প্রভু, বলো বলো কবে/ Prabhu, bawlo bawlo kawbe/ Lord, I beseech you, tell me when

প্রভু,   বলো বলো কবে

তোমার    পথের ধুলার রঙে রঙে আঁচল রঙিন হবে।

              তোমার বনের রাঙা ধূলি  ফুটায় পূজার কুসুমগুলি,

    সেই ধূলি হায় কখন আমায় আপন করি’ লবে?

    প্রণাম দিতে চরণতলে  ধুলার কাঙাল যাত্রীদলে

    চলে যারা, আপন ব’লে চিনবে আমায় সবে॥

রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1342
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1936
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

Lord, I beseech you, tell me when

My robes will turn red in the dust that rises from the path that leads to you

              The red dust in your forests takes the form of the blooms that I offer at your feet

    When will that dust alas accept me as one of its own?

    Those who journey to your feet, craving the dust as a blessing

    They too will then know me on sight.

Raga: Bhairavi
Beat: Dadra
Written: 1936
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

Follow the link, to hear Suchitra Mitra:

https://www.youtube.com/watch?v=fwqJqoFcUSs

This entry was posted on September 4, 2014, in Prayer/Puja.

তোতাকাহিনী/Totakahinee/The bird’s tale

তোতাকাহিনী

এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।

রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’

মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’

রাজার ভাগিনাদের উপর ভার পড়িল পাখিটাকে শিক্ষা দিবার।

পণ্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করিলেন। প্রশ্নটা এই, উক্ত জীবের অবিদ্যার কারণ কী।

সিদ্ধান্ত হইল, সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বিদ্যা বেশি ধরে না। তাই সকলের আগে দরকার, ভালো করিয়া খাঁচা বানাইয়া দেওয়া।

রাজপণ্ডিতেরা দক্ষিণা পাইয়া খুশি হইয়া বাসায় ফিরিলেন।

স্যাকরা বসিল সোনার খাঁচা বানাইতে। খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে, দেখিবার জন্য দেশবিদেশের লোক ঝুঁকিয়া পড়িল। কেহ বলে, ‘শিক্ষার একেবারে হদ্দমুদ্দ।’ কেহ বলে, ‘শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। পাখির কী কপাল।’

স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকশিশ পাইল। খুশি হইয়া সে তখনি পাড়ি দিল বাড়ির দিকে।

পণ্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে। নস্য লইয়া বলিলেন, ‘অল্প পুঁথির কর্ম নয়।’

ভাগিনা তখন পুঁথিলিখকদের তলব করিলেন। তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বতপ্রমাণ করিয়া তুলিল। যে দেখিল সেই বলিল, ‘সাবাস। বিদ্যা আর ধরে না।’

লিপিকরের দল পারিতোষিক লইল বলদ বোঝাই করিয়া। তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল। তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না।

অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই। মেরামত তো লাগিয়াই আছে। তার পরে ঝাড়া মোছা পালিশ-করা ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল, ‘উন্নতি হইতেছে।’

লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপর নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আরও বিস্তর। তারা মাস-মাস মুঠা-মুঠা তনখা পাইয়া সিন্ধুক বোঝাই করিল।

তারা এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো মাসতুতো ভাইরা খুশি হইয়া কোঠাবালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল।

সংসারে অন্য অভাব অনেক আছে, কেবল নিন্দুক আছে যথেষ্ট। তারা বলিল, ‘খাঁচাটার উন্নতি হইতেছে, কিন্তু পাখিটার খবর কেহ রাখে না।’

কথাটা রাজার কানে গেল। তিনি ভাগিনাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন স্যাকরাদের, পণ্ডিতদের, লিপিকরদের, ডাকুন যারা মেরামত করে এবং মেরামত তদারক করিয়া বেড়ায়। নিন্দুকগুলো খাইতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা বলে।’

জবাব শুনিয়া রাজা অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন, আর তখনি ভাগিনার গলায় সোনার হার চড়িল।

শিক্ষা যে কী ভয়ংকর তেজে চলিতেছে, রাজার ইচ্ছা হইল স্বয়ং দেখিবেন। একদিন তাই পাত্র মিত্র অমাত্য লইয়া শিক্ষাশালায় তিনি স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত।

দেউড়ির কাছে অমনি বাজিল শাঁখ ঘণ্টা ঢাক ঢোল কাড়া নাকাড়া তুরী ভেরি দামামা কাঁসি বাঁশি কাঁসর খোল করতাল মৃদঙ্গ জগঝম্প। পণ্ডিতেরা গলা ছাড়িয়া, টিকি নাড়িয়া, মন্ত্রপাঠে লাগিলেন। মিস্ত্রি মজুর স্যাকরা লিপিকর তদারকনবিশ আর মামাতো পিসতুতো খুড়তুতো এবং মাসতুতো ভাই জয়ধ্বনি তুলিল।

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, কাণ্ডটা দেখিতেছেন!’

মহারাজ বলিলেন, ‘আশ্চর্য। শব্দ কম নয়।’

ভাগিনা বলিল, ‘শুধু শব্দ নয়, পিছনে অর্থও কম নাই।’

রাজা খুশি হইয়া দেউড়ি পার হইয়া যেই হাতিতে উঠিবেন এমন সময়, নিন্দুক ছিল ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়া, সে বলিয়া উঠিল, ‘মহারাজ, পাখিটাকে দেখিয়াছেন কি।’

রাজার চমক লাগিল; বলিলেন, ‘ঐ যা! মনে তো ছিল না। পাখিটাকে দেখা হয় নাই।’

ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতকে বলিলেন, ‘পাখিকে তোমরা কেমন শেখাও তার কায়দাটা দেখা চাই।’

দেখা হইল। দেখিয়া বড়ো খুশি। কায়দাটা পাখিটার চেয়ে এত বেশি বড়ো যে, পাখিটাকে দেখাই যায় না; মনে হয়, তাকে না দেখিলেও চলে। রাজা বুঝিলেন, আয়োজনের ত্রুটি নাই। খাঁচায় দানা নাই, পানি নাই; কেবল রাশি রাশি পুঁথি হইতে রাশি রাশি পাতা ছিঁড়িয়া কলমের ডগা দিয়া পাখির মুখের মধ্যে ঠাসা হইতেছে। গান তো বন্ধই, চীৎকার করিবার ফাঁকটুকু পর্যন্ত বোজা। দেখিলে শরীরে রোমাঞ্চ হয়।

এবারে রাজা হাতিতে চড়িবার সময় কানমলা-সর্দারকে বলিয়া দিলেন, নিন্দুকের যেন আচ্ছা করিয়া কান মলিয়া দেওয়া হয়।

পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র-দস্তুর-মতো আধমরা হইয়া আসিল। অভিভাবকেরা বুঝিল, বেশ আশাজনক। তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায় রকমে পাখা ঝট্‌পট্‌ করে। এমন কি, এক-একদিন দেখা যায়, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলা কাটিবার চেষ্টায় আছে।

কোতোয়াল বলিল, ‘এ কী বেয়াদবি।’

তখন শিক্ষামহালে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির। কী দমাদ্দম পিটানি। লোহার শিকল তৈরি হইল, পাখির ডানাও গেল কাটা।

রাজার সম্বন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, ‘এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই।’

তখন পণ্ডিতেরা এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কাণ্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা।

কামারের পসার বাড়িয়া কামারগিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়ালের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।

পাখিটা মরিল। কোন্‌কালে যে কেউ তা ঠাহর করিতে পারে নাই। নিন্দুক লক্ষ্ণীছাড়া রটাইল, ‘পাখি মরিয়াছে।’

ভাগিনাকে ডাকিয়া রাজা বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’

রাজা শুধাইলেন, ‘ও কি আর লাফায়।’

ভাগিনা বলিল, ‘আরে রাম!’

‘আর কি ওড়ে।’

‘না।’

‘আর কি গান গায়।’

‘না।’

‘দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়।’

‘না।’

রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’

পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্‌খস্‌ গজ্‌গজ্‌ করিতে লাগিল।

বাহিরে নববসন্তের দক্ষিণহাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।

cage

Totakahinee or The Bird’s Tale

1
Once there was a bird. It was uneducated. It used to sing, but it had never read the scriptures. It hopped about and it flew but it did not know what good manners were.
The king said, ‘This kind of bird is of no use, for it eats the fruits of the forest and this is leading to losses in the markets.’
He ordered the minister, ‘Teach the bird a lesson.’

2
The duty of training the bird fell upon the shoulders of the king’s nephews.
The learned men sat and discussed at length why the accused creature was versed in the wrong kind of knowledge.
They concluded that the nest the bird built out of ordinary straw was not enough to hold a great deal of knowledge. Thus the first thing needed was the construction of a good cage.
The pundits went home happily with their grants from the king.

3
The goldsmith set about making a golden cage. This was so amazing that people from near and far came to look at it. Some said, ‘This is the ultimate in education!’ Others said, ‘Even if it is not educated, it got a cage out of all this! What luck!’
The fellow got a sack filled with money as payment. He set off for home in high spirits immediately.
The wise man sat down with the bird to teach it. He took a pinch of snuff and said, ‘This will never do with a few books.’
The nephew then sent for the writers. They made copies of books and then copies of the copies till there was a mountain of paper. Whoever saw this said, ‘Bravo! This is education if nothing else.’
The scribes had to carry their rewards home by bullock cart. They went back quickly too. From that day onwards there was no more need in their homes.
There was no end to the attention the nephews gave the costly golden cage. There were ongoing maintenance costs. It also needed regular dusting and polishing which made everyone agree, ‘This is improvement.’
Many people had to be employed and many other people were engaged to keep an eye on the first lot of employees. This army filled their coffers with fistfuls of cash each month.
They and all the cousins they had of every hue were now able to behave like men of means and leisure.

4
There is need of every kind in life, but never a shortage of critics. They now said, ‘The cage is an improvement, but what news of the bird?’
This remark made its way to the king’s ears. He called for his nephews and said, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Oh Great King, if you wish to hear the truth, send for the goldsmith, the learned men and the scribes, call those who repair the cage and summon those who keep an eye on those that repair the cage. The naysayers are the ones who have not made any profit out of this.’
The king understood exactly what was going on and gifted a golden chain to his nephew immediately.

5
The king expressed a wish to see for himself how the great education of the bird was going. One day he arrived at the classroom with all his courtiers.
At that very moment the gates rang out with conch shells, bells, drums of every kind, cymbals, flutes and gongs, The learned men were loudly reciting the lessons , their sacred tufts of hair shaking with the effort. There was a welcoming roar from the masons, the goldsmith, the scribes, the overseers and their supervisors as well the various cousins.
The nephew said, ‘King, you see what a great affair this is!’
The king said, ‘Astounding! And so noisy too!’
The nephew answered, ‘Not just noise, there is much meaning to all of this.’
The king happily crossed the gate and was just about to mount his elephant when a critic hiding in the bushes said to him, ‘Great king, but did you see the bird?’
The king, startled though he was, had to admit, ‘Alas! That completely slipped my mind. I did not get to see the bird.’
He came back and said to the pundit, ‘I should like to see how you teach the bird.’
He went and saw. It pleased him greatly. The pomp surrounding the bird was so great that it was hardly to be seen. And to tell the truth, it did not seem that important that one saw the creature. The king understood that there was no lapse in the arrangements. There was no food in the cage, nor any water; but the pages of a hundred wise tomes were being stuffed into the bird’s mouth. It was unable to open its beak even to shriek, let along sing. It was truly thrilling.
This time while mounting the elephant, the king told his principal ear-boxer to box the ears of the critic very soundly indeed.

6
The bird grew more and more civilized each day as its life drained away. Its guardians understood that the situation was very encouraging. And yet the bird still fluttered its wings most annoyingly each morning as it gazed upon the morning light, thanks to its intemperate nature. It was even observed that on some days it tried to gnaw through the bars of its cage with its puny beak.
The jailer said, ‘What insolence!’
The blacksmith was brought to the schoolhouse, complete with his bellows, hammers and furnace. With a tremendous clanging an iron chain was fashioned and the bird’s wings were also clipped.
The king’s sycophants made glum faces and shook their heads saying, ‘In this kingdom the birds are not just ignorant, they have no sense of gratitude either.’
Then the wise men picked up pens in one hand and spears in another and gave a demonstration of real teaching.
The blacksmith made so much money that his wife was able to buy herself gold jewellery and the king rewarded the jailer’s vigilance with a title.

7
The bird died. No one had even noticed when this had happened. The good for nothing critic went about saying, ‘The bird is dead.’
The king called for his nephew and asked, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Great king, it has been educated.’
The king asked, ‘Does it flap around anymore?’
The nephew answered, ‘Dear God, No!’
‘Does it fly anymore?’
‘No.’
‘Does it burst into song anymore?’
‘No.’
‘Does it shriek when not fed?’
‘No.’
The king commanded, ‘Bring the bird to me once, I so wish to see it.’
The bird came. The jailer came with it, as did the guards and the mounted policemen. The king poked the bird; it did not utter a single sound in agreement or in protest. There was just a rustling from the dry paper that filled its body.

Outside the palace, the southerly winds of spring sighed among the new buds and drove the skies above the flowering forests quite mad.

Image: http://antiquesimagearchive.com/items

নাহয় তোমার যা হয়েছে তাই হল/Nahoy Tomar Ja Hoyeche Tai Holo/ Why not accept what happens to you

 নাহয় তোমার যা হয়েছে তাই হল।

          আরো কিছু নাই হল, নাই হল, নাই হল॥

কেউ যা কভু দেয় না ফাঁকি   সেইটুকু তোর থাক্‌-না বাকি,

                   পথেই না হয় ঠাঁই হল॥

          চল্‌ রে সোজা বীণার তারে ঘা দিয়ে,

          ডাইনে বাঁয়ে দৃষ্টি তোমার না দিয়ে।

হারিয়ে চলিস পিছনেরে,   সামনে যা পাস কুড়িয়ে নে রে–

                   খেদ কী রে তোর যাই হল॥

রাগ: পিলু-বাউল
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৯ চৈত্র, ১৩২২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১১ এপ্রিল, ১৯১৬
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

tag baul

Baul by Abanindranath Tagore

***

 Why not accept what happens to you ?

         Seek no more, seek no more, let it be.

Hold onto that which people have given freely, let that be the sweetness you are left with.

                   Why not let the road be as a home to you?

          Walk along unwavering, to the music of your soul,

          Never worrying about what lies on either side.

Forget all that you leave behind, gather the new lying ahead -

                   Why mourn what was not meant to be, let it be.

Raga: Pilu Baul
Beat: Dadra
Written: 11th April, 1916
Written: Santiniketan
Score: Dinendranath Tagore

Follow the link to hear Suchitra Mitra:

 

যদি এ আমার হৃদয়দুয়ার বন্ধ রহে গো কভু/ Jodi e amaro hridoyoduyaro bondho rahe go kabhu/ If ever the doors to my soul should be barred to you

যদি এ আমার হৃদয়দুয়ার বন্ধ রহে গো কভু
দ্বার ভেঙে তুমি এসো মোর প্রাণে, ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥
যদি কোনো দিন এ বীণার তারে তব প্রিয়নাম নাহি ঝঙ্কারে
দয়া ক’রে তবু রহিয়ো দাঁড়ায়ে, ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥
যদি কোনো দিন তোমার আহ্বানে সুপ্তি আমার চেতনা না মানে
বজ্রবেদনে জাগায়ো আমারে, ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।
যদি কোনো দিন তোমার আসনে আর-কাহারেও বসাই যতনে,
চিরদিবসের হে রাজা আমার, ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু ॥

রাগ: কাফি
তাল: ঝাঁপতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1307
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1901

If ever the doors to my soul should be barred to you,
Break them and enter my soul, please do not return unheeded, my master.
If ever this instrument fails to sing your beloved name
Pity me enough to stay, please do not return unheeded, my master.
If ever to your call, my sleep does not respond
Wake me with your lightning, please do not return unheeded, my master.
If ever I should seat another upon what is rightfully your throne,
My eternal king, please do not return unheeded, my master.

Raga: Kafi
Beat: Jhnaptaal
Written: 1901

Follow the links:
Rajeswari Dutta:

Mohan Singh Khangura:

 

মৃত্যুর পরে / Mrityur Porey/ Once Death has come and gone.

মৃত্যুর পরে

আজিকে হয়েছে শান্তি,

জীবনের ভুলভ্রান্তি

  সব গেছে চুকে।

রাত্রিদিনধুক্‌ধুক্‌

তরঙ্গিত দুঃখসুখ

  থামিয়াছে বুকে।

যত কিছু ভালোমন্দ

যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব

  কিছু আর নাই।

বলো শান্তি, বলো শান্তি,

দেহসাথে সব ক্লান্তি

  হয়ে যাক ছাই।

G_Tagore_Tagore

Once Death has come and gone

Today at last, there is peace

All the mistakes of life

  Are done with.

That continual murmur

Sadness and joy following each other

  Silenced at last within.

On what was right and what was wrong

No thought need be spared

  Nothing remains any more.

Peace, what infinite peace!

Let all weariness along with this mortal form

 Be reduced to ash.

লিপিকাঃ পায়ে চলার পথ /Lipika: Paaye Cholar Pawth/ Lipika: The road I took

এই তো পায়ে চলার পথ।

এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়াঘাটের পাশে বটগাছেরতলায়। তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে কোন্‌ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।

এই পথে কত মানুষ কেউ বা আমার পাশ দিয়ে চলে গেছে, কেউ বা সঙ্গ নিয়েছে, কাউকে বা দূর থেকে দেখা গেল; কারো বা ঘোমটা আছে, কারো বা নেই; কেউ বা জল ভরতে চলেছে, কেউ বা জল নিয়ে ফিরে এল।

এখন দিন গিয়েছে, অন্ধকার হয়ে আসে।

একদিন এই পথকে মনে হয়েছিল আমারই পথ, একান্তই আমার; এখন দেখছি, কেবল একটিবার মাত্র এই পথ দিয়ে চলার হুকুম নিয়ে এসেছি, আর নয়।

নেবুতলা উজিয়ে সেই পুকুরপাড়, দ্বাদশ দেউলের ঘাট, নদীর চর, গোয়ালবাড়ি, ধানের গোলা পেরিয়ে–সেই চেনা চাউনি, চেনা কথা, চেনা মুখের মহলে আর একটিবারও ফিরে গিয়ে বলা হবে না, ‘এই যে!’ এ পধ যে চলার পথ, ফেরার পথ নয়।

আজ ধূসর সন্ধ্যায় একবার পিছন ফিরে তাকালুম; দেখলুম, এই পথটি বহুবিস্মৃত পদচিহ্নের পদাবলী, ভৈরবীর সুরে বাঁধা।

যত কাল যত পথিক চলে গেছে তাদের জীবনের সমস্ত কথাকেই এই পথ আপনার একটিমাত্র ধূলিরেখায় সংক্ষিপ্ত করে এঁকেছে; সেই একটি রেখা চলেছে সূর্যোদয়ের দিক থেকে সূর্যাস্তের দিকে, এক সোনার সিংহদ্বার থেকে আর-এক সোনার সিংহদ্বারে।

‘ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।’

পথ নিশীথের কালো পর্দার তর্জনী বাড়িয়ে চুপ ক’রে থাকে।

‘ওগো পায়ে চলার পথ, এত পথিকের এত ভাবনা, এত ইচ্ছা, সে-সব গেল কোথায়।’

বোবা পথ কথা কয় না। কেবল সূর্যোদয়ের দিক থেকে সূর্যাস্ত অবধি ইশারা মেলে রাখে।

‘ওগো পায়ে চলার পথ, তোমার বুকের উপর যে-সমস্ত চরণপাত একদিন পুষ্পবৃষ্টির মতো পড়েছিল আজ তারা কি কোথাও নেই।’

পথ কি নিজের শেষকে জানে, যেখানে লুপ্ত ফুল আর স্তব্ধ গান পৌঁছল, যেখানে তারার আলোয় অনির্বাণ বেদনার দেয়ালি-উৎসব।

1

This is the road that I have walked on.

  It has come through forests to field, and from field to river bank where the shade of banyan trees darken the jetty. It then crosses the river; from the broken steps on the other side it winds, through the village and past it, along fields of flax and linseed, under the shade of mango trees. passing by the waters of Padmadighi and Rathtala to a nameless village I know nothing about.

So many have walked along this path, some passing me, others walking with me while some kept a distance as we walked; some with their heads veiled from me, others without; some going to fetch water while others return after finishing that chore.

2

 Now the day is over, the darkness descends.

Once I had thought this road to be mine, mine alone; today I see, I had permission to pass along this path just once and no more.

 After the lemon tree comes the edge of the pond, the twelve temples by the river, the sand bar, the cow sheds, the granaries – the familiar roofs, the oft heard words, the loved faces – not once will I be able to return and say, ‘Beware this road! This road takes you on and on, but never brings you back.’

I looked back once today in the fading light of dusk; this road is a litany of many forgotten footsteps, set to the tune of departures.

 All those who have gone before, all their words – this road has written in marks upon the dust; one of those lines go from dawn towards dusk, from one golden gate to another.

3

 ‘Road under my feet, do not silence all the words of the past in the bonds of your dust. I am waiting, ears pressed to the dust, whisper them to me.’

 The road is like a silent finger of night, extending from a curtain of black.

 ‘Road under my feet, all the thoughts of all the travellers, all their wishes, where did those all go?’

 The mute path does not speak. It merely points the way from sunrise to day-set.

‘Road under my feet, those footsteps that once fell upon your heart like flowers from above, are they no longer here?’

Does this road know its own ending, where faded flowers and silenced song await, where starlight shines, a festival of undiminished sorrow?

লেখন – ১, ২৪, ৪৭ ও ৫৭/ Scribblings – 1, 24, 47 and 57

              ১

স্বপ্ন আমার জোনাকি

 দীপ্ত প্রাণের মণিকা,

স্তব্ধ আঁধার নিশীথে

উড়িছে আলোর কণিকা॥

                    1

Like fireflies, my dreams

Specks of my living soul

Sparks burning in the silent dark.

 ২৪

শিখারে কহিল হাওয়া,

            “তোমারে তো চাই পাওয়া।’

যেমনি জিনিতে চাহিল ছিনিতে

            নিবে গেল দাবি-দাওয়া॥

             24

The wind says to the flame

‘I must have you for me’

But when it leans in for the steal

Every want, extinguished!

                        ৪৭

পথে হল দেরি, ঝরে গেল চেরি–

            দিন  বৃথা গেল, প্রিয়া।

তবুও তোমার ক্ষমা-হাসি বহি

            দেখা দিল আজেলিয়া॥

              47

So long was I gone

The cherries have shed their garb

But still you smile, forgiveness

In new azalea flowers.

                 ৫৭

লাজুক ছায়া বনের তলে

         আলোরে ভালোবাসে।

পাতা সে কথা ফুলেরে বলে,

         ফুল তা শুনে হাসে॥

                     57

Shy shade beneath the trees

In love with dappled light

Leaves whisper this to the blooms

Silent smiles in response.

দূর হতে ভেবেছিনু মনে/ Dur hotey bhebechinu mone/From afar I thought

মৃত্যুঞ্জয়

দূর হতে ভেবেছিনু মনে

দুর্জয় নির্দয় তুমি, কাঁপে পৃথ্বী তোমার শাসনে।

                 তুমি বিভীষিকা,

দুঃখীর বিদীর্ণ বক্ষে জ্বলে তব লেলিহান শিখা।

দক্ষিণ হাতের শেল উঠেছে ঝড়ের মেঘ-পানে,

                 সেথা হতে বজ্র টেনে আনে।

ভয়ে ভয়ে এসেছিনু দুরুদুরু বুকে

                       তোমার সম্মুখে

তোমার ভ্রূকুটিভঙ্গে তরঙ্গিল আসন্ন উৎপাত, –

                 নামিল আঘাত।

                 পাঁজর উঠিল কেঁপে,

                       বক্ষে হাত চেপে

           শুধালেম, “আরো কিছু আছে নাকি,

                       আছে বাকি

                              শেষ বজ্রপাত?’

                       নামিল আঘাত।

      এইমাত্র?  আর কিছু নয়?

                 ভেঙে গেল ভয়।

      যখন উদ্যত ছিল তোমার অশনি

তোমারে আমার চেয়ে বড়ো ব’লে নিয়েছিনু গনি।

      তোমার আঘাত-সাথে নেমে এলে তুমি

           যেথা মোর আপনার ভূমি।

                 ছোটো হয়ে গেছ আজ।

                       আমার টুটিল সব লাজ।

                 যত বড়ো হও,

      তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও।

আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে

           যাব আমি চলে।

  ১৭ আষাঢ়, ১৩৩৯

 7911945034_15c30b7a14_z

Tagore and eldest child Madhurilata or Bela

The One Who Defeated Death

From afar I thought

You were undefeatable, cruel, the very earth trembling under your rule.

Your frowns indicated waves of approaching torment  –

The blows fell.

My ribs shuddered,

Clutching my chest

I asked, ‘Is there much more,

Another final

Thunderbolt?’

The blows fell.

Just this? Have you nothing more?

My fear faded away.

No matter how great you are,

You cannot be greater than death.

‘I am greater than death’ will be the words I speak

Before I take my final bow.

Tagore and Iqbal: Comparison and Contrast: Aamir Butt

Tagore and Iqbal: Comparison and Contrast

Rabindranath Tagore (1861-1941) and Mohammad Iqbal (1877-1938) are arguably two of the greatest intellectuals Indian subcontinent has produced during the 20th century. Among their respective followers there have been attempts to compare them with each other. Such attempts are always difficult as they wrote in different languages and generally had somewhat different attitudes to the events of their times. The two never met and never corresponded with each other which is rather strange and unfortunate. There is the story of Tagore calling on Iqbal in Lahore but Iqbal was out of town. Later on due to the welcome extended to Tagore by monarchs of Persia and Iraq as well as Saudi Arabia there looks to be some sourness on Iqbal’s part.
Following this Iqbal who has never commented on Tagore in literary or other topics wrote to an Iranian diplomat Ghulam Abbas Aram and warned him that Tagore’s visit was an attempt to forge Aryan affiliations between Hindus and Persians and suggested that perhaps this might lead Iranians to revert to Zoroastrianism!! In his letters Iqbal also accused Tagore of misleading the Muslims of India into accepting the British rule or purposing freedom as a change of masters.
Some also think that Iqbal had resentment about Tagore receiving the Nobel prize but it seems that it was Iqbal’s admirers who were more unhappy about this than Iqbal.
On his part Tagore mentioned Iqbal on several occasions and always said good words about him. Once talking to one of Iqbal’s friends he asked if Iqbal wrote in Punjabi, when he was told no and that Punjabi was not a language but a dialect Tagore remarked this was most unfortunate for if someone of Iqbal’s calibre had written in his native language this would have established Punjabi as a major literary language. This may well be true as we can see men like Pushkin and Tagore were responsible for the literary birth of Russian and Bengali languages. I doubt Tagore was aware of Iqbal’s letters to Aram for in a letter to Iqbal’s friend Dr Abbas Ali Khan dated February 7 1933 he writes, ” Your letter and poem have touched my heart. It has given me deep pleasure to know that you have found an inner affinity between my poems and those of your great poet Sir Mohammad Iqbal. Not knowing the languages in which he writes his original poems I am not in a position to reach the depths of his creative production or to properly evaluate them but I am assured through the wide fame they have won that they carry the majesty of eternal literature. It has pained me often to find a certain class of critics trying to create misunderstanding by ranging my literary works against those of Sir Mohammad Iqbal on a competitive basis. This is an entirely erroneous attitude to take towards literature which deals with the universal. I am sure both myself and Sir Mohammad Iqbal are comrades working for the cause of truth and beauty in literature and meet in a realm where the human mind offers its best gifts to the shrine of Eternal Man”
Tagore also paid glowing tributes to Iqbal in his message on first Iqbal day in 1937 and his condolence message of 1938 calling him a person whose work is not limited to few but is universal.

As I said above Iqbal more or less ignores the existence of Tagore, at least publicly for his letters to Aram was private correspondence till late. However he once remarked to CV Raman, the renowned physicist and Nobel Laureate that, ”Tagore preaches rest but practices action; Iqbal practices rest, preaches action.” And certainly looking at the lives and works of these two great men this appears to be a very apt analysis.
It should be noted that when Iqbal’s collection of books was catalogued, six English translations of Tagore’s works were part of it.

So what can make out of the conflicting attitudes of these giants towards life and towards each other? Well I think we need to analyze and evaluate them in light of what these two were in personal terms.
Tagore was born in a well off household, his family had land and money. He did not need to struggle to make ends meet. Tagore did not even complete his formal education knowing he is not dependent on a job for income and devoting his life to literary pursuits early in his life.
Iqbal had no such luck, he had no family fortune, he struggled all his life to provide for himself and his family. Iqbal had to complete formal education and skills of a solicitor to find work.
Tagore was born in a reformist Hindu household while Iqbal was born in a conservative Sunni household.
The above factors seem to have influenced the works and attitudes of Tagore and Iqbal. Not having to face the harsh realities of life as far as putting food on the table is concerned Tagore retains his gentle, generous and magnanimous soul. Iqbal on the other hand, frustrated with the needs to balance time for income generating work with his literary passion perhaps developed the hardness and even some bitterness which spills over in his work and attitude towards Tagore. Added to this was that Iqbal was part of the minority Muslim community of India and had the defensive attitude minorities tend to develop, especially if they believe they are being threatened.
As Rafiq Zakria sums up, ”Tagore brought out the romantic in man; Iqbal the heroic. Tagore exulted in feminine beauty; Iqbal in masculine strength. There was music in Tagore’s poetry; there was fire in Iqbal’s. Tagore was humble; Iqbal was proud. Tagore was always active; Iqbal easy going and lazy.”

Dr Aamir Butt first posted this on his Facebook page on the 27th of December, 2014.
I am very grateful for his permission to share the article here.