Archive | October 2018

ছাত্রের পরীক্ষা / Cchatrer Porikkha/ The Student’s Test

ছাত্রের পরীক্ষা

 

 

ছাত্র শ্রীমধুসূদন

 

 

 

শ্রীযুক্ত কালাচাঁদ মাস্টার পড়াইতেছেন

 

 

 

অভিভাবকের প্রবেশ

 

 

 

অভিভাবক।

 

মধুসূদন পড়াশুনো কেমন করছে কালাচাঁদবাবু?

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

আজ্ঞে, মধুসূদন অত্যন্ত দুষ্ট বটে, কিন্তু পড়াশুনোয় খুব মজবুত। কখনো একবার বৈ দুবার বলে দিতে হয় না। যেটি আমি একবার পড়িয়ে দিয়েছি সেটি কখনো ভোলে না।

 

 

 

অভিভাবক।

 

বটে! তা, আমি আজ একবার পরীক্ষা করে দেখব।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

তা , দেখুন-না।

 

 

 

মধুসূদন।

 

(স্বগত) কাল মাস্টারমশায় এমন মার মেরেছেন যে আজও পিঠ চচ্চড় করছে। আজ এর শোধ তুলব। ওঁকে আমি তাড়াব।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কেমন রে মোধো, পুরোনো পড়া সব মনে আছে তো?

 

 

 

মধুসূদন।

 

মাস্টারমশায় যা বলে দিয়েছেন তা সব মনে আছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, উদ্ভিদ্‌ কাকে বলে বল্‌ দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

যা মাটি ফুঁড়ে ওঠে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

একটা উদাহরণ দে।

 

 

 

মধুসূদন।

 

কেঁচো!

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

(চোখ রাঙাইয়া ) অ্যাঁ! কী বললি!

 

 

 

অভিভাবক।

 

রসুন মশায়, এখন কিছু বলবেন না।

 

 

 

মধুসূদনের প্রতি

 

 

 

তুমি তো পদ্যপাঠ পড়েছ; আচ্ছা, কাননে কী ফোটে বলো দেখি?

 

 

 

মধুসূদন।

 

কাঁটা।

 

 

 

কালাচাঁদের বেত্র-আস্ফালন

 

 

 

কী মশায়, মারেন কেন? আমি কি মিথ্যে কথা বলছি?

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, সিরাজউদ্দৌলাকে কে কেটেছে? ইতিহাসে কী বলে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

পোকায়।

 

 

 

বেত্রাঘাত

 

 

 

আজ্ঞে, মিছিমিছি মার খেয়ে মরছি– শুধু সিরাজউদ্দৌলা কেন, সমস্ত ইতিহাসখানাই পোকায় কেটেছে! এই দেখুন।

 

 

 

প্রদর্শন।

 

কালাচাঁদ মাস্টারের মাথা-চুলকায়ন

 

 

 

অভিভাবক।

 

ব্যাকরণ মনে আছে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

আছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

“কর্তা’ কী, তার একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

আজ্ঞে, কর্তা ওপাড়ার জয়মুন্‌শি।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কেন বলো দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

তিনি ক্রিয়া-কর্ম নিয়ে থাকেন।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

(সরোষে) তোমার মাথা!

 

 

 

পৃষ্ঠে বেত্র

 

 

 

মধুসূদন।

 

(চমকিয়া) আজ্ঞে, মাথা নয়, ওটা পিঠ।

 

 

 

অভিভাবক।

 

ষষ্ঠী-তৎপুরুষ কাকে বলে?

 

 

 

মধুসুদন।

 

জানি নে।

 

 

 

কালাচাঁদবাবুর বেত্র-দর্শায়ন

 

 

 

মধুসদন।

 

ওটা বিলক্ষণ জানি– ওটা যষ্টি-তৎপুরুষ।

 

 

 

অভিভাবকের হাস্য এবং কালাচাঁদবাবুর তদ্‌বিপরীত ভাব

 

 

 

অভিভাবক।

 

অঙ্কশিক্ষা হয়েছে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

হয়েছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, তোমাকে সাড়ে ছ’টা সন্দেশ দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে যে,পাঁচ মিনিট সন্দেশ খেয়ে যতটা সন্দেশ বাকি থাকবে তোমার ছোটো ভাইকে দিতে হবে। একটা সন্দেশ খেতে তোমার দু-মিনিট লাগে, কটা সন্দেশ তুমি তোমার ভাইকে দেবে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

একটাও নয়।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

কেমন করে।

 

 

 

মধুসূদন।

 

সবগুলো খেয়ে ফেলব। দিতে পারব না।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, একটা বটগাছ যদি প্রত্যহ সিকি ইঞ্চি করে উঁচু হয় তবে যে বট এ বৈশাখ মাসের পয়লা দশ ইঞ্চি ছিল ফিরে বৈশাখ মাসের পয়লা সে কতটা উঁচু হবে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

যদি সে গাছ বেঁকে যায় তা হলে ঠিক বলতে পারি নে, যদি বরাবর সিধে ওঠে তা হলে মেপে দেখলেই ঠাহর হবে, আর যদি ইতিমধ্যে শুকিয়ে যায় তা হলে তো কথাই নেই।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

মার না খেলে তোমার বুদ্ধি খোলে না! লক্ষ্মীছাড়া, মেরে তোমার পিঠ লাল করব, তবে তুমি সিধে হবে!

 

 

 

মধুসূদন।

 

আজ্ঞে, মারের চোটে খুব সিধে জিনিসও বেঁকে যায়।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কালাচাঁদবাবু, ওটা আপনার ভ্রম। মারপিট করে খুব অল্প কাজই হয়। কথা আছে গাধাকে পিটোলে ঘোড়া হয় না, কিন্তু অনেক সময়ে ঘোড়াকে পিটোলে গাধা হয়ে যায়। অধিকাংশ ছেলে শিখতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ মাস্টার শেখাতে পারে না। কিন্তু মার খেয়ে মরে ছেলেটাই। আপনি আপনার বেত নিয়ে প্রস্থান করুন, দিনকতক মধুসূদনের পিঠ জুড়োক, তার পরে আমিই ওকে পড়াব।

 

 

 

মধুসূদন।

 

( স্বগত) আঃ, বাঁচা গেল।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

বাঁচা গেল মশায়! এ ছেলেকে পড়ানো মজুরের কর্ম, কেবলমাত্র ম্যানুয়েল লেবার। ত্রিশ দিন একটা ছেলেকে কুপিয়ে আমি পাঁচটি মাত্র টাকা পাই, সেই মেহনতে মাটি কোপাতে পারলে দিনে দশটা টাকাও হয়।

 

 

 

শ্রাবণ ১২৯২

***

The Student’s Test

 

 

Student: Master Madhusudan
Tutor: Kalachand Master.
Madhu’s guardian’s enters.

 

Guardian: How is Madhusudan doing, Kalachand babu?

Kalachand: Even though he is extremely naughty, he is very strong academically. I never have to repeat things. Once I have gone over a topic with him he never forgets it.

Guardian: Really? Well. I will test him with some questions today.

Kalachand: Yes, please go ahead by all means.

Madhusudan (to himself): You gave me such a thrashing yesterday that my back is still aching. I will take revenge today. I will get rid of you!

Guardian: So, Modho, do you remember all your old lessons?

Madhusudan: I remember everything that the teacher said.

Guardian: So, tell me what a plant is.

Madhusudan: Things that appear out of the ground.

Guardian: And an example of that would be…

Madhusudan: An earthworm.

Kalachand (fiercely): What did you say?

Guardian: Wait now, do not say anything.

To Madhu: You have studied the poetry primer: tell me please, what draws our attention in the garden?

Madhusudan: Thorns

(The cane in Kalachand’s grasp comes down angrily)

Madhusudan: Why are you hitting me? Am I lying?

Guardian: What destroyed Sirajuddaulah? What does history tell us?

Madhusudan: Termites

(The cane swishes again)

Pardon me, but I am getting beaten for no reason – why just Sirajuddaulah, the whole history book has been ruined by termites. Here, have a look.

(The book is brought out, Kalachand scratches his head)

Guardian: Do you remember your grammar lessons?

Madhusudan: Yes

Guardian: Explain what first person means with an example.

Madhusudan: That would be Joy Munshi from down the street.

Guardian: Why is that?

Madhusudan: Because he is always talking about himself.

Kalachand (angrily): Your foot!

(Hitting Madhu on the back with his cane)

Madhusudan (startled): That is not my foot, that is my back.

Guardian: What is a portmanteau word?

Madhusudan: I do not know.

Kalachand shakes the cane at him.

Madhusudan: I know that! It is a dangling participle.

 

His guardian smiles while Kalachand frowns.

Guardian: Have you had lessons in mathematics?
Madhusudan: Yes.

Guardian: You are given six and half sweets and told that you can eat as many as you can in five minutes and give the rest to your younger brother. You take two minutes to eat one sweet, how many then will you give him?

Madhusudan: None!

Kalachand: How did you arrive at that answer?

Madhusudan: I would eat them all. I would not be giving any away.

Guardian: Now, if a tree grows a quarter of an inch every day then how tall will a tree be in a year if it was ten inches tall on the first day of that year?

Madhusudan: I could not tell you what the final height would be if the tree was bent. But if it grew straight then one needs to measure its height to find out the answer: and if it dried up in that time, then the question does not arise at all.

Kalachand: The only way you will apply yourself is with a beating! Scoundrel, you will learn once I have beaten you black and blue!

Madhusudan: Even upright things can become bent through punishment.

Guardian: That is where you have made a mistake. Little can be achieved through corporal punishment. As the saying goes, a donkey cannot be beaten into becoming a horse but a horse may be broken down and made to follow orders. Most boys have the ability to learn, but most teachers cannot teach. The student gets beaten into submission. You may take your cane and go, let his body recover a bit. After that I will tutor him.

Madhusudan to himself: Freedom at last.

Kalachand: Thank God for that! Teaching this boy is hard work, pure manual labour. I get so little from teaching a boy for thirty days, I could make double that in a day if I dug earth for a living.

 

Shravan 1292/ AD 1885

Advertisements

ময়ূরের দৃষ্টি/ Mayurer Drishti/ Through the Eyes of a Peacock

ময়ূরের দৃষ্টি     

 

দক্ষিণায়নের সূর্যোদয় আড়াল ক’রে

সকালে বসি চাতালে।

অনুকূল অবকাশ;

তখনো নিরেট হয়ে ওঠে নি কাজের দাবি,

ঝুঁকে পড়ে নি লোকের ভিড়

পায়ে পায়ে সময় দলিত করে দিয়ে।

লিখতে বসি,

কাটা খেজুরের গুঁড়ির মতো

ছুটির সকাল কলমের ডগায় চুঁইয়ে দেয় কিছু রস।

 

আমাদের ময়ূর এসে পুচ্ছ নামিয়ে বসে

পাশের রেলিংটির উপর।

আমার এই আশ্রয় তার কাছে নিরাপদ,

এখানে আসে না তার বেদরদী শাসনকর্তা বাঁধন হাতে।

বাইরে ডালে ডালে কাঁচা আম পড়েছে ঝুলে,

নেবু ধরেছে নেবুর গাছে,

একটা একলা কুড়চিগাছ

আপনি আশ্চর্য আপন ফুলের বাড়াবাড়িতে।

প্রাণের নিরর্থক চাঞ্চল্যে

ময়ূরটি ঘাড় বাঁকায় এদিকে ওদিকে।

তার উদাসীন দৃষ্টি

কিছুমাত্র খেয়াল করে না আমার খাতা-লেখায়;

করত, যদি অক্ষরগুলো হত পোকা;

তা হলে নগণ্য মনে করত না কবিকে।

হাসি পেল ওর ওই গম্ভীর উপেক্ষায়,

ওরই দৃষ্টি দিয়ে দেখলুম আমার এই রচনা।

দেখলুম, ময়ূরের চোখের ঔদাসীন্য

সমস্ত নীল আকাশে,

কাঁচা-আম-ঝোলা গাছের পাতায় পাতায়,

তেঁতুলগাছের গুঞ্জনমুখর মৌচাকে।

ভাবলুম, মাহেন্দজারোতে

এইরকম চৈত্রশেষের অকেজো সকালে

কবি লিখেছিল কবিতা,

বিশ্বপ্রকৃতি তার কোনোই হিসাব রাখে নি।

কিন্তু, ময়ূর আজও আছে প্রাণের দেনাপাওনায়,

কাঁচা আম ঝুলে পড়েছে ডালে।

নীল আকাশ থেকে শুরু করে সবুজ পৃথিবী পর্যন্ত

কোথাও ওদের দাম যাবে না কমে।

আর, মাহেন্দজারোর কবিকে গ্রাহ্যই করলে না।

পথের ধারের তৃণ, আঁধার রাত্রের জোনাকি।

 

নিরবধি কাল আর বিপুলা পৃথিবীতে

মেলে দিলাম চেতনাকে,

টেনে নিলেম প্রকৃতির ধ্যান থেকে বৃহৎ বৈরাগ্য

আপন মনে;

খাতার অক্ষরগুলোকে দেখলুম

মহাকালের দেয়ালিতে

পোকার ঝাঁকের মতো।

ভাবলুম, আজ যদি ছিঁড়ে ফেলি পাতাগুলো

তা হলে পর্শুদিনের অস্ত্যসৎকার এগিয়ে রাখব মাত্র।

 

এমন সময় আওয়াজ এল কানে,

“দাদামশায়, কিছু লিখেছ না কি।”

ওই এসেছে–ময়ূর না,

ঘরে যার নাম সুনয়নী,

আমি যাকে ডাকি শুনায়নী ব’লে।

ওকে আমার কবিতা শোনাবার দাবি সকলের আগে।

আমি বললেম, “সুরসিকে, খুশি হবে না,

এ গদ্যকাব্য।”

কপালে ভ্রূকুঞ্চনের ঢেউ খেলিয়ে

বললে, “আচ্ছা, তাই সই।”

সঙ্গে একটু স্তুতিবাক্য দিলে মিলিয়ে;

বললে, “তোমার কণ্ঠস্বরে,

গদ্যে রঙ ধরে পদ্যের।”

ব’লে গলা ধরলে জড়িয়ে।

আমি বললেম, “কবিত্বের রঙ লাগিয়ে নিচ্ছ

কবিকণ্ঠ থেকে তোমার বাহুতে?”

সে বললে, “অকবির মতো হল তোমার কথাটা;

কবিত্বের স্পর্শ লাগিয়ে দিলেম তোমারই কণ্ঠে,

হয়তো জাগিয়ে দিলেম গান।”

 

শুনলুম নীরবে, খুশি হলুম নিরুত্তরে।

মনে-মনে বললুম, প্রকৃতির ঔদাসীন্য অচল রয়েছে

অসংখ্য বর্ষকালের চূড়ায়,

তারই উপরে একবারমাত্র পা ফেলে চলে যাবে

আমার শুনায়নী,

ভোরবেলার শুকতারা।

সেই ক্ষণিকের কাছে হার মানবে বিরাটকালের বৈরাগ্য।

 

মাহেন্দজারোর কবি, তোমার সন্ধ্যাতারা

অস্তাচল পেরিয়ে

আজ উঠেছে আমার জীবনের

উদয়াচলশিখরে।

 

 

? শান্তিনিকেতন, এপ্রিল ১৯৩৯

***

THROUGH THE EYES OF A PEACOCK

 

I hide from the sunrise in summer

 

And sit on the terrace each morning.

 

A convenient leisure;

 

The demands of the day are not quite insistent yet,

 

People do not come crowding close

 

Crushing the hours underfoot.

 

I sit down to write,

 

Like the cut trunk of a date palm

 

A little sweetness from the restful morning drips from my pen.

 

 

 

Our peacock comes to rest its plumage

 

Upon the railing beside me.

 

This proximity of ours makes it feel safe,

 

Its humourless minder will not venture here, cage in hand.

 

Outside the branches drip with green mangoes,

 

Lemons hang upon the lemon tree’s boughs,

 

And a solitary ervatamia

 

Astonishes itself in an exuberance of flowering.

 

Alerted by nothing more than life itself

 

The peacock looks, first this way then that.

 

Its idle wandering eye

 

Does not take note of my scribbling;

 

It would, had the letters been insects crawling across the page;

 

Then it would not have spurned the poet so.

 

A smile rises at such studied neglect,

 

And I begin to see my work through its eyes.

 

And I see, the same ambivalence

 

Across the blue skies,

 

In each leaf of the fruit festooned mango tree,

 

In the humming hive nestled in the tamarind tree.

 

And I find myself thinking, in Mohenjodaro too

 

On just such a slow morning at the close of a year

 

Poets wrote odes,

 

None of which remain today.

 

But the peacock still lives on in the ebb and flow of life,

 

Green mangoes hang from every branch.

 

From the blue skies to the verdant earth

 

There will be no lessening of their value to us.

 

Yet the poet of Mohenjodaro was unheeded

 

Merely a blade of grass by the path, a firefly on a dark nights.

 

 

 

I open my eyes to the endless march of time and the vast world

 

Allowing my consciousness to absorb,

 

A great ambivalence from nature’s meditative silence

 

Into myself;

 

And the words on my pages appear

 

Like so many insects drawn

 

To the festival of lights in time

 

And I think to myself, if I should tear these pages up today

 

I am merely doing what will need to be done in the near future.

 

 

 

When I suddenly hear the words,

 

“Grandfather, have you written anything?”

 

There she is, no – not the peacock

 

The one who is called Sunayani at home,

 

The one I call Shunayoni, the one who must be heeded.

 

She demands each poem of mine before all the others.

 

I said, “Appreciative though you are, this will not please you,

 

This play of words.”

 

A frown plays across her brow

 

As she says, “So be it.”

 

Adding a few words aimed to appease;

 

She says, “ In your voice,

 

Even mere words take on a poetic hue.”

 

And she wrapped her arms about my neck.

 

I ask, “Are you drawing those colours

 

From my throat to your arm?”

 

She says, “That is what a non poet would say;

 

I merely touch your throat with beauty,

 

Hoping to awaken a song.”

 

 

 

I listen in silence, I am wordless with joy.

 

I tell myself, the ambivalence of nature sits

 

Across the peaks of countless years,

 

She merely has to step across them once

 

My Shunayoni,

 

My star of dawn.

 

That will be enough to defeat the austere meditation of time.

 

 

 

Ancient poet of Mohenjodaro, your evening star

 

Has travelled across setting suns

 

To rise once again in my life

 

Upon the peaks of the waking sun.

 

 

 

SANTINIKETAN, April 1939