প্রভু, বলো বলো কবে/ Prabhu, bawlo bawlo kawbe/ Lord, I beseech you, tell me when

প্রভু,   বলো বলো কবে

তোমার    পথের ধুলার রঙে রঙে আঁচল রঙিন হবে।

              তোমার বনের রাঙা ধূলি  ফুটায় পূজার কুসুমগুলি,

    সেই ধূলি হায় কখন আমায় আপন করি’ লবে?

    প্রণাম দিতে চরণতলে  ধুলার কাঙাল যাত্রীদলে

    চলে যারা, আপন ব’লে চিনবে আমায় সবে॥

রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1342
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1936
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

Lord, I beseech you, tell me when

My robes will turn red in the dust that rises from the path that leads to you

              The red dust in your forests takes the form of the blooms that I offer at your feet

    When will that dust alas accept me as one of its own?

    Those who journey to your feet, craving the dust as a blessing

    They too will then know me on sight.

Raga: Bhairavi
Beat: Dadra
Written: 1936
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

Follow the link, to hear Suchitra Mitra:

Advertisements
This entry was posted on September 4, 2014, in Prayer/Puja.

তোতাকাহিনী/Totakahinee/The bird’s tale

তোতাকাহিনী

এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।

রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’

মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’

রাজার ভাগিনাদের উপর ভার পড়িল পাখিটাকে শিক্ষা দিবার।

পণ্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করিলেন। প্রশ্নটা এই, উক্ত জীবের অবিদ্যার কারণ কী।

সিদ্ধান্ত হইল, সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বিদ্যা বেশি ধরে না। তাই সকলের আগে দরকার, ভালো করিয়া খাঁচা বানাইয়া দেওয়া।

রাজপণ্ডিতেরা দক্ষিণা পাইয়া খুশি হইয়া বাসায় ফিরিলেন।

স্যাকরা বসিল সোনার খাঁচা বানাইতে। খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে, দেখিবার জন্য দেশবিদেশের লোক ঝুঁকিয়া পড়িল। কেহ বলে, ‘শিক্ষার একেবারে হদ্দমুদ্দ।’ কেহ বলে, ‘শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। পাখির কী কপাল।’

স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকশিশ পাইল। খুশি হইয়া সে তখনি পাড়ি দিল বাড়ির দিকে।

পণ্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে। নস্য লইয়া বলিলেন, ‘অল্প পুঁথির কর্ম নয়।’

ভাগিনা তখন পুঁথিলিখকদের তলব করিলেন। তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বতপ্রমাণ করিয়া তুলিল। যে দেখিল সেই বলিল, ‘সাবাস। বিদ্যা আর ধরে না।’

লিপিকরের দল পারিতোষিক লইল বলদ বোঝাই করিয়া। তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল। তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না।

অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই। মেরামত তো লাগিয়াই আছে। তার পরে ঝাড়া মোছা পালিশ-করা ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল, ‘উন্নতি হইতেছে।’

লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপর নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আরও বিস্তর। তারা মাস-মাস মুঠা-মুঠা তনখা পাইয়া সিন্ধুক বোঝাই করিল।

তারা এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো মাসতুতো ভাইরা খুশি হইয়া কোঠাবালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল।

সংসারে অন্য অভাব অনেক আছে, কেবল নিন্দুক আছে যথেষ্ট। তারা বলিল, ‘খাঁচাটার উন্নতি হইতেছে, কিন্তু পাখিটার খবর কেহ রাখে না।’

কথাটা রাজার কানে গেল। তিনি ভাগিনাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন স্যাকরাদের, পণ্ডিতদের, লিপিকরদের, ডাকুন যারা মেরামত করে এবং মেরামত তদারক করিয়া বেড়ায়। নিন্দুকগুলো খাইতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা বলে।’

জবাব শুনিয়া রাজা অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন, আর তখনি ভাগিনার গলায় সোনার হার চড়িল।

শিক্ষা যে কী ভয়ংকর তেজে চলিতেছে, রাজার ইচ্ছা হইল স্বয়ং দেখিবেন। একদিন তাই পাত্র মিত্র অমাত্য লইয়া শিক্ষাশালায় তিনি স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত।

দেউড়ির কাছে অমনি বাজিল শাঁখ ঘণ্টা ঢাক ঢোল কাড়া নাকাড়া তুরী ভেরি দামামা কাঁসি বাঁশি কাঁসর খোল করতাল মৃদঙ্গ জগঝম্প। পণ্ডিতেরা গলা ছাড়িয়া, টিকি নাড়িয়া, মন্ত্রপাঠে লাগিলেন। মিস্ত্রি মজুর স্যাকরা লিপিকর তদারকনবিশ আর মামাতো পিসতুতো খুড়তুতো এবং মাসতুতো ভাই জয়ধ্বনি তুলিল।

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, কাণ্ডটা দেখিতেছেন!’

মহারাজ বলিলেন, ‘আশ্চর্য। শব্দ কম নয়।’

ভাগিনা বলিল, ‘শুধু শব্দ নয়, পিছনে অর্থও কম নাই।’

রাজা খুশি হইয়া দেউড়ি পার হইয়া যেই হাতিতে উঠিবেন এমন সময়, নিন্দুক ছিল ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়া, সে বলিয়া উঠিল, ‘মহারাজ, পাখিটাকে দেখিয়াছেন কি।’

রাজার চমক লাগিল; বলিলেন, ‘ঐ যা! মনে তো ছিল না। পাখিটাকে দেখা হয় নাই।’

ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতকে বলিলেন, ‘পাখিকে তোমরা কেমন শেখাও তার কায়দাটা দেখা চাই।’

দেখা হইল। দেখিয়া বড়ো খুশি। কায়দাটা পাখিটার চেয়ে এত বেশি বড়ো যে, পাখিটাকে দেখাই যায় না; মনে হয়, তাকে না দেখিলেও চলে। রাজা বুঝিলেন, আয়োজনের ত্রুটি নাই। খাঁচায় দানা নাই, পানি নাই; কেবল রাশি রাশি পুঁথি হইতে রাশি রাশি পাতা ছিঁড়িয়া কলমের ডগা দিয়া পাখির মুখের মধ্যে ঠাসা হইতেছে। গান তো বন্ধই, চীৎকার করিবার ফাঁকটুকু পর্যন্ত বোজা। দেখিলে শরীরে রোমাঞ্চ হয়।

এবারে রাজা হাতিতে চড়িবার সময় কানমলা-সর্দারকে বলিয়া দিলেন, নিন্দুকের যেন আচ্ছা করিয়া কান মলিয়া দেওয়া হয়।

পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র-দস্তুর-মতো আধমরা হইয়া আসিল। অভিভাবকেরা বুঝিল, বেশ আশাজনক। তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায় রকমে পাখা ঝট্‌পট্‌ করে। এমন কি, এক-একদিন দেখা যায়, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলা কাটিবার চেষ্টায় আছে।

কোতোয়াল বলিল, ‘এ কী বেয়াদবি।’

তখন শিক্ষামহালে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির। কী দমাদ্দম পিটানি। লোহার শিকল তৈরি হইল, পাখির ডানাও গেল কাটা।

রাজার সম্বন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, ‘এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই।’

তখন পণ্ডিতেরা এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কাণ্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা।

কামারের পসার বাড়িয়া কামারগিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়ালের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।

পাখিটা মরিল। কোন্‌কালে যে কেউ তা ঠাহর করিতে পারে নাই। নিন্দুক লক্ষ্ণীছাড়া রটাইল, ‘পাখি মরিয়াছে।’

ভাগিনাকে ডাকিয়া রাজা বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’

রাজা শুধাইলেন, ‘ও কি আর লাফায়।’

ভাগিনা বলিল, ‘আরে রাম!’

‘আর কি ওড়ে।’

‘না।’

‘আর কি গান গায়।’

‘না।’

‘দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়।’

‘না।’

রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’

পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্‌খস্‌ গজ্‌গজ্‌ করিতে লাগিল।

বাহিরে নববসন্তের দক্ষিণহাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।

cage

Totakahinee or The Bird’s Tale

1
Once there was a bird. It was uneducated. It used to sing, but it had never read the scriptures. It hopped about and it flew but it did not know what good manners were.
The king said, ‘This kind of bird is of no use, for it eats the fruits of the forest and this is leading to losses in the markets.’
He ordered the minister, ‘Teach the bird a lesson.’

2
The duty of training the bird fell upon the shoulders of the king’s nephews.
The learned men sat and discussed at length why the accused creature was versed in the wrong kind of knowledge.
They concluded that the nest the bird built out of ordinary straw was not enough to hold a great deal of knowledge. Thus the first thing needed was the construction of a good cage.
The pundits went home happily with their grants from the king.

3
The goldsmith set about making a golden cage. This was so amazing that people from near and far came to look at it. Some said, ‘This is the ultimate in education!’ Others said, ‘Even if it is not educated, it got a cage out of all this! What luck!’
The fellow got a sack filled with money as payment. He set off for home in high spirits immediately.
The wise man sat down with the bird to teach it. He took a pinch of snuff and said, ‘This will never do with a few books.’
The nephew then sent for the writers. They made copies of books and then copies of the copies till there was a mountain of paper. Whoever saw this said, ‘Bravo! This is education if nothing else.’
The scribes had to carry their rewards home by bullock cart. They went back quickly too. From that day onwards there was no more need in their homes.
There was no end to the attention the nephews gave the costly golden cage. There were ongoing maintenance costs. It also needed regular dusting and polishing which made everyone agree, ‘This is improvement.’
Many people had to be employed and many other people were engaged to keep an eye on the first lot of employees. This army filled their coffers with fistfuls of cash each month.
They and all the cousins they had of every hue were now able to behave like men of means and leisure.

4
There is need of every kind in life, but never a shortage of critics. They now said, ‘The cage is an improvement, but what news of the bird?’
This remark made its way to the king’s ears. He called for his nephews and said, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Oh Great King, if you wish to hear the truth, send for the goldsmith, the learned men and the scribes, call those who repair the cage and summon those who keep an eye on those that repair the cage. The naysayers are the ones who have not made any profit out of this.’
The king understood exactly what was going on and gifted a golden chain to his nephew immediately.

5
The king expressed a wish to see for himself how the great education of the bird was going. One day he arrived at the classroom with all his courtiers.
At that very moment the gates rang out with conch shells, bells, drums of every kind, cymbals, flutes and gongs, The learned men were loudly reciting the lessons , their sacred tufts of hair shaking with the effort. There was a welcoming roar from the masons, the goldsmith, the scribes, the overseers and their supervisors as well the various cousins.
The nephew said, ‘King, you see what a great affair this is!’
The king said, ‘Astounding! And so noisy too!’
The nephew answered, ‘Not just noise, there is much meaning to all of this.’
The king happily crossed the gate and was just about to mount his elephant when a critic hiding in the bushes said to him, ‘Great king, but did you see the bird?’
The king, startled though he was, had to admit, ‘Alas! That completely slipped my mind. I did not get to see the bird.’
He came back and said to the pundit, ‘I should like to see how you teach the bird.’
He went and saw. It pleased him greatly. The pomp surrounding the bird was so great that it was hardly to be seen. And to tell the truth, it did not seem that important that one saw the creature. The king understood that there was no lapse in the arrangements. There was no food in the cage, nor any water; but the pages of a hundred wise tomes were being stuffed into the bird’s mouth. It was unable to open its beak even to shriek, let along sing. It was truly thrilling.
This time while mounting the elephant, the king told his principal ear-boxer to box the ears of the critic very soundly indeed.

6
The bird grew more and more civilized each day as its life drained away. Its guardians understood that the situation was very encouraging. And yet the bird still fluttered its wings most annoyingly each morning as it gazed upon the morning light, thanks to its intemperate nature. It was even observed that on some days it tried to gnaw through the bars of its cage with its puny beak.
The jailer said, ‘What insolence!’
The blacksmith was brought to the schoolhouse, complete with his bellows, hammers and furnace. With a tremendous clanging an iron chain was fashioned and the bird’s wings were also clipped.
The king’s sycophants made glum faces and shook their heads saying, ‘In this kingdom the birds are not just ignorant, they have no sense of gratitude either.’
Then the wise men picked up pens in one hand and spears in another and gave a demonstration of real teaching.
The blacksmith made so much money that his wife was able to buy herself gold jewellery and the king rewarded the jailer’s vigilance with a title.

7
The bird died. No one had even noticed when this had happened. The good for nothing critic went about saying, ‘The bird is dead.’
The king called for his nephew and asked, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Great king, it has been educated.’
The king asked, ‘Does it flap around anymore?’
The nephew answered, ‘Dear God, No!’
‘Does it fly anymore?’
‘No.’
‘Does it burst into song anymore?’
‘No.’
‘Does it shriek when not fed?’
‘No.’
The king commanded, ‘Bring the bird to me once, I so wish to see it.’
The bird came. The jailer came with it, as did the guards and the mounted policemen. The king poked the bird; it did not utter a single sound in agreement or in protest. There was just a rustling from the dry paper that filled its body.

Outside the palace, the southerly winds of spring sighed among the new buds and drove the skies above the flowering forests quite mad.

Image: http://antiquesimagearchive.com/items

আকাশপ্রদীপ/Akash Prodeep/ Lights in the sky, from the collection known as Lights in the Sky

                               গোধূলিতে নামল আঁধার,

                                        ফুরিয়ে গেল বেলা,

                          ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল

                                        চেনা মুখের মেলা।

                          দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা

                                        নয়ন ছলোছলো,

                          এবার তবে ঘরের প্রদীপ

                                        বাইরে নিয়ে চলো।

                          মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা

                   আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা।

                          পাণ্ডু-আঁধার বিদায়রাতের শেষে

                   যে তাকাত শিশিরসজল শূন্যতা-উদ্দেশে

                          সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে

                                অস্তলোকের প্রান্তদ্বারের কাছে।

                   অকারণে তাই এ প্রদীপ জ্বালাই আকাশ-পানে–

                          যেখান হতে স্বপ্ন নামে প্রাণে।

 

শান্তিনিকেতন, ২৪। ৯। ৩৮

 

                                                       Lights in the sky

                         Darkness descends at the twilit hour,

                                        This day is nearly done,

                          Within my heart draws to a close

                                        The gathering of familiar faces.

                          The eye traces without purpose

                                       The distance through unshed tears,

                           Let us then carry the lamp 

                                        And take ourselves without.

                          Those stars that once watched over our nights of love

                  Still burn bright in the sky above.

                          In the fading night when the hour was right for me to leave,

                   That star which once wept tears of dew

                          Still watches over me as always,

                                At that junction where life must pause.

                  That is why I lift this lamp to that very sky….

                          From whence dreams will descend upon my soul.

 

Santiniketan, 24.09.38

বুঝি না, বুঝতে পারি না, চাইও না/We do not understand, we are incapable of comprehending and we do not wish to either: http://www.anandabazar.com/editorial/bengalis-do-not-want-to-understand-rabindranath-never-understood-him-1.151521#

Regardless of whether Bengalis read Rabindranath Tagore’s work with attention or not, lately curiosity in Rabindranath as a person has flared up. This eagerness has recently found a new focus. This is what might be described as Tagore’s ‘love life.’ One notices a lot of discussion, writing, serialized accounts and films that deal with this. There is no point rueing this eagerness. Rabindranath never labelled himself an ascetic of any sort. But one must look into the recent phenomenon affecting Bengalis, namely their overwhelming interest in Tagore’s ‘love life.’ It is worth considering what Tagore has been reduced to in this cyclical waxing and waning.

One might describe this current uproar over Tagore’s loves as an ‘opposing reaction.’ He was the founder of the school at Santiniketan and his robed and bearded appearance as Gurudev is the image most Bengalis think of. Many adore him, almost as an otherworldly presence. They feel that it is utter sacrilege to even think about his love life. They keep their Tagore safe by judging his love poems through abstract comparisons and in the guise of philosophical discussions of the infinite. Perhaps this hysteria regarding the purity of Tagore was once so great in Bengali society that we are now seeing an opposing reaction to it. Marketability plays a big role here. The personal life of the poet is now a top billed item in the market. During his life he was not bereft of female company. Many people from near and far were keen to be in the company of the talented, good humoured and handsome poet and there were women among this devoted following. Neither was he averse to life. The life of a man who once wished to experience life in all its diversity has today become a subject of stories of mere physical attraction at the hands of contemporary purveyors of Bengali culture; this is hardly surprising seeing that today’s Bengali culture has blossomed as a opposing reaction to the past. The names of Kadambari, Ocampo and Ranu are heard again and again. Especially that of Kadambari owing to her suicide. Bengalis do not have the mental fortitude to take part in a great tragedy but on the whole they have a great inclination and interest in light melodrama. That need has been fulfilled by the relationship between Tagore and Kadambari. This is a sign of two complementary traits seen in Bengalis. Firstly, Bengalis are not aware of appropriateness and hence secondly, they have no empathy. Empathy is the ability to feel the same feelings as someone else. One must have empathy to understand and know another person and this is helped by having some idea about the person we need to understand. One has to study deeply and learn much for that. In the West a lot of work has been done on the personal lives of famous thinkers but at present Bengal lacks even the smallest part of the effort, intelligence and imagination that is at work in those ventures. Tagore had wished to make imagination a partner to empathy. This imagination is characterised by the ability to be as another or the desire to do so. One must first understand the other. If one studies Tagore’s life and reads his work with attention to detail, one can see how he attempted all through his life to especially honour the equation between men and women. Tagore never denied that physical attraction is ever present in the relationships between men and women and within the human heart. He singled out his predecessor Vidyasagar for special praise because Vidyasagar recognised that a widow’s body did not turn to stone simply because her husband passed away. Tagore was thus different from the ‘path of selfless sacrifice’ adherents of the nineteenth and twentieth century who declared that this natural desire for physical love was to be suppressed for the sake of society and country. Bankim Chandra decreed in ‘Mrinalini’ and later in ‘Anandamath’ that personal feelings of love were to be locked away so that one might serve the country. But Tagore did not sacrifice Ela and Antu’s love for the sake of the country in his novel ‘Char Adhyay’.

He believed that a woman’s self esteem played a very important role in marital relations and that this self esteem was not found only in educated women living in cities but in all self aware women, no matter what their economic background. In his story ‘Shasti’ or Punishment, it is this self respect that gives the wrongfully blamed Chandara the strength to refuse a meeting with her accuser and husband Chidam before she is hanged. It was self respect again that gave the rural woman Mrinal the courage to leave her husband’s home (Streer Potro).

Tagore did not merely wish to define and construct a new language for femininity; he created a new definition for masculinity as well. His ideal male does not occupy a woman but rather attempts to understand women through his own pliant humanity. Nikhilesh of ‘Ghawrey Bairey’ and Madhusudan of ‘Jogajog’ are noteworthy in this respect.

It is only natural that he who placed such importance on the mutually sympathetic understanding in relationships between men and women would himself become a person trusted by women in his personal life at a time when not understanding the female mind was the rule. He had relationships with various people such as Ranu, Kadambari and Ocampo. Those relationships differed in both importance and significance. Kadambari’s death made Tagore grow as a writer and the memories surrounding her death have returned again and again in many of his writings. And yet he is seen as a loving and dutiful husband to Mrinalini. Various women who were spellbound by his qualities came into his life after Mrinalini’s death. These human interactions all enriched his life. Our minds seek varied experiences. It is as though he enjoyed that variety of experience through his varied relationships. He never insulted anyone’s self respect.

The average Bengali is happy enough with their success in reducing the great to their own stature. But the act of reducing everyone to one’s own measurements without attempting to understand them is in fact a form of terrorism. If we persist in the terrorist act of pulling everyone down to our level, the stature of the Bengali people will keep lessening till we are able one day to sit on the kerb and still find our feet swinging in the air.

(Translation, mine)

Day one after my father’s passing away: দু:খ এ নয়, সুখ নহে গো /Dukkho e noy, shukh nawhe go/This is not sorrow, nor mere happiness

“দু:খ এ নয়, সুখ নহে গো– গভীর শান্তি এ যে
আমার সকল ছাড়িয়ে গিয়ে উঠল কোথায় বেজে।।
ছাড়িয়ে গৃহ, ছাড়িয়ে আরাম, ছাড়িয়ে আপনারে
সাথে করে নিল আমায় জন্মমরণপারে–
এল পথিক সেজে।।
চরণে তার নিখিল ভুবন নীরব গগনেতে
আলো-আঁধার আঁচলখানি আসন দিল পেতে।
এত কালের ভয় ভাবনা কোথায় যে যায় সরে,
ভালোমন্দ ভাঙাচোরা আলোয় ওঠে ভ’রে–
কালিমা যায় মেজে।”

This is not sorrow, nor mere happiness – but peace beyond measure
Overwhelming all, raising me into the infinite vastness
Leaving home behind and solace behind, leaving behind ego and self
Taking me to a realm beyond birth and death –
You who has wandered into my life.
At your feet the world gathers in the silent sky
To spread a cloak of darkness and light
Where did all the fear I had always felt disappear
Good, evil, broken and whole – flood with light divine –
As all imperfection washes away from this life of mine.

নতুন পুতুলঃ লিপিকা /The New Doll: Lipika

 

 

এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।

 

বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।

 

যখন তার বয়স হল প্রায় চার কুড়ি, এমনসময় মেলায় এক নতুন কারিগর এল। তার নাম কিষণলাল, বয়স তার নবীন, নতুন তার কায়দা।

 

যে পুতুল সে গড়ে তার কিছু গড়ে কিছু গড়ে না, কিছু রঙ দেয় কিছু বাকি রাখে। মনে হয়, পুতুলগুলো যেন ফুরোয় নি, যেন কোনোকালে ফুরিয়ে যাবে না।

 

নবীনের দল বললে, ‘লোকটা সাহস দেখিয়েছে।’

 

প্রবীণের দল বললে, ‘একে বলে সাহস? এ তো স্পর্ধা।’

 

কিন্তু, নতুন কালের নতুন দাবি। এ কালের রাজকন্যারা বলে, ‘আমাদের এই পুতুল চাই।’

 

সাবেক কালের অনুচরেরা বলে, ‘আরে ছিঃ।’

 

শুনে তাদের জেদ বেড়ে যায়।

 

বুড়োর দোকানে এবার ভিড় নেই। তার ঝাঁকাভরা পুতুল যেন খেয়ার অপেক্ষায় ঘাটের লোকের মতো ও পারের দিকে তাকিয়ে বসে রইল।

 

এক বছর যায়, দু বছর যায়, বুড়োর নাম সবাই ভুলেই গেল। কিষণলাল হল রাজবাড়ির পুতুলহাটের সর্দার।

 

 

বুড়োর মন ভাঙল, বুড়োর দিনও চলে না। শেষকালে তার মেয়ে এসে তাকে বললে, ‘তুমি আমার বাড়িতে এসো।’

 

জামাই বললে, ‘খাও দাও, আরাম করো, আর সবজির খেত থেকে গোরু বাছুর খেদিয়ে রাখো।’

 

বুড়োর মেয়ে থাকে অষ্টপ্রহর ঘরকরনার কাজে। তার জামাই গড়ে মাটির প্রদীপ, আর নৌকো বোঝাই করে শহরে নিয়ে যায়।

 

নতুন কাল এসেছে সে কথা বুড়ো বোঝে না, তেমনিই সে বোঝে না যে, তার নাৎনির বয়স হয়েছে ষোলো।

 

যেখানে গাছতলায় ব’সে বুড়ো খেত আগলায় আর ক্ষণে ক্ষণে ঘুমে ঢুলে পড়ে সেখানে নাৎনি গিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে; বুড়োর বুকের হাড়গুলো পর্যন্ত খুশি হয়ে ওঠে। সে বলে, ‘কী দাদি, কী চাই।’

 

নাৎনি বলে, ‘আমাকে পুতুল গড়িয়ে দাও, আমি খেলব।’

 

বুড়ো বলে, ‘আরে ভাই, আমার পুতুল তোর পছন্দ হবে কেন।’

 

নাৎনি বলে, ‘তোমার চেয়ে ভালো পুতুল কে গড়ে শুনি।’

 

বুড়ো বলে, ‘কেন, কিষণলাল।’

 

নাৎনি বলে, ‘ইস্‌! কিষণলালের সাধ্যি!’

 

দুজনের এই কথা-কাটাকাটি কতবার হয়েছে। বারে বারে একই কথা।

 

তার পরে বুড়ো তার ঝুলি থেকে মালমশলা বের করে; চোখে মস্ত গোল চশমাটা আঁটে।

 

নাৎনিকে বলে, ‘কিন্তু দাদি, ভুট্টা যে কাকে খেয়ে যাবে।’

 

নাৎনি বলে, ‘দাদা, আমি কাক তাড়াব।’

 

বেলা বয়ে যায়; দূরে ইঁদারা থেকে বলদে জল টানে, তার শব্দ আসে; নাৎনি কাক তাড়ায়, বুড়ো বসে বসে পুতুল গড়ে।

 

 

বুড়োর সকলের চেয়ে ভয় তার মেয়েকে। সেই গিন্নির শাসন বড়ো কড়া, তার সংসারে সবাই থাকে সাবধানে।

 

বুড়ো আজ একমনে পুতুল গড়তে বসেছে; হুঁশ হল না, পিছন থেকে তার মেয়ে ঘন ঘন হাত দুলিয়ে আসছে।

 

কাছে এসে যখন সে ডাক দিলে তখন চশমাটা চোখ থেকে খুলে নিয়ে অবোধ ছেলের মতো তাকিয়ে রইল।

 

মেয়ে বললে, ‘দুধ দোওয়া পড়ে থাক্‌, আর তুমি সুভদ্রাকে নিয়ে বেলা বইয়ে দাও। অত বড়ো মেয়ে, ওর কি পুতুলখেলার বয়স।’

 

বুড়ো তাড়াতাড়ি বলে উঠল, ‘সুভদ্রা খেলবে কেন। এ পুতুল রাজবাড়িতে বেচব। আমার দাদির যেদিন বর আসবে সেদিন তো ওর গলায় মোহরের মালা পরাতে হবে। আমি তাই টাকা জমাতে চাই।’

 

মেয়ে বিরক্ত হয়ে বললে, ‘রাজবাড়িতে এ পুতুল কিনবে কে।’

 

বুড়োর মাথা হেঁট হয়ে গেল। চুপ করে বসে রইল।

 

সুভদ্রা মাথা নেড়ে বললে, ‘দাদার পুতুল রাজবাড়িতে কেমন না কেনে দেখব।’

 

 

দু দিন পরে সুভদ্রা এক কাহন সোনা এনে মাকে বললে, ‘এই নাও, আমার দাদার পুতুলের দাম।’

 

মা বললে, ‘কোথায় পেলি।’

 

মেয়ে বললে, ‘রাজপুরীতে গিয়ে বেচে এসেছি।’

 

বুড়ো হাসতে হাসতে বললে, ‘দাদি, তবু তো তোর দাদা এখন চোখে ভালো দেখে না, তার হাত কেঁপে যায়।’

 

মা খুশি হয়ে বললে, ‘এমন ষোলোটা মোহর হলেই তো সুভদ্রার গলার হার হবে।’

 

বুড়ো বললে, ‘তার আর ভাবনা কী।’

 

সুভদ্রা বুড়োর গলা জড়িয়ে ধরে বললে, ‘দাদাভাই, আমার বরের জন্যে তো ভাবনা নেই।’

 

বুড়ো হাসতে লাগল, আর চোখ থেকে এক ফোঁটা জল মুছে ফেললে।

 

 

বুড়োর যৌবন যেন ফিরে এল। সে গাছের তলায় বসে পুতুল গড়ে আর সুভদ্রা কাক তাড়ায়, আর দূরে ইঁদারায় বলদে ক্যাঁ-কোঁ করে জল টানে।

 

একে একে ষোলোটা মোহর গাঁথা হল, হার পূর্ণ হয়ে উঠল।

 

মা বললে, ‘এখন বর এলেই হয়।’

 

সুভদ্রা বুড়োর কানে কানে বললে, ‘দাদাভাই, বর ঠিক আছে।’

 

দাদা বললে, ‘বল্‌ তো দাদি, কোথায় পেলি বর।’

 

সুভদ্রা বললে, ‘যেদিন রাজপুরীতে গেলেম দ্বারী বললে, কী চাও। আমি বললেম, রাজকন্যাদের কাছে পুতুল বেচতে চাই। সে বললে, এ পুতুল এখনকার দিনে চলবে না। ব’লে আমাকে ফিরিয়ে দিলে। একজন মানুষ আমার কান্না দেখে বললে, দাও তো, ঐ পুতুলের একটু সাজ ফিরিয়ে দিই, বিক্রি হয়ে যাবে। সেই মানুষটিকে তুমি যদি পছন্দ কর দাদা, তা হলে আমি তার গলায় মালা দিই।’

 

বুড়ো জিজ্ঞাসা করলে, ‘সে আছে কোথায়।’

 

নাৎনি বললে, ‘ঐ যে, বাইরে পিয়ালগাছের তলায়।’

 

বর এল ঘরের মধ্যে; বুড়ো বললে, ‘এ যে কিষণলাল।’

 

কিষণলাল বুড়োর পায়ের ধুলো নিয়ে বললে, ‘হাঁ, আমি কিষণলাল।

 

বুড়ো তাকে বুকে চেপে ধরে বললে, ‘ভাই, একদিন তুমি কেড়ে নিয়েছিলে আমার হাতের পুতুলকে, আজ নিলে আমার প্রাণের পুতুলটিকে।’

 

নাৎনি বুড়োর গলা ধরে তার কানে কানে বললে, ‘দাদা, তোমাকে সুদ্ধ।’

***

 

The New Doll

 

|1|

There was a master craftsman who only made dolls; dolls fit for a princess to play with.

Every year there was a doll fair in the palace courtyard. All the other artisans at the fair honoured the master craftsman with the respect reserved for the best.

When he was almost eighty years old, a new artisan came to the fair. His name was Kishanlal; youthful in years was he, hitherto unseen his methods.

The dolls he made looked complete in some ways and unfinished in others. He touches them with paint in some parts and leaves other parts untouched. The dolls look as if they are still being made, as if they will never be completed.

The young say, ‘Now this is courage!’

The old say, ‘Courage? This is effrontery!’

But, new times demand new things. Today’s princesses say, ‘We want these dolls.’

The old courtiers say, ‘For shame!’

Of course, this only strengthens the young people’s resolve.

The crowds no longer flock to the old man’s shop. His baskets filled with dolls wait just as people at the river bank wait for the ferry, staring at the other bank.

One year passed and then another; everyone forgot the old fellow’s name. Kishanlal became the leader of the doll sellers at the palace fair.

|2|

The old man was heartbroken. It was hard for him to make a living. In the end his daughter came and said to him, Come and stay with me.’

His son-in-law said, ‘Eat, drink and be merry. All you have to do us drive the stray cattle from the fields.’

His daughter is busy with her chores all day long. His son-in-law makes clay lamps and takes them to sell in the city when his boat is full.

The old man does not see that the times have changed, just as he does not understand that his granddaughter is now sixteen years old.

She goes to him where he sits in the shade of the trees, dozing off as he guards the field and puts her arms about his neck. Even his bones grow happy as he says, ‘What is it? What do you want?’

His granddaughter says, ‘Make me dolls to play with.’

The old man said, ‘But are you sure you even like the dolls I make?’

His granddaughter said, ‘Tell me then, is there anyone who makes better dolls than you?’

The old man said, ‘Why, how about Kishanlal?’

The girl answered, ‘He wishes he had your talent!’

The two often squabble like this. It is always about the same thing.

The old man then takes his equipment out of his bag and puts his enormous round glasses on.

He says to his granddaughter, ‘But dear, what about the crows eating the corn?’

His granddaughter says, ‘Grandfather, I will drive the crows away!’

Time passes; the bullock draws water noisily at the distant canal; the granddaughter drives the crows away and the old man makes his doll

3|

The old man fears his daughter most of all. She rules her world with an iron grasp, everyone is careful about what they do when she is around.

The old man was fashioning dolls with all his concentration today; he did not notice when his daughter came walking towards him from behind, her arms swinging busily.

When she came right up to him and spoke, he took his glasses off and looked at her with childlike innocence.

His daughter said, ‘The milking can wait I suppose, while you while away your time with Subhadra. She is a big girl now, is she going to play with dolls anymore?’

The old man said hurriedly, ‘Why would Subhadra play with these? I will sell these at the palace. For I have to give a necklace of coins to my child on the day her husband comes asking for her hand. I want to save money for that.’

His daughter said with some annoyance, ‘Who will buy these dolls at the palace!’

The old man’s head sank in shame. He sat in silence.

Subhadra shook her head and said, ‘I dare the people in the palace to keep their hands off my grandfather’s dolls.’

|4|

Two days later Subhadra brought a measure of gold and gave it to her mother saying, ‘Here you are, money for my grandfather’s dolls.’

Her mother asked, ‘Where did you get this?’

The girl answered, ‘I sold them at the palace.’

The old man said with a smile, ‘And yet your grandfather does not see so well these days, and yet you know that his hands tremble.’

Her mother said happily, ‘Sixteen gold pieces like this should make a fine adornment for Subhadra’s neck.’

The old man answered, ‘Do not worry about that.’

Subhadra wrapped her arms about his neck and said, ‘I do not need anyone else.’

The old man kept smiling as he wiped a tear from his eye.

|5|

The old man seemed to have regained his youth. He would sit under the tree and make dolls. Subhadra would drive off the crows and the bullock would draw water from the distant canal with a wheezing sound.

One by one the sixteen coins were strung and the necklace was completed.

Her mother said, ‘Now all we need is a groom!’

Subhadra whispered in his ear, ‘Grandfather, I have a groom all ready and waiting.’

‘But tell me, where did you find your groom?’

Subhadra answered, ‘That day when I went to the palace, the guard asked me what I wanted. I said that I was there to sell my dolls to the princesses. He said that my dolls were not in fashion any more. With those words he turned me away. One man was moved by my tears and said, ‘Give those dolls to me, I will dress them up a little and they will sell. If you say yes old grandfather, I will marry that man.’

The old craftsman asked, ‘Where is he?’

His granddaughter said, ‘There he stands, beneath the Piyal tree.’

Her groom entered the room; the old man said, ‘But this is Kishanlal!’

Kishanlal touched his feet in respectful greeting and said, ‘Yes, I am Kishanlal indeed.’

The old man clasped him to his chest and said, ‘Once you took the dolls I made, today you take the treasure of my heart.’

His granddaughter put her arms around his neck and whispered in his ear, ‘Along with you!’

 

 

 

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে/Amar Mukti Aaloy Aaloy Ei Aakashey/My salvation is bound to the light that fills this sky

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,

          আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে ॥

দেহমনের সুদূর পারে    হারিয়ে ফেলি আপনারে,

          গানের সুরে আমার মুক্তি ঊর্ধ্বে ভাসে ॥

          আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে,

          দুঃখবিপদ-তুচ্ছ-করা কঠিন কাজে।

বিশ্বধাতার যজ্ঞশালা আত্মহোমের বহ্নি জ্বালা–

          জীবন যেন দিই আহুতি মুক্তি-আশে।

রাগ: মিশ্র কেদারা
তাল: তেওরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২ আশ্বিন, ১৩৩৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬
রচনাস্থান: ন্যুর্নবর্গ, জার্মানী
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

***

My salvation is bound to the light that fills this sky

         My salvation is hidden in the very dust and in blades of grass

I lose myself beyond the far reaches of this body and soul,

          My salvation rises far in the strains of song

          My salvation is in everyone’s thought,

          As it is in the most difficult of tasks accomplished at much cost

On the altar to the creator where self burns in an eternal flame –

          May I give my life in the hope of freedom

Raga: Mishra Kedara
Beat: TeoRa
Written: Second of Aswin, 1333
19th September, 1926
Written in: Nuernburg, Germany
Score: Dinendranath Tagore

 

শেষের সপ্তকঃ এক/Shesher Shawptok: Ek/ The Seven at the End: One

এক

 

স্থির জেনেছিলেম, পেয়েছি তোমাকে,

মনেও হয়নি

তোমার দানের মূল্য যাচাই করার কথা।

তুমিও মূল্য করনি দাবি।

দিনের পর দিন গেল, রাতের পর রাত,

দিলে ডালি উজাড় ক’রে।

আড়চোখে চেয়ে

আনমনে নিলেম তা ভাণ্ডারে;

পরদিনে মনে রইল না।

নববসন্তের মাধবী

যোগ দিয়েছিল তোমার দানের সঙ্গে,

শরতের পূর্ণিমা দিয়েছিল তারে স্পর্শ।

তোমার কালো চুলের বন্যায়

আমার দুই পা ঢেকে দিয়ে বলেছিলে

“তোমাকে যা দিই

তোমার রাজকর তার চেয়ে অনেক বেশি;

আরো দেওয়া হল না

আরো যে আমার নেই।”

বলতে বলতে তোমার চোখ এল ছলছলিয়ে।

আজ তুমি গেছ চলে,

দিনের পর দিন আসে, রাতের পর রাত,

তুমি আস না।

এতদিন পরে ভাণ্ডার খুলে

দেখছি তোমার রত্নমালা,

নিয়েছি তুলে বুকে।

যে গর্ব আমার ছিল উদাসীন

সে নুয়ে পড়েছে সেই মাটিতে

যেখানে তোমার দুটি পায়ের চিহ্ন আছে আঁকা।

তোমার প্রেমের দাম দেওয়া হল বেদনায়,

হারিয়ে তাই পেলেম তোমায় পূর্ণ ক’রে।

 

 

শান্তিনিকেতন, ১ অগ্রহায়ণ, ১৩৩৯

 

***

ONE

 

I knew for certain, I had you.

I never thought

Of putting a value on what you gave.

And you never asked.

Day passed after day, and night followed night,

You gave everything you had to me.

With a sideways glance

I gathered them without thought;

My mind moving onto other things within the day.

The blossoms of newly arrived spring

Held hands with your gifts,

And the autumn moon favoured them with its touch.

In the cascade of your dark tresses

You covered my feet and said

‘Whatever I bring to you

In tribute could be so much greater;

But I could not give any more

In truth I have nothing left.’

As you spoke your eyes brimmed over.

Now that you are gone today,

Days pass and night follows night,

But you do not come any more.

Today I have opened my heart at last

To see what treasures you gave,

And to clasp them to my breast.

That same pride that had made me oblivious

Now bows to the ground

Where your feet once walked.

I have paid for your love with pain,

And I seek you again in loss.

 

 

Written: 15th November, 1932

 

 

সমাপ্তি -ক্ষণিকা/Samapti – Khonika/ The Ending – the final poem from the collection known as Khonika

সমাপ্তি

 

পথে যতদিন ছিনু ততদিন অনেকের সনে দেখা।

সব শেষ হল যেখানে সেথায় তুমি আর আমি একা।

নানা বসন্তে নানা বরষায়

অনেক দিবসে অনেক নিশায়

দেখেছি অনেক, সহেছি অনেক, লিখেছি অনেক লেখা–

পথে যতদিন ছিনু ততদিন অনেকের সনে দেখা।

 

কখন যে পথ আপনি ফুরালো, সন্ধ্যা হল যে কবে!

পিছনে চাহিয়া দেখিনু কখন চলিয়া গিয়াছে সবে।

তোমার নীরব নিভৃত ভবনে

জানি না কখন পশিনু কেমনে।

অবাক রহিনু আপন প্রাণের নূতন গানের রবে।

কখন যে পথ আপনি ফুরালো, সন্ধ্যা হল যে কবে!

 

চিহ্ন কি আছে শ্রান্ত নয়নে অশ্রুজলের রেখা?

বিপুল পথের বিবিধ কাহিনী আছে কি ললাটে লেখা?

রুধিয়া দিয়েছ তব বাতায়ন,

বিছানো রয়েছে শীতল শয়ন,

তোমার সন্ধ্যাপ্রদীপ-আলোকে তুমি আর আমি একা।

নয়নে আমার অশ্রুজলের চিহ্ন কি যায় দেখা!

***

The Ending

 

Upon the road while I walked many were the faces I saw

But where the road ended we were alone, only you and I.

            Over many a spring and many a rain

            And through many a day and night

I have seen so much and borne so much and written many a line –

Upon the road while I walked many were the faces I saw.

 

I do not recall when the road ended of its own accord, or when day’s close fell!

As I looked behind, I found the others had walked ahead.

            Into the silent solitude of your kingdom

            I know not when I had entered.

Silenced was I in wonder at the new song that rose in my heart.

When did the road end of its own accord, when did day’s close fall!

 

 Are there signs of tears beneath these worn eyes?

Are the tales of my journey engraved upon my brow?

            You have shut away the outside world

            You have made a haven for me to rest

 By the light of your evening lamp, you and me alone

Can you see the tears of joy that rise, to these worn eyes!