made so many offerings to the holy shrines and I am yet to be blessed with a prince. What prayers will you offer and gain the blessings of which god that you can promise to make me a queen and give me a prince of my own to hold? You, a monkey of the forest? Let it be, my precious! Let my king be happy, let my co-wife be happy, let my sorrows not grow, you do not have to try and accomplish this impossible task! It is late, go to sleep!

The monkey protested – No mother, I will not sleep if you do not listen to me.

The queen said – Go to sleep, for the hour is late! There are clouds in the east and the west, the rain pours down in torrents, the kingdom sleeps and so must you. I will listen to whatever you say tomorrow, today you must sleep. I have closed the door to my broken room against the storm, I have spread my quilt on the floor against the cold, you are just a child, come to my lap; nestle in my breast and go to sleep.

The monkey nestled its head on her breast and slept. The queen rested her head on her faded and torn quilt and went to sleep.

The night passed. For the younger queen, it passed in her golden bed, on a layer of flowers by the side of the king; but the older queen spent her night buffeted by rain and wind in her broken down room, lying on her patched quilt.

Morning broke. The hours were called by the timekeeper in the palace, the flutes played in the musicians’ gallery and the king and queen rose from their slumbers.

The king washed his face in crystal clear water from a golden basin, dressed in his royal robes and descended to the royal court – the younger queen turned on her side on her golden bed on her flower mattress and went back to sleep as her handmaidens fanned her gently with a flowery fan.

What did the elder queen do?

The golden sun fell through the cracks of the wall on her face and she woke up. She looked this way and that; she searched here and there, but the monkey had vanished. She looked in this room and then the other, she looked in the roof and on the branches – there was no monkey! She began to cry.

Where did the monkey go?

The monkey had left the sleeping queen in her broken room and had gone to the court as soon as the night lightened in the east.

The king was sitting in the court surrounded by his courtiers and ministers, guards at the doors. People milled about. The queen’s monkey pushed through the crowd and managed to dodge the guards and soldiers. He threw himself at the king’s feet and said – Great King, I bring such good news! My mother is with child!

The king said – What are you saying! Is this true? The older queen, the sad queen is to have a baby? If you have told me a lie, I will have you both killed!

The monkey answered – That is for me to worry about. Now give me a reward, I have to go.

The king took off his ivory necklace and gave it to the monkey.

The monkey hopped and skipped its way to where the queen was weeping on her torn quilt in her broken room.

It dried her tears and dusted off her body and said – Look at what I have brought you mother! You are a queen and yet you wear beads of wood that you have to buy, now you will wear this!

The queen looked at the ivory beads in the monkey’s hand and said – Where did you get this? This is the king’s. I made it for the king when I was his queen, where did you chance upon this? Tell me you monkey, did the king throw this upon the dusty street? Is that where you found this? The monkey answered – No mother, I did not find this. Why should I find a present you made for the king in the dusty street?

The queen asked – Did you steal it from the king then?

The monkey answered – Shame on you, mother! Why would I steal from anyone? I gave the king such good news that the king gave this to me as a reward.

The queen declared – You are the child of a sad creature, a monkey from the forest. What happy news could you have heard as you lay in my lap that you had to wake up early and go to the palace?

The monkey said – I dreamed that I have a brother, that you have a son; that son will one day be the king of all of this. I ran to tell the king and the king was so happy that he gave me a reward. The queen was frightened – Today you have told him I will have a son, but what of tomorrow when he hears you had lied. Today you have the pearls from his neck but tomorrow he will be chopping off your head. Alas! What have you done! I may eat a handful and be pushed to a corner, but at least I get to see the king once a year and now you have destroyed even that! Why did you do this? Why did you lie? Why did you ruin everything!

The monkey said – Why are you worrying mother? Why are you afraid? Just wait for ten months. Let everyone know that the elder queen is going to have a baby. Then when the king comes to see the baby I will give you a son like a sliver of a golden moon and you can show him. Now let us go and eat, I am hungry.

The queen said – Let us do that. I have water in a bowl and fruits from the tree, come and eat.

She made him sit on a broken plank and served him his food.

The king in the meantime went to his younger queen’s palaces.

The queen had woken up from a nightmare and was thinking about it as she sat on her golden bed when the king arrived and told her – Have you heard, the elder queen is to have a baby! How worried I have been about who would succeed me to the throne, now I am so relieved! If it is a boy, I will make him king and if it is a girl I will make my son-in-law king and give him my kingdom. I was so worried my queen, but finally I feel at rest.

The queen said – I can’t handle this! I have so many issues of my own, and you want me to think of others!

The king said – What! Who says such things on a day as happy as this? I am talking about having a son and making him king and you are sulking? Why are you like this when everyone else is smiling with joy?

The queen said – I just can’t! I cannot think about whose son is to be king, whose daughter is to get the kingdom and who will get the throne. I have enough hassles of my own, who has the time to think about whether another person’s child lives or dies. All this talking is giving me a headache, let me go and have a bath.

She then went away, jangling her eight pairs of bangles and her ten stranded anklets.

The king felt very angry for she had said the baby prince could die for all she cared. He came to the outer chambers with a face like thunder. The two had quarreled; from then on, the king never went to see her or the elder queen. He was worried the younger queen would try to poison the older one if she heard of it. He lived by himself in the outer chambers.

One month passed and then two. Soon three months had passed but the king and the younger queen had not forgiven each other. Four months went thus. In the fifth month the monkey came to see the king who asked – Monkey, what is the news?

The monkey said – My mother is suffering so much! She cannot eat thick rice grains and her health suffers from her not eating a thing for the past few days.

The king declared – What! I knew nothing of this! Minister, go at once and send the finest rice, fifty kinds of accompaniments in golden plates and bowls to the elder queen. From this day on wards, my elder queen eats whatever I eat! Give the monkey a thousand coins before he goes!

The Minister paid the monkey and went to the kitchens. The monkey took the coins to his mother the queen.

The queen asked him – Where were you today? You are so late, I have not had time to bathe and now I will have to go hungry.

The monkey answered – Mother, you will not have to cook for us any more. Soon the royal kitchens will send golden plates full of rice and golden bowls filled with fifty different accompaniments, go and bathe quickly.

The queen went to bathe. The monkey now went to the markets with a fistful of coins. He used sixteen coins to hire sixteen builders, sixteen loads of straw and sixteen hundred bamboo poles. Those were used by the sixteen builders to repair the broken house and to thatch its threadbare roof. He bought new quilts for the bed, a new wooden seat for the dining room and gave sixteen coins to the sixteen Brahmins who brought the queen her food from the royal kitchens.

Duyorani came back from her bath. She saw that the house was repaired, the newly thatched roof had new straw. On the floor lay new mats and quilts; on the line hung new clothes for her. She was astonished and said to the monkey – I went to bathe from an old broken house and now it is all new! How did this happen?

The monkey said – Mother, the king has given me gold coins. I paid for repairs to the room, darning for the quilt, a proper wooden stool; come and eat hot rice from a golden plate and drink warm milk from a golden bowl!

The queen sat down to eat. She ate rice from a golden plate after such a long time, she rinsed her mouth from a golden cup and even ate a mouth freshening pan from a golden container; but she could not feel happy. The queen ate her royal meals and thought – Today I eat from a golden plate, perhaps tomorrow the king will have my head on a platter.

One month passed cautiously, then two and then three. The queen’s new rooms were now old, the new thatch had holes once again and the straw from the roof flew freely here and there. The monkey went to meet the king again.

Hello monkey, what is the news? The king asked.

The monkey said – Can I speak freely or must I watch what I say? The king answered – Speak freely!

2 thoughts on “ক্ষীরের পুতুল ৩/ Kheerer Putul 3/ The Milk Doll 3

Comments are closed.