বর্ষার চিঠি/ Borshar Chithi/ Letter written on a rainy day

বর্ষার চিঠি

সুহৃদ্‌বর, আপনি তো সিন্ধুদেশের মরুভূমির মধ্যে বাস করছেন। সেই অনাবৃষ্টির দেশে বসে একবার কলকাতার বাদলাটা কল্পনা করুন।

এবারকার চিঠিতে আপনাকে কেবল বাংলার বর্ষাটা স্মরণ করিয়ে দিলুম– আপনি বসে বসে ভাবুন। ভরা পুকুর, আমবাগান, ভিজে কাক ও আষাঢ়ে গল্প মনে করুন। আর যদি গঙ্গার তীর মনে পড়ে, তবে সেই স্রোতের উপর মেঘের ছায়া, জলের উপর জলবিন্দুর নৃত্য, ওপারের বনের শিয়রে মেঘের উপর মেঘের ঘটা, মেঘের তলে অশথগাছের মধ্যে শিবের দ্বাদশ মন্দির স্মরণ করুন। মনে করুন পিছল ঘাটে ভিজে ঘোমটায় বধূ জল তুলছে; বাঁশঝাড়ের তলা দিয়ে, পাঠশাল ও গয়লাবাড়ির সামনে দিয়ে সংকীর্ণ পথে ভিজতে ভিজতে জলের কলস নিয়ে তারা ঘরে ফিরে যাচ্ছে; খুঁটিতে বাঁধা গোরু গোয়ালে যাবার জন্যে হাম্বারবে চিৎকার করছে; আর মনে করুন, বিস্তীর্ণ মাঠে তরঙ্গায়িত শস্যের উপর পা ফেলে ফেলে বৃষ্টিধারা দূর থেকে কেমন ধীরে ধীরে চলে আসছে; প্রথমে মাঠের সীমান্তস্থিত মেঘের মতো আমবাগান, তার পরে এক-একটি করে বাঁশঝাড়, এক-একটি করে কুটির, এক-একটি করে গ্রাম বর্ষার শুভ্র আঁচলের আড়ালে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে আসছে, কুটিরের দুয়ারে বসে ছোটো ছোটো মেয়েরা হাততালি দিয়ে ডাকছে “আয় বৃষ্টি হেনে, ছাগল দেব মেনে’– অবশেষে বর্ষা আপনার জালের মধ্যে সমস্ত মাঠ, সমস্ত বন, সমস্ত গ্রাম ঘিরে ফেলেছে; কেবল অবিশ্রান্ত বৃষ্টি– বাঁশঝাড়ে, আমবাগানে, কুঁড়ে ঘরে, নদীর জলে, নৌকোর হালের নিকটে আসীন গুটিসুটি জড়োসড়ো কম্বলমোড়া মাঝির মাথায় অবিশ্রাম ঝরঝর বৃষ্টি পড়ছে। আর কলকাতায় বৃষ্টি পড়ছে আহিরিটোলায়, কাঁশারিপাড়ায়, টেরিটির বাজারে, বড়বাজারে, শোভাবাজারে, হরিকৃষ্ণর গলি, মতিকৃষ্ণর গলি, রামকৃষ্ণর গলিতে, জিগ্‌জ্যাগ্‌ লেনে– খোলার চালে, কোঠার ছাতে, দোকানে, ট্রামের গাড়িতে, ছ্যাকরা গাড়ির গাড়োয়ানের মাথায় ইত্যাদি।

কিন্তু আজকাল ব্যাঙ ডাকে না কেন? আমি কলকাতার কথা বলছি। ছেলেবেলায় মেঘের ঘটা হলেই ব্যাঙের ডাক শুনতুম– কিন্তু আজকাল পাশ্চাত্য সভ্যতা এল, সার্বভৌমিকতা এবং “ঊনবিংশ শতাব্দী’ এল, পোলিটিকল্‌ অ্যাজিটেশন, খোলা ভাঁটি এবং স্বায়ত্তশাসন এল, কিন্তু ব্যাঙ গেল কোথায়? হায় হায়, কোথায় ব্যাস বশিষ্ঠ, কোথায় গৌতম শাক্যসিংহ, কোথায় ব্যাঙের ডাক!

ছেলেবেলায় যেমন বর্ষা দেখতেম, তেমন ঘনিয়ে বর্ষাও এখন হয় না। বর্ষার তেমন সমারোহ নেই যেন, বর্ষা এখন যেন ইকনমিতে মন দিয়েছে– নমোনমো করে জল ছিটিয়ে চলে যায়– কেবল খানিকটা কাদা, খানিকটা ছাঁট, খানিকটা অসুবিধে মাত্র– একখানা ছেঁড়া ছাতা ও চীনে বাজারের জুতোয় বর্ষা কাটানো যায়– কিন্তু আগেকার মতো সে বজ্র বিদ্যুৎ বৃষ্টি বাতাসের মাতামাতি দেখি নে। আগেকার বর্ষার একটা নৃত্য ও গান ছিল, একটা ছন্দ ও তাল ছিল– এখন যেন প্রকৃতির বর্ষার মধ্যেও বয়স প্রবেশ করেছে, হিসাব কিতাব ও ভাবনা ঢুকেছে, শ্লেষ্মা শঙ্কা ও সাবধানের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। লোকে বলছে, সে আমারই বয়সের দোষ।

তা হবে! সকল বয়সেরই একটা কাল আছে,আমার সে বয়স গেছে হয়তো। যৌবনের যেমন বসন্ত, বার্ধক্যের যেমন শরৎ, বাল্যকালের তেমনি বর্ষা। ছেলেবেলায় আমরা যেমন গৃহ ভালোবাসি এমন আর কোনো কালেই নয়। বর্ষাকাল ঘরে থাকবার কাল, কল্পনা করবার কাল, গল্প শোনবার কাল,ভাইবোনে মিলে খেলা করবার কাল। বর্ষার অন্ধকারের মধ্যে অসম্ভব উপকথাগুলো কেমন যেন সত্যি হয়ে দাঁড়ায়। ঘনবৃষ্টিধারার আবরণে পৃথিবীর আপিসের কাজগুলো সমস্ত ঢাকা পড়ে যায়। রাস্তায় পথিক কম, ভিড় কম, হাটে হাটে কাজের লোকের ঘোরতর ব্যস্ত ভাব আর দেখা যায় না– ঘরে ঘরে দ্বাররুদ্ধ, দোকানপসারের উপর আচ্ছাদন পড়েছে– উদরানলের ইস্টিম প্রভাবে মনুষ্যসমাজ যে রকম হাঁসফাঁস ক’রে কাজ করে সেই হাঁসফাঁসানি বর্ষাকালে চোখে পড়ে না এইজন্যে মনুষ্যসমাজের সাংসারিক আবর্তের বাইরে বসে উপকথাগুলিকে সহজেই সত্য মনে করা যায়, কেউ তার ব্যাঘাত করে না। বিশেষত মেঘ বৃষ্টি বিদ্যুতের মধ্যে উপকথার উপকরণ আছে যেন। যেমন মেঘ ও বৃষ্টিধারা আবরণের কাজ করে– তেমনি বৃষ্টির ক্রমিক একঘেয়ে শব্দও একপ্রকার আবরণ। আমরা আপনার মনে যখন থাকি তখন অনেক কথা বিশ্বাস করি– তখন আমরা নির্বোধ, আমরা পাগল, আমরা শিশু; সংসারের সংস্রবে আসলেই তবে আমরা সম্ভব-অসম্ভব বিচার করি, আমাদের বুদ্ধি জেগে ওঠে, আমাদের বয়স ফিরে পাই। আমরা অবসর পেলেই আপনার সঙ্গে পাগলামি করি, আপনাকে নিয়ে খেলা করি– তাতে আমাদের কেউ পাগল বলে না, শিশু বলে না– সংসারের সঙ্গে পাগলামি বা খেলা করলেই আমাদের নাম খারাপ হয়ে যায়। একটু ভেবে দেখলেই দেখা যায় বুদ্ধি বিচার তর্ক বা চিন্তার শৃঙ্খলা– এ আমাদের সহজ ভাব নয়, এ আমাদের যেন সংসারে বেরোবার আপিসের কাপড়– দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করবার সময়েই তার আবশ্যক– আপনার ঘরে এলেই ছেড়ে ফেলি। আমরা স্বভাব-শিশু, স্বভাব-পাগল, বুদ্ধিমান সেজে সংসারে বিচরণ করি। আমরা আপনার মনে বসে যা ভাবি– অলক্ষ্যে আমাদের মনের উপর অহরহ যে-সকল চিন্তা ভিড় করে– সেগুলো যদি কোনো উপায়ে প্রকাশ পেত! সংসারের একটু সাড়া পেয়েছি কী, একটু পায়ের শব্দ শুনেছি কী অমনি চকিতের মধ্যে বেশ পরিবর্তন করে নিই– এত দ্রুত যে আমরা নিজেও এ পরিবর্তনপ্রণালী দেখতে পাই নে! তাই বলছিলেম যদি কোনোমতে আমরা আপনার মনে থাকতে পাই তা হলে আমরা অনেক অসম্ভবকে বিশ্বাস করতে পারি। সেইজন্যে গভীর অন্ধকার রাত্রে যা সম্ভব বলে বোধ হয় দিনের আলোতে তার অনেকগুলি কোনোমতে সম্ভব বোধ হয় না– কিন্তু এমনি আমাদের ভোলা মন যে, রোজ দিনের বেলায় যা অবিশ্বাস করি রোজ রাত্রে তাই বিশ্বাস করি। রাত্রিকে রোজ সকালে অবিশ্বাস করি, সকালকে রোজ রাত্রে অবিশ্বাস করি! আসল কথা এই, আমাদের বিশ্বাস স্বাধীন, সংসারের মধ্যে পড়ে সে বাঁধা পড়েছে– আমরা দায়ে পড়েই অবিশ্বাস করি– একটু আড়াল পেলে, একটু ছুটি পেলে, একটু সুবিধা পেলেই আমরা যা-তা বিশ্বাস করে বসি, আবার তাড়া খেলেই গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করি। নিতান্ত আপনার কাছে থাকলে তাড়া দেবার লোক কেউ থাকে না। বর্ষাধারার ক্রমিক ঝর্ঝর শব্দ সংসারের সহস্র শব্দ হতে আমাদের ঢেকে রাখে– আমরা অবিশ্রাম ঝর্ঝর শব্দের আচ্ছাদনের মধ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে বিশ্রাম করবার স্বাধীনততা উপভোগ করি। এইজন্যেই বর্ষাকাল উপকথার কাল। এইজন্য আষাঢ় মাসের সঙ্গেই আষাঢ়ে গল্পের যোগ। এইজন্যই বলছিলাম, বর্ষাকাল বালকের কাল– বর্ষাকালে তরুলতার শ্যামল কোমলতার মতো আমাদের স্বাভাবিক শৈশব স্ফূর্তি পেয়ে ওঠে– বর্ষার দিনে আমাদের ছেলেবেলার কথাই মনে পড়ে।

তাই মনে পড়ে, বর্ষার দিন আমাদের দীর্ঘ বারান্দায় আমরা ছুটে বেড়াতাম– বাতাসে দুমদাম করে দরজা পড়ত, প্রকাণ্ড তেঁতুলগাছ তার সমস্ত অন্ধকার নিয়ে নড়ত, উঠোনে একহাঁটু জল দাঁড়াত, ছাতের উপরকার চারটে টিনের নল থেকে স্থূল জলধারা উঠোনের জলের উপর প্রচণ্ড শব্দে পড়ত ও ফেনিয়ে উঠত, চারটে জলধারাকে দিক্‌হস্তীর শূঁড় বলে বনে হত। তখন আমাদের পুকুরের ধারের কেয়াগাছে ফুল ফুটত। (এখন সে গাছ আর নেই)। বৃষ্টিতে ক্রমে পুকুরের ঘাটের এক-এক সিঁড়ি যখন অদৃশ্য হয়ে যেত ও অবশেষে পুকুর ভেসে গিয়ে বাগানে জল দাঁড়াত– বাগানের মাঝে মাঝে বেলফুলের গাছের ঝাঁকড়া মাথাগুলো জলের উপর জেগে থাকত এবং পুকুরের বড়ো বড়ো মাছ পালিয়ে এসে বাগানের জলমগ্ন গাছের মধ্যে খেলিয়ে বেড়াত, তখন হাঁটুর কাপড় তুলে কল্পনায় বাগানময় জলে দাপাদাপি করে বেড়াতেম। বর্ষার দিনে ইস্কুলের কথা মনে হলে প্রাণ কী অন্ধকারই হয়ে যেত, এবং বর্ষাকালের সন্ধেবেলায় যখন বারান্দা থেকে সহসা গলির মোড়ে মাস্টার মহাশয়ের ছাতা দেখা দিত তখন যা মনে হত তা যদি মাস্টারমশায় টের পেতেন তা হলে–। শুনেছি এখনকার অনেক ছেলে মাস্টারমশায় টের পেতেন তা হলে–। শুনেছি এখনকার অনেক ছেলে মাস্টারমশায়কে প্রিয়তম বন্ধুর মতো জ্ঞান করে, এবং ইস্কুলে যাবার নাম শুনে নেচে ওঠে। শুভলক্ষণ বোধ হয়। কিন্তু তাই বলে যে ছেলে খেলা ভালোবাসে না, বর্ষা ভালোবাসে না, গৃহ ভালোবাসে না এবং ছুটি একেবারেই ভালোবাসে না– অর্থাৎ ব্যাকরণ ও ভূগোলবিবরণ ছাড়া এই বিশাল বিশ্বসংসারে আর কিছুই ভালোবাসে না, তেমন ছেলের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়াও কিছু নয়। তেমন ছেলে আজকাল অনেক দেখা যাচ্ছে। তবে হয়তো প্রখর সভ্যতা, বুদ্ধি ও বিদ্যার তাত লেগে ছেলেমানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে কমে এসেছে, পরিপক্কতার প্রাদুর্ভাব বেড়ে উঠেছে। আমাদেরই কেউ কেউ ইঁচড়ে-পাকা বলত, এখন যে-রকম দেখছি তাতে ইঁচড়ের চিহ্নও দেখা যায় না, গোড়াগুড়িই কাঁঠাল।

  বালক, শ্রাবণ, ১২৯২

 

children-play-rain-india_18731_990x742

Photo: http://photography.nationalgeographic.com/photography/photo-of-the-day/children-play-rain-bangladesh/

 

 

 

 

LETTER WRITTEN ON A RAINY DAY

 

Dear Friend, you live in the deserts of Sindh. Imagine for once if you will, the monsoon in Kolkata as you sit in that rainless land.

I am only going to remind you of the wet season in Bengal with this letter – you can muse upon it. Try and remember the ponds, filled to overflowing, the mango groves, the wet crows and the tall tales of a rainy afternoon. And if you recall the banks of the Ganga, then think too of the shadows of clouds on the currents, the dance of water drops on the river, the clouds gathering in their ranks above the forests on the opposite bank and the temple to the twelve Shivas beneath the pipal trees under the clouds. Imagine the women, fetching water in wet sarees at the slippery paved edge; they return, walking under the bamboos, along the narrow path that passes in front of the village school and the milkman’s house, getting wetter as they bring their filled water pots home; the cow tied at a post that lows plaintively wanting to return to shelter; and also imagine how the slanting rain slowly comes towards us in sheets, stepping across the waves of crops in distant fields; the nearest things are the clouds of mango groves at the end of the field, then lie a few bamboo clumps, a couple of houses, then one by one the villages fade away under the white sheet of rain, little children sit on door steps and clap as they sing, ‘Rain, rain come again!’ Eventually the rain covers all the fields, forests and villages with its spell; then it is only rain – on bamboo clumps, mango groves, humble huts, the river, the miserable boatman who sits wrapped in a blanket near the oars – it pours down on all without pause. And in Kolkata it is raining in Ahiritolla, in Kansharipara, on Territybazar, on Burrabazar and Shova bazaar, on Harikrishna’s alley and Motikrishna’s alley, on Ramkrishna’s lane and on Zigzag Lane – on tiled roof, on the roofs of the kothas, on shops, trams and on the heads of the men who drive the horse drawn carriages.

 

By the way, why don’t the frogs croak any more? I am talking about Kolkata. In my childhood we heard frogs croaking whenever there were clouds – but then western ways came, along came universality and the ‘nineteenth century’, political agitations, brickworks and self rule, but where did the frogs go? Alas where have Vyasa and Vashisht gone, where is Gautama the Sakya lion, where are the calls of the frogs!

 

It does not even rain with the sort of fanfare that it used to when I watched in my childhood. The rains just do not have the same kind of pomp, as if they too have turned their mind to economy – a little sprinkle of water and they are gone – leaving behind just a little mud, an errant spray, a slight inconvenience – one can spend a wet season with a torn umbrella and a pair of cheap Chinese sandals – but I never see the tremendous uproar of thunder, lightning, rain and winds. There was a sense of drama and music to the rains in the days past, a rhythm and a beat – whereas now it seems that even rain is aging, it has learned to calculate and think, it too is cowed by apprehensions of phlegm and is grown cautious. People say, it is all the fault of my advanced years.

 

It could well be! All ages have a use by date, possibly I have passed mine. Just as spring belongs to youth and autumn to old age, the rains belong to childhood. We never love our homes in the same way we are attached to them as children. The rainy season is a time for staying at home, for imagining things, for listening to stories, for playing with our siblings. Even the most impossible of tall tales take on life during the rains. All the mundane chores on the planet are veiled from us by sheets of dense raindrops.There are not many people on the roads, the crowds are gone, people no longer seem as earnestly busy as they used to be – the main doors to the houses are barred, the merchandise is covered against the weather – the impatient speed seen in people driven by a buildup of steam in their internal organs is not noticed during the rains and one can sit, removed from the daily grind and imagine the legends to be true without being disturbed. The ingredients for legends are most certainly hidden in clouds, rain and lightning. Just as clouds and rain act as a veil – so does the constant monotonous sound of rain. When we are left to our own thoughts we can believe a great number of things – then we allow ourselves to be foolish, mad and childish. It is only when we return to people that we start thinking about the impossibility of things, our senses come to the fore and we are reminded of our age. Given the chance we can be ourselves, mad and playful – but there is no one to call us insane or childish – but do those things amidst people and you get labelled instantly. If one thinks about it, intelligence, the ability to discern or regimented thoughts are not natural to us, they are more like office clothes for life – needed only when one is meeting another person – to be discarded when we return home. We are by nature children and naturally mad, we wander through life disguised as clever. The things we think about, the thoughts that crowd our minds without us being aware of them – if only they could be expressed. The moment we hear a little sound from the outer world, a foot step from outside, we change ourselves in a trice – so rapidly that we do not notice the mode of change ourselves. That is why I was saying that if we are allowed to stay with our own thoughts, we can believe in many impossible things. And thus many of things that seem possible in the darkness of night seem largely impossible in the cold light of day – but we are so forgetful that we believe at night the same things that we discount during the day. We disbelieve the existence of night at dawn and we doubt dawn at night. The truth is that our beliefs are independent, they are caught up in living – we lose belief under those pressures and when we get the slightest chance, a little break, a holiday from reality, we go back to believing all manner of things, till pushed back into the cage again. Only when we are left to ourselves do we have freedom from these pressures. The incessant dripping of rain shields us from the thousand sounds of daily living – we sit within the shelter of the continuous downpour unworried and able to rest in freedom. This is why the rains are the time of legends. This is why the month of AshaDh is associated with AshaDhey golpo or tall tales. This is why I was saying that the rainy season is the time of the child – the green softness of the trees in the rainy season encourages the child within us to awaken – we remember our own childhood on rainy days.

 

That is why I remember, we used to run on the long verandahs on rainy days – the doors slamming in the wind, the great tamarind tree shaking its dark shadows all over, water standing a foot deep in the courtyard; four tin pipes would bring water down in great thick snakes from the roof to splash noisily into the courtyard; I used to think of them as the four trunks of the elephants who guard the four compass points. At that time, there were flowering screw pine trees by our pond. That tree is now gone. When the steps leading to the pond were gradually being covered one at a time by the rain and eventually the pond flooded into the garden – the bushy heads of the jasmine shrubs stayed above the water and large fish would swim among the submerged trees of the garden after escaping the pond, I would pull my clothing up and jump about in that water in my imagination. When I thought of going to school on rainy days, my heart would sink and if ever on rainy evenings I caught sight of the teacher’s umbrella from the balcony – the things that came to mind; if only he knew, I wonder what he would have done. I have heard that many of today’s students think of their teachers as dear friends and dance in joy when they hear they are to go to school. This must be a good sign. But that does not mean that it is a good thing that the number of boys who do not love to play games, who do not love the rain, who do not like their own homes and who hate holidays – in short the type of boy who loves nothing in this vast wide world but his grammar books and his geography texts, should be growing. We are noticing an increase in the numbers of such boys. But it is possible that the heat given off by great progress, intelligence and education has helped in reducing the number of youthful people in our country and has led to an increase in maturity. Some people used to call us precocious like unseasonal jackfruit, but today they all seem to be born knowing everything they need to, already ripe as the mature fruit itself.