Archive | September 2019

Translated book nominated for IBBY Honour List 2020!

About The Adventures of Kakababu

After a secret mission in Afghanistan ends in a terrible accident, Raja Roychowdhury, fondly known as Kakababu, resigns as the director of the Archaeological Survey of India and goes home to his second-hand books. But the desire to hunt down old, unsolved mysteries of the world refuses to leave him alone. Despite living with an amputated leg, Kakababu insists on taking biannual holidays to remote, little-known areas – and refuses to tell anyone what he does there. Now that he’s old enough, Shontu, Kakababu’s nephew, has finally been allowed to accompany Kakababu on these mysterious trips. And he cannot wait for the thrilling adventures to begin!

In ‘The Emperor’s Lost Head’, Kakababu takes Shontu to Kashmir to find a hidden sulphur mine. Except that that’s a lie, and Shontu has no idea how to get his uncle to admit the truth. ‘The King of the Emerald Isle’ finds uncle and nephew on an uncharted island in the Indian Ocean. Stubbornly secretive as always, Kakababu refuses to tell Shontu what has brought him to the dangerous island. Is he ready for the answers he might find?Kakababu

 

HarperCollins Children’s Books on IBBY Honours List 2020

Advertisements

প্রথম পূজা/Prothom Puja/ The First Puja

 

ত্রিলোকেশ্বরের মন্দির।

 

লোকে বলে স্বয়ং বিশ্বকর্মা তার ভিত-পত্তন করেছিলেন

 

কোন্‌ মান্ধাতার আমলে,

 

স্বয়ং হনুমান এনেছিলেন তার পাথর বহন করে।

 

ইতিহাসের পণ্ডিত বলেন, এ মন্দির কিরাত জাতের গড়া,

 

এ দেবতা কিরাতের।

 

একদা যখন ক্ষত্রিয় রাজা জয় করলেন দেশ

 

দেউলের আঙিনা পূজারিদের রক্তে গেল ভেসে,

 

দেবতা রক্ষা পেলেন নতুন নামে নতুন পূজাবিধির আড়ালে–

 

হাজার বৎসরের প্রাচীন ভক্তিধারার স্রোত গেল ফিরে।

 

কিরাত আজ অস্পৃশ্য, এ মন্দিরে তার প্রবেশপথ লুপ্ত।

 

 

 

কিরাত থাকে সমাজের বাইরে,

 

নদীর পূর্বপারে তার পাড়া।

 

সে ভক্ত, আজ তার মন্দির নেই, তার গান আছে।

 

নিপুণ তার হাত, অভ্রান্ত তার দৃষ্টি।

 

সে জানে কী করে পাথরের উপর পাথর বাঁধে,

 

কী করে পিতলের উপর রুপোর ফুল তোলা যায়–

 

কৃষ্ণশিলায় মূর্তি গড়বার ছন্দটা কী।

 

রাজশাসন তার নয়, অস্ত্র তার নিয়েছে কেড়ে,

 

বেশে বাসে ব্যবহারে সম্মানের চিহ্ন হতে সে বর্জিত,

 

বঞ্চিত সে পুঁথির বিদ্যায়।

 

ত্রিলোকেশ্বর মন্দিরের স্বর্ণচূড়া পশ্চিম দিগন্তে যায় দেখা,

 

চিনতে পারে নিজেদেরই মনের আকল্প,

 

বহু দূরের থেকে প্রণাম করে।

 

 

 

কার্তিক পূর্ণিমা, পূজার উৎসব।

 

মঞ্চের উপরে বাজছে বাঁশি মৃদঙ্গ করতাল,

 

মাঠ জুড়ে কানাতের পর কানাত,

 

মাঝে মাঝে উঠেছে ধ্বজা।

 

পথের দুই ধারে ব্যাপারীদের পসরা–

 

তামার পাত্র, রুপোর অলংকার, দেবমূর্তির পট, রেশমের কাপড়;

 

ছেলেদের খেলার জন্যে কাঠের ডমরু, মাটির পুতুল, পাতার বাঁশি;

 

অর্ঘ্যের উপকরণ, ফল মালা ধূপ বাতি, ঘড়া ঘড়া তীর্থবারি।

 

বাজিকর তারস্বরে প্রলাপবাক্যে দেখাচ্ছে বাজি,

 

কথক পড়ছে রামায়ণকথা।

 

উজ্জ্বলবেশে সশস্ত্র প্রহরী ঘুরে বেড়ায় ঘোড়ায় চড়ে;

 

রাজ-অমাত্য হাতির উপর হাওদায়,

 

সম্মুখে বেজে চলেছে শিঙা।

 

কিংখাবে ঢাকা পাল্কিতে ধনীঘরের গৃহিণী,

 

আগে পিছে কিংকরের দল।

 

সন্ন্যাসীর ভিড় পঞ্চবটের তলায়–

 

নগ্ন, জটাধারী, ছাইমাখা;

 

মেয়েরা পায়ের কাছে ভোগ রেখে যায়–

 

ফল, দুধ, মিষ্টান্ন, ঘি, আতপতণ্ডুল।

 

 

 

থেকে থেকে আকাশে উঠছে চীৎকারধ্বনি

 

“জয় ত্রিলোকেশ্বরের জয়’।

 

কাল আসবে শুভলগ্নে রাজার প্রথম পূজা,

 

স্বয়ং আসবেন মহারাজা রাজহস্তীতে চড়ে।

 

তাঁর আগমন-পথের দুই ধারে

 

সারি সারি কলার গাছে ফুলের মালা,

 

মঙ্গলঘটে আম্রপল্লব।

 

আর ক্ষণে ক্ষণে পথের ধুলায় সেচন করছে গন্ধবারি।

 

 

 

শুক্লত্রয়োদশীর রাত।

 

মন্দিরে প্রথম প্রহরের শঙ্খ ঘণ্টা ভেরী পটহ থেমেছে।

 

আজ চাঁদের উপরে একটা ঘোলা আবরণ,

 

জ্যোৎস্না আজ ঝাপসা–

 

যেন মূর্ছার ঘোর লাগল।

 

বাতাস রুদ্ধ–

 

ধোঁয়া জমে আছে আকাশে,

 

গাছপালাগুলো যেন শঙ্কায় আড়ষ্ট।

 

কুকুর অকারণে আর্তনাদ করছে,

 

ঘোড়াগুলো কান খাড়া করে উঠছে ডেকে

 

কোন্‌ অলক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে।

 

হঠাৎ গম্ভীর ভীষণ শব্দ শোনা গেল মাটির নীচে–

 

পাতালে দানবেরা যেন রণদামামা বাজিয়ে দিলে–

 

গুরু-গুরু গুরু-গুরু।

 

মন্দিরে শঙ্খ ঘণ্টা বাজতে লাগল প্রবল শব্দে।

 

হাতি বাঁধা ছিল,

 

তারা বন্ধন ছিঁড়ে গর্জন করতে করতে

 

ছুটল চার দিকে

 

যেন ঘূর্ণি-ঝড়ের মেঘ।

 

তুফান উঠল মাটিতে–

 

ছুটল উট মহিষ গোরু ছাগল ভেড়া

 

ঊর্ধ্বশ্বাসে পালে পালে।

 

হাজার হাজার দিশাহারা লোক

 

আর্তস্বরে ছুটে বেড়ায়–

 

চোখে তাদের ধাঁধা লাগে,

 

আত্মপরের ভেদ হারিয়ে কে কাকে দেয় দ’লে।

 

মাটি ফেটে ফেটে ওঠে ধোঁয়া, ওঠে গরম জল–

 

ভীম-সরোবরের দিঘি বালির নীচে গেল শুষে।

 

মন্দিরের চূড়ায় বাঁধা বড়ো ঘণ্টা দুলতে দুলতে

 

বাজতে লাগল ঢং ঢং।

 

আচম্‌কা ধ্বনি থামল একটা ভেঙে-পড়ার শব্দে।

 

পৃথিবী যখন স্তব্ধ হল

 

পূর্ণপ্রায় চাঁদ তখন হেলেছে পশ্চিমের দিকে।

 

আকাশে উঠছে জ্বলে-ওঠা কানাতগুলোর ধোঁয়ার কুণ্ডলী,

 

জ্যোৎস্নাকে যেন অজগর সাপে জড়িয়েছে।

 

 

 

পরদিন আত্মীয়দের বিলাপে দিগ্‌বিদিক যখন শোকার্ত

 

তখন রাজসৈনিকদল মন্দির ঘিরে দাঁড়ালো,

 

পাছে অশুচিতার কারণ ঘটে।

 

রাজমন্ত্রী এল, দৈবজ্ঞ এল, স্মার্ত পণ্ডিত এল।

 

দেখলে বাহিরের প্রাচীর ধূলিসাৎ।

 

দেবতার বেদীর উপরের ছাদ পড়েছে ভেঙে।

 

পণ্ডিত বললে, সংস্কার করা চাই আগামী পূর্ণিমার পূর্বেই,

 

নইলে দেবতা পরিহার করবেন তাঁর মূর্তিকে।

 

রাজা বললেন, “সংস্কার করো।’

 

মন্ত্রী বললেন, “ওই কিরাতরা ছাড়া কে করবে পাথরের কাজ।

 

ওদের দৃষ্টিকলুষ থেকে দেবতাকে রক্ষা করব কী উপায়ে,

 

কী হবে মন্দিরসংস্কারে যদি মলিন হয় দেবতার অঙ্গমহিমা।’

 

কিরাতদলপতি মাধবকে রাজা আনলেন ডেকে।

 

বৃদ্ধ মাধব, শুক্লকেশের উপর নির্মল সাদা চাদর জড়ানো–

 

পরিধানে পীতধড়া, তাম্রবর্ণ দেহ কটি পর্যন্ত অনাবৃত,

 

দুই চক্ষু সকরুণ নম্রতায় পূর্ণ।

 

সাবধানে রাজার পায়ের কাছে রাখলে একমুঠো কুন্দফুল,

 

প্রণাম করলে স্পর্শ বাঁচিয়ে।

 

রাজা বললেন, “তোমরা না হলে দেবালয়-সংস্কার হয় না।’

 

“আমাদের ‘পরে দেবতার ওই কৃপা’

 

এই ব’লে দেবতার উদ্দেশে মাধব প্রণাম জানালে।

 

নৃপতি নৃসিংহরায় বললেন, “চোখ বেঁধে কাজ করা চাই,

 

দেবমূর্তির উপর দৃষ্টি না পড়ে। পারবে?’

 

মাধব বললে, “অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে কাজ করিয়ে নেবেন অন্তর্যামী।

 

যতক্ষণ কাজ চলবে, চোখ খুলব না।’

 

বাহিরে কাজ করে কিরাতের দল,

 

মন্দিরের ভিতরে কাজ করে মাধব,

 

তার দুই চক্ষু পাকে পাকে কালো কাপড়ে বাঁধা।

 

দিনরাত সে মন্দিরের বাহিরে যায় না–

 

ধ্যান করে, গান গায়,আর তার আঙুল চলতে থাকে।

 

মন্ত্রী এসে বলে, “ত্বরা করো, ত্বরা করো–

 

তিথির পরে তিথি যায়, কবে লগ্ন হবে উত্তীর্ণ।’

 

মাধব জোড়হাতে বলে, “যাঁর কাজ তাঁরই নিজের আছে ত্বরা,

 

আমি তো উপলক্ষ।’

 

 

 

অমাবস্যা পার হয়ে শুক্লপক্ষ এল আবার।

 

অন্ধ মাধব আঙুলের স্পর্শ দিয়ে পাথরের সঙ্গে কথা কয়,

 

পাথর তার সাড়া দিতে থাকে।

 

কাছে দাঁড়িয়ে থাকে প্রহরী।

 

পাছে মাধব চোখের বাঁধন খোলে।

 

পণ্ডিত এসে বললে, “একাদশীর রাত্রে প্রথম পূজার শুভক্ষণ।

 

কাজ কি শেষ হবে তার পূর্বে।’

 

মাধব প্রণাম করে বললে, “আমি কে যে উত্তর দেব।

 

কৃপা যখন হবে সংবাদ পাঠাব যথাসময়ে,

 

তার আগে এলে ব্যাঘাত হবে, বিলম্ব ঘটবে।’

 

 

 

ষষ্ঠী গেল, সপ্তমী পেরোল–

 

মন্দিরের দ্বার দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়ে

 

মাধবের শুক্লকেশে।

 

সূর্য অস্ত গেল। পাণ্ডুর আকাশে একাদশীর চাঁদ।

 

মাধব দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললে,

 

“যাও প্রহরী, সংবাদ দিয়ে এসো গে

 

মাধবের কাজ শেষ হল আজ।

 

লগ্ন যেন বয়ে না যায়।’

 

প্রহরী গেল।

 

মাধব খুলে ফেললে চোখের বন্ধন।

 

মুক্ত দ্বার দিয়ে পড়েছে একাদশী-চাঁদের পূর্ণ আলো

 

দেবমূর্তির উপরে।

 

মাধব হাঁটু গেড়ে বসল দুই হাত জোড় করে,

 

একদৃষ্টে চেয়ে রইল দেবতার মুখে,

 

দুই চোখে বইল জলের ধারা।

 

আজ হাজার বছরের ক্ষুধিত দেখা দেবতার সঙ্গে ভক্তের।

 

রাজা প্রবেশ করলেন মন্দিরে।

 

 

 

তখন মাধবের মাথা নত বেদীমূলে।

 

রাজার তলোয়ারে মুহূর্তে ছিন্ন হল সেই মাথা।

 

দেবতার পায়ে এই প্রথম পূজা, এই শেষ প্রণাম।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

***

THE TEMPLE TO THE LORD OF THE THREE WORLDS

 

People say the celestial architect Viswakarma himself laid its foundations

In a distant time in antiquity,

And Hanuman gathered its stones together

The historians say, the temple was made by the hunters,

This god guards them from harm.

 

Once when the Kshatriya king won the land

This courtyard was flooded with the blood of the priests,

The gods were saved by their veiled acceptance of new names and new rituals –

And the devotion of a thousand years was lost.

The hunter is an untouchable today, his way barred into this temple.

The hunter is an outcaste today,

They live on the eastern banks of the river.

He still believes, today his temple has been taken, but he has his song.

His hands are steady, his eyes sharp beyond compare.

He knows how to place stone upon stone,

And how to inlay silver swirls on molten brass –

And the rhythm that cleaves statues out of black stone.

He has no hand in governing, his weapons taken off him,

He can lay no claim to any signs of rank in clothing, shelter or society,

The world of letters is not for him.

The golden spires of the temple shine from afar in the west,

They know the work of their own kind,

Paying respect from a great distance.

 

It is the full moon in the month of Kartik, a festival for the gods in the temple.

Upon the stage play the strains of flutes, drums and cymbals,

Tents and marquees cover the fields,

Pennants flutter here and there.

Traders sit by the roadside –

Copper pots, silver rings, idols of the gods, silken cloth by the bolt;

Wooden tambourines for the children, clay dolls, leaf whistles;

Sacrificial goods, fruits, garlands, incense, pot upon pot filled with holy water

Here a firework seller setting off sparks with his rapid-fire speech,

There, a story-teller softly narrating the Ramayana.

Armed guards ride about on horses in bright uniforms;

The king’s minister rides upon an elephant,

His coming heralded by trumpets

Brocaded palanquins shield the wives of the wealthy from sight,

Servants lead the way, while others bring up the back.

The ascetics gather underneath the five clustered fig trees –

Naked, dreadlocked, ash flecked their skin;

Women leave offerings at their feet –

Fruit, milk, sweetmeats, ghee, fragrant rice.

 

 

Again and again cries rise to the skies

“Glory be to the Lord of the Three Realms!”

Tomorrow the king will offer his first obeisance at an ordained hour,

He will be here himself riding a royal elephant.

By the side of the path he will take

Rows of banana palms have been decked with garlands,

And mango leaves placed in auspicious pots.

Perfumed water is thrown upon the dust

 

The thirteenth day of the new moon.

The conch shells, bells and horns that marked the first watch at the temple have stopped.

There is a mist veiling the moon tonight,

The moonlight is pale –

As if caught in a fainting spell.

The wind has paused –

Smoke lies trapped against the sky,

Even the very trees are stilled as though by fright.

A dog barks without cause,

The horses prick their ears up and neigh

At something unseen by the others.

Suddenly a great rumble started within the earth –

As if the giants had begun beating their war drums in the deep of the underworld

Boom-boom, boom-boom.

The priests rang the bells and conch shells in a great cacophony

The elephants that had been tethered

Ripped their bonds and thundered about

Dark grey clouds in a maelstrom.

A storm rose in the dust

Herds of camels, buffalo, cattle, goats, sheep

Scattered in fearful disorder.

Thousands of people mill about

Their screams rending the air –

In their frightened disarray,

Some crush their dearest underfoot

 

The earth yawns wide, steam and hot water bubble forth –

The waters of Bhima lake disappear beneath the sands

The great bell at the spire of the temple sways back and forth

Peals loudly – Ding! Dong!

Then suddenly every sound silenced by a loud crash.

When everything was still again

The full moon was low in the western sky.

Smoke rose in coils to the sky from the burning tents,

As if the moonlight was being slowly strangled by a great snake’s grip.

 

The next day as mournful cries from those that lived filled the air

The king’s soldiers surrounded the temple,

Lest it be polluted by an unclean touch.

The minister came and with him the soothsayer and the scholars

To discover that the outer walls were turned to rubble.

And the roof now lay where the altar had once been.

The scholars said that it would have to be repaired before the full moon was upon them,

Or the god would forsake his stone likeness.

The king said, ‘Then repair it!’

The minister said, ‘But who will do this stonework but those hunters?

How will we save the gods from their impure gaze?

What point in repairing the temple if the gods are insulted?’

The king sent for the leader of the hunters, a man known only as Madhav.

An old man, a white turban wrapped about his white hair –

A yellow cloth about his copper coloured body, bare to the waist,

His eyes filled with gentle compassion.

Carefully he placed a handful of white blossoms at the king’s feet,

Bowing to him from afar.

 

The king said, ‘No one but your people can fix the temple.

‘That is by His grace upon us’

Madhav inclined his head in submission to the gods as he said these words.

King Nrisingharay said, ‘You will bind your eyes before you start work,

So that your gaze does not fall upon the idol. Do you hear me?’

Madhav answered, ‘He will let us see him with the sight that is of the soul.

I will not open my eyes for as long as I work.’

Outside the band of hunters work at repair,

Inside the sanctum works Madhav alone,

His eyes wrapped in layers of black cloth.

He does not leave the temple at day’s end or at night –

He prays, he sings, his fingers work.

The minister comes and says, ‘Hurry up, hurry up –

Hour after hour passes, what if the sacred moment is lost!’

Madhav says with folded palms, ‘The master himself knows the need to rush,

I am but an instrument in his hands.’

The night of the new moon passed, and the moon grew again.

The blind Madhav speaks with the stone through his fingers,

The stone answers him back.

The guard hovers close by,

Keenly keeping watch, just in case Madhav opens his blindfold.

The scholar comes and says, ‘The first worship should be held on the night of the eleventh lunar day.

Will the work be done before that?’

Madhav bows and says, ‘Who am I to answer that.

I will send word when He grants his grace,

If you come any earlier than that, there will only be interruptions, only delays.’

 

The sixth night passed, then the seventh –

Moonlight streams in through the temple door

Washing with silver Madhav’s white hair.

The sun set and in the pale sky rose the moon of the eleventh day.

Madhav sighed and said,

‘Go now guard, give them the news

Madhav has finished his work.

Let the hour not be allowed to pass.’

The guard left.

The old man took off the ties that bound his eyes.

The light of the full moon streamed through the open door

Upon the idol.

Madhav fell to his knees with folded palms,

He looked unblinking at its stone face,

And tears ran from his eyes.

Today the devotee meets his Maker with the thirst of a thousand years

The king arrived at the temple.

 

Madhav’s bared head was bent at the altar.

The king’s sword rose and fell in a flash.

The first time Madhav worshipped his god was also the last time he bowed his head.