ক্ষীরের পুতুল ৪/ Kheerer Putul 4/ The Milk Doll 4

বানর বললে—মহারাজ, ভাঙা ঘরে মা আমার বড় দুঃখ পান ।

ঘরের দুয়োর ফাটা, চালে খড় নেই, শীতের হিম ঘরে আসে । মা আমার গায়ে দিতে নেপ পান না, আণ্ডন জ্বালাতে কাঠ পান না, সারা রাত শীতে কাঁপেন।

রাজা বললেন—তাইতো তাইতো ! একথা বলতে হয় । বানর, তোর মাকে রাজবাড়িতে নিয়ে আয়, আমি মহল সাজাতে বলি । বানর বললে—মহারাজ, মাকে আনতে ভয় হয়, ছোটরানী বিষ খাওয়াবে।

রাজা বললেন—সে ভয় নেই । নতুন মহলে রানীকে রাখব, মহল ঘিরে গড় কটাব, গড়ের দুয়ারের পাহারা বসাব, ছোটরানী আসতে পারবে না। সে মহলে বড়রানী থাকবেন, বড়রানীর বোবা-কালা দাই থাকবে ? আর বড়রানীর পোষা ছেলে তুই থাকবি ।

বানর বললে—মহারাজ, যাই তবে মাকে আনি ।

রাজা বললেন—যাও মন্ত্রী মহল সাজাও গে।

মন্ত্রী লক্ষ লক্ষ লোক লাগিয়ে একদিনে বড়রানীর নতুন মহল সাজালেন।

দুওরানী ভাঙা ঘর ছেড়ে, ছেঁড়া কাঁথা ছেড়ে, সোনার শাড়ি পরে নতুন মহলে এলেন। সোনার পালঙ্কে বসলেন, সোনার থালে ভাত খেলেন, দীন-দুঃখীকে দান দিলেন, রাজ্যে জয় জয় হল; রাগে  ছোট রানীর সর্বাঙ্গ জ্বলে উঠল।

ডাকিনী ব্রাহ্মণী—ছোটরানীর ‘মনের কথা’, প্রাণের বন্ধু। ছোটরানী বলে পাঠালেন—মনের কথাকে আসতে বল, কথা আছে। রানী ডেকেছেন —ডাকিনী বুড়ি তাড়াতাড়ি চলে এল । রানী বললেন— এস ভাই, মনের কথা, কেমন আছ? কাছে বোসো। ডাকিনী ব্রাহ্মণী ছোটরানীর পাশে বসে বললে—কেন ভাই ডেকেছ কেন? মুখখানি ভারভার, চোখের কোণে জল, হয়েছে কি? রানী বললেন—হয়েছে আমার মাথা আর মুণ্ডু ! সতীন আবার ঘরে ঢুকেছে, সে সোনার শাড়ি পরেছে, নতুন মহল পেয়েছে, রাজার প্রেয়সী রানী হয়েছে। ভিখারিনী দুওরানী এতদিনে সুওরানীর রানী হয়ে রাজমহল জুড়ে বসেছে! বামুন সই, দেখে অঙ্গ জ্বলে গেল, আমায় বিষ দে খেয়ে মরি, সতিনের এই আদর প্রাণে সয় না। ব্রাহ্মণী বললে—ছি ! ছি ! সই । ও কথা কি  মুখে আনে ! কোন্‌ দুঃখে বিষ খাবে ? দুওরানী আজ রানী হয়েছে, কাল ভিখারিনী হবে, তুমি যেমন সুওরানী তেমনি থাকবে ।

সুওরানী বললেন—না ভাই, বাঁচতে আর সাধ নেই । আজ বাদে  কাল দুওরানীর ছেলে হবে, সে ছেলে রাজ্য পাবে ! লোকে বলবে, আহা, দুওরানী রত্নগর্ভা, রাজার মা হল ! আর দেখ না, পোড়ামুখী সুওরানী মহারাজার সুওরানী হল, তবু রাজার কোলে দিতে ছেলে পেলে না ! ছি ! ছি ! অমন অভাগীর মুখ দেখে না, নাম করলে সারা দিন উপোস যায় । ভাই, এ গঞ্জনা প্রাণে সবে না । তুই বিষ দে, হয় আমি খাই, নয়তো সতীনকে খাওয়াই

ব্রাহ্মণী বললে—চুপ কর রানী, কে কোন্‌দিকে শুনতে পাবে ! ভাবনা কি ? চুপি চুপি বিষ এনে দেব, দুওরানীকে খেতে দিও । এখন বিদায় দাও, বিষের সন্ধানে যাই।

রানী বললেন—যাও ভাই। কিন্তু দেখো, বিষ যেন আসল হয়, খেতে-না-খেতে বড়রানী ঘুরে পড়বে ।

ডাকিনী বললে— ভয় নেই গো, ভয় নেই ! আজ বাদে কাল বড়রানীকে বিষ খাওয়াব, জন্মের মতো মা হবার সাধ ঘোচাব, তুমি নির্ভয়ে থাক ।

ডাকিনী বিষের সন্ধানে গেল । বনে বনে খুঁজে-খুঁজে ভর-সন্ধ্যাবেলা ঝোপের আড়ালে ঘুমন্ত সাপকে মন্ত্রে বশ করে, তার মুখ থেকে কালকূট বিষ এনে দিল ।

ছোটরানী সেই বিষে মুগের নাড়ু, ক্ষীরের ছাঁচ, মতিচুর মেঠাই গড়লেন । একখানা থালা সাজিয়ে ডাকিনী ব্রাহ্মণীকে বললেন–ভাই এক কাজ কর, এই বিষের নাড়ু বড়রানীকে বেচে আয় ।

ব্রাহ্মণী থালা হাতে বড়রানীর নতুন মহলে গেল ।

বড়রানী বললেন—আয় লো আয়, এতদিন কোথায় ছিলি? দুওরানী বলে কি ভুলে থাকতে হয়?

ডাকিনী বললে—সে কি গো ! তোমাদের খাই, তোমাদের পরি, তোমাদের কি ভুলভে পারি ? এই দেখ, তোমার জন্যে যতন করে মুগের নাড়ু, ক্ষীরের ছাঁচ, মতিচুর মেঠাই এনেছি ।

রানী দেখলেন, বুড়ি বাহ্মণী বড় যত্ন করে, থালা সাজিয়ে সামগ্রী এনেছে । খুশি হয়ে তার দুহাতে দুমুঠো মোহর দিয়ে বিদায় করলেন, ব্রাহ্মণী হাসতে-হাসতে চলে গেল ।

রানী ক্ষীরের ছাঁচ ভেঙে খেলেন, জিবের স্বাদ গেল । মুগের নাড়ু  মুখে দিলেন, গলা কাঠ হল । মতিচুর মেঠাই খেলেন, বুক যেন জ্বলে গেল । বানরকে ডেকে বললেন—ব্রাহ্মণী আমায় কি খাওয়ালে ! গা-কেমন করছে, বুঝি আর বাঁচব না।

বানর বললে—চল্‌ মা, খাটে শুবি, অসুখ সারবে ।

রানী উঠে দাড়ালেন, সাপের বিষ মাথায় উঠল । রানী চোখে আঁধার দেখলেন, মাথা টলে গেল, সোনার প্রতিমা সানের উপর ঘুরে পড়লেন।

বানর রানীর মাথা কোলে নিলে, হাত ধরে নাড়ি দেখলে, চোখের পাতা খুলে চোখ দেখলে—রানী অজ্ঞান, অসাড় !

বানর সোনার প্রতিমা বড়রানীকে সোনার খাটে শুইয়ে দিয়ে  ওষুধের সন্ধানে বনে ছুটে গেল । বন থেকে কে জানে কি লতাপাতা, কোন গাছের কি শিকড় এনে নতুন শিলে বেটে বড়রানীকে খাওয়াতে লাগল ।

রাজবাড়িতে খবর গেল—বড়রানী বিষ খেয়েছেন । রাজা  উঠতে-পড়তে রানীর মহলে এলেন । রাজমন্ত্রী ছুটতে ছুটভে সঙ্গে এলেনা রাজবৈদ্য মন্তর আওড়াতে আওড়াতে তারপর এলেন।  তারপর রাজার লোক-লস্কর, দাসী-বাঁদী যে যেখানে ছিল হাজির হল ।  বানর বললে—মহারাজ, এত লোক কেন এনেছ? আমি মাকে  ওষুধ দিয়েছি মা আমার ভালো আছেন, একটু ঘুমোতে দাও । এত লোককে যেতে বল ।

রাজা বিষের নাড়ু পরখ করিয়ে রাজবৈদ্যকে বিদায় করলেন । রাজ্যের ভার দিয়ে রাজমন্ত্রীকে বিদায় করলেন । বড়রানীর মহলে নিজে রইলেন ।

তিন দিন, তিন রাত বড়রানী অজ্ঞান । চার দিনে জ্ঞান হল, বড়রানী  চোখ মেলে চাইলেন। বানর রাজাকে এসে খবর দিলে—মহারাজ, বড়রানী সেরে উঠেছেন, তোমার একটি রাজচক্রবতী ছেলে হয়েছে।

রাজা বানরকে হীরের হার খুলে   বললেন –

চল বানর,  বড়রানীকে আর বড়রানীর ছেলেকে দেখে আসি ।

বানর বললে—মহারাজ, গণনা করেছি ছেলের মুখ এখন দেখলে  তোমার চক্ষু অন্ধ হবে। ছেলের বিয়ে হলে মুখ দেখো, এখন  বড়রানীকে দেখে এস ছোটরানী কি দুর্দশা করেছে। রাজা দেখলেন – বিষের জ্বালায় বড়রানীর সোনার অঙ্গ কালি হয়ে গেছে, পাতখানার মত পড়ে আছেন, রানীকে আর চেনা যায় না ।রাজা রাজবাড়িতে এসে ছোট রাণীকে প্রহরী খানায় বন্ধ করলেন, আর ডাকিনী বুড়িকে মাথা মুড়িয়ে ঘোল ঢেলে,উলটো গাধায় চড়িয়ে দেশের বার করে দিলেন ।  তারপর হুকুম দিলেন—মন্ত্রীবর, আজ বড় শুভদিন, এতদিনে পরে রাজচক্রবর্তী ছেলে পেয়েছি. তুমি পথে-পথে আলো জ্বালাও, ঘরে-ঘরে বাজি পোড়াও, দীন দুঃখী ডেকে রাজভাণ্ডার লুটিয়ে দাও, রাজ্যে যেন একটিও ভিখারী না থাকে । মন্ত্রী রাজার আজ্ঞায় নগরের পথে-পথে আলো দিলেন, ঘরে-ঘরে বাজি  পোড়ালেন, দীন –দু:খীকে রাজভাণ্ডার দিলেন, রাজ্যে জয়-জয়কার হল ।

এমনি করে নিত্য নতুন আমোদে, দেবতার মন্দিরে পূজা দিয়ে, মা কালীর পায়ে বলি দিয়ে দেখতে দেখতে দশ বৎসর কেটে গেল । রাজা বানরকে ডেকে বললেন-দশ বৎসর তো পূর্ণ হল এখন ছেলে দেখাও !

বানর বললে – মহারাজ,আগে ছেলের বৌ ঠিক কর, তারপর তার বিযে দাও, তারপর মুখ দেখ ! এখন ছেলে দেখলে অন্ধ হবে। রাজা বানরের কথায় দেশে বিদেশে ভাট পাঠালেন। কত দেশের কত রাজকন্যার সন্ধান এল, একটিও রাজার মনে ধরল না । শেষে য পাটলী দেশের রাজার ভাট সোনার কৌটোয় সোনার প্রতিমা রাজকন্যার  ছবি নিয়ে  এল! কন্যার অঙ্গের বরণ কাঁচা সোনা, জোড়া-ভুরু – বাঁকাধনু  দুটি চোখ টানা-টানা, দুটি ঠোঁটি হাসি-হাসি, এলিয়ে দিলে মাথার কেশ পায় পড়ে। রাজার সেই কন্যা পছন্দ হল। বানর কে ডেকে বললেন – ছেলের বৌ ঠিক করেছি, কাল শুভ দিন শুভ লগ্নে বিয়ে দিতে যাব। বানর বললে – মহারাজ, কাল সন্ধে বেলা বেহারা দিয়ে বরের পালকি মায়ের দুয়ারে পাঠিয়ে দিও,  বরকে নিয়ে বিয়ে দিতে যাব। রাজা বললেন –

দেখ বাপু, দশ বৎসর তোমার কোথা শুনেছি কাল ছেলে না দেখালে অনর্থ করব।

বানর বললে – মহারাজ, সে ভাবনা নেই। তুমি বেহাই-বাড়ি চলে যাও, আমরা কাল বর নিয়ে যাব। রাজা পাছে রানীর ছেলেকে দেখে ফেলেন, পাছে চক্ষু অন্ধ হয়, সেই ভয় তারাতারি  বেহাই-বাড়ি চলে গেলেন আর বানর নতুন-মহলে বড়রাণীর কাছে গেল।  বড়রাণী ছেলে বিয়ে শুনে অবধি পড়ে পড়ে কাঁদছেন আর ভাবছেন–

download

The monkey then said – King, my mother suffers greatly in her broken room

The door is cracked, there is no straw on the roof and the winter cold comes into the room. My mother has no quilt to keep herself warm nor wood to light a fire and so she shivers all night long.

The king said – That is true. You should have told me! Monkey, bring your mother to the palace, I will give orders for her rooms to be decorated.

The monkey answered – But King, I worry that the younger queen will poison my mother if I bring her here.

The king reassured him, saying – Have no fear. I will keep the queen in the new quarters, with a moat to surround her and guards at the gates, the younger queen will not be able to come near her. That will be for the queen alone and for her deaf mute of a maid and for her pet son, the monkey.

 The monkey said -Then let me go and fetch my mother.

The king said – Minister, go and decorate the new palace.

The minister set thousands of people to work and the new castle was built in a day.

The neglected queen moved from her broken rooms with its ragged quilt and came to the new palace wearing a sari of the finest gold. she sat on a bed of gold, ate from a golden plate, gave alms to the poor and won the hearts of the kingdom. The younger queen seethed in anger.

The witch Brahmani was the chosen companion of the younger queen; her confidante. The queen sent for her – Ask my confidante to come for I have things to tell her. When the queen sent word, the old witch came hobbling as fast as she could.

The queen said to her – Come and sit with me and tell me how you are.

The witch answered – Why have you called for me? Why do you look as if you are about to cry?

The queen muttered – I am at wit’s end! My king has taken the old wife back, she now wears a sari of the finest gold, lives in a new palace and is the king’s darling. Now she sits above me in rank. My dear friend, I seethe in anger, give me some poison so that I can die for I cannot bear this good luck that comes her way.

The witch clucked and said – What kind of talk is that? That sad sack may be queen today but you will soon get your position back.

The evil queen said – No, I do not wish to live any longer. Soon the other queen will have a son and that son will have the kingdom. People will say, look at her, she is a king’s mother. The other one was the king’s favourite but she did not manage to give him a child. Who will want to look upon my ill fated face, or even speak my name for fear of having to go without food the rest of the day. I cannot bear the thought of that. Give me something that either I can take and die or give to the queen and kill her.

The old woman said – Be quiet, for someone might hear you! I will bring you the poison, give it to her. Bid me farewell that I may go and get the poison.

The queen said – Go but make sure that the poison is strong and that the queen falls ill as soon as she takes it.

The old woman said – Never fear! I will give her the poison and make sure her plans to become a mother are thwarted! Never fear!

She went to look for the poison. She wandered in the forests and when it was dark and evening had fallen, she cast a spell on a sleeping snake and stole the poison from its fangs.

The younger queen made sweets with that poison. She laid them out on a platter and called the witch saying – Take these to the queen and sell them to her.

The old woman came with the platter to the new palace.

The queen said – Come, come! Where have you been? Have you forgotten me because I am not favoured?

The witch said – How can that be? I live because of your largesse, how can I forget you? See I have brought some home made sweets for you!

The queen saw that the old woman had brought a few sweets that she had arranged with great care on a platter. She gave her handfuls of gold coins and the woman went away laughing.

The queen then broke a piece off and put it in her mouth but her tongue grew numb. She ate another piece and her throat grew parched. She ate from another and her chest burned as if on fire. She called the monkey and said – What did the old woman give me? I feel so ill, perhaps I am going to die.

The monkey said – Come mother, lie down on the bed, you will feel better.

The queen stood up and the poison rose to her brain. She could not see any longer and as she grew dizzy, she fell down in a dead faint on the stone floor.

The monkey took her head into his lap, checked her pulse, pulled her eyelid to look at the eye and found that she had passed out.

He then placed his beautiful mother on her golden bed and ran to the forest for her cure. He brought stems and roots that he crushed to make a potion that he gave to the queen.

News went to the palace that the queen had taken poison. The king came rushing to her chambers. The minister came. The royal physician came mumbling his spells. Then all the servants and maids and workers cane. The monkey asked the king – Why did you bring all these people? I have given my mother medicines and she is better. All she needs is sleep. Ask all the people to leave.

The king had the physician test the poisoned sweets and then leave. The minister was given charge of the kingdom and the king stayed by the queen’s bedside.

The queen lay in a dead faint for three days and three nights. On the fourth day she came to and opened her eyes. The monkey came and said to the king – The queen is better and now you have a son who will be a king of kings.

The king gave his diamond necklace to the monkey and said – Let us go and see the queen and our son.

The monkey said – King, I have seen it in the stars that you will be blinded if you see your son now. Let him get married first, then see him. Now go and see what the younger queen has done to my mother. The king went and saw how the queen’s skin had turned dark with the poison, she lay like a leaf upon her bed and was barely recognisable. The king returned to his palace and had the younger queen imprisoned and had her confidante shaved, placed on an ass backwards and exiled from the kingdom.

He then ordered his minister – It is a very good day today, we have a prince at long last. Organise lights on every street, fireworks in every household and feed every poor beggar in the kingdom. The minister went and did as the king said and his subjects were thankful for the king’s benevolence.

Ten years passed like this in happiness and entertainment. The king said – It is ten years, now show me my son!

The monkey said – King, first arrange a bride for your son, let the marriage take place and then look upon his face. If you see him now, you will go blind. The king sent messengers to all corners of the world on hearing this. So many kings sent word of their daughters, but the king said no to all of them. At the end, the brother of the king of Patali brought a likeness of their princess concealed in a golden frame. She had skin the colour of molten gold, her eye brows curved like a bow, her eyes were like a deer’s, her mouth was wreathed in smiles and her hair fell to her feet in great waves. The king saw her and sent for the monkey saying – I have found my son a bride. Tomorrow is a good day for a marriage. The monkey answered – King, send a palanquin and men to the queen’s quarter’s tomorrow in the evening, we will go to have him married.

The king said – Look now, I have listened to everything you said for ten years. I will lose my temper if I cannot see my son now that the ten years at an end.

The monkey said – Do not worry about that Great King! You go to the venue today, we will go with the groom tomorrow. The king was so worried that he would go blind if he saw his son that he quickly set out for the kingdom of his new in-laws. The monkey then went to the queen in her new palace where she had been weeping ever since she heard that her son was to be married.