প্রভু, বলো বলো কবে/ Prabhu, bawlo bawlo kawbe/ Lord, I beseech you, tell me when

প্রভু,   বলো বলো কবে

তোমার    পথের ধুলার রঙে রঙে আঁচল রঙিন হবে।

              তোমার বনের রাঙা ধূলি  ফুটায় পূজার কুসুমগুলি,

    সেই ধূলি হায় কখন আমায় আপন করি’ লবে?

    প্রণাম দিতে চরণতলে  ধুলার কাঙাল যাত্রীদলে

    চলে যারা, আপন ব’লে চিনবে আমায় সবে॥

রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1342
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1936
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

Lord, I beseech you, tell me when

My robes will turn red in the dust that rises from the path that leads to you

              The red dust in your forests takes the form of the blooms that I offer at your feet

    When will that dust alas accept me as one of its own?

    Those who journey to your feet, craving the dust as a blessing

    They too will then know me on sight.

Raga: Bhairavi
Beat: Dadra
Written: 1936
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

Follow the link, to hear Suchitra Mitra:

https://www.youtube.com/watch?v=fwqJqoFcUSs

This entry was posted on September 4, 2014, in Prayer/Puja.

তোতাকাহিনী/Totakahinee/The bird’s tale

তোতাকাহিনী

এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।

রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’

মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’

রাজার ভাগিনাদের উপর ভার পড়িল পাখিটাকে শিক্ষা দিবার।

পণ্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করিলেন। প্রশ্নটা এই, উক্ত জীবের অবিদ্যার কারণ কী।

সিদ্ধান্ত হইল, সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বিদ্যা বেশি ধরে না। তাই সকলের আগে দরকার, ভালো করিয়া খাঁচা বানাইয়া দেওয়া।

রাজপণ্ডিতেরা দক্ষিণা পাইয়া খুশি হইয়া বাসায় ফিরিলেন।

স্যাকরা বসিল সোনার খাঁচা বানাইতে। খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে, দেখিবার জন্য দেশবিদেশের লোক ঝুঁকিয়া পড়িল। কেহ বলে, ‘শিক্ষার একেবারে হদ্দমুদ্দ।’ কেহ বলে, ‘শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। পাখির কী কপাল।’

স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকশিশ পাইল। খুশি হইয়া সে তখনি পাড়ি দিল বাড়ির দিকে।

পণ্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে। নস্য লইয়া বলিলেন, ‘অল্প পুঁথির কর্ম নয়।’

ভাগিনা তখন পুঁথিলিখকদের তলব করিলেন। তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বতপ্রমাণ করিয়া তুলিল। যে দেখিল সেই বলিল, ‘সাবাস। বিদ্যা আর ধরে না।’

লিপিকরের দল পারিতোষিক লইল বলদ বোঝাই করিয়া। তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল। তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না।

অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই। মেরামত তো লাগিয়াই আছে। তার পরে ঝাড়া মোছা পালিশ-করা ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল, ‘উন্নতি হইতেছে।’

লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপর নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আরও বিস্তর। তারা মাস-মাস মুঠা-মুঠা তনখা পাইয়া সিন্ধুক বোঝাই করিল।

তারা এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো মাসতুতো ভাইরা খুশি হইয়া কোঠাবালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল।

সংসারে অন্য অভাব অনেক আছে, কেবল নিন্দুক আছে যথেষ্ট। তারা বলিল, ‘খাঁচাটার উন্নতি হইতেছে, কিন্তু পাখিটার খবর কেহ রাখে না।’

কথাটা রাজার কানে গেল। তিনি ভাগিনাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন স্যাকরাদের, পণ্ডিতদের, লিপিকরদের, ডাকুন যারা মেরামত করে এবং মেরামত তদারক করিয়া বেড়ায়। নিন্দুকগুলো খাইতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা বলে।’

জবাব শুনিয়া রাজা অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন, আর তখনি ভাগিনার গলায় সোনার হার চড়িল।

শিক্ষা যে কী ভয়ংকর তেজে চলিতেছে, রাজার ইচ্ছা হইল স্বয়ং দেখিবেন। একদিন তাই পাত্র মিত্র অমাত্য লইয়া শিক্ষাশালায় তিনি স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত।

দেউড়ির কাছে অমনি বাজিল শাঁখ ঘণ্টা ঢাক ঢোল কাড়া নাকাড়া তুরী ভেরি দামামা কাঁসি বাঁশি কাঁসর খোল করতাল মৃদঙ্গ জগঝম্প। পণ্ডিতেরা গলা ছাড়িয়া, টিকি নাড়িয়া, মন্ত্রপাঠে লাগিলেন। মিস্ত্রি মজুর স্যাকরা লিপিকর তদারকনবিশ আর মামাতো পিসতুতো খুড়তুতো এবং মাসতুতো ভাই জয়ধ্বনি তুলিল।

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, কাণ্ডটা দেখিতেছেন!’

মহারাজ বলিলেন, ‘আশ্চর্য। শব্দ কম নয়।’

ভাগিনা বলিল, ‘শুধু শব্দ নয়, পিছনে অর্থও কম নাই।’

রাজা খুশি হইয়া দেউড়ি পার হইয়া যেই হাতিতে উঠিবেন এমন সময়, নিন্দুক ছিল ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়া, সে বলিয়া উঠিল, ‘মহারাজ, পাখিটাকে দেখিয়াছেন কি।’

রাজার চমক লাগিল; বলিলেন, ‘ঐ যা! মনে তো ছিল না। পাখিটাকে দেখা হয় নাই।’

ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতকে বলিলেন, ‘পাখিকে তোমরা কেমন শেখাও তার কায়দাটা দেখা চাই।’

দেখা হইল। দেখিয়া বড়ো খুশি। কায়দাটা পাখিটার চেয়ে এত বেশি বড়ো যে, পাখিটাকে দেখাই যায় না; মনে হয়, তাকে না দেখিলেও চলে। রাজা বুঝিলেন, আয়োজনের ত্রুটি নাই। খাঁচায় দানা নাই, পানি নাই; কেবল রাশি রাশি পুঁথি হইতে রাশি রাশি পাতা ছিঁড়িয়া কলমের ডগা দিয়া পাখির মুখের মধ্যে ঠাসা হইতেছে। গান তো বন্ধই, চীৎকার করিবার ফাঁকটুকু পর্যন্ত বোজা। দেখিলে শরীরে রোমাঞ্চ হয়।

এবারে রাজা হাতিতে চড়িবার সময় কানমলা-সর্দারকে বলিয়া দিলেন, নিন্দুকের যেন আচ্ছা করিয়া কান মলিয়া দেওয়া হয়।

পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র-দস্তুর-মতো আধমরা হইয়া আসিল। অভিভাবকেরা বুঝিল, বেশ আশাজনক। তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায় রকমে পাখা ঝট্‌পট্‌ করে। এমন কি, এক-একদিন দেখা যায়, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলা কাটিবার চেষ্টায় আছে।

কোতোয়াল বলিল, ‘এ কী বেয়াদবি।’

তখন শিক্ষামহালে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির। কী দমাদ্দম পিটানি। লোহার শিকল তৈরি হইল, পাখির ডানাও গেল কাটা।

রাজার সম্বন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, ‘এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই।’

তখন পণ্ডিতেরা এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কাণ্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা।

কামারের পসার বাড়িয়া কামারগিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়ালের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।

পাখিটা মরিল। কোন্‌কালে যে কেউ তা ঠাহর করিতে পারে নাই। নিন্দুক লক্ষ্ণীছাড়া রটাইল, ‘পাখি মরিয়াছে।’

ভাগিনাকে ডাকিয়া রাজা বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’

রাজা শুধাইলেন, ‘ও কি আর লাফায়।’

ভাগিনা বলিল, ‘আরে রাম!’

‘আর কি ওড়ে।’

‘না।’

‘আর কি গান গায়।’

‘না।’

‘দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়।’

‘না।’

রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’

পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্‌খস্‌ গজ্‌গজ্‌ করিতে লাগিল।

বাহিরে নববসন্তের দক্ষিণহাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।

cage

Totakahinee or The Bird’s Tale

1
Once there was a bird. It was uneducated. It used to sing, but it had never read the scriptures. It hopped about and it flew but it did not know what good manners were.
The king said, ‘This kind of bird is of no use, for it eats the fruits of the forest and this is leading to losses in the markets.’
He ordered the minister, ‘Teach the bird a lesson.’

2
The duty of training the bird fell upon the shoulders of the king’s nephews.
The learned men sat and discussed at length why the accused creature was versed in the wrong kind of knowledge.
They concluded that the nest the bird built out of ordinary straw was not enough to hold a great deal of knowledge. Thus the first thing needed was the construction of a good cage.
The pundits went home happily with their grants from the king.

3
The goldsmith set about making a golden cage. This was so amazing that people from near and far came to look at it. Some said, ‘This is the ultimate in education!’ Others said, ‘Even if it is not educated, it got a cage out of all this! What luck!’
The fellow got a sack filled with money as payment. He set off for home in high spirits immediately.
The wise man sat down with the bird to teach it. He took a pinch of snuff and said, ‘This will never do with a few books.’
The nephew then sent for the writers. They made copies of books and then copies of the copies till there was a mountain of paper. Whoever saw this said, ‘Bravo! This is education if nothing else.’
The scribes had to carry their rewards home by bullock cart. They went back quickly too. From that day onwards there was no more need in their homes.
There was no end to the attention the nephews gave the costly golden cage. There were ongoing maintenance costs. It also needed regular dusting and polishing which made everyone agree, ‘This is improvement.’
Many people had to be employed and many other people were engaged to keep an eye on the first lot of employees. This army filled their coffers with fistfuls of cash each month.
They and all the cousins they had of every hue were now able to behave like men of means and leisure.

4
There is need of every kind in life, but never a shortage of critics. They now said, ‘The cage is an improvement, but what news of the bird?’
This remark made its way to the king’s ears. He called for his nephews and said, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Oh Great King, if you wish to hear the truth, send for the goldsmith, the learned men and the scribes, call those who repair the cage and summon those who keep an eye on those that repair the cage. The naysayers are the ones who have not made any profit out of this.’
The king understood exactly what was going on and gifted a golden chain to his nephew immediately.

5
The king expressed a wish to see for himself how the great education of the bird was going. One day he arrived at the classroom with all his courtiers.
At that very moment the gates rang out with conch shells, bells, drums of every kind, cymbals, flutes and gongs, The learned men were loudly reciting the lessons , their sacred tufts of hair shaking with the effort. There was a welcoming roar from the masons, the goldsmith, the scribes, the overseers and their supervisors as well the various cousins.
The nephew said, ‘King, you see what a great affair this is!’
The king said, ‘Astounding! And so noisy too!’
The nephew answered, ‘Not just noise, there is much meaning to all of this.’
The king happily crossed the gate and was just about to mount his elephant when a critic hiding in the bushes said to him, ‘Great king, but did you see the bird?’
The king, startled though he was, had to admit, ‘Alas! That completely slipped my mind. I did not get to see the bird.’
He came back and said to the pundit, ‘I should like to see how you teach the bird.’
He went and saw. It pleased him greatly. The pomp surrounding the bird was so great that it was hardly to be seen. And to tell the truth, it did not seem that important that one saw the creature. The king understood that there was no lapse in the arrangements. There was no food in the cage, nor any water; but the pages of a hundred wise tomes were being stuffed into the bird’s mouth. It was unable to open its beak even to shriek, let along sing. It was truly thrilling.
This time while mounting the elephant, the king told his principal ear-boxer to box the ears of the critic very soundly indeed.

6
The bird grew more and more civilized each day as its life drained away. Its guardians understood that the situation was very encouraging. And yet the bird still fluttered its wings most annoyingly each morning as it gazed upon the morning light, thanks to its intemperate nature. It was even observed that on some days it tried to gnaw through the bars of its cage with its puny beak.
The jailer said, ‘What insolence!’
The blacksmith was brought to the schoolhouse, complete with his bellows, hammers and furnace. With a tremendous clanging an iron chain was fashioned and the bird’s wings were also clipped.
The king’s sycophants made glum faces and shook their heads saying, ‘In this kingdom the birds are not just ignorant, they have no sense of gratitude either.’
Then the wise men picked up pens in one hand and spears in another and gave a demonstration of real teaching.
The blacksmith made so much money that his wife was able to buy herself gold jewellery and the king rewarded the jailer’s vigilance with a title.

7
The bird died. No one had even noticed when this had happened. The good for nothing critic went about saying, ‘The bird is dead.’
The king called for his nephew and asked, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Great king, it has been educated.’
The king asked, ‘Does it flap around anymore?’
The nephew answered, ‘Dear God, No!’
‘Does it fly anymore?’
‘No.’
‘Does it burst into song anymore?’
‘No.’
‘Does it shriek when not fed?’
‘No.’
The king commanded, ‘Bring the bird to me once, I so wish to see it.’
The bird came. The jailer came with it, as did the guards and the mounted policemen. The king poked the bird; it did not utter a single sound in agreement or in protest. There was just a rustling from the dry paper that filled its body.

Outside the palace, the southerly winds of spring sighed among the new buds and drove the skies above the flowering forests quite mad.

Image: http://antiquesimagearchive.com/items

সাঁওতাল মেয়ে/Shaontal Meye/The Santhal Girl

সাঁওতাল মেয়ে

 

যায় আসে সাঁওতাল মেয়ে

শিমূলগাছের তলে কাঁকরবিছানো পথ বেয়ে।

মোটা শাড়ি আঁট করে ঘিরে আছে তনু কালো দেহ।

বিধাতার ভোলা-মন কারিগর কেহ

কোন্‌ কালো পাখিটিরে গড়িতে গড়িতে

শ্রাবণের মেঘে ও তড়িতে

উপাদান খুঁজি

ওই নারী রচিয়াছে বুঝি।

ওর দুটি পাখা

ভিতরে অদৃশ্য আছে ঢাকা,

লঘু পায়ে মিলে গেছে চলা আর ওড়া।

নিটোল দু হাতে তার সাদারাঙা কয় জোড়া

গালা-ঢালা চুড়ি,

মাথায় মাটিতে-ভরা ঝুড়ি,

যাওয়া-আসা করে বারবার।

আঁচলে প্রান্ত তার

লাল রেখা দুলাইয়া

পলাশের স্পর্শমায়া আকাশেতে দেয় বুলাইয়া।

পউষের পালা হল শেষ,

উত্তর বাতাসে লাগে দক্ষিণের ক্বচিৎ আবেশ।

হিমঝুরি শাখা-‘পরে

চিকন চঞ্চল পাতা ঝলমল করে

শীতের রোদ্‌দুরে।

পাণ্ডুনীল আকাশেতে চিল উড়ে যায় বহুদূরে।

আমলকীলতা ছেয়ে খসে পড়ে ফল,

জোটে সেথা ছেলেদের দল।

আঁকাবাঁকা বনপথে আলোছায়া-গাঁথা,

অকস্মাৎ ঘুরে ঘুরে ওড়ে ঝরা পাতা

সচকিত হাওয়ার খেয়ালে।

ঝোপের আড়ালে

গলাফোলা গিরগিটি স্তব্ধ আছে ঘাসে।

ঝুড়ি নিয়ে বারবার সাঁওতাল মেয়ে যায় আসে।

আমার মাটির ঘরখানা

আরম্ভ হয়েছে গড়া, মজুর জুটেছে তার নানা।

ধীরে ধীরে ভিত তোলে গেঁথে

রৌদ্রে পিঠ পেতে।

মাঝে মাঝে

সুদূরে রেলের বাঁশি বাজে;

প্রহর চলিয়া যায়, বেলা পড়ে আসে,

ঢং ঢং ঘন্টাধ্বনি জেগে ওঠে দিগন্ত-আকাশে।

আমি দেখি চেয়ে,

ঈষৎ সংকোচে ভাবি–এ কিশোরী মেয়ে

পল্লীকোণে যে ঘরের তরে

করিয়াছে প্রস্ফুটিত দেহে ও অন্তরে

নারীর সহজ শক্তি আত্মনিবেদনপরা

শুশ্রূষার স্নিগ্ধসুধা-ভরা,

আমি তারে লাগিয়েছি কেনা কাজে করিতে মজুরি–

মূল্যে যার অসম্মান সেই শক্তি করি চুরি

পয়সার দিয়ে সিঁধকাঠি।

সাঁওতাল মেয়ে ওই ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসে মাটি।
শান্তিনিকেতন, ৪ মাঘ, ১৩৪১

santhal_girl 1
(Santhal Girl by DebiProsad Roy Chowdhury)

THE SANTHAL GIRL

 

The Santhal girl comes and goes

Along the pebbled path under the silk cotton trees.

A coarse saree wrapped tight around her slim dark form.

Some forgetful maker at the dawn of time

In the midst of making a black bird

From rain darkened cloud and lightning

Suddenly found the clay

That this woman was fashioned from.

Her two wings he hid

Away from the world within her soul

On quick feet she seems to fly as she walks .

On her perfect arms she wears a few white

Lacquered bangles,

Atop her head a basket filled with mud,

She comes and goes again and again.

The end of her saree

Skimmed by red

Paints the sky with the delicate touch of palash

The month of Poush draws to a close,

The north wind seems to whisper a message from the south.

Upon the branches of the Himjhuri

Young green leaves glimmering with life

In winter’s golden sunshine.

A kite flies far away in the pale blue sky.

The amla vine sheds its cloak of fruit,

Around it children gathering in hope.

The winding forest paths skeined in light and shade,

Where dry leaves eddy in sudden swirls

On the whim of the startled wind.

While in the bushes stealthily

A lizard in silence waits under cover of grass.

The Santhal woman comes and goes again and again.

My mud brick home

Is slowly taking shape, workers fill the place

A little at a time they raise the walls

Their backs bared to the sun

Every now and then

The trains can be heard whistling afar;

The hours pass, the day draws to an end,

A bell rings where sky meets land

I sit and watch,

Hesitant my thoughts as I muse – this young girl

Who has for her own sake

Blossomed forth in body and soul

That easy feminine strength best expressed in the giving of herself

Tempered with the sweet serenity of compassion,

I have employed her, paying her for work –

Stealing the very strength that suffers insult at being priced

Using money to break her down

There she comes again, the Santhal girl, her basket filled with clay.

 

 

Santiniketan, 18th January 1935

Santhal 2
(Santhal Woman, Jamini Roy)

Images: Internet.

Swarnakumari Debi

Ruma Chakravarti

In the year 1876 the December chill in Calcutta was suddenly stirred by the appearance of an anonymous novel. Its title was ‘Deep Nirbaan’ or the Extinguishing of the Lamp. Its readers were amazed by the maturity of the unknown author. And when they found out that it was by an eighteen year old girl? Disbelief joined exclamation.

“It is being said that a lady of high birth has written this. This is glorious indeed. Not many women can be said to possess such education, such authorship, such empathy – not just in Bengal but in other lands as well,” reported the Sadharani periodical.

Swarnakumari

(Swarnakumari Debi)

A decade had hardly passed since the publication of ‘Durgeshnandini’ by Bankim Chatterjee, the first novel in Bengali. But was ‘Deep Nirbaan’ the first novel by a Bengali woman? Swarnakumari Tagore who wrote it was not even the first Bengali authoress. Before her had…

View original post 152 more words

কোথা বাইরে দূরে যায় রে উড়ে/ Kotha Bairey Duurey Jaay Re Urey/Where do they go, flying from me, alas

কোথা       বাইরে দূরে  যায় রে উড়ে  হায় রে হায়,

তোমার     চপল আঁখি  বনের পাখি  বনে পালায়॥

ওগো,       হৃদয়ে যবে  মোহন রবে  বাজবে বাঁশি

তখন        আপনি সেধে  ফিরবে কেঁদে,  পরবে ফাঁসি–

তখন        ঘুচবে ত্বরা,  ঘুরিয়া মরা  হেথা হোথায়।

আহা,       আজি সে আঁখি  বনের পাখি  বনে পালায়॥

চেয়ে        দেখিস না রে  হৃদয়দ্বারে  কে আসে যায়,

তোরা       শুনিস কানে  বারতা আনে  দখিন বায়।

আজি        ফুলের বাসে  সুখের হাসে  আকুল গানে

চির          বসন্ত যে  তোমারি খোঁজে  এসেছে প্রাণে,

তারে        বাহিরে খুঁজি  ফিরিছ বুঝি  পাগলপ্রায়–

আহা        আজি সে আঁখি  বনের পাখি  বনে পালায়॥

রাগ: খাম্বাজ

তাল: ঝম্পক

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1317

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1910

স্বরলিপিকার: অনাদিকুমার দস্তিদার

 

Follow the links to hear:

Debabrata Biswas:

Lopamudra Mitra:

 

 

Where do they go, flying from me, alas!

Your quick eyes that hasten like birds to the forest alas!

But when within my heart the flute sounds a beautiful tune

They will return on their own, and submit in tears –

And then will cease this endless rush, this wandering alas.

Sigh, those eyes still hasten to the forest like birds to the nest, alas!

You do not see who comes and goes at your heart’s threshold,

You only hear what the south wind tells you of the world outside.

In the scent of flowers, in blissful smiles and songs of yearning

Eternal spring comes seeking just you within my soul,

While you sought it feverish with need everywhere else-

Sigh, those eyes still hasten to the forest like birds to the nest, alas.

 

Raga: Khamaj

Beat: Jhampak

Written: 1910

Score: Anadikumar Dastidar

 

সন্ধ্যাসংগীত:উপহার/Shondhya Shongeet: Upohaar/ Songs of the Evening: The Gift.

উপহার

 

ভুলে গেছি কবে তুমি    ছেলেবেলা একদিন

মরমের কাছে এসেছিলে,

স্নেহময় ছায়াময়                  সন্ধ্যাসম আঁখি মেলি

একবার বুঝি হেসেছিলে।

বুঝি গো সন্ধ্যার কাছে শিখেছে সন্ধ্যার মায়া

ওই আঁখি দুটি–

চাহিলে হৃদয়পানে                 মরমেতে পড়ে ছায়া,

তারা উঠে ফুটি।

আগে কে জানিত বলো কত কী লুকানো ছিল

হৃদয়নিভৃতে,

তোমার নয়ন দিয়া                 আমার নিজের হিয়া

পাইনু দেখিতে।

কখনো গাও নি তুমি     কেবল নীরবে রহি

শিখায়েছ গান–

স্বপ্নময় শান্তিময়          পূরবীরাগিনী-তানে

বাঁধিয়াছ প্রাণ।

আকাশের পানে চাই, সেই সুরে গান গাই

একেলা বসিয়া।

একে একে সুরগুলি, অনন্তে হারায়ে যায়

আঁধারে পশিয়া।

বলো দেখি কতদিন     আস নি এ শূন্য প্রাণে।

বলো দেখি কতদিন      চাও নি হৃদয়পানে,

বলো দেখি কতদিন      শোনো নি এ মোর গান–

তবে সখী গান-গাওয়া    হল বুঝি অবসান।

যে রাগ শিখায়েছিলে    সে কি আমি গেছি ভুলে?

তার সাথে মিলিছে না সুর?

তাই কি আস না প্রাণে,    তাই কি শোন না গান–

তাই সখী, রয়েছ কি দূর?

ভালো সখী, আবার শিখাও,

আরবার মুখপানে চাও,

একবার ফেলো অশ্রুজল,

আঁখিপানে দুটি আঁখি তুলি।

তা হলে পুরানো সুর                আবার পড়িবে মনে,

আর কভু যাইব না ভুলি।

সেই পুরাতন চোখে               মাঝে মাঝে চেয়ো সখী,

উজলিয়া স্মৃতির মন্দির।

এই পুরাতন প্রাণে                 মাঝে মাঝে এসো সখী,

শূন্য আছে প্রাণের কুটির।

নহিলে আঁধার মেঘরাশি

হৃদয়ের আলোক নিবাবে,

একে একে ভুলে যাব সুর,

গান গাওয়া সাঙ্গ হয়ে যাবে।

***

THE GIFT

 

I have long forgotten when one day in my youth

You came close to my soul,

Your eyes filled with compassion and evening shade

Perhaps you smiled but once.

I suppose they learnt to shelter with their gaze from evening itself

Those two eyes –

They look inwards and draw a calm repose upon the soul,

Starlight begins to glow.

Who would have known how much was once kept from the world

Within the recesses of the heart,

With your eyes                 my own heart

I see clearly.

Never did you speak once     but in silence

You still gave me song.

Filled with dreams and peace to the strains of Purabi

You have tuned my soul.

I look to the skies and sing to that tune

Alone.

One by one the tunes, are lost into the infinite

Once they enter that darkness.

Tell me how it has been since you have not been to this empty heart.

And how long it has been that you have not looked at this heart,

Tell me how long you have not heard me sing –

But then perhaps I am done with my song.

Have I forgotten that tune you taught?

Does my song not ring true?

Is that why you no longer visit my heart, is that why you listen no more –

Is that why you remain afar?

Then I ask you, teach me once more,

Look upon me once again,

Shed tears once,

As you raise your eyes once more to mine.

Then that old song I will recall once more,

And never lose again.

Look upon me with the eyes of our past

Brightening the altar of memories.

To this old soul too, come when you can

This heart lies empty.

Or else the dark clouds

Will blow out the light within,

And I will forget each tune,

Silenced will be my days of song.
To hear the Raga Purvi:

 

 

হাস্যকৌতুকঃ ছাত্রের পরীক্ষা/Cchatrer Porikkha/ An examination

ছাত্রের পরীক্ষা

 

 

ছাত্র শ্রীমধুসূদন

 

শ্রীযুক্ত কালাচাঁদ মাস্টার পড়াইতেছেন

 

অভিভাবকের প্রবেশ

 

অভিভাবক।

মধুসূদন পড়াশুনো কেমন করছে কালাচাঁদবাবু?

 

কালাচাঁদ।

আজ্ঞে, মধুসূদন অত্যন্ত দুষ্ট বটে, কিন্তু পড়াশুনোয় খুব মজবুত। কখনো একবার বৈ দুবার বলে দিতে হয় না। যেটি আমি একবার পড়িয়ে দিয়েছি সেটি কখনো ভোলে না।

 

অভিভাবক।

বটে! তা, আমি আজ একবার পরীক্ষা করে দেখব।

 

কালাচাঁদ।

তা , দেখুন-না।

 

মধুসূদন।

(স্বগত) কাল মাস্টারমশায় এমন মার মেরেছেন যে আজও পিঠ চচ্চড় করছে। আজ এর শোধ তুলব। ওঁকে আমি তাড়াব।

 

অভিভাবক।

কেমন রে মোধো, পুরোনো পড়া সব মনে আছে তো?

 

মধুসূদন।

মাস্টারমশায় যা বলে দিয়েছেন তা সব মনে আছে।

 

অভিভাবক।

আচ্ছা, উদ্ভিদ্‌ কাকে বলে বল্‌ দেখি।

 

মধুসূদন।

যা মাটি ফুঁড়ে ওঠে।

 

অভিভাবক।

একটা উদাহরণ দে।

 

মধুসূদন।

কেঁচো!

 

কালাচাঁদ।

(চোখ রাঙাইয়া ) অ্যাঁ! কী বললি!

 

অভিভাবক।

রসুন মশায়, এখন কিছু বলবেন না।

 

মধুসূদনের প্রতি

 

তুমি তো পদ্যপাঠ পড়েছ; আচ্ছা, কাননে কী ফোটে বলো দেখি?

 

মধুসূদন।

কাঁটা।

 

কালাচাঁদের বেত্র-আস্ফালন

 

কী মশায়, মারেন কেন? আমি কি মিথ্যে কথা বলছি?

 

অভিভাবক।

আচ্ছা, সিরাজউদ্দৌলাকে কে কেটেছে? ইতিহাসে কী বলে?

 

মধুসূদন।

পোকায়।

 

বেত্রাঘাত

 

আজ্ঞে, মিছিমিছি মার খেয়ে মরছি– শুধু সিরাজউদ্দৌলা কেন, সমস্ত ইতিহাসখানাই পোকায় কেটেছে! এই দেখুন।

 

প্রদর্শন।

কালাচাঁদ মাস্টারের মাথা-চুলকায়ন

 

অভিভাবক।

ব্যাকরণ মনে আছে?

 

মধুসূদন।

আছে।

 

অভিভাবক।

“কর্তা’ কী, তার একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও দেখি।

 

মধুসূদন।

আজ্ঞে, কর্তা ওপাড়ার জয়মুন্‌শি।

 

অভিভাবক।

কেন বলো দেখি।

 

মধুসূদন।

তিনি ক্রিয়া-কর্ম নিয়ে থাকেন।

 

কালাচাঁদ।

(সরোষে) তোমার মাথা!

 

পৃষ্ঠে বেত্র

 

মধুসূদন।

(চমকিয়া) আজ্ঞে, মাথা নয়, ওটা পিঠ।

 

অভিভাবক।

ষষ্ঠী-তৎপুরুষ কাকে বলে?

 

মধুসুদন।

জানি নে।

 

কালাচাঁদবাবুর বেত্র-দর্শায়ন

 

মধুসদন।

ওটা বিলক্ষণ জানি– ওটা যষ্টি-তৎপুরুষ।

 

অভিভাবকের হাস্য এবং কালাচাঁদবাবুর তদ্‌বিপরীত ভাব

 

অভিভাবক।

অঙ্কশিক্ষা হয়েছে?

 

মধুসূদন।

হয়েছে।

 

অভিভাবক।

আচ্ছা, তোমাকে সাড়ে ছ’টা সন্দেশ দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে যে,পাঁচ মিনিট সন্দেশ খেয়ে যতটা সন্দেশ বাকি থাকবে তোমার ছোটো ভাইকে দিতে হবে। একটা সন্দেশ খেতে তোমার দু-মিনিট লাগে, কটা সন্দেশ তুমি তোমার ভাইকে দেবে?

 

মধুসূদন।

একটাও নয়।

 

কালাচাঁদ।

কেমন করে।

 

মধুসূদন।

সবগুলো খেয়ে ফেলব। দিতে পারব না।

 

অভিভাবক।

আচ্ছা, একটা বটগাছ যদি প্রত্যহ সিকি ইঞ্চি করে উঁচু হয় তবে যে বট এ বৈশাখ মাসের পয়লা দশ ইঞ্চি ছিল ফিরে বৈশাখ মাসের পয়লা সে কতটা উঁচু হবে?

 

মধুসূদন।

যদি সে গাছ বেঁকে যায় তা হলে ঠিক বলতে পারি নে, যদি বরাবর সিধে ওঠে তা হলে মেপে দেখলেই ঠাহর হবে, আর যদি ইতিমধ্যে শুকিয়ে যায় তা হলে তো কথাই নেই।

 

কালাচাঁদ।

মার না খেলে তোমার বুদ্ধি খোলে না! লক্ষ্মীছাড়া, মেরে তোমার পিঠ লাল করব, তবে তুমি সিধে হবে!

 

মধুসূদন।

আজ্ঞে, মারের চোটে খুব সিধে জিনিসও বেঁকে যায়।

 

অভিভাবক।

কালাচাঁদবাবু, ওটা আপনার ভ্রম। মারপিট করে খুব অল্প কাজই হয়। কথা আছে গাধাকে পিটোলে ঘোড়া হয় না, কিন্তু অনেক সময়ে ঘোড়াকে পিটোলে গাধা হয়ে যায়। অধিকাংশ ছেলে শিখতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ মাস্টার শেখাতে পারে না। কিন্তু মার খেয়ে মরে ছেলেটাই। আপনি আপনার বেত নিয়ে প্রস্থান করুন, দিনকতক মধুসূদনের পিঠ জুড়োক, তার পরে আমিই ওকে পড়াব।

 

মধুসূদন।

( স্বগত) আঃ, বাঁচা গেল।

 

কালাচাঁদ।

বাঁচা গেল মশায়! এ ছেলেকে পড়ানো মজুরের কর্ম, কেবলমাত্র ম্যানুয়েল লেবার। ত্রিশ দিন একটা ছেলেকে কুপিয়ে আমি পাঁচটি মাত্র টাকা পাই, সেই মেহনতে মাটি কোপাতে পারলে দিনে দশটা টাকাও হয়।

***

AN EXAMINATION

The student: Madhu

The teacher: Kalachand

 

Madhu’s guardian enters the room.

 

Guardian: How is he doing in his studies Mr. Kalachand?

Kalachand: Despite being very naughty he is very good at his studies. One does not have to repeat things to him at all. He remembers everything after I say it to him once.

Guardian: Really! Let me test his aptitude today for myself.

Kalachand: Of course, go ahead.

Madhusudan to himself: (You hit me so hard yesterday that my back still hurts. I will take revenge today. I will get rid of you!)

Guardian: So my boy, you remember all the previous lessons?

Madhu: I remember everything the teacher said to me.

 

Guardian: Okay, tell me then what a plant is.

Madhu: Things that emerge from the ground.

Guardian: Give me an example.

Madhu: A worm.

 

Kalachand: What! What are you saying? (visibly angry)

Guardian: Wait, do not interrupt now.

To Madhu: You have read the poetry book; tell me, what pops up in the garden?

Madhu: Thorns. (Upon hearing this the teacher strikes him with his cane.)

Madhu: Why are you hitting me sir? Am I lying?

Guardian: Now, what felled Sirajuddaulah? What does history tell us?

Madhu: Insects. (Swishing of the cane)

Excuse me, you strike me without reason – why just Sirajuddaulah, all the chapters have been eaten up by silverfish. See?

He shows the pages. The teacher scratches his head.

Guardian: Do you remember your grammar?

Madhu: Yes.

Guardian: Give an example and explain the idea of subject or ‘karta

Madhu: Please, that must be our neighbour Joy Munshi.

Guardian: Why is that?

 

Madhu: He does all the work.

 

Kalachand, angrily: You fat head!

(Hits him on the back)

Madhu: But sir! That is not my head, that is my back.

Guardian: What is ‘Shashthi Tatpurush’?

Madhu: I do not know.

 

Kalachand shows him the cane again.

Madhu: I know that  very well. It is a stick without a carrot.

His guardian smiles while the teacher scowls.

Guardian: Have you studied mathematics?

Madhu: I have.

Guardian: Well, imagine you are given six and a half cakes and are told to eat cake for five minutes and then give the remainder to your younger brother. You can eat one cake in two minutes, how many cakes will you give your brother?

 

Madhu: None.

Kalachand: But how?

 

Madhu: I will eat all of them. I won’t give him any.

Guardian: If a tree grows a quarter of an inch each day then how tall will a ten inch tree be in the period from Baishakh this year till Baishakh next year.

Madhu: If the tree bends, I cannot say and if it grows straight we will be able to measure it and tell how much it grew. Of course, if it dies then there is no mathematics in this at all.

Kalachand: I can see you will smarten up without a couple of licks of the switch! Stupid fool, I will give you such a thrashing I will straighten you out for good!

 

Madhu: Excuse me, sometimes beatings can make straight stuff crooked.

Guardian: Kalachand, that is your mistake. Very little can be achieved by thrashings. It is said that one cannot turn a donkey into a horse by hitting it but the converse is often true as well; a horse can be turned into a donkey with ill treatment. Most children are able to learn easily but most teachers do not know how to teach. You may take your cane and depart; I will let Madhu’s back heal and then begin teaching him myself.

Madhusudan to himself: Good riddance!

 

Kalachand: Thank God! Teaching is pure drudgery, like manual labour! I get so little after thirty days of teaching one boy, I could easily get double that each day if I dug holes for a living.

 

আমি সন্ধ্যাদীপের শিখা/ Aami shondhyadeeper shikha/I am the flame that burns in the evening lamp light

আমি   সন্ধ্যাদীপের শিখা,

          অন্ধকারের ললাট-মাঝে পরানু রাজটিকা ॥

তার         স্বপনে মোর আলোর পরশ   জাগিয়ে দিল গোপন হরষ,

              অন্তরে তার রইল আমার প্রথম প্রেমের লিখা ॥

                   আমার   নির্জন উৎসবে

              অম্বরতল হয় নি উতল পাখির কলরবে।

যখন    তরুণ রবির চরণ লেগে   নিখিল ভুবন উঠবে জেগে

              তখন আমি মিলিয়ে যাব ক্ষণিক মরীচিকা ॥

রাগ: ইমনকল্যাণ
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৭ পৌষ, ১৩৩০
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ২ জানুয়ারি, ১৯২৪
রচনাস্থান: শ্রীনিকেতন
স্বরলিপিকার: অনাদিকুমার দস্তিদার

tagore in Russia

I am the flame that burns in the evening lamp light

         My presence like a victory mark upon the forehead of darkened night

My luminous touch within its dreams a secret joy awakens,

             In its soul the tales of my first love are written.

                  In the midst of my solitary celebration

          The skies did not exult, nor birds sing in unison.

When the young sun steps out and the world wakes from its slumber 

            I will then fade away, as though a mirage no one will remember.

Raga: Yaman Kalyan
Beat: Dadra
Written on: 17th Poush, 1330
Written n: 2nd January, 1924
Written at: Sriniketan
Score: Anadi Kumar Dastidar

To listen follow the link:
Debabrata Biswas:

 

যখন এসেছিলে অন্ধকারে/Jawkhon Eshechiley/ When you came, twas all darkness

যখন    এসেছিলে অন্ধকারে

              চাঁদ ওঠে নি সিন্ধুপারে॥

হে অজানা, তোমায় তবে   জেনেছিলেম অনুভবে–

গানে তোমার পরশখানি বেজেছিল প্রাণের তারে॥

         তুমি    গেলে যখন একলা চলে

              চাঁদ উঠেছে রাতের কোলে।

তখন দেখি, পথের কাছে   মালা তোমার পড়ে আছে–

বুঝেছিলেম অনুমানে এ কণ্ঠহার দিলে কারে॥

 

রাগ: পিলু-বারোয়াঁ
তাল: তেওরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৬ পৌষ, ১৩৩০
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১ জানুয়ারি, ১৯২৪
রচনাস্থান: শ্রীনিকেতন

***

 

When you came, twas all darkness

              The moon had not risen by the sea.

Oh mysterious one, I knew you then only with my heart-

Your touch resonating through my soul as song.

         When you went away on your own

             The moon had risen to sit upon night’s lap.

What should I see, but your garland by the roadside –

 I knew then without being told for whom you had left that precious gift.

 

Raga: Pilu Barwa
Beat: Teora
Written: 16th Poush, 1330; January 1, 1924
Written at: Sriniketan

Follow the links:
Sharmila Roy Pommot: (Will need to click on Youtube option to listen)

Suchitra Mitra: