Archive | November 2012

নহ মাতা, নহ কন্যা, নহ বধূ/Noho mata, noho kanya, অভয় দাও তো বলি আমার/Abhoy dao to boli, কথা কোস্‌ নে লো রাই/Katha kosh ne lo Rai

নহ মাতা, নহ কন্যা, নহ বধূ, সুন্দরী রূপসী   হে নন্দনবাসিনী উর্বশী।

গোষ্ঠে যবে নামে সন্ধ্যা শ্রান্ত দেহে স্বর্ণাঞ্চল টানি

তুমি কোনো গৃহপ্রান্তে নাহি জ্বালো সন্ধ্যাদীপখানি।

দ্বিধায় জড়িত পদে কম্প্রবক্ষে নম্রনেত্রপাতে

স্মিতহাস্যে নাহি চল   লজ্জিত বাসরশয্যাতে   অর্ধরাতে।

উষার উদয়-সম অনবগুণ্ঠিতা  তুমি অকুণ্ঠিতা।।

সুরসভাতলে যবে নৃত্য করো পুলকে উল্লসি

হে বিলোল হিল্লোল উর্বশী,

ছন্দে নাচি উঠে   সিন্ধুমাঝে তরঙ্গের দল,

শস্যশীর্ষে শিহরিয়া কাঁপি উঠে ধরার অঞ্চল,

তোমার মদির গন্ধ অন্ধ বায়ু বহে চারি ভিতে,

মধুমত্ত ভৃঙ্গ-সম মুগ্ধ কবি ফিরে লুব্ধ চিতে   উদ্দাম গীতে।

নূপুর গুঞ্জরি চলো আকুল-অঞ্চলা   বিদ্যুতচঞ্চলা।।

 

রাগ: মিশ্র কানাড়া

তাল: কাহারবা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৩০২

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৮ ডিসেম্বর, ১৮৯৫

রচনাস্থান: জলপথে, শিলাইদহের অভিমুখে

 

Noho Mata, noho  kanya

Beautiful one, who is not mother nor daughter, nor consort, but a celestial being on earth.

When evening descends on pastures, drawing a golden veil across tired limbs,

You do not light a lamp of good will in any home.

Nor on hesitant shy steps, do you walk with trembling heart and softened gaze

Gentle smile playing on lips, to the bridal bed when the hour grows late.

You are like the break of dawn, unhidden and unashamed.

When you dance in the heavenly courts with joyous thrill

With quick abandon like a wave,

The very waves of the sea dance in answer to thee,

The tips of fruiting crops sway as a robe across the land,

Your perfume is carried by the blind breeze to intoxicate all,

Like a honey drunk bee, the entranced poet follows you greedily in eager song.

Your anklets tinkle as you walk, your sweeping veil like flashes of lightning.

 

Raga: Mishra Kannada

Beat:  Kaharba

Written: 8th December, 1895

On the way to Shilaidaha

 

Follow the link to hear Suchitra Mitra sing:

http://www.youtube.com/watch?v=ERzxkyb99Jw

 

Sagar Sen:

http://www.youtube.com/watch?v=j2dYwzm6sd0

 

***

অভয় দাও তো বলি আমার

wish কী–

একটি ছটাক সোডার জলে

পাকী তিন পোয়া হুইস্কি ।।

 

রাগ: কালাংড়া

তাল: মুক্তছন্দ

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1307

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1900

 

 

If I may without fear say

What I wish for –

Just a measure of soda water

Darkened with some strong whisky.

 

Raga Kalangra

Beat: Freestyle

Written: 1900

 

Follow the link to hear Ashoketaru Bandyopadhyay sing:

http://www.youtube.com/watch?v=9HqJKc7zxKo&feature=share

 

 

***

 

কথা     কোস্‌ নে লো রাই, শ্যামের বড়াই বড়ো বেড়েছে ।

কে জানে ও কেমন ক’রে মন কেড়েছে ।।

শুধু ধীরে বাজায় বাঁশি,  শুধু হাসে মধুর হাসি—

গোপিনীদের হৃদয় নিয়ে তবে ছেড়েছে ।।

রাগ: ভৈরবী

তাল: দাদরা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1290

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883

 

Do not say a word Rai, your Shyam has too much pride!.

What has he ever done to win your love?

All he does is play gentle tunes and smile sweet smiles –

And yet he has stolen every heart with his wiles.

 

Raga: Bhairavi

Beat:  Dadra

Written: 1883

 

Follow the links to hear Pandit Ajoy Chakraborty sing:

http://www.youtube.com/watch?v=HF9FORlEUU4

Advertisements

Atithee/The Guest

আকাশে নববর্ষার মেঘ উঠিল। গ্রামের নদী এতদিন শুষ্কপ্রায় হইয়া ছিল, মাঝে মাঝে কেবল এক-একটা ডোবায় জল বাধিয়া থাকিত; ছোটো ছোটো নৌকা সেই পঙ্কিল জলে ডোবানো ছিল এবং শুষ্ক নদীপথে গোরুর গাড়ি-চলাচলের সুগভীর চক্রচিহ্ন খোদিত হইতেছিল– এমন সময় একদিন, পিতৃগৃহপ্রত্যাগত পার্বতীর মতো কোথা হইতে দ্রুতগামিনী জলধারা কলহাস্যসহকারে গ্রামের শূন্যবক্ষে আসিয়া সমাগত হইল– উলঙ্গ বালকবালিকারা তীরে আসিয়া উচ্চৈঃস্বরে নৃত্য করিতে লাগিল, অতৃপ্ত আনন্দে বারম্বার জলে ঝাঁপ দিয়া দিয়া নদীকে যেন আলিঙ্গন করিয়া ধরিতে লাগিল, কুটির-বাসিনীরা তাহাদের পরিচিত প্রিয়সঙ্গিনীকে দেখিবার জন্য বাহির হইয়া আসিল– শুষ্ক নির্জীব গ্রামের মধ্যে কোথা হইতে এক প্রবল বিপুল প্রাণহিল্লোল আসিয়া প্রবেশ করিল। দেশবিদেশ হইতে বোঝাই হইয়া ছোটো বড়ো নানা আয়তনের নৌকা আসিতে লাগিল, বাজারের ঘাট সন্ধ্যাবেলায় বিদেশী মাঝির সংগীতে ধ্বনিত হইয়া উঠিল। দুই তীরের গ্রামগুলি সম্বৎসর আপনার নিভৃত কোণে আপনার ক্ষুদ্র ঘরকন্না লইয়া একাকিনী দিন-যাপন করিতে থাকে, বর্ষার সময় বাহিরের বৃহৎ পৃথিবী বিচিত্র পণ্যোপহার লইয়া গৈরিকবর্ণজলরথে চড়িয়া এই গ্রাম্যকন্যাগুলির তত্ত্ব লইতে আসে; তখন জগতের সঙ্গে আত্মীয়তাগর্বে কিছুদিনের জন্য তাহাদের ক্ষুদ্রতা ঘুচিয়া যায়, সমস্তই সচল সজাগ সজীব হইয়া উঠে এবং মৌন নিস্তব্ধ দেশের মধ্যে সুদূর রাজ্যের কলালাপধ্বনি আসিয়া চারি দিকের আকাশকে আন্দোলিত করিয়া তুলে।

এই সময়ে কুড়ুলকাটায় নাগবাবুদের এলাকায় বিখ্যাত রথযাত্রার মেলা হইবে। জ্যোৎস্নাসন্ধ্যায় তারাপদ ঘাটে গিয়া দেখিল, কোনো নৌকা নাগরদোলা, কোনো নৌকা যাত্রার দল, কোনো নৌকা পণ্যদ্রব্য লইয়া প্রবল নবীন স্রোতের মুখে দ্রুতবেগে মেলা অভিমুখে চলিয়াছে; কলিকাতার কন্‌সর্টের দল বিপুলশব্দে দ্রুততালের বাজনা জুড়িয়া দিয়াছে; যাত্রার দল বেহালার সঙ্গে গান গাহিতেছে এবং সমের কাছে হাহাহাঃ শব্দে চীৎকার উঠিতেছে; পশ্চিমদেশী নৌকার দাঁড়িমাল্লাগুলো কেবলমাত্র মাদল এবং করতাল লইয়া উন্মত্ত উৎসাহে বিনা সংগীতে খচমচ শব্দে আকাশ বিদীর্ণ করিতেছে– উদ্দীপনার সীমা নাই। দেখিতে দেখিতে পূর্বদিগন্ত হইতে ঘনমেঘরাশি প্রকাণ্ড কালো পাল তুলিয়া দিয়া আকাশের মাঝখানে উঠিয়া পড়িল, চাঁদ আচ্ছন্ন হইল– পুবে-বাতাস বেগে বহিতে লাগিল, মেঘের পশ্চাতে মেঘ ছুটিয়া চলিল, নদীর জল খল খল হাস্যে স্ফীত হইয়া উঠিতে লাগিল- নদীতীরবর্তী আন্দোলিত বনশ্রেণীর মধ্যে অন্ধকার পুঞ্জীভূত হইয়া উঠিল, ভেক ডাকিতে আরম্ভ করিল, ঝিল্লিধ্বনি যেন করাত দিয়া অন্ধকারকে চিরিতে লাগিল। সম্মুখে আজ যেন সমস্ত জগতের রথযাত্রা — চাকা ঘুরিতেছে, ধ্বজা উড়িতেছে, পৃথিবী কাঁপিতেছে; মেঘ উড়িয়াছে, বাতাস ছুটিয়াছে, নদী বহিয়াছে, নৌকা চলিয়াছে, গান উঠিয়াছে; দেখিতে দেখিতে গুরু গুরু শব্দে মেঘ ডাকিয়া উঠিল, বিদ্যুৎ আকাশকে কাটিয়া কাটিয়া ঝলসিয়া উঠিল, সুদুর অন্ধকার হইতে একটা মুষলধারাবর্ষী বৃষ্টির গন্ধ আসিতে লাগিল। কেবল নদীর এক তীরে এক পার্শ্বে কাঁঠালিয়া গ্রাম আপন কুটিরদ্বার বন্ধ করিয়া দীপ নিবাইয়া দিয়া নিঃশব্দে ঘুমাইতে লাগিল।

পরদিন তারাপদর মাতা ও ভ্রাতাগণ কাঁঠালিয়ায় আসিয়া অবতরণ করিলেন, পরদিন কলিকাতা হইতে বিবিধসামগ্রীপূর্ণ তিনখানা বড়ো নৌকা আসিয়া কাঁঠালিয়ার জমিদারি কাছারির ঘাটে লাগিল, এবং পরদিন অতি প্রাতে সোনামণি কাগজে কিঞ্চিৎ আমসত্ত এবং পাতার ঠোঙায় কিঞ্চিৎ আচার লইয়া ভয়ে ভয়ে তারাপদর পাঠগৃহদ্বারে আসিয়া নিঃশব্দে দাঁড়াইল, কিন্তু পরদিন তারাপদকে দেখা গেল না। স্নেহ-প্রেম-বন্ধুত্বের ষড়যন্ত্রবন্ধন তাহাকে চারি দিক হইতে সম্পূর্ণরূপে ঘিরিবার পূর্বেই সমস্ত গ্রামের হৃদয়খানি চুরি করিয়া একদা বর্ষার মেঘান্ধকার রাত্রে এই ব্রাহ্মণবালক আসক্তিবিহীন উদাসীন জননী বিশ্বপৃথিবীর নিকট চলিয়া গিয়াছে।

***

The sky was overcast with the clouds heralding the start to the new rainy season. The river in the village had been nearly dried up, with waterholes here and there filled with muddy water where snall boats were moored. The deep ruts of bullock carts that had used the paths marked the dry river bed. And then suddenly, like Parvati returning home to her parents, a fast flowing stream of water arrives out of nowhere, bringing laughter and music to the empty heart of the village – naked children noisily dance around on her banks, jumping again and again into the water, as if to hug her, the women come from their huts to greet their friend again – the dry lifeless village awakens to the touch of a great life force. Boats of many sizes come laden with things from other places, near and far, and each evening the banks of the market ring to the songs of foreign boatmen. The villages on each bank spend the whole year with their own affairs alone, with the rains the vast outer world comes bearing many gifts for the these gentle women on chariots of ochre water; for a few days they are exalted by their ties to that world, where everything is in motion, alive and awake. Sounds and words from far away places come and fill the skies of these silent spaces.

This was just before the famous Ratha fair was held by the Nagbabus of Kurulkata. Tarapada went to the moonlit river bank and saw the boats all leaving with the tide, some carrying the ferris wheel, some the performing troupes, others laden with things to sell. The musical group from Kolkata had started playing some fast rhythm very loudly; the actors were singing their parts to the accompaniment of violins and emphasizing the beat with a loud roar; while the boatmen from the west raised a cacophony of sound alone with their gongs and cymbals – there was no end to the excitement. As he watched, a great flotilla of clouds moved across the sky from the east, hiding the moon. The east wind blew hard, moving cloud after cloud, the river rose steadily, in joyful splashing – the darkness pooling in the forests on its banks, where frogs croaked and crickets sang loud enough to saw right through the darkness. It was as though the whole world was staging a festival of motion – wheels were turning, flags were flying, the earth trembled, the clouds moved, the wind blew, the river flowed, the boats floated, songs were sung, thunder rumbled in the clouds, the lightning split the sky again and again, and a smell of torrents of rain came to him from somewhere dark and far away. Only the village of Kanthaliya kept on sleeping in silence with their doors barred against all this somewhere on the banks of this same river.

 

The next day, Tarapada’s mother and his brothers arrived in Kanthaliya, the day after that three large boats filled with various things from Kolkata came and moored at the landowner’s own jetty and the following day, Shonamoni fearfully went and stood at Tarapada’s study room door very early in the morning, with a little preserved mango wrapped in newspaper and some pickles in a leaf twist but he was no longer there on that following day. Before affection, love and friendship could swallow him up completely; this boy who had stolen the hearts of the entire village had chosen to leave, and had vanished once again into the aloof embrace of mother earth.

 

 

Children on way to Rather mela by Pallab Seth

Chuti/ The Holiday

কলিকাতায় মামার বাড়ি পৌঁছিয়া প্রথমত মামির সঙ্গে আলাপ হইল। মামি এই অনাবশ্যক পরিবারবৃদ্ধিতে মনে মনে যে বিশেষ সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন, তাহা বলিতে পারি না। তাঁহার নিজের তিনটি ছেলে লইয়া তিনি নিজের নিয়মে ঘরকন্না পাতিয়া বসিয়া আছেন, ইহার মধ্যে সহসা একটি তেরো বৎসরের অপরিচিত অশিক্ষিত পাড়াগেঁয়ে ছেলে ছাড়িয়া দিলে কিরূপ একটা বিপ্লবের সম্ভাবনা উপস্থিত হয়। বিশ্বম্ভরের এত বয়স হইল, তবু কিছুমাত্র যদি জ্ঞানকাণ্ড আছে।

বিশেষত, তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই। শোভাও নাই, কোনো কাজেও লাগে না। স্নেহও উদ্রেক করে না, তাহার সঙ্গসুখও বিশেষ প্রার্থনীয় নহে। তাহার মুখে আধে-আধো কথাও ন্যাকামি, পাকা কথাও জ্যাঠামি এবং কথামাত্রই প্রগল্‌ভতা। হঠাৎ কাপড়চোপড়ের পরিমাণ রক্ষা না করিয়া বেমানানরূপে বাড়িয়া উঠে; লোকে সেটা তাহার একটা কুশ্রী স্পর্ধাস্বরূপ জ্ঞান করে। তাহার শৈশবের লালিত্য এবং কণ্ঠস্বরের মিষ্টতা সহসা চলিয়া যায়, লোকে সেজন্য তাহাকে মনে মনে অপরাধ না দিয়া থাকিতে পারে না। শৈশব এবং যৌবনের অনেক দোষ মাপ করা যায়, কিন্তু এই সময়ের কোনো স্বাভাবিক অনিবার্য ত্রুটিও যেন অসহ্য বোধ হয়।

সেও সর্বদা মনে মনে বুঝিতে পারে, পৃথিবীর কোথাও সে ঠিক খাপ খাইতেছে না; এইজন্য আপনার অস্তিত্ব সম্বন্ধে সর্বদা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী হইয়া থাকে। অথচ এই বয়সেই স্নেহের জন্য কিঞ্চিৎ অতিরিক্ত কাতরতা মনে জন্মায়। এই সময়ে যদি সে কোনো সহৃদয় ব্যক্তির নিকট হইতে স্নেহ কিংবা সখ্য লাভ করিতে পারে, তবে তাহার নিকট আত্মবিক্রীত হইয়া থাকে। কিন্তু তাহাকে স্নেহ করিতে কেহ সাহস করে না, কারণ সেটা সাধারণে প্রশ্রয় বলিয়া মনে করে। সুতরাং তাহার চেহারা এবং ভাবখানা অনেকটা প্রভুহীন পথের কুকুরের মতো হইয়া যায়।

অতএব, এমন অবস্থায় মাতৃভবন ছাড়া আর-কোনা অপরিচিত স্থান বালকের পক্ষে নরক। চারি দিকের স্নেহশূন্য বিরাগ তাহাকে পদে পদে কাঁটার মতো বিঁধে। এই বয়সে সাধারণত নারীজাতিকে কোনো-এক শ্রেষ্ঠ স্বর্গলোকের দুর্লভ জীব বলিয়া মনে ধারণা হইতে আরম্ভ হয়, অতএব তাঁহাদের নিকট হইতে উপেক্ষা অত্যন্ত দুঃসহ বোধ হয়।

 

 An excerpt from Chuti, The Holiday

When he arrived in Kolkata, he met his uncle’s wife, his aunt for the first time. I do not think that she was very pleased at this unnecessary addition to her family. She had been happily raising three sons of her own and to have a stranger, an uneducated thirteen year old boy from the village suddenly let loose on them was almost an incitement to revolution. Her husband was advanced in years but where was the sense in this?

In this world of ours there is nothing that is as great a source of annoyance as a boy of thirteen or fourteen. They are not pleasant to look at nor are they useful. They do not engender love nor is their company very desirable. A childish lisp seems affected on their lips, mature words sound impertinent and in fact any word at all can be a word too many. They suddenly seem to outgrow their clothing and this is deemed an unpleasant liberty by those around them. The softness of childhood and the sweetness of voice are suddenly lost to angularity and a strange hoarseness; others somehow blame them for this as well. Many of the transgressions of childhood and youth may be forgiven, but the natural and inevitable lapses of these in between years are somehow unbearable to others.

He too can sense that somehow he does not really fit anywhere; this makes him continually ashamed and apologetic. And yet this is the age when the need for some affection is actually felt more acutely. If he can have some affectionate consideration from a kindhearted person, he will be eternally bound to them. But sadly no one dares to approach him with affection, because most see that as leniency and thus bad for him . This is why with constant scolding and correction he becomes like an unloved stray dog, both in appearance and in manner.

As a result any new place outside the mother’s home is hell for such boys. The loveless dislike that surrounds him stings him like barbs. This is also the age when the female members of the species starts appearing like an unattainable being of a superior heavenly sphere and therefore any neglect from them is utterly unbearable.

 

 

Painting of rural  Bengal by Alaykumar Ghoshal

http://fineartamerica.com/featured/rural-bengal-5-alaykumar-ghoshal.html

ক্ষুধিত পাষাণ/Khudhito Pashaan/The Hungry Stones

ক্ষুধিত পাষাণ

আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয় । তাঁহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল । তাঁহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো ধাঁধা লাগিয়া যায় । পৃথিবীর সকল বিষয়েই এমন করিয়া আলাপ করিতে লাগিলেন , যেন তাঁহার সহিত প্রথম পরামর্শ করিয়া বিশ্ববিধাতা সকল কাজ করিয়া থাকেন । বিশ্বসংসারের ভিতরে ভিতরে যে এমন-সকল অশ্রুতপূর্ব নিগূঢ় ঘটনা ঘটিতেছিল , রুশিয়ানরা যে এতদূর অগ্রসর হইয়াছে , ইংরাজদের যে এমন-সকল গোপন মতলব আছে , দেশীয় রাজাদের মধ্যে যে একটা খিচুড়ি পাকিয়া উঠিয়াছে , এ সমস্ত কিছুই না জানিয়া আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হইয়া ছিলাম । আমাদের নবপরিচিত আলাপীটি ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন: There happen more things in heaven and earth, Horatio, than are reported in your newspapers . আমরা এই প্রথম ঘর ছাড়িয়া বাহির হইয়াছি , সুতরাং লোকটির রকম সকম দেখিয়া অবাক হইয়া গেলাম । লোকটা সামান্য উপলক্ষে কখনো বিজ্ঞান বলে , কখনো বেদের ব্যাখ্যা করে , আবার হঠাৎ কখনো পার্সি বয়েত আওড়াইতে থাকে। বিজ্ঞান বেদ এবং পার্সিভাষায় আমাদের কোনোরূপ অধিকার না থাকাতে তাঁহার প্রতি আমাদের ভক্তি উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল । এমন-কি , আমার থিয়সফিস্ট্‌ আত্মীয়টির মনে দৃঢ় বিশ্বাস হইল যে , আমাদের এই সহযাত্রীর সহিত কোনো এক রকমের অলৌকিক ব্যাপারের কিছু-একটা যোগ আছে; কোনো একটা অর্পূব ম্যাগ্‌‍নেটিজ্‌‍ম্ অথবা দৈবশক্তি , অথবা সূক্ষ্ম শরীর , অথবা ঐ ভাবের একটা-কিছু। তিনি এই অসামান্য লোকের সমস্ত সামান্য কথাও ভক্তিবিহ্বল মুগ্ধভাবে শুনিতেছিলেন এবং গোপনে নোট করিয়া লইতেছিলেন; আমার ভাবে বোধ হইল , অসামান্য ব্যক্তিটিও গোপনে তাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন এবং কিছু খুশি হইয়াছিলেন।

গাড়িটি আসিয়া জংশনে থামিলে আমরা দ্বিতীয় গাড়ির অপেক্ষায় ওয়েটিংরুমে সমবেত হইলাম। তখন রাত্রি সাড়ে দশটা। পথের মধ্যে একটা কী ব্যাঘাত হওয়াতে গাড়ি অনেক বিলম্বে আসিবে শুনিলাম। আমি ইতিমধ্যে টেবিলের উপর বিছানা পাতিয়া ঘুমাইব স্থির করিয়াছি, এমন সময়ে সেই অসামান্য ব্যক্তিটি নিম্নলিখিত গল্প ফাঁদিয়া বসিলেন। সে রাত্রে আমার আর ঘুম হইল না।

রাজ্যচালনা সম্বন্ধে দুই-একটা বিষয়ে মতান্তর হওয়াতে আমি জুনাগড়ের কর্ম ছাড়িয়া দিয়া হাইদ্রাবাদে যখন নিজাম সরকারে প্রবেশ করিলাম তখন আমাকে অল্পবয়স্ক ও মজবুত লোক দেখিয়া প্রথমে বরীচে তুলার মাশুল-আদায়ে নিযুক্ত করিয়া দিল।

বরীচ জায়গাটি বড়ো রমণীয়। নির্জন পাহাড়ের নীচে বড়ো বড়ো বনের ভিতর দিয়া শুস্তা নদীটি (সংস্কৃত স্বচ্ছতোয়ার অপভ্রংশ) উপলমুখরিত পথে নিপুণা নর্তকীর মতো পদে পদে বাঁকিয়া বাঁকিয়া দ্রুত নৃত্যে চলিয়া গিয়াছে । ঠিক সেই নদীর ধারেই পাথর-বাঁধানো দেড়-শত-সোপান-ময় অত্যুচ্চ ঘাটের উপরে একটি শ্বেতপ্রস্তরের প্রাসাদ শৈলপদমূলে একাকী দাঁড়াইয়া আছে — নিকটে কোথাও লোকালয় নাই। বরীচের তুলার হাট এবং গ্রাম এখান হইতে দূরে।

প্রায় আড়াই শত বৎসর পূর্বে দ্বিতীয় শা-মামুদ ভোগবিলাসের জন্য প্রাসাদটি এই নির্জন স্থানে নির্মাণ করিয়াছিলেন। তখন হইতে স্নানশালার ফোয়ারার মুখ হইতে গোলাপগন্ধী জলধারা উৎক্ষিপ্ত হইতে থাকিত এবং সেই শীকরশীতল নিভৃত গৃহের মধ্যে মর্মরখচিত স্নিগ্ধ শিলাসনে বসিয়া কোমল নগ্ন পদপল্লব জলাশয়ের নির্মল জলরাশির মধ্যে প্রসারিত করিয়া তরুণী পারসিক রমণীগণ স্নানের পূর্বে কেশ মুক্ত করিয়া দিয়া সেতার-কোলে দ্রাক্ষাবনের গজল গান করিত।

এখন আর সে ফোয়ারা খেলে না , সে গান নাই , সাদা পাথরের উপর শুভ্র চরণের সুন্দর আঘাত পড়ে না — এখন ইহা আমাদের মতো নির্জনবাসপীড়িত সঙ্গিনীহীন মাশুল-কালেক্টরের অতি বৃহৎ এবং অতি শূন্য বাসস্থান । কিন্তু আপিসের বৃদ্ধ কেরানি করিম খাঁ আমাকে এই প্রাসাদে বাস করিতে বারংবার নিষেধ করিয়াছিল; বলিয়াছিল, ইচ্ছা হয় দিনের বেলা থাকিবেন , কিন্তু কখনো এখানে রাত্রিযাপন করিবেন না। আমি হাসিয়া উড়াইয়া দিলাম। ভৃত্যেরা বলিল, তাহারা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করিবে, কিন্তু রাত্রে এখানে থাকিবে না। আমি বলিলাম, তথাস্তু। এ বাড়ির এমন বদনাম ছিল যে, রাত্রে চোরও এখানে আসিতে সাহস করিত না।

প্রথম প্রথম আসিয়া এই পরিত্যক্ত পাষাণপ্রাসাদের বিজনতা আমার বুকের উপর যেন একটা ভয়ংকর ভারের মতো চাপিয়া থাকিত, আমি যতটা পারিতাম বাহিরে থাকিয়া অবিশ্রাম কাজকর্ম করিয়া রাত্রে ঘরে ফিরিয়া শ্রান্তদেহে নিদ্রা দিতাম।

কিন্তু সপ্তাহখানেক না যাইতেই বাড়িটার এক অপূর্ব নেশা আমাকে ক্রমশ আক্রমণ করিয়া ধরিতে লাগিল। আমার সে অবস্থা বর্ণনা করাও কঠিন এবং সে কথা লোককে বিশ্বাস করানোও শক্ত। সমস্ত বাড়িটা একটা সজীব পদার্থের মতো আমাকে তাহার জঠরস্থ মোহরসে অল্পে অল্পে যেন জীর্ণ করিতে লাগিল।

বোধ হয় এ বাড়িতে পদার্পণমাত্রেই এ প্রক্রিয়ার আরম্ভ হইয়াছিল — কিন্তু আমি যেদিন সচেতনভাবে প্রথম ইহার সূত্রপাত অনুভব করি সেদিনকার কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে।

তখন গ্রীষ্মকালের আরম্ভে বাজার নরম; আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না। সূর্যাস্তের কিছু পূর্বে আমি সেই নদীতীরে ঘাটের নিম্নতলে একটা আরাম-কেদারা লইয়া বসিয়াছি । তখন শুস্তানদী শীর্ণ হইয়া আসিয়াছে ; ও পারে অনেকখানি বালুতট অপরাহ্নের আভায় রঙিন হইয়া উঠিয়াছে, এ পারে ঘাটের সোপানমূলে স্বচ্ছ অগভীর জলের তলে নুড়িগুলি ঝিক্‌ ঝিক্‌ করিতেছে। সেদিন কোথাও বাতাস ছিল না। নিকটের পাহাড়ে বনতুলসী পুদিনা ও মৌরির জঙ্গল হইতে একটা ঘন সুগন্ধ উঠিয়া স্থির আকাশকে ভারাক্রান্ত করিয়া রাখিয়াছিল।

সূর্য যখন গিরিশিখরের অন্তরালে অবতীর্ণ হইল তৎক্ষণাৎ দিবসের নাট্যশালার একটা দীর্ঘ ছায়াযবনিকা পড়িয়া গেল — এখানে পর্বতের ব্যবধান থাকাতে সূর্যাস্তের সময় আলো-আঁধারের সম্মিলন অধিকক্ষণ স্থায়ী হয় না। ঘোড়ায় চড়িয়া একবার ছুটিয়া বেড়াইয়া আসিব মনে করিয়া উঠিব-উঠিব করিতেছি , এমন সময়ে সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শুনিতে পাইলাম। পিছনে ফিরিয়া দেখিলাম , কেহ নাই।

ইন্দ্রিয়ের ভ্রম মনে করিয়া পুনরায় ফিরিয়া বসিতেই একেবারে অনেকগুলি পায়ের শব্দ শোনা গেল , যেন অনেকে মিলিয়া ছুটাছুটি করিয়া নামিয়া আসিতেছে। ঈষৎ ভয়ের সহিত এক অপরূপ পুলক মিশ্রিত হইয়া আমার সর্বাঙ্গ পরিপূর্ণ করিয়া তুলিল। যদিও আমার সম্মুখে কোনো মূর্তি ছিল না তথাপি স্পষ্ট প্রত্যক্ষবৎ মনে হইল যে , এই গ্রীষ্মের সায়াহ্নে একদল প্রমোদচঞ্চল নারী শুস্তার জলের মধ্যে স্মান করিতে নামিয়াছে । যদিও সেই সন্ধ্যাকালে নিস্তব্ধ গিরিতটে , নদীতীরে নির্জন প্রাসাদে কোথাও কিছুমাত্র শব্দ ছিল না , তথাপি আমি যেন স্পষ্ট শুনিতে পাইলাম নির্ঝরের শতধারার মতো সকৌতুক কলহাস্যের সহিত পরস্পরের দ্রুত অনুধাবন করিয়া আমার পার্শ্ব দিয়া স্মানার্থিনীরা চলিয়া গেল । আমাকে যেন লক্ষ্য করিল না। তাহারা যেমন আমার নিকট অদৃশ্য , আমিও যেন সেইরূপ তাহাদের নিকট অদৃশ্য। নদী পূর্ববৎ স্থির ছিল , কিন্তু আমার নিকট স্পষ্ট বোধ হইল , স্বচ্ছতোয়ার অগভীর স্রোত অনেকগুলি বলয়শিঞ্জিত বাহুবিক্ষেপে বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিয়াছে; হাসিয়া হাসিয়া সখীগণ পরস্পরের গায়ে জল ছুঁড়িয়া মারিতেছে, এবং সন্তরণকারিণীদের পদাঘাতে জলবিন্দুরাশি মুক্তামুষ্টির মতো আকাশে ছিটিয়া পড়িতেছে।

 

We met the gentleman on the train while my relative and I were returning to Kolkata after our holidays. At first I thought he was one of the Muslims from the west when I saw his clothes. My confusion increased when I heard him speak. He had so much to say about each and every thing on earth, it was as though the Creator did everything after discussing it with him first. We had been completely at peace in our ignorance about many unheard of secrets, the advance of the Russians, the secret plans of the English and the tangled intrigues of the Indian princes. Our new found acquaintance smiled slightly and said, ‘There happen more things in heaven and earth, Horatio, than are reported in your newspapers.’ We had left our homes for the first time, and this man’s strange behaviour surprised us. At the slightest excuse, he talked about science or explained the Vedas, and recited Farsi couplets. As we had no knowledge of science, the Vedas or Farsi our reverence for him grew progressively. Even my theosophist relative started believing that this co-traveller of ours had some kind of supernatural link; a kind of astonishing magnetism or unearthly power, or paranormal abilities or something of a similar nature. He was listening to everything this extraordinary man said with awestruck reverence and was secretly making notes; I felt that the extraordinary man had understood this too and was enjoying it.

When the train stopped at the junction we waited in a group in the waiting room. It was half past ten at night. We heard that the train was greatly delayed due to some problems on the route. I had already decided to spread out my bed roll and sleep on a table when the extraordinary gentleman started to tell us the story below. I did not get any sleep at all that night.

After I had resigned my position at Junagadh after a few disagreements regarding how the kingdom should be run and joined the Nizam’s government at Hyderabad, they posted me at Barich as a cotton tax collector, seeing that I was a hardy young man.

Barich was a very pleasant place. The Shusta(from the original Swachchatoya in Sanskrit) flowed fast over  a pebbled bed like the swaying motion of an expert dancer through great forests at the feet of lonely peaks. Right next to the river were a hundred and fifty marble steps that led to a palace made of white stone that stood alone at the base of the mountains – there were no other houses near by. The cotton market at Barich and the village were far from here.

Shah Mahmud the Second had built his palace for pleasure in this remote place almost two hundred and fifty years ago. From then on rose scented water flowed in fountains from the bathing houses and young Persian beauties sat, their hair flowing down their backs, with their pretty bare feet in the clear waters of the pools on stone seats in those secret rooms with their sitars across their laps singing songs of the grape arbors of their native lands.

Those fountains do not flow any more, those songs no longer fill the air, nor do  those fair feet fall upon the white stone floors – today it is a vast and terribly empty dwelling for tax collectors like me, deprived of female company and oppressed by the loneliness of our surroundings. But the ancient clerk at work, Karim Khan had cautioned me repeatedly against staying there, saying to me, ‘stay here if you must during the day, but never spend the night here.’ I laughed his worries off. The servants said they would work till evening but they too refused to stay at night. I said, ‘So be it.’ The house was so infamous that even thieves refused to try their luck at night.

Initially the emptiness of the abandoned palace used to weigh on me like a terrible weight, I used to try and stay away for as long as possible and work continually to return home exhausted and fall asleep.

But within a week the house began to encompass me with intoxication. It would be hard to describe my state and even to make people believe me. The entire house started to absorb me like a living thing being drawn slowly within its digestive system.

Possibly this process had started the moment I set foot in the house – but I still remember the day when I first noticed its beginnings within my consciousness.

The market was slow at the start of summer; I had no work to do. I was sitting on an easy chair at the bottom of those steps one evening a little before sunset. The river had grown shallow over summer; a large part of the sandy banks on the opposite side was coloured by the rays of the setting sun, on this shore the pebbles could be seen glinting in the the shallow waters of the river hugging the steps. There was not a whisper of breeze any where. A dense perfume rose from the wild basil, mint and fennel forests of the nearby mountains filling the still skies with heaviness.

When the sun descended behind the shelter of the peaks a curtain of shadow immediately fell across the arena of the day – the mountains here prevent the mingling of light and dark from lasting long at sunset. I was thinking of going for a ride on my horse when I suddenly heard footsteps on the stairs. When I looked back, there was no one there.

Thinking it a trick of my senses I turned my back once again; immediately I heard the sounds of feet, as though many people were running down the stairs. My whole body trembled with a most delicious thrill mixed with a slight degree of fear. Even though there was nothing before me, I felt as though I could clearly see a group of vivacious women descending into the river to bathe. Even though there was no sound to be heard anywhere that evening either on the silent mountain slopes or in the deserted palace on that river bank, I could still clearly hear the bathers chase each other past me with peals of amused laughter like the hundred streams of a waterfall. They did not seem to notice me. Just as they were invisible to me, I was invisible to them. The river was just as peaceful as before, but I clearly felt the shallow water being churned by the movements of many bangle bedecked arms; they were splashing each other with water as they laughed and the water droplets splashed like fistfuls of pearls into the sky as the swimmers playfully kicked  their legs in the river.

 

 

The  film was directed  by Tapan Sinha in 1960 Soumitra Chatterjee, Arundhuti Debi, Padma Debi, Radhamohan Bhattacharya, , Dilip Roy, and Chhabi Biswas. Ustad Ali Akbar Khan Scored the Music in the Film.

http://www.youtube.com/watch?v=vg7WzFPO6So&feature=relmfu