Archive | February 2016

শিবাজি-উৎসব /Shivaji Utsav/Celebrating Shivaji: An excerpt

শিবাজি-উৎসব

 

কোন্‌ দূর শতাব্দের কোন্‌-এক অখ্যাত দিবসে

নাহি জানি আজি

মারাঠার কোন্‌ শৈলে অরণ্যের অন্ধকারে ব’সে,

হে রাজা শিবাজি,

তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তড়িৎপ্রভাবৎ

এসেছিল নামি–

“একধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত

বেঁধে দিব আমি।’

 

সেদিন এ বঙ্গদেশ উচ্চকিত জাগে নি স্বপনে,

পায় নি সংবাদ–

বাহিরে আসে নি ছুটে, উঠে নাই তাহার প্রাঙ্গণে

শুভ শঙ্খনাদ–

শান্তমুখে বিছাইয়া আপনার কোমলনির্মল

শ্যামল উত্তরী

তন্দ্রাতুর সন্ধ্যাকালে শত পল্লিসন্তানের দল

ছিল বক্ষে করি।

 

তার পরে একদিন মারাঠার প্রান্তর হইতে

তব বজ্রশিখা

আঁকি দিল দিগ্‌দিগন্তে যুগান্তের বিদ্যুদ্‌বহ্নিতে

মহামন্ত্রলিখা।

মোগল-উষ্ণীষশীর্ষ প্রস্ফুরিল প্রলয়প্রদোষে

পক্কপত্র যথা–

সেদিনও শোনে নি বঙ্গ মারাঠার সে বজ্রনির্ঘোষে

কী ছিল বারতা।

 

তার পরে শূন্য হল ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ নিবিড় নিশীথে

দিল্লিরাজশালা–

একে একে কক্ষে কক্ষে অন্ধকারে লাগিল মিশিতে

দীপালোকমালা।

শবলুব্ধ গৃধ্রদের ঊর্ধ্বস্বর বীভৎস চীৎকারে

মোগলমহিমা

রচিল শ্মশানশয্যা–মুষ্টিমেয় ভস্মরেখাকারে

হল তার সীমা।

 

সেদিন এ বঙ্গপ্রান্তে পণ্যবিপণীর এক ধারে

নিঃশব্দচরণ

আনিল বণিকলক্ষ্মী সুরঙ্গপথের অন্ধকারে

রাজসিংহাসন।

বঙ্গ তারে আপনার গঙ্গোদকে অভিষিক্ত করি

নিল চুপে চুপে–

বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী

রাজদণ্ডরূপে।

 

সেদিন কোথায় তুমি হে ভাবুক, হে বীর মারাঠি,

কোথা তব নাম!

গৈরিক পতাকা তব কোথায় ধুলায় হল মাটি–

তুচ্ছ পরিণাম!

বিদেশীর ইতিবৃত্ত দস্যু বলি করে পরিহাস

অট্টহাস্যরবে–

তব পুণ্য চেষ্টা যত তস্করের নিষ্ফল প্রয়াস,

এই জানে সবে।

 

অয়ি ইতিবৃত্তকথা, ক্ষান্ত করো মুখর ভাষণ।

ওগো মিথ্যাময়ী,

তোমার লিখন-‘পরে বিধাতার অব্যর্থ লিখন

হবে আজি জয়ী।

যাহা মরিবার নহে তাহারে কেমনে চাপা দিবে

তব ব্যঙ্গবাণী?

যে তপস্যা সত্য তারে কেহ বাধা দিবে না ত্রিদিবে

নিশ্চয় সে জানি।

 

হে রাজতপস্বী বীর, তোমার সে উদার ভাবনা

বিধির ভাণ্ডারে

সঞ্চিত হইয়া গেছে, কাল কভু তার এক কণা

পারে হরিবারে?

তোমার সে প্রাণোৎসর্গ, স্বদেশলক্ষ্মীর পূজাঘরে

সে সত্যসাধন,

কে জানিত, হয়ে গেছে চিরযুগযুগান্তর-তরে

ভারতের ধন।

 

অখ্যাত অজ্ঞাত রহি দীর্ঘকাল, হে রাজবৈরাগী,

গিরিদরীতলে

বর্ষার নির্ঝর যথা শৈল বিদারিয়া উঠে জাগি

পরিপূর্ণ বলে,

সেইমত বাহিরিলে– বিশ্বলোক ভাবিল বিস্ময়ে,

যাহার পতাকা

অম্বর আচ্ছন্ন করে, এতকাল এত ক্ষুদ্র হয়ে

কোথা ছিল ঢাকা।

***

Celebrating Shivaji

 

In what far away century on what unmarked day

I no longer know today

Upon what mountain peak, in darkened forests,

Oh King Shivaji,

Did this thought light up your brow as a touch of lightning

As it came to thee –

“The scattered parts of this land with one religion

‘ Shall I bind for eternity.”

 

Bengal did not stir that day in the midst of a dream,

It had not received the word –

It did not answer thy call, nor heralded it

With the blowing of the sacred conch –

Instead it spread its shielding veil

Its robes of verdant green

Over the slumbering village folk at night

Gathering them to her breast.

 

Then one day from the fields of Mahrattha

Your thunderous flame

Painted the horizons all about with flames of violent change

Imbued with a great clarion call.

The crown upon the Mughal’s brow was shaken by storm

As is a ripening leaf –

Even that day Bengal did not hear that thunderous Marattha call

Nor heed the message within.

 

After that in the midst of turbulent darkness

The palace of Delhi was emptied –

In each of their great halls ravenous night

Began engulfing the brilliance of light.

The corpse craving vultures cackled in hideous tones

As the glory of the Mughals

Finally succumbed to the pyre- in handfuls of ashes

Are their remains retained.

 

That day in this Bengal by the side of the traders route

Upon silent steps

The merchants secretly smuggled in perfidy

The throne that had once housed kings.

And Bengal anointed that very same seat with the water of its own Ganges

In secretive silence –

The weighing scales that had once measured profit refashioned through that dark night

Till at dawn a sceptre was held in the hands of a new king.

 

Where were you that day, Oh thoughtful brave Mahrattha,

Why did we not hear thy name!

Where lay your saffron flag crushed to dust –

What a terrible end!

The foreigner tells your story laughing you off as a bandit king

Roaring with mirth at your fall –

Your devoted effort now seen as a thief’s fruitless quest,

This is how they know you today.

 

Silence your garrulous words, false account

Thou art filled with lies,

Your writ shall be erased by the truth the Creator scribes

That alone shall prevail.

For how will the truth that is for immortality bound

Be disguised by the avarice of your tongue?

The prayers that are true will never be stalled

In the three worlds this I know to be true.

 

Oh brave royal penitent, the greatness of thought

That you have left for fate to treasure

Not one grain of that will

Be lost to the undeserving.

The sacrifice you made at the altar of the goddess who guards our land

The truth that you strove for relentless,

Who would have thought that it will grace till the end of days

The coffers of this land of ours.

 

For long did you remain unknown to the world, ascetic king of mine,

Among the peaks

Just as a stream breaks through the rocks to awaken with rain

In full spate,

You too emerged – to the surprise of the world who thought,

This pennant that

Hides the skies, what shape had it sought

Where was it secreted away for so long.

 

 

Advertisements

সাঁওতাল মেয়ে/Shaontal Meye/The Santhal Girl

সাঁওতাল মেয়ে

 

যায় আসে সাঁওতাল মেয়ে

শিমূলগাছের তলে কাঁকরবিছানো পথ বেয়ে।

মোটা শাড়ি আঁট করে ঘিরে আছে তনু কালো দেহ।

বিধাতার ভোলা-মন কারিগর কেহ

কোন্‌ কালো পাখিটিরে গড়িতে গড়িতে

শ্রাবণের মেঘে ও তড়িতে

উপাদান খুঁজি

ওই নারী রচিয়াছে বুঝি।

ওর দুটি পাখা

ভিতরে অদৃশ্য আছে ঢাকা,

লঘু পায়ে মিলে গেছে চলা আর ওড়া।

নিটোল দু হাতে তার সাদারাঙা কয় জোড়া

গালা-ঢালা চুড়ি,

মাথায় মাটিতে-ভরা ঝুড়ি,

যাওয়া-আসা করে বারবার।

আঁচলে প্রান্ত তার

লাল রেখা দুলাইয়া

পলাশের স্পর্শমায়া আকাশেতে দেয় বুলাইয়া।

পউষের পালা হল শেষ,

উত্তর বাতাসে লাগে দক্ষিণের ক্বচিৎ আবেশ।

হিমঝুরি শাখা-‘পরে

চিকন চঞ্চল পাতা ঝলমল করে

শীতের রোদ্‌দুরে।

পাণ্ডুনীল আকাশেতে চিল উড়ে যায় বহুদূরে।

আমলকীলতা ছেয়ে খসে পড়ে ফল,

জোটে সেথা ছেলেদের দল।

আঁকাবাঁকা বনপথে আলোছায়া-গাঁথা,

অকস্মাৎ ঘুরে ঘুরে ওড়ে ঝরা পাতা

সচকিত হাওয়ার খেয়ালে।

ঝোপের আড়ালে

গলাফোলা গিরগিটি স্তব্ধ আছে ঘাসে।

ঝুড়ি নিয়ে বারবার সাঁওতাল মেয়ে যায় আসে।

আমার মাটির ঘরখানা

আরম্ভ হয়েছে গড়া, মজুর জুটেছে তার নানা।

ধীরে ধীরে ভিত তোলে গেঁথে

রৌদ্রে পিঠ পেতে।

মাঝে মাঝে

সুদূরে রেলের বাঁশি বাজে;

প্রহর চলিয়া যায়, বেলা পড়ে আসে,

ঢং ঢং ঘন্টাধ্বনি জেগে ওঠে দিগন্ত-আকাশে।

আমি দেখি চেয়ে,

ঈষৎ সংকোচে ভাবি–এ কিশোরী মেয়ে

পল্লীকোণে যে ঘরের তরে

করিয়াছে প্রস্ফুটিত দেহে ও অন্তরে

নারীর সহজ শক্তি আত্মনিবেদনপরা

শুশ্রূষার স্নিগ্ধসুধা-ভরা,

আমি তারে লাগিয়েছি কেনা কাজে করিতে মজুরি–

মূল্যে যার অসম্মান সেই শক্তি করি চুরি

পয়সার দিয়ে সিঁধকাঠি।

সাঁওতাল মেয়ে ওই ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসে মাটি।
শান্তিনিকেতন, ৪ মাঘ, ১৩৪১

santhal_girl 1
(Santhal Girl by DebiProsad Roy Chowdhury)

THE SANTHAL GIRL

 

The Santhal girl comes and goes

Along the pebbled path under the silk cotton trees.

A coarse saree wrapped tight around her slim dark form.

Some forgetful maker at the dawn of time

In the midst of making a black bird

From rain darkened cloud and lightning

Suddenly found the clay

That this woman was fashioned from.

Her two wings he hid

Away from the world within her soul

On quick feet she seems to fly as she walks .

On her perfect arms she wears a few white

Lacquered bangles,

Atop her head a basket filled with mud,

She comes and goes again and again.

The end of her saree

Skimmed by red

Paints the sky with the delicate touch of palash

The month of Poush draws to a close,

The north wind seems to whisper a message from the south.

Upon the branches of the Himjhuri

Young green leaves glimmering with life

In winter’s golden sunshine.

A kite flies far away in the pale blue sky.

The amla vine sheds its cloak of fruit,

Around it children gathering in hope.

The winding forest paths skeined in light and shade,

Where dry leaves eddy in sudden swirls

On the whim of the startled wind.

While in the bushes stealthily

A lizard in silence waits under cover of grass.

The Santhal woman comes and goes again and again.

My mud brick home

Is slowly taking shape, workers fill the place

A little at a time they raise the walls

Their backs bared to the sun

Every now and then

The trains can be heard whistling afar;

The hours pass, the day draws to an end,

A bell rings where sky meets land

I sit and watch,

Hesitant my thoughts as I muse – this young girl

Who has for her own sake

Blossomed forth in body and soul

That easy feminine strength best expressed in the giving of herself

Tempered with the sweet serenity of compassion,

I have employed her, paying her for work –

Stealing the very strength that suffers insult at being priced

Using money to break her down

There she comes again, the Santhal girl, her basket filled with clay.

 

 

Santiniketan, 18th January 1935

Santhal 2
(Santhal Woman, Jamini Roy)

Images: Internet.

Swarnakumari Debi

Ruma Chakravarti

In the year 1876 the December chill in Calcutta was suddenly stirred by the appearance of an anonymous novel. Its title was ‘Deep Nirbaan’ or the Extinguishing of the Lamp. Its readers were amazed by the maturity of the unknown author. And when they found out that it was by an eighteen year old girl? Disbelief joined exclamation.

“It is being said that a lady of high birth has written this. This is glorious indeed. Not many women can be said to possess such education, such authorship, such empathy – not just in Bengal but in other lands as well,” reported the Sadharani periodical.

Swarnakumari

(Swarnakumari Debi)

A decade had hardly passed since the publication of ‘Durgeshnandini’ by Bankim Chatterjee, the first novel in Bengali. But was ‘Deep Nirbaan’ the first novel by a Bengali woman? Swarnakumari Tagore who wrote it was not even the first Bengali authoress. Before her had…

View original post 152 more words