Archive | June 2014

ক্ষীরের পুতুল ৪/ Kheerer Putul 4/ The Milk Doll 4

বানর বললে—মহারাজ, ভাঙা ঘরে মা আমার বড় দুঃখ পান ।

ঘরের দুয়োর ফাটা, চালে খড় নেই, শীতের হিম ঘরে আসে । মা আমার গায়ে দিতে নেপ পান না, আণ্ডন জ্বালাতে কাঠ পান না, সারা রাত শীতে কাঁপেন।

রাজা বললেন—তাইতো তাইতো ! একথা বলতে হয় । বানর, তোর মাকে রাজবাড়িতে নিয়ে আয়, আমি মহল সাজাতে বলি । বানর বললে—মহারাজ, মাকে আনতে ভয় হয়, ছোটরানী বিষ খাওয়াবে।

রাজা বললেন—সে ভয় নেই । নতুন মহলে রানীকে রাখব, মহল ঘিরে গড় কটাব, গড়ের দুয়ারের পাহারা বসাব, ছোটরানী আসতে পারবে না। সে মহলে বড়রানী থাকবেন, বড়রানীর বোবা-কালা দাই থাকবে ? আর বড়রানীর পোষা ছেলে তুই থাকবি ।

বানর বললে—মহারাজ, যাই তবে মাকে আনি ।

রাজা বললেন—যাও মন্ত্রী মহল সাজাও গে।

মন্ত্রী লক্ষ লক্ষ লোক লাগিয়ে একদিনে বড়রানীর নতুন মহল সাজালেন।

দুওরানী ভাঙা ঘর ছেড়ে, ছেঁড়া কাঁথা ছেড়ে, সোনার শাড়ি পরে নতুন মহলে এলেন। সোনার পালঙ্কে বসলেন, সোনার থালে ভাত খেলেন, দীন-দুঃখীকে দান দিলেন, রাজ্যে জয় জয় হল; রাগে  ছোট রানীর সর্বাঙ্গ জ্বলে উঠল।

ডাকিনী ব্রাহ্মণী—ছোটরানীর ‘মনের কথা’, প্রাণের বন্ধু। ছোটরানী বলে পাঠালেন—মনের কথাকে আসতে বল, কথা আছে। রানী ডেকেছেন —ডাকিনী বুড়ি তাড়াতাড়ি চলে এল । রানী বললেন— এস ভাই, মনের কথা, কেমন আছ? কাছে বোসো। ডাকিনী ব্রাহ্মণী ছোটরানীর পাশে বসে বললে—কেন ভাই ডেকেছ কেন? মুখখানি ভারভার, চোখের কোণে জল, হয়েছে কি? রানী বললেন—হয়েছে আমার মাথা আর মুণ্ডু ! সতীন আবার ঘরে ঢুকেছে, সে সোনার শাড়ি পরেছে, নতুন মহল পেয়েছে, রাজার প্রেয়সী রানী হয়েছে। ভিখারিনী দুওরানী এতদিনে সুওরানীর রানী হয়ে রাজমহল জুড়ে বসেছে! বামুন সই, দেখে অঙ্গ জ্বলে গেল, আমায় বিষ দে খেয়ে মরি, সতিনের এই আদর প্রাণে সয় না। ব্রাহ্মণী বললে—ছি ! ছি ! সই । ও কথা কি  মুখে আনে ! কোন্‌ দুঃখে বিষ খাবে ? দুওরানী আজ রানী হয়েছে, কাল ভিখারিনী হবে, তুমি যেমন সুওরানী তেমনি থাকবে ।

সুওরানী বললেন—না ভাই, বাঁচতে আর সাধ নেই । আজ বাদে  কাল দুওরানীর ছেলে হবে, সে ছেলে রাজ্য পাবে ! লোকে বলবে, আহা, দুওরানী রত্নগর্ভা, রাজার মা হল ! আর দেখ না, পোড়ামুখী সুওরানী মহারাজার সুওরানী হল, তবু রাজার কোলে দিতে ছেলে পেলে না ! ছি ! ছি ! অমন অভাগীর মুখ দেখে না, নাম করলে সারা দিন উপোস যায় । ভাই, এ গঞ্জনা প্রাণে সবে না । তুই বিষ দে, হয় আমি খাই, নয়তো সতীনকে খাওয়াই

ব্রাহ্মণী বললে—চুপ কর রানী, কে কোন্‌দিকে শুনতে পাবে ! ভাবনা কি ? চুপি চুপি বিষ এনে দেব, দুওরানীকে খেতে দিও । এখন বিদায় দাও, বিষের সন্ধানে যাই।

রানী বললেন—যাও ভাই। কিন্তু দেখো, বিষ যেন আসল হয়, খেতে-না-খেতে বড়রানী ঘুরে পড়বে ।

ডাকিনী বললে— ভয় নেই গো, ভয় নেই ! আজ বাদে কাল বড়রানীকে বিষ খাওয়াব, জন্মের মতো মা হবার সাধ ঘোচাব, তুমি নির্ভয়ে থাক ।

ডাকিনী বিষের সন্ধানে গেল । বনে বনে খুঁজে-খুঁজে ভর-সন্ধ্যাবেলা ঝোপের আড়ালে ঘুমন্ত সাপকে মন্ত্রে বশ করে, তার মুখ থেকে কালকূট বিষ এনে দিল ।

ছোটরানী সেই বিষে মুগের নাড়ু, ক্ষীরের ছাঁচ, মতিচুর মেঠাই গড়লেন । একখানা থালা সাজিয়ে ডাকিনী ব্রাহ্মণীকে বললেন–ভাই এক কাজ কর, এই বিষের নাড়ু বড়রানীকে বেচে আয় ।

ব্রাহ্মণী থালা হাতে বড়রানীর নতুন মহলে গেল ।

বড়রানী বললেন—আয় লো আয়, এতদিন কোথায় ছিলি? দুওরানী বলে কি ভুলে থাকতে হয়?

ডাকিনী বললে—সে কি গো ! তোমাদের খাই, তোমাদের পরি, তোমাদের কি ভুলভে পারি ? এই দেখ, তোমার জন্যে যতন করে মুগের নাড়ু, ক্ষীরের ছাঁচ, মতিচুর মেঠাই এনেছি ।

রানী দেখলেন, বুড়ি বাহ্মণী বড় যত্ন করে, থালা সাজিয়ে সামগ্রী এনেছে । খুশি হয়ে তার দুহাতে দুমুঠো মোহর দিয়ে বিদায় করলেন, ব্রাহ্মণী হাসতে-হাসতে চলে গেল ।

রানী ক্ষীরের ছাঁচ ভেঙে খেলেন, জিবের স্বাদ গেল । মুগের নাড়ু  মুখে দিলেন, গলা কাঠ হল । মতিচুর মেঠাই খেলেন, বুক যেন জ্বলে গেল । বানরকে ডেকে বললেন—ব্রাহ্মণী আমায় কি খাওয়ালে ! গা-কেমন করছে, বুঝি আর বাঁচব না।

বানর বললে—চল্‌ মা, খাটে শুবি, অসুখ সারবে ।

রানী উঠে দাড়ালেন, সাপের বিষ মাথায় উঠল । রানী চোখে আঁধার দেখলেন, মাথা টলে গেল, সোনার প্রতিমা সানের উপর ঘুরে পড়লেন।

বানর রানীর মাথা কোলে নিলে, হাত ধরে নাড়ি দেখলে, চোখের পাতা খুলে চোখ দেখলে—রানী অজ্ঞান, অসাড় !

বানর সোনার প্রতিমা বড়রানীকে সোনার খাটে শুইয়ে দিয়ে  ওষুধের সন্ধানে বনে ছুটে গেল । বন থেকে কে জানে কি লতাপাতা, কোন গাছের কি শিকড় এনে নতুন শিলে বেটে বড়রানীকে খাওয়াতে লাগল ।

রাজবাড়িতে খবর গেল—বড়রানী বিষ খেয়েছেন । রাজা  উঠতে-পড়তে রানীর মহলে এলেন । রাজমন্ত্রী ছুটতে ছুটভে সঙ্গে এলেনা রাজবৈদ্য মন্তর আওড়াতে আওড়াতে তারপর এলেন।  তারপর রাজার লোক-লস্কর, দাসী-বাঁদী যে যেখানে ছিল হাজির হল ।  বানর বললে—মহারাজ, এত লোক কেন এনেছ? আমি মাকে  ওষুধ দিয়েছি মা আমার ভালো আছেন, একটু ঘুমোতে দাও । এত লোককে যেতে বল ।

রাজা বিষের নাড়ু পরখ করিয়ে রাজবৈদ্যকে বিদায় করলেন । রাজ্যের ভার দিয়ে রাজমন্ত্রীকে বিদায় করলেন । বড়রানীর মহলে নিজে রইলেন ।

তিন দিন, তিন রাত বড়রানী অজ্ঞান । চার দিনে জ্ঞান হল, বড়রানী  চোখ মেলে চাইলেন। বানর রাজাকে এসে খবর দিলে—মহারাজ, বড়রানী সেরে উঠেছেন, তোমার একটি রাজচক্রবতী ছেলে হয়েছে।

রাজা বানরকে হীরের হার খুলে   বললেন –

চল বানর,  বড়রানীকে আর বড়রানীর ছেলেকে দেখে আসি ।

বানর বললে—মহারাজ, গণনা করেছি ছেলের মুখ এখন দেখলে  তোমার চক্ষু অন্ধ হবে। ছেলের বিয়ে হলে মুখ দেখো, এখন  বড়রানীকে দেখে এস ছোটরানী কি দুর্দশা করেছে। রাজা দেখলেন – বিষের জ্বালায় বড়রানীর সোনার অঙ্গ কালি হয়ে গেছে, পাতখানার মত পড়ে আছেন, রানীকে আর চেনা যায় না ।রাজা রাজবাড়িতে এসে ছোট রাণীকে প্রহরী খানায় বন্ধ করলেন, আর ডাকিনী বুড়িকে মাথা মুড়িয়ে ঘোল ঢেলে,উলটো গাধায় চড়িয়ে দেশের বার করে দিলেন ।  তারপর হুকুম দিলেন—মন্ত্রীবর, আজ বড় শুভদিন, এতদিনে পরে রাজচক্রবর্তী ছেলে পেয়েছি. তুমি পথে-পথে আলো জ্বালাও, ঘরে-ঘরে বাজি পোড়াও, দীন দুঃখী ডেকে রাজভাণ্ডার লুটিয়ে দাও, রাজ্যে যেন একটিও ভিখারী না থাকে । মন্ত্রী রাজার আজ্ঞায় নগরের পথে-পথে আলো দিলেন, ঘরে-ঘরে বাজি  পোড়ালেন, দীন –দু:খীকে রাজভাণ্ডার দিলেন, রাজ্যে জয়-জয়কার হল ।

এমনি করে নিত্য নতুন আমোদে, দেবতার মন্দিরে পূজা দিয়ে, মা কালীর পায়ে বলি দিয়ে দেখতে দেখতে দশ বৎসর কেটে গেল । রাজা বানরকে ডেকে বললেন-দশ বৎসর তো পূর্ণ হল এখন ছেলে দেখাও !

বানর বললে – মহারাজ,আগে ছেলের বৌ ঠিক কর, তারপর তার বিযে দাও, তারপর মুখ দেখ ! এখন ছেলে দেখলে অন্ধ হবে। রাজা বানরের কথায় দেশে বিদেশে ভাট পাঠালেন। কত দেশের কত রাজকন্যার সন্ধান এল, একটিও রাজার মনে ধরল না । শেষে য পাটলী দেশের রাজার ভাট সোনার কৌটোয় সোনার প্রতিমা রাজকন্যার  ছবি নিয়ে  এল! কন্যার অঙ্গের বরণ কাঁচা সোনা, জোড়া-ভুরু – বাঁকাধনু  দুটি চোখ টানা-টানা, দুটি ঠোঁটি হাসি-হাসি, এলিয়ে দিলে মাথার কেশ পায় পড়ে। রাজার সেই কন্যা পছন্দ হল। বানর কে ডেকে বললেন – ছেলের বৌ ঠিক করেছি, কাল শুভ দিন শুভ লগ্নে বিয়ে দিতে যাব। বানর বললে – মহারাজ, কাল সন্ধে বেলা বেহারা দিয়ে বরের পালকি মায়ের দুয়ারে পাঠিয়ে দিও,  বরকে নিয়ে বিয়ে দিতে যাব। রাজা বললেন –

দেখ বাপু, দশ বৎসর তোমার কোথা শুনেছি কাল ছেলে না দেখালে অনর্থ করব।

বানর বললে – মহারাজ, সে ভাবনা নেই। তুমি বেহাই-বাড়ি চলে যাও, আমরা কাল বর নিয়ে যাব। রাজা পাছে রানীর ছেলেকে দেখে ফেলেন, পাছে চক্ষু অন্ধ হয়, সেই ভয় তারাতারি  বেহাই-বাড়ি চলে গেলেন আর বানর নতুন-মহলে বড়রাণীর কাছে গেল।  বড়রাণী ছেলে বিয়ে শুনে অবধি পড়ে পড়ে কাঁদছেন আর ভাবছেন–

download

The monkey then said – King, my mother suffers greatly in her broken room

The door is cracked, there is no straw on the roof and the winter cold comes into the room. My mother has no quilt to keep herself warm nor wood to light a fire and so she shivers all night long.

The king said – That is true. You should have told me! Monkey, bring your mother to the palace, I will give orders for her rooms to be decorated.

The monkey answered – But King, I worry that the younger queen will poison my mother if I bring her here.

The king reassured him, saying – Have no fear. I will keep the queen in the new quarters, with a moat to surround her and guards at the gates, the younger queen will not be able to come near her. That will be for the queen alone and for her deaf mute of a maid and for her pet son, the monkey.

 The monkey said -Then let me go and fetch my mother.

The king said – Minister, go and decorate the new palace.

The minister set thousands of people to work and the new castle was built in a day.

The neglected queen moved from her broken rooms with its ragged quilt and came to the new palace wearing a sari of the finest gold. she sat on a bed of gold, ate from a golden plate, gave alms to the poor and won the hearts of the kingdom. The younger queen seethed in anger.

The witch Brahmani was the chosen companion of the younger queen; her confidante. The queen sent for her – Ask my confidante to come for I have things to tell her. When the queen sent word, the old witch came hobbling as fast as she could.

The queen said to her – Come and sit with me and tell me how you are.

The witch answered – Why have you called for me? Why do you look as if you are about to cry?

The queen muttered – I am at wit’s end! My king has taken the old wife back, she now wears a sari of the finest gold, lives in a new palace and is the king’s darling. Now she sits above me in rank. My dear friend, I seethe in anger, give me some poison so that I can die for I cannot bear this good luck that comes her way.

The witch clucked and said – What kind of talk is that? That sad sack may be queen today but you will soon get your position back.

The evil queen said – No, I do not wish to live any longer. Soon the other queen will have a son and that son will have the kingdom. People will say, look at her, she is a king’s mother. The other one was the king’s favourite but she did not manage to give him a child. Who will want to look upon my ill fated face, or even speak my name for fear of having to go without food the rest of the day. I cannot bear the thought of that. Give me something that either I can take and die or give to the queen and kill her.

The old woman said – Be quiet, for someone might hear you! I will bring you the poison, give it to her. Bid me farewell that I may go and get the poison.

The queen said – Go but make sure that the poison is strong and that the queen falls ill as soon as she takes it.

The old woman said – Never fear! I will give her the poison and make sure her plans to become a mother are thwarted! Never fear!

She went to look for the poison. She wandered in the forests and when it was dark and evening had fallen, she cast a spell on a sleeping snake and stole the poison from its fangs.

The younger queen made sweets with that poison. She laid them out on a platter and called the witch saying – Take these to the queen and sell them to her.

The old woman came with the platter to the new palace.

The queen said – Come, come! Where have you been? Have you forgotten me because I am not favoured?

The witch said – How can that be? I live because of your largesse, how can I forget you? See I have brought some home made sweets for you!

The queen saw that the old woman had brought a few sweets that she had arranged with great care on a platter. She gave her handfuls of gold coins and the woman went away laughing.

The queen then broke a piece off and put it in her mouth but her tongue grew numb. She ate another piece and her throat grew parched. She ate from another and her chest burned as if on fire. She called the monkey and said – What did the old woman give me? I feel so ill, perhaps I am going to die.

The monkey said – Come mother, lie down on the bed, you will feel better.

The queen stood up and the poison rose to her brain. She could not see any longer and as she grew dizzy, she fell down in a dead faint on the stone floor.

The monkey took her head into his lap, checked her pulse, pulled her eyelid to look at the eye and found that she had passed out.

He then placed his beautiful mother on her golden bed and ran to the forest for her cure. He brought stems and roots that he crushed to make a potion that he gave to the queen.

News went to the palace that the queen had taken poison. The king came rushing to her chambers. The minister came. The royal physician came mumbling his spells. Then all the servants and maids and workers cane. The monkey asked the king – Why did you bring all these people? I have given my mother medicines and she is better. All she needs is sleep. Ask all the people to leave.

The king had the physician test the poisoned sweets and then leave. The minister was given charge of the kingdom and the king stayed by the queen’s bedside.

The queen lay in a dead faint for three days and three nights. On the fourth day she came to and opened her eyes. The monkey came and said to the king – The queen is better and now you have a son who will be a king of kings.

The king gave his diamond necklace to the monkey and said – Let us go and see the queen and our son.

The monkey said – King, I have seen it in the stars that you will be blinded if you see your son now. Let him get married first, then see him. Now go and see what the younger queen has done to my mother. The king went and saw how the queen’s skin had turned dark with the poison, she lay like a leaf upon her bed and was barely recognisable. The king returned to his palace and had the younger queen imprisoned and had her confidante shaved, placed on an ass backwards and exiled from the kingdom.

He then ordered his minister – It is a very good day today, we have a prince at long last. Organise lights on every street, fireworks in every household and feed every poor beggar in the kingdom. The minister went and did as the king said and his subjects were thankful for the king’s benevolence.

Ten years passed like this in happiness and entertainment. The king said – It is ten years, now show me my son!

The monkey said – King, first arrange a bride for your son, let the marriage take place and then look upon his face. If you see him now, you will go blind. The king sent messengers to all corners of the world on hearing this. So many kings sent word of their daughters, but the king said no to all of them. At the end, the brother of the king of Patali brought a likeness of their princess concealed in a golden frame. She had skin the colour of molten gold, her eye brows curved like a bow, her eyes were like a deer’s, her mouth was wreathed in smiles and her hair fell to her feet in great waves. The king saw her and sent for the monkey saying – I have found my son a bride. Tomorrow is a good day for a marriage. The monkey answered – King, send a palanquin and men to the queen’s quarter’s tomorrow in the evening, we will go to have him married.

The king said – Look now, I have listened to everything you said for ten years. I will lose my temper if I cannot see my son now that the ten years at an end.

The monkey said – Do not worry about that Great King! You go to the venue today, we will go with the groom tomorrow. The king was so worried that he would go blind if he saw his son that he quickly set out for the kingdom of his new in-laws. The monkey then went to the queen in her new palace where she had been weeping ever since she heard that her son was to be married.

ধূসর জীবনের গোধূলিতে/Dhushoro Jiboner Godhulitey/In the twilit hours of life

ধূসর জীবনের গোধূলিতে ক্লান্ত আলোয় ম্লানস্মৃতি।

          সেই   সুরের কায়া মোর সাধের সাথি, স্বপ্নের সঙ্গিনী,

              তারি আবেশ লাগে মনে   বসন্তবিহ্বল বনে॥

দেখি তার বিরহী মূর্তি বেহাগের তানে

          সকরুণ নত নয়ানে।

                             পূর্ণিমা জ্যোৎস্নালোকে মিলে যায়

                   জাগ্রত কোকিল-কাকলিতে মোর বাঁশির গীতে॥

 

 

রাগ: কাফি
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১৩৪৫
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): মার্চ, ১৯৩৯
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

***

 

In the memories of weary light in the pale twilit hour

          That tune that has been my companion and the playmate of my dreams

            Enchants me as a forest drunk with spring.

I see her form lingering in the strains of Behag

          Eyes cast down in pain.

                             The full moon blends its radiance

                   With the song of my flute amid the wakeful calls of birds.

 

 

Raga: Kafi
Beat: Kaharba
Written: March, 1939
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

 

ashoka_srinagar_by_Abanindranath Tagore

Ashoka Shringar: Abanindranath Thakur

 

 

ধূসর জীবনের গোধূলিতে   ক্লান্ত মলিন যেই স্মৃতি

মুছে-আসা সেই ছবিটিতে   রঙ এঁকে দেয় মোর গীতি॥

     বসন্তের ফুলের পরাগে   যেই রঙ জাগে,

          ঘুম-ভাঙা পিককাকলিতে   যেই রঙ লাগে,

              যেই রঙ পিয়ালছায়ায়   ঢালে শুক্লসপ্তমীর তিথি॥

সেই ছবি দোলা খায়   রক্তের হিল্লোলে,

সেই ছবি মিশে যায়    নির্ঝরকল্লোলে,

          দক্ষিণসমীরণে ভাসে,   পূর্ণিমাজ্যোৎস্নায় হাসে–

                   সে আমারি স্বপ্নের অতিথি॥

রাগ: পঞ্চম
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ভাদ্র, ১৩৪৬
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): অগাস্ট, ১৯৩৯
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

 

***

 

Those memories that grow pale in the twilit haze of life

My songs bring them back to life with colour.

     That colour that stirs in the pollen of spring blooms,

     That hue that rises from the calls of wakeful birds

         That light that the moon pours at night into the darkness of dense tree shade.

The picture trembles with the pulse of life,

The picture blends into the tinkle of rushing waters,

       It floats on southerly breeze and smiles through moonlight

                    It visits me in my dreams when I sleep at night.

 

Raga: Pancham
Beat: Kaharba
Written: August, 1939
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

 

Follow the link to hear Suchitra Mitra sing:

 

চোখের বালি ২৭/ Chokher Bali 27

 

২৭

 

মহেন্দ্রচলিয়াযাওয়ারকিছুদিনপরেইআশাযখনকাশীতেআসিল, তখনঅন্নপূর্ণারমনেবড়োইআশঙ্কাজন্মিল।আশাকেতিনিনানাপ্রকারেনানাপ্রশ্নজিজ্ঞাসাকরিতেলাগিলেন, “হাঁরেচুনি, তুইযেতোরসেইচোখেরবালিরকথাবলিতেছিলি, তোরমতে, তারমতনএমনগুণবতীমেয়েআরজগতেনাই?”

 

“সত্যইমাসি, আমিবাড়াইয়াবলিতেছিনা।তারযেমনবুদ্ধিতেমনিরূপ, কাজকর্মেতারতেমনিহাত।”

 

“তোরসখী, তুইতোতাহাকেসর্বগুণবতীদেখিবি, বাড়িরআর-সকলেতাহাকেকেকীবলেশুনি।”

 

“মারমুখেতোপ্রশংসাধরেনা।চোখেরবালিদেশেযাইবারকথাবলিতেইতিনিঅস্থিরহইয়াওঠেন।এমনসেবাকরিতেকেহজানেনা।বাড়িরচাকরদাসীরওযদিকারোব্যামোহয়তাকেবোনেরমতো, মারমতোযত্নকরে।”

 

“মহেন্দ্রেরমতকী।”

 

“তাঁকেতোজানইমাসি, নিতান্তঘরেরলোকছাড়াআর-কাউকেতাঁরপছন্দইহয়না।আমারবালিকেসকলেইভালোবাসে, কিন্তুতাঁরসঙ্গেতারআজপর্যন্তভালোবনেনাই।”

 

“কীরকম।”

 

“আমিযদি-বাঅনেককরিয়াদেখাসাক্ষাৎকরাইয়াদিলাম, তাঁরসঙ্গেতারকথাবার্তাইপ্রায়বন্ধ।তুমিতোজান, তিনিকীরকমকুনো–লোকেমনেকরে, তিনিঅহংকারী, কিন্তুতানয়মাসি, তিনিদুটি-একটিলোকছাড়াকাহাকেওসহ্যকরিতেপারেননা।”

 

শেষকথাটাবলিয়াফেলিয়াহঠাৎআশারলজ্জাবোধহইল, গাল-দুটিলালহইয়াউঠিল।অন্নপূর্ণাখুশিহইয়ামনেমনেহাসিলেন–কহিলেন, “তাইবটে, সেদিনমহিনযখনআসিয়াছিল, তোরবালিরকথাএকবারমুখেওআনেনাই।”

 

আশাদুঃখিতহইয়াকহিল, “ঐতাঁরদোষ।যাকেভালোবাসেননা, সেযেনএকেবারেইনাই।তাকেযেনএকদিনওদেখেননাই, জানেননাই, এমনিতাঁরভাব।”

 

অন্নপূর্ণাশান্তস্নিগ্ধহাস্যেকহিলেন, “আবারযাকেভালোবাসেনমহিনযেনজন্মজন্মান্তরকেবলতাকেইদেখেনএবংজানেন, এভাবওতাঁরআছে।কীবলিস, চুনি।”

 

আশাতাহারকোনোউত্তরনাকরিয়াচোখনিচুকরিয়াহাসিল।অন্নপূর্ণাজিজ্ঞাসাকরিলেন, “চুনি, বিহারীরকীখবরবল্‌ দেখি।সেকিবিবাহকরিবেনা।”

 

মুহূর্তেরমধ্যেইআশারমুখগম্ভীরহইয়াগেল–সেকীউত্তরদিবেভাবিয়াপাইলনা।

 

আশারনিরুত্তরভাবেঅত্যন্তভয়পাইয়াঅন্নপূর্ণাবলিয়াউঠিলেন, “সত্যবল্‌ চুনি, বিহারীরঅসুখ-বিসুখকিছুহয়নিতো?”

 

বিহারীএইচিরপুত্রহীনারমণীরস্নেহ-সিংহাসনেপুত্রেরমানস-আদর্শরূপেবিরাজকরিত।বিহারীকেতিনিসংসারেপ্রতিষ্ঠিতদেখিয়াআসিতেপারেননাই, এদুঃখপ্রবাসেআসিয়াপ্রতিদিনতাঁহারমনেজাগিত।তাঁহারক্ষুদ্রসংসারেরআর-সমস্তইএকপ্রকারসম্পূর্ণহইয়াছে, কেবলবিহারীরসেইগৃহহীনঅবস্থাস্মরণকরিয়াইতাঁহারপরিপূর্ণবৈরাগ্যচর্চারব্যাঘাতঘটে।

 

আশাকহিল, “মাসি, বিহারী-ঠাকুরপোরকথাআমাকেজিজ্ঞাসাকরিয়োনা।”

 

অন্নপূর্ণাআশ্চর্যহইয়াজিজ্ঞাসাকরিলেন, “কেনবল্‌ দেখি।”

 

আশাকহিল, “সেআমিবলিতেপারিবনা।” বলিয়াঘরহইতেউঠিয়াগেল।

 

অন্নপূর্ণাচুপকরিয়াবসিয়াভাবিতেলাগিলেন, “অমনসোনারছেলেবিহারী, এরইমধ্যেতাহারকিএতইবদলহইয়াছেযে, চুনিআজতাহারনামশুনিয়াউঠিয়াযায়।অদৃষ্টেরইখেলা।কেনতাহারসহিতচুনিরবিবাহেরকথাহইল, কেনই-বামহেন্দ্রতাহারহাতেরকাছহইতেচুনিকেকাড়িয়ালইল।’

 

অনেকদিনপরেআজআবারঅন্নপূর্ণারচোখদিয়াজলপড়িল–মনেমনেতিনিকহিলেন, “আহা, আমারবিহারীযদিএমন-কিছুকরিয়াথাকেযাহাআমারবিহারীরযোগ্যনহে, তবেসেতাহাঅনেকদুঃখপাইয়াইকরিয়াছে, সহজেকরেনাই।’ বিহারীরসেইদুঃখেরপরিমাণকল্পনাকরিয়াঅন্নপূর্ণারবক্ষব্যথিতহইতেলাগিল।

 

সন্ধ্যারসময়যখনঅন্নপূর্ণাআহ্নিকেবসিয়াছেন, তখনএকটাগাড়িআসিয়াদরজায়থামিল, এবংসহিসবাড়িরলোককেডাকিয়ারুদ্ধদ্বারেঘামারিতেলাগিল।অন্নপূর্ণাপূজাগৃহহইতেবলিয়াউঠিলেন, “ঐযা, আমিএকেবারেইভুলিয়াগিয়াছিলাম, আজকুঞ্জরশাশুড়িরএবংতারদুইবোনঝিরএলাহাবাদহইতেআসিবারকথাছিল।ঐবুঝিতাহারাআসিল।চুনি, তুইএকবারআলোটালইয়াদরজাখুলিয়াদে।”

 

আশালণ্ঠন-হাতেদরজাখুলিয়াদিতেইদেখিল, বিহারীদাঁড়াইয়া।বিহারীবলিয়াউঠিল, “একীবোঠান, তবেযেশুনিলাম, তুমিকাশীআসিবেনা।”

 

আশারহাতহইতেলণ্ঠনপড়িয়াগেল।সেযেনপ্রেতমূর্তিদেখিয়াএকনিশ্বাসেদোতলায়ছুটিয়াগিয়াআর্তস্বরেবলিয়াউঠিল, “মাসিমা, তোমারদুটিপায়েপড়ি, উঁহাকেএখনইযাইতেবলো।”

 

অন্নপূর্ণাপূজারআসনহইতেচমকিয়াউঠিয়াকহিলেন, “কাহাকেচুনি, কাহাকে।”

 

আশাকহিল, “বিহারী-ঠাকুরপোএখানেওআসিয়াছেন।” বলিয়াসেপাশেরঘরেগিয়াদ্বাররোধকরিল।

 

বিহারীনীচেহইতেসকলকথাইশুনিতেপাইল।সেতখনইছুটিয়াযাইতেউদ্যত–কিন্তুঅন্নপূর্ণাপূজাহ্নিকফেলিয়াযখননামিয়াআসিলেন, তখনদেখিলেন, বিহারীদ্বারেরকাছেমাটিতেবসিয়াপড়িয়াছে, তাহারশরীরহইতেসমস্তশক্তিচলিয়াগেছে।

 

অন্নপূর্ণাআলোআনেননাই।অন্ধকারেতিনিবিহারীরমুখেরভাবদেখিতেপাইলেননা, বিহারীওতাঁহাকেদেখিতেপাইলনা।

 

অন্নপূর্ণাকহিলেন, “বেহারী!”

 

হায়, সেইচিরদিনেরস্নেহসুধাসিক্তকণ্ঠস্বরকোথায়।একণ্ঠেরমধ্যেযেকঠিনবিচারেরবজ্রধ্বনিপ্রচ্ছন্নহইয়াআছে।জননীঅন্নপূর্ণা, সংহার-খড়গতুলিলেকার ‘পরে।ভাগ্যহীনবিহারীযেআজঅন্ধকারেতোমারমঙ্গলচরণাশ্রয়েমাথারাখিতেআসিয়াছিল।

 

বিহারীরঅবশশরীরআপাদমস্তকবিদ্যুতেরআঘাতেচকিতহইয়াউঠিল, কহিল, “কাকীমা, আরনয়, আরএকটিকথাওবলিয়োনা।আমিচলিলাম।”

 

বলিয়াবিহারীভূমিতেমাথারাখিয়াপ্রণামকরিল, অন্নপূর্ণারপাওস্পর্শকরিলনা।জননীযেমনগঙ্গাসাগরেসন্তানবিসর্জনকরে, অন্নপূর্ণাতেমনিকরিয়াবিহারীকেসেইরাত্রেরঅন্ধকারেনীরবেবিসর্জনকরিলেন, একবারফিরিয়াডাকিলেননা।গাড়িবিহারীকেলইয়াদেখিতেদেখিতেঅদৃশ্যহইয়াগেল।

 

সেইরাত্রেইআশামহেন্দ্রকেচিঠিলিখিল–

 

“বিহারী-ঠাকুরপোহঠাৎআজসন্ধ্যাবেলাএখানেআসিয়াছিলেন।জেঠামশায়রাকবেকলিকাতায়ফিরিবেন, ঠিকনাই–তুমিশীঘ্রআসিয়াআমাকেএখানহইতেলইয়াযাও।’

 

 

 

photo0165

 

27

When Asha came to Kashi within a few days of Mahendra’s departure, Annapurna became very worried. She asked her a great many questions such as, ‘Chuni, your friend Chokher Bali; is it your opinion that there is not one other as accomplished as her?’

‘Truly Aunt, I am not exaggerating her qualities. She is just as clever as she is beautiful and she does everything perfectly.’

‘But then she is your friend and you will of course see her as being accomplished in every way, what do the others in the household think of her?’

‘My mother-in-law cannot say enough in her praise. If Bali even mentions going back home, she grows very disturbed. No one can take such care of others. Even if the lowliest maid in the household falls ill, Bali looks after them as her own flesh and blood.’

‘What does Mahendra think?’

‘You know him Aunt, he does not like people outside his own family. Everyone loves Bali, but he is still unable to treat her civilly.’

‘How is that?’

‘I did make it possible for the two to meet each other but they hardly speak. You know how lazy he is, people even think of him as proud; but it is not so, he cannot be bothered to know more than a couple of people.’

Asha blushed after saying the last words. Annapurna felt happy and smiled to herself, saying, ‘That is true, he never said a word about Bali the other day when he was here.’

Asha said sadly, ‘That is one of his faults. When he does not like someone, he acts as if that person does not exist; as if he has neither seen nor heard of them.’

Annapurna smiled a gentle smile and said, ‘But then, when he does love someone he knows nothing but them for the rest of his life. Would you not agree, Chuni?’

Asha said nothing in response. She only lowered her eyes and smiled. Annapurna asked, ‘Tell me about Bihari. Will he not get married?’

Asha’s face became sombre immediately. She did not know what to say.

Annapurna became very worried when she saw Asha’s silence and said, ‘Tell me the truth Chuni! He is not ill, is he?’

To the childless Annapurna, Bihari had always been the ideal of a son. She was troubled each day in her exile by the thought that she had not done anything to make him embrace the life of a householder. Every wish had been fulfilled in her little world but her complete peace remained ruffled by memories of the rootless life Bihari led.

Asha said, ‘Do not ask me about him.’

Annapurna was amazed; she aske, ‘Why is that?’

Asha replied, ‘I cannot tell you that!’ She then left the room.

Her aunt sat by herself and thought quietly, ‘What a wonderful man Bihari is! What could he have done to make Asha get up and leave on mentioning his name? Fate is cruel indeed. Why did we start planning Chuni’s marriage with him? Why did Mahendra snatch her away?’

She wept after a long time today – as she said to herself, ‘Alas, if Bihari has done something that did not suit his personality, he must have done it under great duress.’ The more she thought of the burden on Bihari’s shoulders, the more she hurt.

When she sat down to her prayers in the evening, a carriage came and stopped at the door and the coachman called out to people as he knocked on the locked door. Annapurna started and said, ‘Oh No! I had completely forgotten that Kunja’s mother-in-law and her two nieces were supposed to arrive today. It must be them. Chuni, could you take a light and open the door for them?’

When Asha opened the door, she saw Bihari standing outside. He said, ‘What is this, I had heard that you were not coming to Kashi!’

The lantern fell from her hand. She hurried upstairs as if she had seen a ghost and cried piteously, ‘Aunt, please tell him to leave right now.’

Annapurna was surprised and asked, ‘Whom must I ask to leave, Chuni?’

Asha answered, ‘Bihari! He has followed me here.’ She then went to the room next door and barred it from the inside.

Bihari heard every word from downstairs. He was about to leave instantly – but when Annapurna came downstairs leaving her prayers incomplete, she saw him sitting on the floor near the door drained of all strength.

Annapurna did not have a light with her. The darkness meant that they could not see each other’s expressions.

Annapurna spoke up, ‘Bihari!’

Alas! Where was the compassionate voice he had known forever? Nothing tempered the thunderbolt of cold judgement in her tones. Who was she raising her ire against? Bihari had come merely to rest his brow against the forgiveness at her feet.

Bihari’s numb flesh started at the shock that coursed through him and said, ‘Aunt, do not say another word. I am going.’

Bihari then bent down and paid his respects to Annapurna but he did not touch her feet. Just as a mother sacrifices a child to the river, Annapurna silently gave up on Bihari that night and did not call him back. The carriage took him away till it could no longer be seen.

Asha wrote to Mahendra that very night –

‘Bihari suddenly appeared here in the evening. I do not know when my uncle plans to go back to Calcutta – I want you to come here soon and take me with you.’

জন্মদিন / Jonmodin/ The Birthday

জন্মদিন

রবিপ্রদক্ষিণপথে জন্মদিবসের আবর্তন

           হয়ে আসে সমাপন।

                 আমার রুদ্রের

                 মালা রুদ্রাক্ষের

           অন্তিম গ্রন্থিতে এসে ঠেকে

           রৌদ্রদগ্ধ দিনগুলি গেঁথে একে একে।

     হে তপস্বী, প্রসারিত করো তব পাণি

                  লহো মালাখানি।

উগ্র তব তপের আসন,

           সেথায় তোমারে সম্ভাষণ

           করেছিনু দিনে দিনে কঠিন স্তবনে,

কখনো মধ্যাহ্নরৌদ্রে কখনো-বা ঝঞ্ঝার পবনে।

          এবার তপস্যা হতে নেমে এসো তুমি–

            দেখা দাও যেথা তব বনভূমি

ছায়াঘন, যেথা তব আকাশ অরুণ

          আষাঢ়ের আভাসে করুণ।

অপরাহ্ন যেথা তার ক্লান্ত অবকাশে

     মেলে শূন্য আকাশে আকাশে

বিচিত্র বর্ণের মায়া; যেথা সন্ধ্যাতারা

                  বাক্যহারা

              বাণীবহ্নি জ্বালি

নিভৃতে সাজায় ব’সে অনন্তের আরতির ডালি।

            শ্যামল দাক্ষিণ্যে ভরা

              সহজ আতিথ্যে বসুন্ধরা

                 যেথা স্নিগ্ধ শান্তিময়,

   যেথা তার অফুরান মাধুর্যসঞ্চয়

                 প্রাণে প্রাণে

বিচিত্র বিলাস আনে রূপে রসে গানে।

বিশ্বের প্রাঙ্গণে আজি ছুটি হোক মোর,

                  ছিন্ন করে দাও কর্মডোর।

                  আমি আজ ফিরব কুড়ায়ে

উচ্ছৃঙ্খল সমীরণ যে কুসুম এনেছে উড়ায়ে

            সহজে ধুলায়,

           পাখির কুলায়

      দিনে দিনে ভরি উঠে যে-সহজ গানে,

আলোকের ছোঁওয়া লেগে সবুজের তম্বুরার তানে।

               এই বিশ্বসত্তার পরশ,

স্থলে জলে তলে তলে এই গূঢ় প্রাণের হরষ

            তুলি লব অন্তরে অন্তরে–

সর্বদেহে, রক্তস্রোতে, চোখের দৃষ্টিতে, কণ্ঠস্বরে,

            জাগরণে, ধেয়ানে, তন্দ্রায়,

   বিরামসমুদ্রতটে জীবনের পরমসন্ধ্যায়।

         এ জন্মের গোধূলির ধূসর প্রহরে

                  বিশ্বরসসরোবরে

         শেষবার ভরিব হৃদয় মন দেহ

   দূর করি সব কর্ম, সব তর্ক, সকল সন্দেহ,

           সব খ্যাতি, সকল দুরাশা,

বলে যাব, “আমি যাই, রেখে যাই, মোর ভালোবাসা।’

  শান্তিনিকেতন, ২৩ বৈশাখ, ১৩৩৮

Image

 Tagore and his grand daughter Nandita

 ***

Birthday

On the cosmic path of the sun, the cycle of birthdays

Draws to an end.

The suns that daily visited my life

Strung as beads on a thread

Have reached the final stretch

Of sun-burnt days.

Great sage, extend your hand

Accept the offering.

On your fierce seat of meditation,

Where I have addressed you

Daily in complicated prayer

Sometimes by glaring midday sun, sometimes in the midst of storms.

Now, you may descend from your meditations –

Appear where your forests grow

Gentle with shade, where your skies glow

Compassionate with a hint of rain.

Where the evening stops to rest

Spreading its spell across the sky

In a myriad colours; where the evening star

In wordless silence

Prepares to shine a votive flame

In honour of the infinite.

Where plentiful green

Blesses the earth

Making it serene and peaceful,

So that it can bestow its endless sweetness

In each life

Through an infinite variety in beauty, song and feeling.

Grant me leave from the world today,

Remove me from the weight of duties.

Let me return today picking up along the way

Flowers blown by the restless breeze

In casual neglect upon the dust,

In the bird’s nest

That song that rises each day,

As light plucks gently at the strings of life.

The touch of this earthly soul,

The happiness that hides in the life hidden away in land and on water

That I wish to absorb into me –

Into my body, into the blood that courses through me, in my sight, my voice,

In wakefulness, thought and sleep,

On the shores of this restful sea, in the final hours of life.

In the dusk of this life

Let me fill from the well of beauty

And refresh for one last time my heart, body and soul

Let me cast away all striving, all argument, all suspicion,

All fame, all blind ambition,

And say, ‘As I go, I leave behind, my love for all.’

Santiniketan, 23rd Baisakh, 1338

আজি শ্রাবণঘনগহন মোহে/Aji Srabanghonogohon Mohey/ Today you come, your footsteps cloaked by the spell cast by the rain

আজি   শ্রাবণঘনগহন মোহে    গোপন তব চরণ ফেলে

নিশার মতো, নীরব ওহে,    সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।

প্রভাত আজি মুদেছে আঁখি,    বাতাস বৃথা যেতেছে ডাকি,

নিলাজ নীল আকাশ ঢাকি    নিবিড় মেঘ কে দিল মেলে॥

কূজনহীন কাননভূমি,    দুয়ার দেওয়া সকল ঘরে–

একেলা কোন্‌ পথিক তুমি     পথিকহীন পথের ‘পরে।

হে একা সখা, হে প্রিয়তম,     রয়েছে খোলা এ ঘর মম,

সমুখ দিয়ে স্বপনসম    যেয়ো না মোরে হেলায় ঠেলে॥

 

 

রাগ: গৌড়মল্লার

তাল: ঝম্পক

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): আষাঢ়, ১৩১৬

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1909

রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন

স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

Image

 

Today you come, your footsteps cloaked by the spell cast by the rain

As silent as the night drawing down, unnoticed by all

The dawn has closed its eyes, the wind calls for it in vain,

Who draws this dense veil of cloud across the shameless blue of the sky?

Even the birds in the groves are silenced today, everyone waits behind shuttered doors

While you walking alone on the empty roads today, who are you?

Lonely friend, dearest, my doors are open to you today,

Do not walk away like a dream, neglecting this eager wait of mine.

 

 

Raga: Gaud Mallar

Beat: Jhampak

Written:  AshaDh 1316, CE 1909

Written at Santiniketan

Score: Dinendranath Thakur

Follow the links to hear:

Purba Dam:

Debabrata Biswas:

 

 

Rabindranath Tagore’s speech in Germany: Actual sound file.

_1921_Kurt_Wolff

With his publisher Kurt Wolff, 1921

Sound file of Tagore’s speech in Berlin, June 1st, 1921:

http://www.india.diplo.de/Vertretung/indien/en/04__Kolkata/04__03__Kolkata/Local_20Events/2014__05__04__tagore__berlin-uni-speech__1921/seite__tagore__speech__berlin__uni__1921.html

bild_tagore_berlin_1921_01                                                                                     Berlin, 1921

PDF transcript of the speech:

http://www.india.diplo.de/contentblob/4230690/Daten/4286083/downloaddatei_tagore_berlin_uni_speech_1921_transcript.pdf

10425190_10204008918327903_6741263708682925818_n

20120113282700404

Tagore lecturing at Berlin University in war-ravaged Germany

Tagore and Einstein

tagore-einstein
In July 1930, two of the world’s greatest minds – Rabindranath Tagore and Albert Einstein – met for the first time at Einstein’s Berlin abode to have one of the most riveting conversations of all time, exploring the dichotomy between religion and science.
In almost all arenas including cultural backgrounds and occupations, the two intellectual heavyweights were diametrically different. But their mutual love for music, inquisitiveness, and passion for the truth united them, and resulted in their stimulating philosophical discourse.
Fortunately, Dimitri Marianoff and Amiya Chakravarty were present during their meetings, and recorded the conversations. Marianoff, the husband of Einstein’s stepdaughter, promptly published the story in August 1930. The conversation was transcribed courtesy of David Gosling’s Science and the Indian Tradition: When Einstein met Tagore, and the January 1931 issue of Modern Review.
An excerpt from the historic conversation:
TAGORE: You have been busy, hunting down with mathematics, the two ancient entities, time and space, while I have been lecturing in this country on the eternal world of man, the universe of reality.
EINSTEIN: Do you believe in the divine isolated from the world?
TAGORE: Not isolated. The infinite personality of man comprehends the universe. There cannot be anything that cannot be subsumed by the human personality, and this proves that the truth of the universe is human truth.
EINSTEIN: There are two different conceptions about the nature of the universe: The world as a unity dependent on humanity, and the world as a reality independent of the human factor.
TAGORE: When our universe is in harmony with man, the eternal, we know it as truth, we feel it as beauty.
EINSTEIN: This is a purely human conception of the universe.
TAGORE: The world is a human world – the scientific view of it is also that of the scientific man. Therefore, the world apart from us does not exist; it is a relative world, depending for its reality upon our consciousness. There is some standard of reason and enjoyment which gives it truth, the standard of the eternal man whose experiences are made possible through our experiences.
EINSTEIN: This is a realization of the human entity.
TAGORE: Yes, one eternal entity. We have to realize it through our emotions and activities. We realize the supreme man, who has no individual limitations, through our limitations. Science is concerned with that which is not confined to individuals; it is the impersonal human world of truths. Religion realizes these truths and links them up with our deeper needs. Our individual consciousness of truth gains universal significance. Religion applies values to truth, and we know truth as good through its own harmony with it.
EINSTEIN: Truth, then, or beauty, is not independent of man?
TAGORE: No, I do not say so.
EINSTEIN: If there were no human beings any more, the Apollo Belvedere no longer would be beautiful?
TAGORE: No!
EINSTEIN: I agree with this conception of beauty, but not with regard to truth.
TAGORE: Why not? Truth is realized through men.
EINSTEIN: I cannot prove my conception is right, but that is my religion.
TAGORE: Beauty is in the ideal of perfect harmony, which is in the universal being; truth is the perfect comprehension of the universal mind. We individuals approach it through our own mistakes and blunders, through our accumulated experience, through our illumined consciousness. How otherwise can we know truth?
EINSTEIN: I cannot prove, but I believe in the Pythagorean argument, that the truth is independent of human beings. It is the problem of the logic of continuity.
TAGORE: Truth, which is one with the universal being, must be essentially human; otherwise, whatever we individuals realize as true, never can be called truth. At least, the truth which is described as scientific and which only can be reached through the process of logic—in other words, by an organ of thought which is human. According to the Indian philosophy there is  Brahman, the absolute truth, which cannot be conceived by the isolation of the individual mind or described by words, but can be realized only by merging the individual in its infinity. But such a truth cannot belong to science. The nature of truth, which we are discussing, is an appearance; that is to say, what appears to be true to the human mind, and therefore is human, and may be called maya, or illusion.
EINSTEIN: It is no illusion of the individual, but of the species.
TAGORE: The species also belongs to a unity, to humanity. Therefore the entire human mind realizes truth; the Indian and the European mind meet in a common realization.
EINSTEIN: The word species is used in German for all human beings; as a matter of fact, even the apes and the frogs would belong to it. The problem is whether truth is independent of our consciousness.
TAGORE: What we call truth lies in the rational harmony between the subjective and objective aspects of reality, both of which belong to the superpersonal man.
EINSTEIN: We do things with our mind, even in our everyday life, for which we are not responsible. The mind acknowledges realities outside of it, independent of it. For instance, nobody may be in this house, yet that table remains where it is.
TAGORE: Yes, it remains outside the individual mind, but not the universal mind. The table is that which is perceptible by some kind of consciousness we possess.
EINSTEIN: If nobody were in the house the table would exist all the same, but this is already illegitimate from your point of view, because we cannot explain what it means, that the table is there, independently of us. Our natural point of view in regard to the existence of truth apart from humanity cannot be explained or proved, but it is a belief which nobody can lack—not even primitive beings. We attribute to truth a superhuman objectivity. It is indispensable for us—this reality which is independent of our existence and our experience and our mind—though we cannot say what it means.
TAGORE: In any case, if there be any truth absolutely unrelated to humanity, then for us it is absolutely non-existing.
EINSTEIN: Then I am more religious than you are!
TAGORE: My religion is in the reconciliation of the super-personal man, the universal spirit, in my own individual being.
***
In spite of their differences in ideology, Einstein consistently expressed his appreciation for his illustrious guest. And Tagore later wrote in his memoirs about his host: “There was nothing stiff about him – there was no intellectual aloofness. He seemed to me a man who valued human relationships and he showed toward me a real interest and understanding.’’

Source: http://www.dhakatribune.com/weekend/2014/mar/13/when-einstein-met-tagore#sthash.EBPTxcD9.dpuf