Archive | May 2012

মনে পড়ে, যেন এককালে লিখিতাম/Mone Porey Jeno Ek Kaale Likhitam/I remember, it seems I once wrote

নিমন্ত্রণ

মনে পড়ে, যেন এককালে লিখিতাম
চিঠিতে তোমারে প্রেয়সী অথবা প্রিয়ে।
একালের দিনে শুধু বুঝি লেখে নাম–
থাক্‌ সে কথায়, লিখি বিনা নাম দিয়ে।
তুমি দাবি কর কবিতা আমার কাছে
মিল মিলাইয়া দুরূহ ছন্দে লেখা,
আমার কাব্য তোমার দুয়ারে যাচে
নম্র চোখের কম্প্র কাজলরেখা।
সহজ ভাষায় কথাটা বলাই শ্রেয়–
যে-কোনো ছুতায় চলে এসো মোর ডাকে,
সময় ফুরালে আবার ফিরিয়া যেয়ো,
বোসো মুখোমুখি যদি অবসর থাকে।
গৌরবরন তোমার চরণমূলে
ফল্‌সাবরন শাড়িটি ঘেরিবে ভালো;
বসনপ্রান্ত সীমন্তে রেখো তুলে,
কপোলপ্রান্তে সরু পাড় ঘন কালো।

The Invitation

I remember, it seems I once wrote
Dearest or beloved, to you on a note.
I suppose, today they only write a name —
Let that be, nameless you remain the same.
You demand poetry from me and my pen
Words that rhyme in complex refrain
At your door my words seek so much less
A flutter of kohl-lined gentle eyes! Largesse!
It is perhaps best to keep my words simply designed
Answer my call at the slightest ruse you can find
When the time is over, return to your own space
But till then, let us linger face to face.
Your sari encircles your bare feet,
Its purple the colour of Phalsa berries so sweet;
Place it as a veil upon your hair so sleek
Its dark border glowing against your cheek.

Painting by Subhas Roy, ‘Radha’
Taken from the Tribune, Chandigarh.

Advertisements

বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী/ Basanti, Hey Bhubonomohini/ Spring, Beloved Of All The World

বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী,
দিকপ্রান্তে, বনবনান্তে,
শ্যাম প্রান্তরে, আম্রছায়ে,
সরোবরতীরে, নদীনীরে
নীল আকাশে, ময়লবাতাসে
ব্যাপিল অনন্ত তব মাধুরী॥
নগরে গ্রামে কাননে, দিনে নিশীথে,
পিকসঙ্গীতে, নৃত্যগীতকলনে বিশ্ব আনন্দিত।
ভবনে ভবনে বীণাতান রণ-রণ ঝঙ্কৃত।
মধুমদমোদিত হৃদয়ে হৃদয়ে রে
নবপ্রাণ উচ্ছ্বসিল আজি,
বিচলিত চিত উচ্ছলি উন্মাদনা
ঝন-ঝন ঝনিল মঞ্জীরে মঞ্জীরে॥

রাগ: বসন্ত-পঞ্চম (দক্ষিণী)
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1337
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1931
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন

Basanti, hey bhubonmohini
Dikopraantey, bonobonantey,
Shyamo prantorey, amrochchaye,
Saroboroteerey, nodineerey,
Neelo akaashey, moloyobataashey,
Byapilo anonto tobo madhuri.
Nogorey, gramey, kanoney, diney, nishithey
Pikoshongeetey, nrityogeetokolone, bishwo anondito.
Bhoboney bhoboney beenataan rono-rono jhonnkrito.
Modhumodomodito hridoye hridoye re
Nobopraano uchchoshilo aaji,
Bicholito Chito uchcholi unmadona
Jhono jhono jhonilo monjirey monjirey.

Salute Spring, Most Beloved Season

Great season of spring, you are beloved of this world
In all directions, in forest and in glade
In the green expanse of the field, as well as in the mango leafed shade,
The banks of lakes, and in the currents of rivers,
In azure skies and in the pure gentle breezes,
All the world is immersed in your delightful sweetness.
Across town, hamlet and garden, in the bright day and by starlit night
In the song of birds, with dance and music the world rejoices.
People celebrate in their dwellings with the rich tones of the beena.
Sweetly intoxicated are the hearts and souls of all
New life springs forth in your praise,
The heart sings out in happy confusion, senses drunk with your beauty
The rhythm of life that you awaken resonates through all nature.

Raga: Basant-Pancham(Carnatic)
Beat: Kaharba*
Bengali: 1337
A.D: 1931
Written in Santiniketan

Follow the links to listen to the inspiration Meenakshi Me Mudam as well as Rabindranath Tagore’s composition:

Sabitri Krishnan, who inspired Tagore’s composition speaks about the experience: http://youtu.be/ljHHgRcz6jg

Swagatalakshmi Dasgupta: http://youtu.be/tSXpI1RNZdA

Ritu Guha: http://youtu.be/yVZpQzVt8_U

Maya Sen: http://youtu.be/y1HA62gFpd4

* The theka for Kaharba is in 8 beats divided into 4 + 4.

Dha Ge Na Ti, Na Ke Tu Na.

On the death of Sukumar Ray

”মানুষ যখন সাংঘাতিক রোগে পীড়িত, তখন মৃত্যুর সঙ্গে তার প্রাণশক্তির সংগ্রামটাই সকলের চেয়ে প্রাধান্যলাভ করে। মানুষের প্রাণ যখন সংকটাপন্ন তখন সে যে প্রাণী এই কথাটাই সকলের চেয়ে বড়ো হয়ে ওঠে। কিন্তু অন্যান্য জীবের মতোই আমরা যে কেবলমাত্র প্রাণী মানুষের এই পরিচয় তো সম্পূর্ণ নয়। যে প্রাণশক্তি জন্মের ঘাট থেকে মৃত্যুর ঘাটে আমাদের পৌঁছিয়ে দেয় আমরা তার চেয়ে বড়ো পাথেয় নিয়ে জন্মেছি। সেই পাথেয় মৃত্যুকে অতিক্রম করে আমাদের অমৃতলোকে উত্তীর্ণ করে দেবার জন্যে। যারা কেবল প্রাণীমাত্র মৃত্যু তাদের পক্ষে একান্ত মৃত্যু। কিন্তু মানুষের জীবনে মৃত্যুই শেষ কথা নয়। জীবনের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে এই কথাটি আমরা ভুলে যাই। সেইজন্যে সংসারে জীবনযাত্রার ব্যাপারে ভয়ে, লোভে, ক্ষোভে পদে পদে আমরা দীনতা প্রকাশ করে থাকি। সেই আত্মবিস্মৃতির অন্ধকারে আমাদের প্রাণের দাবি উগ্র হয়ে ওঠে, আত্মার প্রকাশ ম্লান হয়ে যায়। জীবলোকের ঊর্দ্ধে অধ্যাত্মলোক আছে যে-কোনো মানুষ এই কথাটি নিঃসংশয় বিশ্বাসের দ্বারা নিজের জীবনে সুস্পষ্ট করে তোলেন অমৃতধামের তীর্থযাত্রায় তিনি আমাদের নেতা।

আমার পরম স্নেহভাজন যুবকবন্ধু সুকুমার রায়ের রোগশয্যার পাশে এসে যখন বসেছি এই কথাই বার বার আমার মনে হয়েছে। আমি অনেক মৃত্যু দেখেছি কিন্তু এই অল্পবয়স্ক যুবকটির মতো, অল্পকালের আয়ুটিকে নিয়ে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে এমন নিষ্ঠার সঙ্গে অমৃতময় পুরুষকে অর্ঘ্যদান করতে প্রায় আর কাউকে দেখি নি। মৃত্যুর দ্বারের কাছে দাঁড়িয়ে অসীম জীবনের জয়গান তিনি গাইলেন। তাঁর রোগশয্যার পাশে বসে সেই গানের সুরটিতে আমার চিত্ত পূর্ণ হয়েছে।

আমাদের প্রাণের বাহন দেহ যখন দীর্ঘকাল অপটু হয়, শরীরের ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে যখন বিচিত্র দুঃখ দুর্বলতার সৃষ্টি করে, তখন অধিকাংশ মানুষ আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না, তার সংশয় উপস্থিত হয়। কিন্তু মনুষ্যত্বের সত্যকে যাঁরা জানেন তাঁরা এই কথা জানেন যে, জরামৃত্যু রোগশোক ক্ষতি অপমান সংসারে অপরিহার্য, তবু তার উপরেও মানবাত্মা জয়লাভ করতে পারে এইটেই হল বড়ো কথা। সেইটে প্রমাণ করবার জন্যেই মানুষ আছে; দুঃখ তাপ থেকে পালাবার জন্যে নয়। যে-শক্তির দ্বারা মানুষ ত্যাগ করে, দুঃখকে ক্ষতিকে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সেই শক্তিই তাকে বুঝিয়ে দেয় যে তার অস্তিত্বের সত্যটি সুখদুঃখবিক্ষুব্ধ আয়ুকালের ছোটো সীমানার মধ্যে বদ্ধ নয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

When a man is suffering from a grave illness, the struggle between death and their life force becomes most important. When a human life is in danger, the fact that he is a living organism is the one that comes to the fore. Yet to say that we are merely animals like other living entities is to leave our identity as humans incomplete. We are born with something much bigger than the life force that takes us from the shores of birth to those of death. This allows us to accept death and rise to eternal heights. For animals death is the final ending but for humans death is not the last word. We often forget this while we are alive. This makes us express our distress and helplessness over various aspects of living, such as fear, greed and grief. In those moments of forgetting ourselves, the demands placed by life grow strong; the expression of the self becomes dull. The person who makes their unwavering belief in the existence of a spiritual world beyond this mortal life clear, through the way they lead their lives, is the one to lead us in our pilgrimage towards salvation.

As I sit beside my beloved young friend Sukumar Ray’s sick bed, this thought has come to me again and again. I have seen death many times, but I have hardly ever seen anyone give up the ultimate sacrifice with such devotion to the Supreme Being, as this young man, as he faces death at the close of his short life. He has sung the song of endless life as he stands at death’s door. My soul is fulfilled with that song as I sit by his bed.

When the body that is the vehicle of our lives is disabled for a long time, when the various functions of the body are hampered resulting in pain and weakness, the majority of people cannot show their respect for the soul, they are assailed by a sense of doubt. But the ones who know the truth about life understand that old age, death, illness, loss, insult are all an essential part of life, but the victory of the soul is what is most important. That is why humans exist, not so that they can escape from sorrow or deprivation. The strength that allows us to undergo sacrifice, to scorn sorrow, loss and death, that very same strength proves that the truth of this mortal existence is not defined by happiness and sorrow.”

Rabindranath Tagore wrote this after the death of a young writer friend, Sukumar Ray. Ray was dying of Kalazaar. On this visit, he asked Rabindranath Tagore to sing two songs for him. One of these were,

“আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে” (Achche Dukho, Achche Mrityu, Birohodohono Laage) There is sorrow, there is death, the pain of separation like a burning flame

Follow the links to listen to this song:
Achche Dukkho, Achche Mrityu: http://www.youtube.com/watch?v=LOGKwPCYE1c

গান্ধারীর আবেদন/Gandharir Abedon/Gandhari’s Supplication

দুর্যোধনঃ

শুন নিবেদন
পিতৃদেব — এতকাল তব সিংহাসন
আমার নিন্দুকদল নিত্য ছিল ঘিরে ,
কণ্টকতরুর মতো নিষ্ঠুর প্রাচীরে
তোমার আমার মধ্যে রচি ব্যবধান —
শুনায়েছে পাণ্ডবের নিত্যগুণগান ,
আমাদের নিত্য নিন্দা — এইমতে , পিতঃ ,
পিতৃস্নেহ হতে মোরা চিরনির্বাসিত ।
এইমতে , পিতঃ , মোরা শিশুকাল হতে
হীনবল — উৎসমুখে পিতৃস্নেহস্রোতে
পাষাণের বাধা পড়ি মোরা পরিক্ষীণ
শীর্ণ নদ , নষ্টপ্রাণ , গতিশক্তিহীন ,
পদে পদে প্রতিহত ; পাণ্ডবেরা স্ফীত ,
অখণ্ড , অবাধগতি । অদ্য হতে পিতঃ ,
যদি সে নিন্দুকদলে নাহি কর দূর
সিংহাসনপার্শ্ব হতে , সঞ্জয় বিদুর
ভীষ্মপিতামহে , যদি তারা বিজ্ঞবেশে
হিতকথা ধর্মকথা সাধু-উপদেশে
নিন্দায় ধিক্কারে তর্কে নিমেষে নিমেষে
ছিন্ন ছিন্ন করি দেয় রাজকর্মডোর ,
ভারাক্রান্ত করি রাখে রাজদণ্ড মোর ,
পদে পদে দ্বিধা আনে রাজশক্তি-মাঝে ,
মুকুট মলিন করে অপমানে লাজে ,
তবে ক্ষমা দাও পিতৃদেব — নাহি কাজ
সিংহাসনকণ্টকশয়নে — মহারাজ ,
বিনিময় করে লই পাণ্ডবের সনে
রাজ্য দিয়ে বনবাস , যাই নির্বাসনে ।

ধৃতরাষ্ট্রঃ

হায় বৎস অভিমানী! পিতৃস্নেহ মোর
কিছু যদি হ্রাস হত শুনি সুকঠোর
সুহৃদের নিন্দাবাক্য , হইত কল্যাণ ।
অধর্মে দিয়েছি যোগ , হারায়েছি জ্ঞান ,
এত স্নেহ । করিতেছি সর্বনাশ তোর ,
এত স্নেহ । জ্বালাতেছি কালানল ঘোর
পুরাতন কুরুবংশ-মহারণ্যতলে —
তবু পুত্র , দোষ দিস স্নেহ নাই ব’লে ?
মণিলোভে কালসর্প করিলি কামনা ,
দিনু তোরে নিজহস্তে ধরি তার ফণা
অন্ধ আমি । — অন্ধ আমি অন্তরে বাহিরে
চিরদিন — তোরে লয়ে প্রলয়তিমিরে
চলিয়াছি — বন্ধুগণ হাহাকাররবে
করিছে নিষেধ , নিশাচর গৃধ্র-সবে
করিতেছে অশুভ চীৎকার , পদে পদে
সংকীর্ণ হতেছে পথ , আসন্ন বিপদে
কণ্টকিত কলেবর , তবু দৃঢ়করে
ভয়ংকর স্নেহে বক্ষে বাঁধি লয়ে তোরে
বায়ুবলে অন্ধবেগে বিনাশের গ্রাসে
ছুটিয়া চলেছি মূঢ় মত্ত অট্টহাসে
উল্কার আলোকে — শুধু তুমি আর আমি ,
আর সঙ্গী বজ্রহস্ত দীপ্ত অন্তর্যামী —
নাই সম্মুখের দৃষ্টি , নাই নিবারণ
পশ্চাতের , শুধু নিম্নে ঘোর আকর্ষণ
নিদারুণ নিপাতের । সহসা একদা
চকিতে চেতনা হবে , বিধাতার গদা
মুহূর্তে পড়িবে শিরে , আসিবে সময় —
ততক্ষণ পিতৃস্নেহে কোরো না সংশয় ,
আলিঙ্গন করো না শিথিল , ততক্ষণ
দ্রুত হস্তে লুটি লও সর্ব স্বার্থধন —
হও জয়ী , হও সুখী , হও তুমি রাজা
একেশ্বর । — ওরে , তোরা জয়বাদ্য বাজা ।
জয়ধ্বজা তোল্‌ শূন্যে । আজি জয়োৎসবে
ন্যায় ধর্ম বন্ধু ভ্রাতা কেহ নাহি রবে —
না রবে বিদুর ভীষ্ম , না রবে সঞ্জয় ,
নাহি রবে লোকনিন্দা লোকলজ্জা-ভয়
কুরুবংশরাজলক্ষ্মী নাহি রবে আর —
শুধু রবে অন্ধ পিতা , অন্ধ পুত্র তার ,
আর কালান্তক যম — শুধু পিতৃস্নেহ
আর বিধাতার শাপ , আর নহে কেহ ।

Duryodhana:

Listen to my plea
Father – for long has your throne
Been surrounded by my critics daily,
Like a wall of thorns creating
A barrier most cruel between you and me-
They have daily sung the praises of my enemy,
And our calumny – this is how
Father, we have been banished from your love forever
This is how, Father, from childhood
We have been rendered weak –the source
Of fatherly affection dammed, we became
The weaker tributary, lifeless, immobile
Prevented from achieving glory; the Pandavas growing,
Untrammeled, unrestrained. If hereafter,
Father, you do not banish the band of critics
That surrounds your throne, Sanjoy, Vidura
Grandfatherly Bhishma, if you allow
Them to continue, in the guise of wise, right advice
To daily condemn, correct and undermine
At every step the carriage of kingly duties,
And stay my scepter,
Interrupting at every chance kingly concourse,
And shame the crown,
Then forgive me father – I have no use for
This throne of thorns – Oh King,
Let me exchange my fate with the Pandavas
Give up my kingdom and go on exile instead.

Dhritarashtra:

Alas, conceited son! Were it that
My love for you had been less
As was advised most strongly by able friends
It would have been right.
I have joined the forces of evil, lost all sense
So much love! I am your ruination,
So much love! I have lit a deadly fire
That eats away at the ancient Kuru family tree
Still son, you rebuke me for not loving you enough?
You desired a deadly snake for the gem on its brow,
I caught that for you with these hands of mine
I am blind! I have been thus within and without
Forever – as we walk together into this deadly storm
Friends entreat me to stop, the unholy animals of the night
Screech their calls, at each step
The path grows ever constricted, approaching evil
Makes my skin crawl, still with unshaken hand
I gather you to my breast with terrible love
And speed blindly, into the gaping maw of disaster
Maddened by foolishness, laughing
Our path lit by the ill fated glow of comets.
Our only companion, our Fate
Thunderbolt in hand –
No foresight, no restraint behind
We are bound in a downward spin
To certain downfall. Suddenly will you
Realize, as the mighty hand of God falls
Do not doubt in your father’s love till then
Do not release this embrace chilling, till then
Steal every thing you desire
Be victorious, be at peace, be a king
Alone exalted. –hark, you all
Play the songs of Kuru victory, fly our pennants high
Today in this celebration of victory, we do not invite
Right, truth, brother, or friend, nay –
Not Vidura, not Bhishma, nor Sanjoy,
We will not hear condemnation or cries of shame from subjects
The guardian spirit of our dynasty neither –
The only two invited will be you and me,
A blind father and his son unseeing,
And Death – a father’s love
And the curse of God, no one else.

Image from: http://damecarcass.blogspot.com.au/2011/08/dice-game.html

রথযাত্রা /Ratha Yatra/The Coming Of The Chariot

রথযাত্রা

রথযাত্রার দিন কাছে।

তাই রানী রাজাকে বললে, ‘চলো, রথ দেখতে যাই।’

রাজা বললে, ‘আচ্ছা।’

ঘোড়াশাল থেকে ঘোড়া বেরোল, হাতিশাল থেকে হাতি। ময়ূরপংখি যায় সারে সারে, আর বল্লম হাতে সারে সারে সিপাইসান্ত্রি। দাসদাসী দলে দলে পিছে পিছে চলল।

কেবল বাকি রইল একজন। রাজবাড়ির ঝাঁটার কাঠি কুড়িয়ে আনা তার কাজ।

সর্দার এসে দয়া করে তাকে বললে, ‘ওরে, তুই যাবি তো আয়।’

সে হাত জোড় করে বললে, ‘আমার যাওয়া ঘটবে না।’

রাজার কানে কথা উঠল, সবাই সঙ্গে যায়, কেবল সেই দুঃখীটা যায় না।

রাজা দয়া করে মন্ত্রীকে বললে, ‘ওকেও ডেকে নিয়ো।’

রাস্তার ধারে তার বাড়ি। হাতি যখন সেইখানে পৌঁছল মন্ত্রী তাকে ডেকে বললে, ‘ওরে দুঃখী, ঠাকুর দেখবি চল্‌।’

সে হাত জোড় করে বলল, ‘কত চলব। ঠাকুরের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছই এমন সাধ্য কি আমার আছে।’

মন্ত্রী বললে, ‘ভয় কী রে তোর, রাজার সঙ্গে চলবি।’

সে বললে, ‘সর্বনাশ! রাজার পথ কি আমার পথ।’

মন্ত্রী বললে, ‘তবে তোর উপায়? তোর ভাগ্যে কি রথযাত্রা দেখা ঘটবে না।’

সে বললে, ‘ঘটবে বই কি। ঠাকুর তো রথে করেই আমার দুয়ারে আসেন।’

মন্ত্রী হেসে উঠল। বললে, ‘তোর দুয়ারে রথের চিহ্ন কই।’

দুঃখী বললে, ‘তাঁর রথের চিহ্ন পড়ে না।’

মন্ত্রী বললে, ‘কেন বল্‌ তো।’

দুঃখী বললে, ‘তিনি যে আসেন পুষ্পকরথে।’

মন্ত্রী বললে, ‘কই রে সেই রথ।’

দুঃখী দেখিয়ে দিলে, তার দুয়ারের দুই পাশে দুটি সূর্যমুখী ফুটে আছে।

লিপিকা,
১৯১৭-১৯১৯

Ratha Yatra/The Coming Of The Chariot

The day of the Chariot festival drew near.

The queen said to her king, “Let us go and see the Chariot”

The king said, “Alright”

The horses were summoned from the stables, the elephants from their pens. Peacock barges sailed in serried ranks; foot soldiers with spears at the ready. An army of servants brought the rear.

There was only one person left behind. Her job was to collect twigs to make the brooms used in the palace.

The leader came and said to them benevolently, “If you want, you can still go”

She put her hands together humbly and said, “I do not think I can”

The king heard the story of how every one was going except for one poor wretch.

He said to his minister magnanimously, “Let us also take her along”

She lived along the road. When the elephants got there, the minister said, “Come along wretch, let us go and look at the deity”

She clasped her hands together and said, “How far will I have to go? Do I have the ability to go up to the deity’s door?”

The minister said, “Fear not, you will go with the king”

She said, “For shame! Can the king’s path and mine be the same?”

The minister said, “What will happen then? Are you not fated to see the deity in his chariot?”

She said, “Of course it will happen! The deity himself rides to my door!”

The minister laughed and said, “Where are the ruts in the dust leading to your door?”

The wretch said, “His chariot does not leave marks”

The minister said, “Why is that?”

She said, “He comes in a chariot of flowers”

The minister said, “Where is that chariot?”

The woman pointed, there were two sunflower plants in bloom on either side of her door.

This is taken from Lipika which Tagore wrote between 1917 and 1919. He translated it himself into English.

To listen to the poem: http://youtu.be/NhFiLg2b9sE

image courtesy of

বড়ো বিস্ময় লাগে হেরি তোমারে/Such wonder fills me as I gaze upon you

বড়ো বিস্ময় লাগে হেরি তোমারে।
কোথা হতে এলে তুমি হৃদিমাঝারে॥
ওই মুখ ওই হাসি কেন এত ভালোবাসি,
কেন গো নীরবে ভাসি অশ্রুধারে॥
তোমারে হেরিয়া যেন জাগে স্মরণে
তুমি চিরপুরাতন চিরজীবনে।
তুমি না দাঁড়ালে আসি হৃদয়ে বাজে না বাঁশি–
যত আলো যত হাসি ডুবে আঁধারে॥

Baro bishshoy laage heri tomarey

Baro bishshoy laage heri tomarey.
Kotha hotey ele tumi hridimajharey.
Oi mukh oi hashi keno eto bhalobashi,
Keno go neerobe bhashi oshrudhaarey.
Tomare heriya keno jaage smorone
Tumi chiropuraton chirojeeboney
Tumi na danraley ashi hridoye baaje na banshi –
joto alo joto hashi dubey andharey


Such wonder fills me as I gaze upon you
Where did you come from into my heart?
Why do I adore that face, why do I treasure that smile,
Why do silent tears flood me.
As I look upon you, I remember
You are both new and old, eternally in my life.
Without you in my heart, my soul does not sing
All the light and all happiness unseen in impenetrable darkness.

Follow the link to listen to one of the finest voices
Kanika Banerjee:

হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ/Hail the new, Let the sacred hour of birth approach once more

হে নূতন,
দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন ।
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন ।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় ।
উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ ।।

রচনাকালঃ ২৩শে বৈশাখ, ১৩৪৮
৬ই মে, ১৯৪১
রচনাস্থানঃ শান্তিকেতন
রাগ ভৈরবী, তাল কাহারবা

Hey Nuton
Hey Nuton,

Dekha dik aarbaar jonmero prothom shubhokhon.
Tomar prokash hok kuhelika kori udghaton
suryer moton.
Riktotar bokkhyo bhedi aponarey koro unmochan.
Byakto hok jiboner joy,
Byakto hok tomamajhe asheemero chirobishshoy.
Udaydigantey shonkho baaje, mor chittomajhe
Chironuutonere dil dak
Ponchishey boishakh.

Hail the new
Hail the new,
Let the sacred hour of birth approach once more
May you appear in glory, unveiled from mist
as does the sun.
Reveal yourself from the emptiness of the soul
Let life be victorious once more,
Let the wonder of the infinite be revealed through your creation
Conch shells sound in celebration in the dawn skies within my soul
The call goes out for eternal renewal
From this twenty fifth day of Boishakh

Date written: 6th May 1941
Place: Santiniketan
Raga: Bhairavi
Taal: Kaharba

There is some wonderful information regarding the writing of this song at the following: http://www.gitabitan.net/top.asp?songid=1730

Follow the links to hear Kanak Das and a number of other voices sing:

Kanak Das, M.S. Subbulakshmi

An adequate English translation sung by Francesca Cassio.