Archives

ছাত্রের পরীক্ষা / Cchatrer Porikkha/ The Student’s Test

ছাত্রের পরীক্ষা

 

 

ছাত্র শ্রীমধুসূদন

 

 

 

শ্রীযুক্ত কালাচাঁদ মাস্টার পড়াইতেছেন

 

 

 

অভিভাবকের প্রবেশ

 

 

 

অভিভাবক।

 

মধুসূদন পড়াশুনো কেমন করছে কালাচাঁদবাবু?

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

আজ্ঞে, মধুসূদন অত্যন্ত দুষ্ট বটে, কিন্তু পড়াশুনোয় খুব মজবুত। কখনো একবার বৈ দুবার বলে দিতে হয় না। যেটি আমি একবার পড়িয়ে দিয়েছি সেটি কখনো ভোলে না।

 

 

 

অভিভাবক।

 

বটে! তা, আমি আজ একবার পরীক্ষা করে দেখব।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

তা , দেখুন-না।

 

 

 

মধুসূদন।

 

(স্বগত) কাল মাস্টারমশায় এমন মার মেরেছেন যে আজও পিঠ চচ্চড় করছে। আজ এর শোধ তুলব। ওঁকে আমি তাড়াব।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কেমন রে মোধো, পুরোনো পড়া সব মনে আছে তো?

 

 

 

মধুসূদন।

 

মাস্টারমশায় যা বলে দিয়েছেন তা সব মনে আছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, উদ্ভিদ্‌ কাকে বলে বল্‌ দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

যা মাটি ফুঁড়ে ওঠে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

একটা উদাহরণ দে।

 

 

 

মধুসূদন।

 

কেঁচো!

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

(চোখ রাঙাইয়া ) অ্যাঁ! কী বললি!

 

 

 

অভিভাবক।

 

রসুন মশায়, এখন কিছু বলবেন না।

 

 

 

মধুসূদনের প্রতি

 

 

 

তুমি তো পদ্যপাঠ পড়েছ; আচ্ছা, কাননে কী ফোটে বলো দেখি?

 

 

 

মধুসূদন।

 

কাঁটা।

 

 

 

কালাচাঁদের বেত্র-আস্ফালন

 

 

 

কী মশায়, মারেন কেন? আমি কি মিথ্যে কথা বলছি?

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, সিরাজউদ্দৌলাকে কে কেটেছে? ইতিহাসে কী বলে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

পোকায়।

 

 

 

বেত্রাঘাত

 

 

 

আজ্ঞে, মিছিমিছি মার খেয়ে মরছি– শুধু সিরাজউদ্দৌলা কেন, সমস্ত ইতিহাসখানাই পোকায় কেটেছে! এই দেখুন।

 

 

 

প্রদর্শন।

 

কালাচাঁদ মাস্টারের মাথা-চুলকায়ন

 

 

 

অভিভাবক।

 

ব্যাকরণ মনে আছে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

আছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

“কর্তা’ কী, তার একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

আজ্ঞে, কর্তা ওপাড়ার জয়মুন্‌শি।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কেন বলো দেখি।

 

 

 

মধুসূদন।

 

তিনি ক্রিয়া-কর্ম নিয়ে থাকেন।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

(সরোষে) তোমার মাথা!

 

 

 

পৃষ্ঠে বেত্র

 

 

 

মধুসূদন।

 

(চমকিয়া) আজ্ঞে, মাথা নয়, ওটা পিঠ।

 

 

 

অভিভাবক।

 

ষষ্ঠী-তৎপুরুষ কাকে বলে?

 

 

 

মধুসুদন।

 

জানি নে।

 

 

 

কালাচাঁদবাবুর বেত্র-দর্শায়ন

 

 

 

মধুসদন।

 

ওটা বিলক্ষণ জানি– ওটা যষ্টি-তৎপুরুষ।

 

 

 

অভিভাবকের হাস্য এবং কালাচাঁদবাবুর তদ্‌বিপরীত ভাব

 

 

 

অভিভাবক।

 

অঙ্কশিক্ষা হয়েছে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

হয়েছে।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, তোমাকে সাড়ে ছ’টা সন্দেশ দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে যে,পাঁচ মিনিট সন্দেশ খেয়ে যতটা সন্দেশ বাকি থাকবে তোমার ছোটো ভাইকে দিতে হবে। একটা সন্দেশ খেতে তোমার দু-মিনিট লাগে, কটা সন্দেশ তুমি তোমার ভাইকে দেবে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

একটাও নয়।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

কেমন করে।

 

 

 

মধুসূদন।

 

সবগুলো খেয়ে ফেলব। দিতে পারব না।

 

 

 

অভিভাবক।

 

আচ্ছা, একটা বটগাছ যদি প্রত্যহ সিকি ইঞ্চি করে উঁচু হয় তবে যে বট এ বৈশাখ মাসের পয়লা দশ ইঞ্চি ছিল ফিরে বৈশাখ মাসের পয়লা সে কতটা উঁচু হবে?

 

 

 

মধুসূদন।

 

যদি সে গাছ বেঁকে যায় তা হলে ঠিক বলতে পারি নে, যদি বরাবর সিধে ওঠে তা হলে মেপে দেখলেই ঠাহর হবে, আর যদি ইতিমধ্যে শুকিয়ে যায় তা হলে তো কথাই নেই।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

মার না খেলে তোমার বুদ্ধি খোলে না! লক্ষ্মীছাড়া, মেরে তোমার পিঠ লাল করব, তবে তুমি সিধে হবে!

 

 

 

মধুসূদন।

 

আজ্ঞে, মারের চোটে খুব সিধে জিনিসও বেঁকে যায়।

 

 

 

অভিভাবক।

 

কালাচাঁদবাবু, ওটা আপনার ভ্রম। মারপিট করে খুব অল্প কাজই হয়। কথা আছে গাধাকে পিটোলে ঘোড়া হয় না, কিন্তু অনেক সময়ে ঘোড়াকে পিটোলে গাধা হয়ে যায়। অধিকাংশ ছেলে শিখতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ মাস্টার শেখাতে পারে না। কিন্তু মার খেয়ে মরে ছেলেটাই। আপনি আপনার বেত নিয়ে প্রস্থান করুন, দিনকতক মধুসূদনের পিঠ জুড়োক, তার পরে আমিই ওকে পড়াব।

 

 

 

মধুসূদন।

 

( স্বগত) আঃ, বাঁচা গেল।

 

 

 

কালাচাঁদ।

 

বাঁচা গেল মশায়! এ ছেলেকে পড়ানো মজুরের কর্ম, কেবলমাত্র ম্যানুয়েল লেবার। ত্রিশ দিন একটা ছেলেকে কুপিয়ে আমি পাঁচটি মাত্র টাকা পাই, সেই মেহনতে মাটি কোপাতে পারলে দিনে দশটা টাকাও হয়।

 

 

 

শ্রাবণ ১২৯২

***

The Student’s Test

 

 

Student: Master Madhusudan
Tutor: Kalachand Master.
Madhu’s guardian’s enters.

 

Guardian: How is Madhusudan doing, Kalachand babu?

Kalachand: Even though he is extremely naughty, he is very strong academically. I never have to repeat things. Once I have gone over a topic with him he never forgets it.

Guardian: Really? Well. I will test him with some questions today.

Kalachand: Yes, please go ahead by all means.

Madhusudan (to himself): You gave me such a thrashing yesterday that my back is still aching. I will take revenge today. I will get rid of you!

Guardian: So, Modho, do you remember all your old lessons?

Madhusudan: I remember everything that the teacher said.

Guardian: So, tell me what a plant is.

Madhusudan: Things that appear out of the ground.

Guardian: And an example of that would be…

Madhusudan: An earthworm.

Kalachand (fiercely): What did you say?

Guardian: Wait now, do not say anything.

To Madhu: You have studied the poetry primer: tell me please, what draws our attention in the garden?

Madhusudan: Thorns

(The cane in Kalachand’s grasp comes down angrily)

Madhusudan: Why are you hitting me? Am I lying?

Guardian: What destroyed Sirajuddaulah? What does history tell us?

Madhusudan: Termites

(The cane swishes again)

Pardon me, but I am getting beaten for no reason – why just Sirajuddaulah, the whole history book has been ruined by termites. Here, have a look.

(The book is brought out, Kalachand scratches his head)

Guardian: Do you remember your grammar lessons?

Madhusudan: Yes

Guardian: Explain what first person means with an example.

Madhusudan: That would be Joy Munshi from down the street.

Guardian: Why is that?

Madhusudan: Because he is always talking about himself.

Kalachand (angrily): Your foot!

(Hitting Madhu on the back with his cane)

Madhusudan (startled): That is not my foot, that is my back.

Guardian: What is a portmanteau word?

Madhusudan: I do not know.

Kalachand shakes the cane at him.

Madhusudan: I know that! It is a dangling participle.

 

His guardian smiles while Kalachand frowns.

Guardian: Have you had lessons in mathematics?
Madhusudan: Yes.

Guardian: You are given six and half sweets and told that you can eat as many as you can in five minutes and give the rest to your younger brother. You take two minutes to eat one sweet, how many then will you give him?

Madhusudan: None!

Kalachand: How did you arrive at that answer?

Madhusudan: I would eat them all. I would not be giving any away.

Guardian: Now, if a tree grows a quarter of an inch every day then how tall will a tree be in a year if it was ten inches tall on the first day of that year?

Madhusudan: I could not tell you what the final height would be if the tree was bent. But if it grew straight then one needs to measure its height to find out the answer: and if it dried up in that time, then the question does not arise at all.

Kalachand: The only way you will apply yourself is with a beating! Scoundrel, you will learn once I have beaten you black and blue!

Madhusudan: Even upright things can become bent through punishment.

Guardian: That is where you have made a mistake. Little can be achieved through corporal punishment. As the saying goes, a donkey cannot be beaten into becoming a horse but a horse may be broken down and made to follow orders. Most boys have the ability to learn, but most teachers cannot teach. The student gets beaten into submission. You may take your cane and go, let his body recover a bit. After that I will tutor him.

Madhusudan to himself: Freedom at last.

Kalachand: Thank God for that! Teaching this boy is hard work, pure manual labour. I get so little from teaching a boy for thirty days, I could make double that in a day if I dug earth for a living.

 

Shravan 1292/ AD 1885

Advertisements

ময়ূরের দৃষ্টি/ Mayurer Drishti/ Through the Eyes of a Peacock

ময়ূরের দৃষ্টি     

 

দক্ষিণায়নের সূর্যোদয় আড়াল ক’রে

সকালে বসি চাতালে।

অনুকূল অবকাশ;

তখনো নিরেট হয়ে ওঠে নি কাজের দাবি,

ঝুঁকে পড়ে নি লোকের ভিড়

পায়ে পায়ে সময় দলিত করে দিয়ে।

লিখতে বসি,

কাটা খেজুরের গুঁড়ির মতো

ছুটির সকাল কলমের ডগায় চুঁইয়ে দেয় কিছু রস।

 

আমাদের ময়ূর এসে পুচ্ছ নামিয়ে বসে

পাশের রেলিংটির উপর।

আমার এই আশ্রয় তার কাছে নিরাপদ,

এখানে আসে না তার বেদরদী শাসনকর্তা বাঁধন হাতে।

বাইরে ডালে ডালে কাঁচা আম পড়েছে ঝুলে,

নেবু ধরেছে নেবুর গাছে,

একটা একলা কুড়চিগাছ

আপনি আশ্চর্য আপন ফুলের বাড়াবাড়িতে।

প্রাণের নিরর্থক চাঞ্চল্যে

ময়ূরটি ঘাড় বাঁকায় এদিকে ওদিকে।

তার উদাসীন দৃষ্টি

কিছুমাত্র খেয়াল করে না আমার খাতা-লেখায়;

করত, যদি অক্ষরগুলো হত পোকা;

তা হলে নগণ্য মনে করত না কবিকে।

হাসি পেল ওর ওই গম্ভীর উপেক্ষায়,

ওরই দৃষ্টি দিয়ে দেখলুম আমার এই রচনা।

দেখলুম, ময়ূরের চোখের ঔদাসীন্য

সমস্ত নীল আকাশে,

কাঁচা-আম-ঝোলা গাছের পাতায় পাতায়,

তেঁতুলগাছের গুঞ্জনমুখর মৌচাকে।

ভাবলুম, মাহেন্দজারোতে

এইরকম চৈত্রশেষের অকেজো সকালে

কবি লিখেছিল কবিতা,

বিশ্বপ্রকৃতি তার কোনোই হিসাব রাখে নি।

কিন্তু, ময়ূর আজও আছে প্রাণের দেনাপাওনায়,

কাঁচা আম ঝুলে পড়েছে ডালে।

নীল আকাশ থেকে শুরু করে সবুজ পৃথিবী পর্যন্ত

কোথাও ওদের দাম যাবে না কমে।

আর, মাহেন্দজারোর কবিকে গ্রাহ্যই করলে না।

পথের ধারের তৃণ, আঁধার রাত্রের জোনাকি।

 

নিরবধি কাল আর বিপুলা পৃথিবীতে

মেলে দিলাম চেতনাকে,

টেনে নিলেম প্রকৃতির ধ্যান থেকে বৃহৎ বৈরাগ্য

আপন মনে;

খাতার অক্ষরগুলোকে দেখলুম

মহাকালের দেয়ালিতে

পোকার ঝাঁকের মতো।

ভাবলুম, আজ যদি ছিঁড়ে ফেলি পাতাগুলো

তা হলে পর্শুদিনের অস্ত্যসৎকার এগিয়ে রাখব মাত্র।

 

এমন সময় আওয়াজ এল কানে,

“দাদামশায়, কিছু লিখেছ না কি।”

ওই এসেছে–ময়ূর না,

ঘরে যার নাম সুনয়নী,

আমি যাকে ডাকি শুনায়নী ব’লে।

ওকে আমার কবিতা শোনাবার দাবি সকলের আগে।

আমি বললেম, “সুরসিকে, খুশি হবে না,

এ গদ্যকাব্য।”

কপালে ভ্রূকুঞ্চনের ঢেউ খেলিয়ে

বললে, “আচ্ছা, তাই সই।”

সঙ্গে একটু স্তুতিবাক্য দিলে মিলিয়ে;

বললে, “তোমার কণ্ঠস্বরে,

গদ্যে রঙ ধরে পদ্যের।”

ব’লে গলা ধরলে জড়িয়ে।

আমি বললেম, “কবিত্বের রঙ লাগিয়ে নিচ্ছ

কবিকণ্ঠ থেকে তোমার বাহুতে?”

সে বললে, “অকবির মতো হল তোমার কথাটা;

কবিত্বের স্পর্শ লাগিয়ে দিলেম তোমারই কণ্ঠে,

হয়তো জাগিয়ে দিলেম গান।”

 

শুনলুম নীরবে, খুশি হলুম নিরুত্তরে।

মনে-মনে বললুম, প্রকৃতির ঔদাসীন্য অচল রয়েছে

অসংখ্য বর্ষকালের চূড়ায়,

তারই উপরে একবারমাত্র পা ফেলে চলে যাবে

আমার শুনায়নী,

ভোরবেলার শুকতারা।

সেই ক্ষণিকের কাছে হার মানবে বিরাটকালের বৈরাগ্য।

 

মাহেন্দজারোর কবি, তোমার সন্ধ্যাতারা

অস্তাচল পেরিয়ে

আজ উঠেছে আমার জীবনের

উদয়াচলশিখরে।

 

 

? শান্তিনিকেতন, এপ্রিল ১৯৩৯

***

THROUGH THE EYES OF A PEACOCK

 

I hide from the sunrise in summer

 

And sit on the terrace each morning.

 

A convenient leisure;

 

The demands of the day are not quite insistent yet,

 

People do not come crowding close

 

Crushing the hours underfoot.

 

I sit down to write,

 

Like the cut trunk of a date palm

 

A little sweetness from the restful morning drips from my pen.

 

 

 

Our peacock comes to rest its plumage

 

Upon the railing beside me.

 

This proximity of ours makes it feel safe,

 

Its humourless minder will not venture here, cage in hand.

 

Outside the branches drip with green mangoes,

 

Lemons hang upon the lemon tree’s boughs,

 

And a solitary ervatamia

 

Astonishes itself in an exuberance of flowering.

 

Alerted by nothing more than life itself

 

The peacock looks, first this way then that.

 

Its idle wandering eye

 

Does not take note of my scribbling;

 

It would, had the letters been insects crawling across the page;

 

Then it would not have spurned the poet so.

 

A smile rises at such studied neglect,

 

And I begin to see my work through its eyes.

 

And I see, the same ambivalence

 

Across the blue skies,

 

In each leaf of the fruit festooned mango tree,

 

In the humming hive nestled in the tamarind tree.

 

And I find myself thinking, in Mohenjodaro too

 

On just such a slow morning at the close of a year

 

Poets wrote odes,

 

None of which remain today.

 

But the peacock still lives on in the ebb and flow of life,

 

Green mangoes hang from every branch.

 

From the blue skies to the verdant earth

 

There will be no lessening of their value to us.

 

Yet the poet of Mohenjodaro was unheeded

 

Merely a blade of grass by the path, a firefly on a dark nights.

 

 

 

I open my eyes to the endless march of time and the vast world

 

Allowing my consciousness to absorb,

 

A great ambivalence from nature’s meditative silence

 

Into myself;

 

And the words on my pages appear

 

Like so many insects drawn

 

To the festival of lights in time

 

And I think to myself, if I should tear these pages up today

 

I am merely doing what will need to be done in the near future.

 

 

 

When I suddenly hear the words,

 

“Grandfather, have you written anything?”

 

There she is, no – not the peacock

 

The one who is called Sunayani at home,

 

The one I call Shunayoni, the one who must be heeded.

 

She demands each poem of mine before all the others.

 

I said, “Appreciative though you are, this will not please you,

 

This play of words.”

 

A frown plays across her brow

 

As she says, “So be it.”

 

Adding a few words aimed to appease;

 

She says, “ In your voice,

 

Even mere words take on a poetic hue.”

 

And she wrapped her arms about my neck.

 

I ask, “Are you drawing those colours

 

From my throat to your arm?”

 

She says, “That is what a non poet would say;

 

I merely touch your throat with beauty,

 

Hoping to awaken a song.”

 

 

 

I listen in silence, I am wordless with joy.

 

I tell myself, the ambivalence of nature sits

 

Across the peaks of countless years,

 

She merely has to step across them once

 

My Shunayoni,

 

My star of dawn.

 

That will be enough to defeat the austere meditation of time.

 

 

 

Ancient poet of Mohenjodaro, your evening star

 

Has travelled across setting suns

 

To rise once again in my life

 

Upon the peaks of the waking sun.

 

 

 

SANTINIKETAN, April 1939

শেষ সপ্তক: তেতাল্লিশ (পঁচিশে বৈশাখ চলেছে)/Shesh Shoptok: Poem Forty Three ( Ponchishey Baishakh Cholecche)/The twenty fifth day of Baisakh

 

শ্রীমান অমিয়চন্দ্র চক্রবতী কল্যাণীয়েষু

পঁচিশে বৈশাখ চলেছে

 

জন্মদিনের ধারাকে বহন করে

 

মৃত্যুদিনের দিকে।

 

সেই চলতি আসনের উপর বসে

 

কোন্‌ কারিগর গাঁথছে

 

ছোটো ছোটো জন্মমৃত্যুর সীমানায়

 

নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা।

 

রথে চড়ে চলেছে কাল;

 

পদাতিক পথিক চলতে চলতে

 

পাত্র তুলে ধরে,

 

পায় কিছু পানীয়;–

 

পান সারা হলে

 

পিছিয়ে পড়ে অন্ধকারে;

 

চাকার তলায়

 

ভাঙা পাত্র ধুলায় যায় গুঁড়িয়ে।

 

তার পিছনে পিছনে

 

নতুন পাত্র নিয়ে যে আসে ছুটে,

 

পায় নতুন রস,

 

একই তার নাম,

 

কিন্তু সে বুঝি আর-একজন।

 

একদিন ছিলেম বালক।

 

কয়েকটি জন্মদিনের ছাঁদের মধ্যে

 

সেই যে-লোকটার মূর্তি হয়েছিল গড়া

 

তোমরা তাকে কেউ জান না।

 

সে সত্য ছিল যাদের জানার মধ্যে

 

কেউ নেই তারা।

 

সেই বালক না আছে আপন স্বরূপে

 

না আছে কারো স্মৃতিতে।

 

সে গেছে চলে তার ছোটো সংসারটাকে নিয়ে;

 

তার সেদিনকার কান্না-হাসির

 

প্রতিধ্বনি আসে না কোনো হাওয়ায়।

 

তার ভাঙা খেলনার টুকরোগুলোও

 

দেখিনে ধুলোর ‘পরে।

 

সেদিন জীবনের ছোটো গবাক্ষের কাছে

 

সে বসে থাকত বাইরের দিকে চেয়ে।

 

তার বিশ্ব ছিল

 

সেইটুকু ফাঁকের বেষ্টনীর মধ্যে।

 

তার অবোধ চোখ-মেলে চাওয়া

 

ঠেকে যেত বাগানের পাঁচিলটাতে

 

সারি সারি নারকেল গাছে।

 

সন্ধ্যেবেলাটা রূপকথার রসে নিবিড়;

 

বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝখানে

 

বেড়া ছিল না উঁচু,

 

মনটা এদিক থেকে ওদিকে

 

ডিঙিয়ে যেত অনায়াসেই।

 

প্রদোষের আলো-আঁধারে

 

বস্তুর সঙ্গে ছায়াগুলো ছিল জড়িয়ে,

 

দুইই ছিল একগোত্রের।

 

সে-কয়দিনের জন্মদিন

 

একটা দ্বীপ,

 

কিছুকাল ছিল আলোতে,

 

কাল-সমুদ্রের তলায় গেছে ডুবে।

 

ভাঁটার সময় কখনো কখনো

 

দেখা যায় তার পাহাড়ের চূড়া,

 

দেখা যায় প্রবালের রক্তিম তটরেখা।

 

পঁচিশে বৈশাখ তার পরে দেখা দিল

 

আর-এক কালান্তরে,

 

ফাল্গুনের প্রত্যুষে

 

রঙিন আভার অস্পষ্টতায়।

 

তরুণ যৌবনের বাউল

 

সুর বেঁধে নিল আপন একতারাতে,

 

ডেকে বেড়াল

 

নিরুদ্দেশ মনের মানুষকে

 

অনির্দেশ্য বেদনার খ্যাপা সুরে।

 

সেই শুনে কোনো-কোনোদিন বা

 

বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মীর আসন টলেছিল,

 

তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন

 

তাঁর কোনো কোনো দূতীকে

 

পলাশবনের রঙমাতাল ছায়াপথে

 

কাজ-ভোলানো সকাল-বিকালে।

 

তখন কানে কানে মৃদু গলায় তাদের কথা শুনেছি,

 

কিছু বুঝেছি, কিছু বুঝিনি।

 

দেখেছি কালো চোখের পক্ষ্ণরেখায়

 

জলের আভাস;

 

দেখেছি কম্পিত অধরে নিমীলিত বাণীর

 

বেদনা;

 

শুনেছি ক্বণিত কঙ্কণে

 

চঞ্চল আগ্রহের চকিত ঝংকার।

 

তারা রেখে গেছে আমার অজানিতে

 

পঁচিশে বৈশাখের

 

প্রথম ঘুমভাঙা প্রভাতে

 

নতুন ফোটা বেলফুলের মালা;

 

ভোরের স্বপ্ন

 

তারি গন্ধে ছিল বিহ্বল।

 

সেদিনকার জন্মদিনের কিশোর জগৎ

 

ছিল রূপকথার পাড়ার গায়ে-গায়েই,

 

জানা না-জানার সংশয়ে।

 

সেখানে রাজকন্যা আপন এলোচুলের আবরণে

 

কখনো বা ছিল ঘুমিয়ে,

 

কখনো বা জেগেছিল চমকে উঠে’

 

সোনার কাঠির পরশ লেগে।

 

দিন গেল।

 

সেই বসন্তীরঙের পঁচিশে বৈশাখের

 

রঙ-করা প্রাচীরগুলো

 

পড়ল ভেঙে।

 

যে পথে বকুলবনের পাতার দোলনে

 

ছায়ায় লাগত কাঁপন,

 

হাওয়ায় জাগত মর্মর,

 

বিরহী কোকিলের

 

কুহুরবের মিনতিতে

 

আতুর হত মধ্যাহ্ন,

 

মৌমাছির ডানায় লাগত গুঞ্জন

 

ফুলগন্ধের অদৃশ্য ইশারা বেয়ে,

 

সেই তৃণ-বিছানো বীথিকা

 

পৌঁছল এসে পাথরে-বাঁধানো রাজপথে।

 

সেদিনকার কিশোরক

 

সুর সেধেছিল যে-একতারায়

 

একে একে তাতে চড়িয়ে দিল

 

তারের পর নতুন তার।

 

সেদিন পঁচিশে বৈশাখ

 

আমাকে আনল ডেকে

 

বন্ধুর পথ দিয়ে

 

তরঙ্গমন্দ্রিত জনসমুদ্রতীরে।

 

বেলা-অবেলায়

 

ধ্বনিতে ধ্বনিতে গেঁথে

 

জাল ফেলেছি মাঝদরিয়ায়;

 

কোনো মন দিয়েছে ধরা,

 

ছিন্ন জালের ভিতর থেকে

 

কেউ বা গেছে পালিয়ে।

 

কখনো দিন এসেছে ম্লান হয়ে,

 

সাধনায় এসেছে নৈরাশ্য,

 

গ্লানিভারে নত হয়েছে মন।

 

এমন সময়ে অবসাদের অপরাহ্নে

 

অপ্রত্যাশিত পথে এসেছে

 

অমরাবতীর মর্ত্যপ্রতিমা;

 

সেবাকে তারা সুন্দর করে,

 

তপঃক্লান্তের জন্যে তারা

 

আনে সুধার পাত্র;

 

ভয়কে তারা অপমানিত করে

 

উল্লোল হাস্যের কলোচ্ছ্বাসে;

 

তারা জাগিয়ে তোলে দুঃসাহসের শিখা

 

ভস্মে-ঢাকা অঙ্গারের থেকে;

 

তারা আকাশবাণীকে ডেকে আনে

 

প্রকাশের তপস্যায়।

 

তারা আমার নিবে-আসা দীপে

 

জ্বালিয়ে গেছে শিখা,

 

শিথিল-হওয়া তারে

 

বেঁধে দিয়েছে সুর,

 

পঁচিশে বৈশাখকে

 

বরণমাল্য পরিয়েছে

 

আপন হাতে গেঁথে।

 

তাদের পরশমণির ছোঁওয়া

 

আজো আছে

 

আমার গানে আমার বাণীতে।

 

সেদিন জীবনের রণক্ষেত্রে

 

দিকে দিকে জেগে উঠল সংগ্রামের সংঘাত

 

গুরু গুরু মেঘমন্দ্রে।

 

একতারা ফেলে দিয়ে

 

কখনো বা নিতে হল ভেরী।

 

খর মধ্যাহ্নের তাপে

 

ছুটতে হল

 

জয়পরাজয়ের আবর্তনের মধ্যে।

 

পায়ে বিঁধেছে কাঁটা,

 

ক্ষত বক্ষে পড়েছে রক্তধারা।

 

নির্মম কঠোরতা মেরেছে ঢেউ

 

আমার নৌকার ডাইনে বাঁয়ে,

 

জীবনের পণ্য চেয়েছে ডুবিয়ে দিতে

 

নিন্দার তলায়, পঙ্কের মধ্যে।

 

বিদ্বেষে অনুরাগে

 

ঈর্ষায় মৈত্রীতে,

 

সংগীতে পরুষ কোলাহলে

 

আলোড়িত তপ্ত বাষ্পনিঃশ্বাসের মধ্য দিয়ে

 

আমার জগৎ গিয়েছে তার কক্ষপথে।

 

এই দুর্গমে, এই বিরোধ-সংক্ষোভের মধ্যে

 

পঁচিশে বৈশাখের প্রৌঢ় প্রহরে

 

তোমরা এসেছ আমার কাছে।

 

জেনেছ কি,

 

আমার প্রকাশে

 

অনেক আছে অসমাপ্ত

 

অনেক ছিন্ন বিচ্ছিন্ন

 

অনেক উপেক্ষিত?

 

অন্তরে বাহিরে

 

সেই ভালো মন্দ,

 

স্পষ্ট অস্পষ্ট,

 

খ্যাত অখ্যাত,

 

ব্যর্থ চরিতার্থের জটিল সম্মিশ্রণের মধ্য থেকে

 

যে আমার মূর্তি

 

তোমাদের শ্রদ্ধায়, তোমাদের ভালোবাসায়,

 

তোমাদের ক্ষমায়

 

আজ প্রতিফলিত,

 

আজ যার সামনে এনেছ তোমাদের মালা,

 

তাকেই আমার পঁচিশে বৈশাখের

 

শেষবেলাকার পরিচয় বলে

 

নিলেম স্বীকার করে,

 

আর রেখে গেলেম তোমাদের জন্যে

 

আমার আশীর্বাদ।

 

যাবার সময় এই মানসী মূর্তি

 

রইল তোমাদের চিত্তে,

 

কালের হাতে রইল বলে

 

করব না অহংকার।

 

তার পরে দাও আমাকে ছুটি

 

জীবনের কালো-সাদা সূত্রে গাঁথা

 

সকল পরিচয়ের অন্তরালে;

 

নির্জন নামহীন নিভৃতে;

 

নানা সুরের নানা তারের যন্ত্রে

 

সুর মিলিয়ে নিতে দাও

এক চরম সংগীতের গভীরতায়।

****

To Sriman Amiya Chandra Chakravarty

 

The twenty fifth day of Baisakh

Carries with it a stream of birthdays

Towards the finality of death.

Seated on that moving throne

Who is the craftsman that strings

A hundred inconsequential lives and little deaths,

A strand of all the different expressions of me.

Time moves along like a chariot;

We are but travellers who walk along

Raising their bowl in supplication,

Receiving a little reward;

Once that is gone

We are slowly lost in the darkness;

While the wheels crush underfoot

The broken bowl to dust.

The one who follows

Raising arms in hope,

The one who receives new reward,

They carry the same name,

But verily they are not the same.

Once I was a boy.

A few birthdays together helped to form

A certain me.

But not one of you know that boy.

Those whose consciousness made his life a reality

None of them live to speak.

That boy lives neither in physical form

Nor in anyone’s memory.

He has gone taking all trace of his existence

The tears he shed and his laughter both

Invite no echoes on the wind

I do not even see his broken toys

Upon the dust today.

And yet once he too sat at life’s window

Looking outward

At the world that was his

Held within that little encompass

His innocent wide eyed gaze

Would find itself bound by the garden’s boundary walls

Trapped by row upon row of coconut palms

His evenings were rich with the mystery of fables

Suspended between trust and disbelief

In his eyes both very nearly the same,

His mind would journey from one to the other

With supple ease.

Like evenings touched by darkness and light

Shadows clung to reality,

There was little to separate the two.

Those birthdays

Together an island,

Once lit by beams,

Now lost beneath an ocean of time.

Sometimes when the waves pull back

Its peaks yield themselves to view,

Encircled by blushing coral shores.

Then the twenty fifth of Baishakh appears

Another turn of the wheels of time,

At the dawn of Phalgun

Through a shimmering haze.

The minstrel of youth

Tuned his strings to his own song

And called out

To the wanderer’s heart

His voice plaintive with the maddening lilt of unspoken sorrow

Some days it must even have reached

The gods sitting high above and shook their seats,

And they sent

One of their maidens

To walk the hidden paths under the intoxicating shade of Palas boughs

Setting aside all thought of work for those hours

It was then that I used to hear them softly whisper in my ear,

I understood some of what they said, some of the words were beyond my ken.

I have seen dark luminous eyes glisten

With the threat of held back tears

I have seen the pain of unsaid words pause on trembling lips;

I have heard the tinkling of anklets

Raised suddenly in eager response.

They have left without my knowledge

On the first hour of dawn

On the twenty fifth of Baishakh

A garland of freshly opened jasmine buds;

My dreams at that hour

Were stirred by that perfume.

The youthful realization of that birthday

Was neighbour to the fantasy of fairy tales

United by uncertainty over truth and illusion.

There a princess lay clothed in open tresses

Now asleep;

Now suddenly awake

At the touch of a golden wand.

The day passed.

Its spring tinted hours fading,

Its colourful walls

Crashing down.

The paths where light and shadow had once danced

Shimmering under trembling mimosa leaves

Raising a murmur in the winds,

Where a lonely cuckoo

Called incessantly

Filling the midday with its yearning song,

Bee wings hummed

Heeding the unseen messages of floral perfume,

Then that grassy bower was no more

Became a thoroughfare of stone

The youth who

Had once tuned his strings

Now began to string them anew

Note upon note and wire upon wire.

The twenty fifth of Baishakh

Called to me

Along thoroughfares roughened with wear

To face the clamour of a great sea of people.

And I spent hour upon hour

Weaving sounds together

A web to cast over the waves;

Some minds yielded to me,

Some escaped through the rents

Returning to whence they had come from.

Sometimes as the day faded,

Despair grew entwined with my efforts,

And sadness burdened my heart.

When as evening drew down upon my weariness

Along unexpected avenues there arrived

Celestial beings drawn from this earth;

They bring beauty to their administrations

And for the belaboured they bring

Ambrosia;

They drive doubt away

With peals of joyous laughter;

They help stoke the flames of adventure anew

From hidden embers;

And coax speech from the heavens

As reward for untiring effort.

They have lit my dying lamp

And brought it to life

They have brought music afresh

To my slackened bow,

They have greeted the twenty fifth of Baishakh

Garlanding it

With their own hands

Their magical touch

Still lingers

In my song and in the midst of my words.

And some days on the battle field that is life

The sounds of conflict rose in every direction

Deep like thunder among the clouds.

Some days I had to cast the lute aside

To take up the trumpet call to arms.

In the midday heat

I had to enter headfirst

Into a maelstrom of victory and defeat.

Thorns pierced my feet,

And my heart bled with pain.

Cruel waves struck

My craft from all sides,

The very business of life threatening

To drag me below calumny and vicious filth.

In hatred and love

In jealousy and amity,

In song and wicked cacophony

When each breath came as a gasp

As my existence journeyed on its path.

In the midst of this strife

As the twenty fifth of Baishakh grows grey

You have come to me

But do you realise

That within what you see

Much is incomplete

And so much has been lost

And ever more ruined by neglect?

Within and without

Good and evil,

Clarity and shadows,

Fame and ignorance,

From the complex marriage of failure and achievement

The form that you see

Through your respect and affection,

Through your forgiving eyes

That is a reflection of me.

The one to whom you bring your gifts,

I will accept that

As who I am on this twenty fifth day

As the one I am today,

And I will leave for you all

My blessings.

As I leave, may this image of mine wrought from the mind

Live on in your hearts,

I will not suffer false pride

That time will take pains to preserve it.

After that, allow me to leave

To retreat where life comes to rest,

Away from all pretence of fame;

Where solitude takes the place of name;

And all the music from every throat and string

Must be allowed to add their tune

To the depth of one final song.

Day one after my father’s passing away: দু:খ এ নয়, সুখ নহে গো /Dukkho e noy, shukh nawhe go/This is not sorrow, nor mere happiness

“দু:খ এ নয়, সুখ নহে গো– গভীর শান্তি এ যে
আমার সকল ছাড়িয়ে গিয়ে উঠল কোথায় বেজে।।
ছাড়িয়ে গৃহ, ছাড়িয়ে আরাম, ছাড়িয়ে আপনারে
সাথে করে নিল আমায় জন্মমরণপারে–
এল পথিক সেজে।।
চরণে তার নিখিল ভুবন নীরব গগনেতে
আলো-আঁধার আঁচলখানি আসন দিল পেতে।
এত কালের ভয় ভাবনা কোথায় যে যায় সরে,
ভালোমন্দ ভাঙাচোরা আলোয় ওঠে ভ’রে–
কালিমা যায় মেজে।”

This is not sorrow, nor mere happiness – but peace beyond measure
Overwhelming all, raising me into the infinite vastness
Leaving home behind and solace behind, leaving behind ego and self
Taking me to a realm beyond birth and death –
You who has wandered into my life.
At your feet the world gathers in the silent sky
To spread a cloak of darkness and light
Where did all the fear I had always felt disappear
Good, evil, broken and whole – flood with light divine –
As all imperfection washes away from this life of mine.

শিবাজি-উৎসব /Shivaji Utsav/Celebrating Shivaji: An excerpt

শিবাজি-উৎসব

 

কোন্‌ দূর শতাব্দের কোন্‌-এক অখ্যাত দিবসে

নাহি জানি আজি

মারাঠার কোন্‌ শৈলে অরণ্যের অন্ধকারে ব’সে,

হে রাজা শিবাজি,

তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তড়িৎপ্রভাবৎ

এসেছিল নামি–

“একধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত

বেঁধে দিব আমি।’

 

সেদিন এ বঙ্গদেশ উচ্চকিত জাগে নি স্বপনে,

পায় নি সংবাদ–

বাহিরে আসে নি ছুটে, উঠে নাই তাহার প্রাঙ্গণে

শুভ শঙ্খনাদ–

শান্তমুখে বিছাইয়া আপনার কোমলনির্মল

শ্যামল উত্তরী

তন্দ্রাতুর সন্ধ্যাকালে শত পল্লিসন্তানের দল

ছিল বক্ষে করি।

 

তার পরে একদিন মারাঠার প্রান্তর হইতে

তব বজ্রশিখা

আঁকি দিল দিগ্‌দিগন্তে যুগান্তের বিদ্যুদ্‌বহ্নিতে

মহামন্ত্রলিখা।

মোগল-উষ্ণীষশীর্ষ প্রস্ফুরিল প্রলয়প্রদোষে

পক্কপত্র যথা–

সেদিনও শোনে নি বঙ্গ মারাঠার সে বজ্রনির্ঘোষে

কী ছিল বারতা।

 

তার পরে শূন্য হল ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ নিবিড় নিশীথে

দিল্লিরাজশালা–

একে একে কক্ষে কক্ষে অন্ধকারে লাগিল মিশিতে

দীপালোকমালা।

শবলুব্ধ গৃধ্রদের ঊর্ধ্বস্বর বীভৎস চীৎকারে

মোগলমহিমা

রচিল শ্মশানশয্যা–মুষ্টিমেয় ভস্মরেখাকারে

হল তার সীমা।

 

সেদিন এ বঙ্গপ্রান্তে পণ্যবিপণীর এক ধারে

নিঃশব্দচরণ

আনিল বণিকলক্ষ্মী সুরঙ্গপথের অন্ধকারে

রাজসিংহাসন।

বঙ্গ তারে আপনার গঙ্গোদকে অভিষিক্ত করি

নিল চুপে চুপে–

বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী

রাজদণ্ডরূপে।

 

সেদিন কোথায় তুমি হে ভাবুক, হে বীর মারাঠি,

কোথা তব নাম!

গৈরিক পতাকা তব কোথায় ধুলায় হল মাটি–

তুচ্ছ পরিণাম!

বিদেশীর ইতিবৃত্ত দস্যু বলি করে পরিহাস

অট্টহাস্যরবে–

তব পুণ্য চেষ্টা যত তস্করের নিষ্ফল প্রয়াস,

এই জানে সবে।

 

অয়ি ইতিবৃত্তকথা, ক্ষান্ত করো মুখর ভাষণ।

ওগো মিথ্যাময়ী,

তোমার লিখন-‘পরে বিধাতার অব্যর্থ লিখন

হবে আজি জয়ী।

যাহা মরিবার নহে তাহারে কেমনে চাপা দিবে

তব ব্যঙ্গবাণী?

যে তপস্যা সত্য তারে কেহ বাধা দিবে না ত্রিদিবে

নিশ্চয় সে জানি।

 

হে রাজতপস্বী বীর, তোমার সে উদার ভাবনা

বিধির ভাণ্ডারে

সঞ্চিত হইয়া গেছে, কাল কভু তার এক কণা

পারে হরিবারে?

তোমার সে প্রাণোৎসর্গ, স্বদেশলক্ষ্মীর পূজাঘরে

সে সত্যসাধন,

কে জানিত, হয়ে গেছে চিরযুগযুগান্তর-তরে

ভারতের ধন।

 

অখ্যাত অজ্ঞাত রহি দীর্ঘকাল, হে রাজবৈরাগী,

গিরিদরীতলে

বর্ষার নির্ঝর যথা শৈল বিদারিয়া উঠে জাগি

পরিপূর্ণ বলে,

সেইমত বাহিরিলে– বিশ্বলোক ভাবিল বিস্ময়ে,

যাহার পতাকা

অম্বর আচ্ছন্ন করে, এতকাল এত ক্ষুদ্র হয়ে

কোথা ছিল ঢাকা।

***

Celebrating Shivaji

 

In what far away century on what unmarked day

I no longer know today

Upon what mountain peak, in darkened forests,

Oh King Shivaji,

Did this thought light up your brow as a touch of lightning

As it came to thee –

“The scattered parts of this land with one religion

‘ Shall I bind for eternity.”

 

Bengal did not stir that day in the midst of a dream,

It had not received the word –

It did not answer thy call, nor heralded it

With the blowing of the sacred conch –

Instead it spread its shielding veil

Its robes of verdant green

Over the slumbering village folk at night

Gathering them to her breast.

 

Then one day from the fields of Mahrattha

Your thunderous flame

Painted the horizons all about with flames of violent change

Imbued with a great clarion call.

The crown upon the Mughal’s brow was shaken by storm

As is a ripening leaf –

Even that day Bengal did not hear that thunderous Marattha call

Nor heed the message within.

 

After that in the midst of turbulent darkness

The palace of Delhi was emptied –

In each of their great halls ravenous night

Began engulfing the brilliance of light.

The corpse craving vultures cackled in hideous tones

As the glory of the Mughals

Finally succumbed to the pyre- in handfuls of ashes

Are their remains retained.

 

That day in this Bengal by the side of the traders route

Upon silent steps

The merchants secretly smuggled in perfidy

The throne that had once housed kings.

And Bengal anointed that very same seat with the water of its own Ganges

In secretive silence –

The weighing scales that had once measured profit refashioned through that dark night

Till at dawn a sceptre was held in the hands of a new king.

 

Where were you that day, Oh thoughtful brave Mahrattha,

Why did we not hear thy name!

Where lay your saffron flag crushed to dust –

What a terrible end!

The foreigner tells your story laughing you off as a bandit king

Roaring with mirth at your fall –

Your devoted effort now seen as a thief’s fruitless quest,

This is how they know you today.

 

Silence your garrulous words, false account

Thou art filled with lies,

Your writ shall be erased by the truth the Creator scribes

That alone shall prevail.

For how will the truth that is for immortality bound

Be disguised by the avarice of your tongue?

The prayers that are true will never be stalled

In the three worlds this I know to be true.

 

Oh brave royal penitent, the greatness of thought

That you have left for fate to treasure

Not one grain of that will

Be lost to the undeserving.

The sacrifice you made at the altar of the goddess who guards our land

The truth that you strove for relentless,

Who would have thought that it will grace till the end of days

The coffers of this land of ours.

 

For long did you remain unknown to the world, ascetic king of mine,

Among the peaks

Just as a stream breaks through the rocks to awaken with rain

In full spate,

You too emerged – to the surprise of the world who thought,

This pennant that

Hides the skies, what shape had it sought

Where was it secreted away for so long.

 

 

Swarnakumari Debi

Ruma Chakravarti

In the year 1876 the December chill in Calcutta was suddenly stirred by the appearance of an anonymous novel. Its title was ‘Deep Nirbaan’ or the Extinguishing of the Lamp. Its readers were amazed by the maturity of the unknown author. And when they found out that it was by an eighteen year old girl? Disbelief joined exclamation.

“It is being said that a lady of high birth has written this. This is glorious indeed. Not many women can be said to possess such education, such authorship, such empathy – not just in Bengal but in other lands as well,” reported the Sadharani periodical.

Swarnakumari

(Swarnakumari Debi)

A decade had hardly passed since the publication of ‘Durgeshnandini’ by Bankim Chatterjee, the first novel in Bengali. But was ‘Deep Nirbaan’ the first novel by a Bengali woman? Swarnakumari Tagore who wrote it was not even the first Bengali authoress. Before her had…

View original post 152 more words

2015 in review

 

Thanks to everyone who made time to see posts on this page. You made it possible for the blog to clock up 120,000 plus visits in 2015. You can read the rest of the cool statistics below:

The WordPress.com stats helper monkeys prepared a 2015 annual report for this blog.

Here’s an excerpt:

The Louvre Museum has 8.5 million visitors per year. This blog was viewed about 120,000 times in 2015. If it were an exhibit at the Louvre Museum, it would take about 5 days for that many people to see it.

Click here to see the complete report.