প্রভু, বলো বলো কবে/ Prabhu, bawlo bawlo kawbe/ Lord, I beseech you, tell me when

প্রভু,   বলো বলো কবে

তোমার    পথের ধুলার রঙে রঙে আঁচল রঙিন হবে।

              তোমার বনের রাঙা ধূলি  ফুটায় পূজার কুসুমগুলি,

    সেই ধূলি হায় কখন আমায় আপন করি’ লবে?

    প্রণাম দিতে চরণতলে  ধুলার কাঙাল যাত্রীদলে

    চলে যারা, আপন ব’লে চিনবে আমায় সবে॥

রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1342
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1936
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার

Lord, I beseech you, tell me when

My robes will turn red in the dust that rises from the path that leads to you

              The red dust in your forests takes the form of the blooms that I offer at your feet

    When will that dust alas accept me as one of its own?

    Those who journey to your feet, craving the dust as a blessing

    They too will then know me on sight.

Raga: Bhairavi
Beat: Dadra
Written: 1936
Score: Shailajaranjan Majumdar

 

Follow the link, to hear Suchitra Mitra:

https://www.youtube.com/watch?v=fwqJqoFcUSs

This entry was posted on September 4, 2014, in Prayer/Puja.

তোতাকাহিনী/Totakahinee/The bird’s tale

তোতাকাহিনী

এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।

রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’

মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’

রাজার ভাগিনাদের উপর ভার পড়িল পাখিটাকে শিক্ষা দিবার।

পণ্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করিলেন। প্রশ্নটা এই, উক্ত জীবের অবিদ্যার কারণ কী।

সিদ্ধান্ত হইল, সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বিদ্যা বেশি ধরে না। তাই সকলের আগে দরকার, ভালো করিয়া খাঁচা বানাইয়া দেওয়া।

রাজপণ্ডিতেরা দক্ষিণা পাইয়া খুশি হইয়া বাসায় ফিরিলেন।

স্যাকরা বসিল সোনার খাঁচা বানাইতে। খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে, দেখিবার জন্য দেশবিদেশের লোক ঝুঁকিয়া পড়িল। কেহ বলে, ‘শিক্ষার একেবারে হদ্দমুদ্দ।’ কেহ বলে, ‘শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। পাখির কী কপাল।’

স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকশিশ পাইল। খুশি হইয়া সে তখনি পাড়ি দিল বাড়ির দিকে।

পণ্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে। নস্য লইয়া বলিলেন, ‘অল্প পুঁথির কর্ম নয়।’

ভাগিনা তখন পুঁথিলিখকদের তলব করিলেন। তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বতপ্রমাণ করিয়া তুলিল। যে দেখিল সেই বলিল, ‘সাবাস। বিদ্যা আর ধরে না।’

লিপিকরের দল পারিতোষিক লইল বলদ বোঝাই করিয়া। তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল। তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না।

অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই। মেরামত তো লাগিয়াই আছে। তার পরে ঝাড়া মোছা পালিশ-করা ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল, ‘উন্নতি হইতেছে।’

লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপর নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আরও বিস্তর। তারা মাস-মাস মুঠা-মুঠা তনখা পাইয়া সিন্ধুক বোঝাই করিল।

তারা এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো মাসতুতো ভাইরা খুশি হইয়া কোঠাবালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল।

সংসারে অন্য অভাব অনেক আছে, কেবল নিন্দুক আছে যথেষ্ট। তারা বলিল, ‘খাঁচাটার উন্নতি হইতেছে, কিন্তু পাখিটার খবর কেহ রাখে না।’

কথাটা রাজার কানে গেল। তিনি ভাগিনাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন স্যাকরাদের, পণ্ডিতদের, লিপিকরদের, ডাকুন যারা মেরামত করে এবং মেরামত তদারক করিয়া বেড়ায়। নিন্দুকগুলো খাইতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা বলে।’

জবাব শুনিয়া রাজা অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন, আর তখনি ভাগিনার গলায় সোনার হার চড়িল।

শিক্ষা যে কী ভয়ংকর তেজে চলিতেছে, রাজার ইচ্ছা হইল স্বয়ং দেখিবেন। একদিন তাই পাত্র মিত্র অমাত্য লইয়া শিক্ষাশালায় তিনি স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত।

দেউড়ির কাছে অমনি বাজিল শাঁখ ঘণ্টা ঢাক ঢোল কাড়া নাকাড়া তুরী ভেরি দামামা কাঁসি বাঁশি কাঁসর খোল করতাল মৃদঙ্গ জগঝম্প। পণ্ডিতেরা গলা ছাড়িয়া, টিকি নাড়িয়া, মন্ত্রপাঠে লাগিলেন। মিস্ত্রি মজুর স্যাকরা লিপিকর তদারকনবিশ আর মামাতো পিসতুতো খুড়তুতো এবং মাসতুতো ভাই জয়ধ্বনি তুলিল।

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, কাণ্ডটা দেখিতেছেন!’

মহারাজ বলিলেন, ‘আশ্চর্য। শব্দ কম নয়।’

ভাগিনা বলিল, ‘শুধু শব্দ নয়, পিছনে অর্থও কম নাই।’

রাজা খুশি হইয়া দেউড়ি পার হইয়া যেই হাতিতে উঠিবেন এমন সময়, নিন্দুক ছিল ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়া, সে বলিয়া উঠিল, ‘মহারাজ, পাখিটাকে দেখিয়াছেন কি।’

রাজার চমক লাগিল; বলিলেন, ‘ঐ যা! মনে তো ছিল না। পাখিটাকে দেখা হয় নাই।’

ফিরিয়া আসিয়া পণ্ডিতকে বলিলেন, ‘পাখিকে তোমরা কেমন শেখাও তার কায়দাটা দেখা চাই।’

দেখা হইল। দেখিয়া বড়ো খুশি। কায়দাটা পাখিটার চেয়ে এত বেশি বড়ো যে, পাখিটাকে দেখাই যায় না; মনে হয়, তাকে না দেখিলেও চলে। রাজা বুঝিলেন, আয়োজনের ত্রুটি নাই। খাঁচায় দানা নাই, পানি নাই; কেবল রাশি রাশি পুঁথি হইতে রাশি রাশি পাতা ছিঁড়িয়া কলমের ডগা দিয়া পাখির মুখের মধ্যে ঠাসা হইতেছে। গান তো বন্ধই, চীৎকার করিবার ফাঁকটুকু পর্যন্ত বোজা। দেখিলে শরীরে রোমাঞ্চ হয়।

এবারে রাজা হাতিতে চড়িবার সময় কানমলা-সর্দারকে বলিয়া দিলেন, নিন্দুকের যেন আচ্ছা করিয়া কান মলিয়া দেওয়া হয়।

পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র-দস্তুর-মতো আধমরা হইয়া আসিল। অভিভাবকেরা বুঝিল, বেশ আশাজনক। তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায় রকমে পাখা ঝট্‌পট্‌ করে। এমন কি, এক-একদিন দেখা যায়, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলা কাটিবার চেষ্টায় আছে।

কোতোয়াল বলিল, ‘এ কী বেয়াদবি।’

তখন শিক্ষামহালে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির। কী দমাদ্দম পিটানি। লোহার শিকল তৈরি হইল, পাখির ডানাও গেল কাটা।

রাজার সম্বন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, ‘এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই।’

তখন পণ্ডিতেরা এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কাণ্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা।

কামারের পসার বাড়িয়া কামারগিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়ালের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।

পাখিটা মরিল। কোন্‌কালে যে কেউ তা ঠাহর করিতে পারে নাই। নিন্দুক লক্ষ্ণীছাড়া রটাইল, ‘পাখি মরিয়াছে।’

ভাগিনাকে ডাকিয়া রাজা বলিলেন, ‘ভাগিনা, এ কী কথা শুনি।’

ভাগিনা বলিল, ‘মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’

রাজা শুধাইলেন, ‘ও কি আর লাফায়।’

ভাগিনা বলিল, ‘আরে রাম!’

‘আর কি ওড়ে।’

‘না।’

‘আর কি গান গায়।’

‘না।’

‘দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়।’

‘না।’

রাজা বলিলেন, ‘একবার পাখিটাকে আনো তো, দেখি।’

পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্‌খস্‌ গজ্‌গজ্‌ করিতে লাগিল।

বাহিরে নববসন্তের দক্ষিণহাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।

cage

Totakahinee or The Bird’s Tale

1
Once there was a bird. It was uneducated. It used to sing, but it had never read the scriptures. It hopped about and it flew but it did not know what good manners were.
The king said, ‘This kind of bird is of no use, for it eats the fruits of the forest and this is leading to losses in the markets.’
He ordered the minister, ‘Teach the bird a lesson.’

2
The duty of training the bird fell upon the shoulders of the king’s nephews.
The learned men sat and discussed at length why the accused creature was versed in the wrong kind of knowledge.
They concluded that the nest the bird built out of ordinary straw was not enough to hold a great deal of knowledge. Thus the first thing needed was the construction of a good cage.
The pundits went home happily with their grants from the king.

3
The goldsmith set about making a golden cage. This was so amazing that people from near and far came to look at it. Some said, ‘This is the ultimate in education!’ Others said, ‘Even if it is not educated, it got a cage out of all this! What luck!’
The fellow got a sack filled with money as payment. He set off for home in high spirits immediately.
The wise man sat down with the bird to teach it. He took a pinch of snuff and said, ‘This will never do with a few books.’
The nephew then sent for the writers. They made copies of books and then copies of the copies till there was a mountain of paper. Whoever saw this said, ‘Bravo! This is education if nothing else.’
The scribes had to carry their rewards home by bullock cart. They went back quickly too. From that day onwards there was no more need in their homes.
There was no end to the attention the nephews gave the costly golden cage. There were ongoing maintenance costs. It also needed regular dusting and polishing which made everyone agree, ‘This is improvement.’
Many people had to be employed and many other people were engaged to keep an eye on the first lot of employees. This army filled their coffers with fistfuls of cash each month.
They and all the cousins they had of every hue were now able to behave like men of means and leisure.

4
There is need of every kind in life, but never a shortage of critics. They now said, ‘The cage is an improvement, but what news of the bird?’
This remark made its way to the king’s ears. He called for his nephews and said, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Oh Great King, if you wish to hear the truth, send for the goldsmith, the learned men and the scribes, call those who repair the cage and summon those who keep an eye on those that repair the cage. The naysayers are the ones who have not made any profit out of this.’
The king understood exactly what was going on and gifted a golden chain to his nephew immediately.

5
The king expressed a wish to see for himself how the great education of the bird was going. One day he arrived at the classroom with all his courtiers.
At that very moment the gates rang out with conch shells, bells, drums of every kind, cymbals, flutes and gongs, The learned men were loudly reciting the lessons , their sacred tufts of hair shaking with the effort. There was a welcoming roar from the masons, the goldsmith, the scribes, the overseers and their supervisors as well the various cousins.
The nephew said, ‘King, you see what a great affair this is!’
The king said, ‘Astounding! And so noisy too!’
The nephew answered, ‘Not just noise, there is much meaning to all of this.’
The king happily crossed the gate and was just about to mount his elephant when a critic hiding in the bushes said to him, ‘Great king, but did you see the bird?’
The king, startled though he was, had to admit, ‘Alas! That completely slipped my mind. I did not get to see the bird.’
He came back and said to the pundit, ‘I should like to see how you teach the bird.’
He went and saw. It pleased him greatly. The pomp surrounding the bird was so great that it was hardly to be seen. And to tell the truth, it did not seem that important that one saw the creature. The king understood that there was no lapse in the arrangements. There was no food in the cage, nor any water; but the pages of a hundred wise tomes were being stuffed into the bird’s mouth. It was unable to open its beak even to shriek, let along sing. It was truly thrilling.
This time while mounting the elephant, the king told his principal ear-boxer to box the ears of the critic very soundly indeed.

6
The bird grew more and more civilized each day as its life drained away. Its guardians understood that the situation was very encouraging. And yet the bird still fluttered its wings most annoyingly each morning as it gazed upon the morning light, thanks to its intemperate nature. It was even observed that on some days it tried to gnaw through the bars of its cage with its puny beak.
The jailer said, ‘What insolence!’
The blacksmith was brought to the schoolhouse, complete with his bellows, hammers and furnace. With a tremendous clanging an iron chain was fashioned and the bird’s wings were also clipped.
The king’s sycophants made glum faces and shook their heads saying, ‘In this kingdom the birds are not just ignorant, they have no sense of gratitude either.’
Then the wise men picked up pens in one hand and spears in another and gave a demonstration of real teaching.
The blacksmith made so much money that his wife was able to buy herself gold jewellery and the king rewarded the jailer’s vigilance with a title.

7
The bird died. No one had even noticed when this had happened. The good for nothing critic went about saying, ‘The bird is dead.’
The king called for his nephew and asked, ‘Royal nephew, what is this I hear?’
The nephew said, ‘Great king, it has been educated.’
The king asked, ‘Does it flap around anymore?’
The nephew answered, ‘Dear God, No!’
‘Does it fly anymore?’
‘No.’
‘Does it burst into song anymore?’
‘No.’
‘Does it shriek when not fed?’
‘No.’
The king commanded, ‘Bring the bird to me once, I so wish to see it.’
The bird came. The jailer came with it, as did the guards and the mounted policemen. The king poked the bird; it did not utter a single sound in agreement or in protest. There was just a rustling from the dry paper that filled its body.

Outside the palace, the southerly winds of spring sighed among the new buds and drove the skies above the flowering forests quite mad.

Image: http://antiquesimagearchive.com/items

মেঘ বলেছে যাব যাব/Megh Boleche Jabo Jabo/The clouds have said they will go,

মেঘ বলেছে ‘যাব যাব’, রাত বলেছে ‘যাই’,

সাগর বলে ‘কূল মিলেছে– আমি তো আর নাই’ ॥

দুঃখ বলে ‘রইনু চুপে   তাঁহার পায়ের চিহ্নরূপে’,

আমি বলে ‘মিলাই আমি আর কিছু না চাই’ ॥

ভুবন বলে ‘তোমার তরে আছে বরণমালা’,

গগন বলে ‘তোমার তরে লক্ষ প্রদীপ জ্বালা’।

প্রেম বলে যে ‘যুগে যুগে          তোমার লাগি আছি জেগে’,

মরণ বলে ‘আমি তোমার জীবনতরী বাই’ ॥

রাগ: বেহাগ

তাল: তেওরা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৭ আশ্বিন, ১৩২১

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৪ অক্টোবর, ১৯১৪

রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন

স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী

****

The clouds have said they will go, and night says it will join them,

The ocean says it has found the shore and it wants nothing more.

Sorrow says it holds its tongue for it is only a sign of the Creator’s presence in life,

I say once I have found myself, I will ask for no more.

The world says for me it brings rewards galore,

The skies say they burn a million lamps in my honour.

Love says it has waited through the ages for me,

And death says it will guide the course of my life for ever more.

Raga: Behag

Beat: Teora

Written: ৪ October, 1914

Written in Santiniketan

Score: Indira Devi

Follow the links:
Debabrata Biswas:

Indrani Sen:

আমার মল্লিকাবনে যখন প্রথম ধরেছে কলি/ Amar Mollikaboney jokhon prothom dhoreche koli/When the first buds appear in my bowers of jasmine

আমার   মল্লিকাবনে যখন প্রথম ধরেছে কলি

তোমার লাগিয়া তখনি, বন্ধু, বেঁধেছিনু অঞ্জলি॥

তখনো কুহেলীজালে,

সখা,   তরুণী উষার ভালে

শিশিরে শিশিরে অরুণমালিকা উঠিতেছে ছলোছলি॥

এখনো বনের গান,   বন্ধু হয় নি তো অবসান–

তবু   এখনি যাবে কি চলি।

ও মোর   করুণ বল্লিকা,

ও তোর   শ্রান্ত মল্লিকা

ঝরো-ঝরো হল, এই বেলা তোর শেষ কথা দিস বলি॥

রাগ: কীর্তন

তাল: দাদরা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1337

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1931

স্বরলিপিকার: অনাদিকুমার দস্তিদার

***

When the first buds appear in my bowers of jasmine

I gathered the blossoms for you as soon as I could, my beloved

The mist was still wreathed lovingly

Around the form of the young sun,

As the dew drops were strung by the sun into a sparkling chain.

The forest has not sung its song to you –

Will you not be tempted to stay?

My delightful creepers so gentle

With weary jasmine upon each branch,

It is time for you to drop down upon the earth and finish the tale you have begun.

Raga: Keertan

Beat: Dadra

Written: 1931

Score: Anadikumar Ghoshdastidar

Follow the link to hear:
Kanika Bandyopadhyay:https://www.youtube.com/watch?v=4XPMeUZXfhM

From the film Bicharak, sung by Arundhati devi :https://www.youtube.com/watch?v=B-5rLF71wc4

পত্রপুটঃ ষোলো – আফ্রিকা/ Potroput: Verse 16 – Africa

উদ্‌ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে

         স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে

                   নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,

                             তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা-নাড়ার দিনে

                                      রুদ্র সমুদ্রের বাহু

                               প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে

                             ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,

                   বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

                             কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।

                     সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি

                             সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,

                               চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,

                                      প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু

                               মন্ত্র জাগাচ্ছিল তোমার চেতনাতীত মনে।

                                                বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে

                                                   বিরূপের ছদ্মবেশে,

                                                শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে

          আপনাকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়

                             তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।

হায় ছায়াবৃতা,

            কালো ঘোমটার নীচে

          অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ

                             উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।

          এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে

                   নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,

                   এল মানুষ-ধরার দল

          গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।

                   সভ্যের বর্বর লোভ

                               নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।

          তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে

                   পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে;

          দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়

                             বীভৎস কাদার পিণ্ড

          চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।

          সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়

                     মন্দিরে বাজছিল পুজোর ঘণ্টা

                     সকালে সন্ধ্যায়, দয়াময় দেবতার নামে;

                              শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;

                              কবির সংগীতে বেজে উঠছিল

                                      সুন্দরের আরাধনা।

                   আজ যখন পশ্চিমদিগন্তে

          প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,

                   যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল,

                             অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,

                                         এসো যুগান্তরের কবি,

                                         আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে

                                         দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,

                                                বলো “ক্ষমা করো’–

                                                হিংস্র প্রলাপের মধ্যে

                             সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।

  শান্তিনিকেতন, ২৮ মাঘ, ১৩৪৩

AfricanSlavesTransport

In the restless tides of that primordial dawn
When the creator himself despaired of crafting you
And struck angrily at the fresh clay again and again,
In that hour of impatience and rage
The arms of the brave seas
Plucked you from the clasp of the lands of the East
Removing you far from them all, Africa
To bind you within cages of great trees standing guard
Where miserly light illumined your fate
There in silent wait you bided your time,
Reading the mysteries of the unreachable,
And learning the incomprehensible signs hidden in land, sea and sky
That magic that is beyond any seen in nature
Wove spells through your unconscious mind.
You mocked the terrible
Dressed as a grotesque lampooning of the fierce,
You wished to defeat fear itself by donning it as disguise

Alas, shadowed beauty,
How well you hid yourself under veil of night
Your human form secreted away
From those whose eyes shower contempt
They came with shackles forged from cruel iron
Those who bear claws sharper than the wolves that roam the land,
Then came the ones who make trade with human coin
Those whose pride blinds them, their hearts darker than your sunless forests.
The naked hunger of the civilized
Stripping them down to their inner shameless brutality.
In the forests drenched by your wordless cries
The very soil sullied by your blood and sweat;
Under the feet of their hob-nailed boots,
Mutilated your flesh
Marks forever your maligned history.

At that very moment in their own lands
Church bells rang out in glorious worship
At morning and evensong, in the name of an all merciful God;
While their children played in each mother’s lap;
And poets raised their wondrous tunes
In praise of all things bright and beautiful.
When today on the western horizon
Sunset holds it breath in fear of a new storm,
When the beasts ride out of secret caves
And sounds of ill omen declare the beginning of day’s end,
Come forth, Oh poet of change
Stand by the last ray of this evening’s sun
Where this unfortunate woman waits,
And say, ‘Forgive me!’
In the midst of fierce delirium,
Let that be the final reparation made by your civilization.

Africa, Rabindranath Tagore
10th February, 1937

শেষের রাত্রি / Shesher Ratri / The Final Night

1

‘মাসি !’

‘ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।’

‘হোক-না রাত,আমার দিন তো বেশি নেই । আমি বলছিলুম,মণিকে তার বাপের বাড়ি– ভূলে যাচ্ছি,ওর বাপ এখন কোথায়–‘

‘সীতারামপুরে ।’

‘হাঁ সীতারামপুরে । সেইখানে মণিকে পাঠিয়ে দাও,আরো কতদিন ও রোগীর সেবা করবে । ওর শরীর তো তেমন শক্ত নয় ।’

‘শোনো একবার ! এই অবস্থায় তোমাকে ফেলে বউ বাপের বাড়ি যেতে চাইবেই বা কেন ।’

‘ডাক্তারেরা কী বলেছে সে কথা কি সে–‘

‘তা সে নাই জানল– চোখে তো দেখতে পাচ্ছে । সেদিন বাপের বাড়ি যাবার কথা যেমন একটু ইশারায় বলা অমনি বউ কেঁদে অস্থির ।’

মাসির এই কথাটার মধ্যে সত্যের কিছু অপলাপ ছিল, সে কথা বলা আবশ্যক । মণির সঙ্গে সেদিন তাঁর এই প্রসঙ্গে যে আলাপ হইয়াছিল সেটা নিম্নলিখিত-মতো ।

‘বউ,তোমার বাপের বাড়ি থেকে কিছু খবর এসেছে বুঝি ? তোমার জাঠতুতো ভাই অনাথকে দেখলুম যেন ।

‘হাঁ, মা ব’লে পাঠিয়েছেন, আসছে শুক্রবারে আমার ছোটো বোনের অন্নপ্রাশন । তাই ভাবছি–‘

‘বেশ তো বাছা, একগাছি সোনার হার পাঠিয়ে দাও, তোমার মা খুশি হবেন।’

‘ভাবছি,আমি যাব। আমার ছোটো বোনকে তো দেখিনি, দেখতে ইচ্ছে করে।’

‘সে কী কথা, যতীনকে একলা ফেলে যাবে? ডাক্তার কী বলেছে শুনেছ তো?’

‘ডাক্তার তো বলছিল, এখনো তেমন বিশেষ–‘

‘তা যাই বলুক, ওর এই দশা দেখে যাবে কী ক’রে।’

‘আমার তিন ভাইয়ের পরে এই একটি বোন, বড়ো আদরের মেয়ে –শুনেছি, ধুম ক’রে অন্নপ্রাশন হবে– আমি না গেলে মা ভারি–‘

‘তোমার মায়ের ভাব, বাছা, আমি বুঝতে পারি নে। কিন্তু যতীনের এই সময়ে তুমি যদি যাও, তোমার বাবা রাগ করবেন,সে আমি ব’লে রাখছি।’

‘তা জানি । তোমাকে এক লাইন লিখে দিতে হবে মাসি, যে কোনো ভাবনার কথা নেই– আমি গেলে বিশেষ কোনো–‘

‘তুমি গেলে কোনো ক্ষতিই নেই সে কি জানি নে । কিন্তু তোমার বাপকে যদি লিখতেই হয়, আমার মনে যা আছে সব খুলেই লিখব ।”

‘আচ্ছা,বেশ– তুমি লিখো না । আমি ওঁকে গিয়ে বললেই উনি–‘

‘দেখো বউ, অনেক সয়েছি– কিন্তু এই নিয়ে যদি তুমি যতীনের কাছে যাও, কিছুতেই সইব না । তোমার বাবা তোমাকে ভালো রকমই চেনেন, তাঁকে ভোলাতে পারবে না ।’

এই বলিয়া মাসি চলিয়া আসিলেন । মণি খানিকক্ষণের জন্য রাগ করিয়া বিছানায় উপর পড়িয়া রহিল ।

পাশের বাড়ি হইতে সই আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল,’এ কি সই,গোসা কেন ।’

‘দেখো দেখি ভাই, আমার একমাত্র বোনের অন্নপ্রাশন– এরা আমাকে যেতে দিতে চায় না ।’

‘ওমা , সে কী কথা, যাবে কোথায় । স্বামী সে রোগে শুষছে ।’

‘আমি তো কিছুই করি নে, করিতে পারিও নে ; বাড়িতে সবাই চুপচাপ ,আমার প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে । এমন ক’রে আমি থাকিতে পারি নে, তা বলছি !’

‘তুমি ধন্যি মেয়েমানুষ যা হোক ।’

‘তা আমি, ভাই, তোমাদের মতো লোক দেখানে ভান করতে পারি নে । পাছে কেউ কিছু মনে করে বলে মুখ গুঁজড়ে  ঘরের কোণে পড়ে থাকা আমার কর্ম নয়।’

‘তা ,কী করবে শুনি ।’

‘আমি যাবই, আমাকে কেউ ধরে রাখতে পারবে না ।’

‘ইস্‌, তেজ দেখে আর বাঁচি নে । চললুম, আমার কাজ আছে ।’

***

Chapter 1

‘Aunt?’

‘Go to sleep Jatin, it is late.’

‘Let it be late, I do not have much time left. I was saying perhaps Moni could be sent to her parents, I forget where her father lives –‘

‘In Sitarampur.’

‘Yes to Sitarampur; send Moni to them, how much longer will she have to look after an invalid? She is not that strong herself.’

‘Listen to yourself! Why would your wife want to go away while you lie ill here?

‘Does she know what the doctor said?’

‘Even if she does not know what he said, she has eyes that can see. The other day as soon as I hinted at going to her parents’ house, she burst into tears.’

It is important to clarify that was some distortion of the truth in what the aunt had said. Her conversation with Moni had been along the following lines.

‘Daughter, is there some news from your parents’ house? I thought I saw your cousin Anath.’

‘Yes, my mother has sent word that my young sister’s rice ceremony will be held next Friday. I was thinking –‘

‘Well child, why not send a gold necklace, your mother will be pleased.’

‘I am thinking of going. I have not seen this young sister yet, I wish to see her.’

‘But how you will go, leaving Jatin like this? Surely you have heard what the doctor said?’

‘But the doctor said, there is still no sign –‘

‘Be as it may, how will you go leaving him in this state?’

‘ This is the one sister I have after three brothers, she is much loved – and I have heard the ceremony will be held with much pomp – if I am not there, my mother will be very –‘

‘I do not understand what your mother thinks, child. But if you go when Jatin is in this state, I can tell you that your father will be angry.’

‘I know. But if you write one line to him saying that there is nothing to worry about – it will be alright if I leave him –‘

‘You do not have to tell me that there will be little difference to his care if you go. But if I do have to write to your father, I will disclose all that is on my mind.’

‘Fine, you do not have to do it. If I go and speak to my husband he will agree  -‘

‘Look daughter, I have put up with a lot – but if you go to Jatin with this request, I will not bear it at all. Your father knows you too well, you will not be able to fool him.’

The aunt left after saying this. Moni lay on her bed fuming at the injustice.

Her friend came from next door and asked, ‘What is this, why the glum face?’

‘Look at what is happening, it is the rice ceremony for my only sister and these people are not letting me go!’

‘Dear God, what are you saying, where will you go? Your husband is so ill.’

‘I do not have to do anything for him, I couldn’t, even if I tried; everyone is so quiet I feel stifled. I am just saying that I cannot live like this.’

‘You are truly amazing!’

‘Look my friend I am not as good at putting on pretences as you might be. But it is not in my nature to sit quietly in a corner for fear of people saying things.’

’So, what is it that you will do, pray tell.’

’I will go and no one can stop me from doing that.’

‘You know, you have some gall! I am going, I have got better things to do.’

১৪০০ সাল / The Year 1400

১৪০০ সাল

   আজি হতে শতবর্ষ পরে

কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি

      কৌতূহলভরে–

   আজি হতে শতবর্ষ পরে।

আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের

      লেশমাত্র ভাগ–

আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,

   আজিকার কোনো রক্তরাগ

অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে

      তোমাদের করে

   আজি হতে শতবর্ষ পরে।

তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার

      বসি বাতায়নে

সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি

      ভেবে দেখো মনে–

   একদিন শতবর্ষ আগে

চঞ্চল পুলকরাশি কোন্‌ স্বর্গ হতে ভাসি

   নিখিলের মর্মে আসি লাগে–

নবীন ফাল্গুনদিন সকল বন্ধনহীন

      উন্মত্ত অধীর–

উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা

      দক্ষিণসমীর–

সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দিয়েছে ধরা

      যৌবনের রাগে

   তোমাদের শতবর্ষ আগে।

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,

      কবি এক জাগে–

কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়

      কত অনুরাগে

   একদিন শতবর্ষ আগে।

   আজি হতে শতবর্ষ পরে

এখন করিছে গান সে কোন্‌ নূতন কবি

      তোমাদের ঘরে?

আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন

   পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।

আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে

   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে

হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব

      পল্লবমর্মরে

   আজি হতে শতবর্ষ পরে।

  ২ ফাল্গুন, ১৩০২

G_Tagore_Tagore

The Year 1400

   A hundred years from this day

Who are you that sits down to read my poem

      Filled with curiosity –

   A hundred years from this day.

The joy of this newly minted spring morn

      Even a trace of that-

 One perfumed flower, one joyous bird song

  Just one of the colours that painted this day

 Not one of those can I send to you, wrapped in my love

      For you to hold

    A hundred years from this day.

Still I would that you sit once, doors opened to the South

      By a window

And looking upon the distance, allow imagination to reign free

      Think of how once

   On a day a hundred years earlier

A hundred feelings came drifting down from the heavens

   To touch the soul of the universe –

On a day of Phalgun, without rein

      Eager, intoxicated –

On shimmering wings scented with the pollen of a hundred flowers

      That southerly breeze –

Has surprised the old earth, colouring it again

      In a youthful blush

   A hundred years before you walked this earth.

 On that day, his heart restless, enveloped in song,

       A poet kept watch –

How he wished that his words unspoken would burst forth into bloom

      With such love

   On a day a hundred years earlier.

   A hundred years from this day

What new poet will it be that sings for your pleasure?

I send the felicitations of this spring day

   For them to enjoy.

Let my spring song ring across the firmament of your spring

   Even if only for a moment

In the pulse of your heart and in the dancing wings of your bees

      In the rustle of leaf song.

   A hundred years from this day.

                                                                  ~The second day of Phalgun, 1302

Follow the link to hear the poem in the poet’s own voice:

রঙ লাগালে বনে বনে/ Ke rong lagaaley boney boney/Who colours the forests bright with their own hands

রঙ লাগালে বনে বনে।

                   ঢেউ জাগালে সমীরণে॥

আজ ভুবনের দুয়ার খোলা   দোল দিয়েছে বনের দোলা–

              দে দোল! দে দোল! দে দোল!

     কোন্‌ ভোলা সে ভাবে-ভোলা   খেলায় প্রাঙ্গণে॥

আন্‌ বাঁশি– আন্‌ রে তোর আন্‌ রে বাঁশি,

                        উঠল সুর উচ্ছ্বাসি   ফাগুন-বাতাসে।

     আজ   দে ছড়িয়ে    শেষ বেলাকার কান্না হাসি–

সন্ধ্যাকাশের বুক-ফাটা সুর   বিদায়-রাতি করবে মধুর,

     মাতল আজি অস্তসাগর সুরের প্লাবনে॥

রাগ: খাম্বাজ
তাল: ষষ্ঠী
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1334
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1927
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

Butea-monosperma-Lamk

 

Who colours the forests bright with their own hands?

                   And makes the wind rise, in an answering wave?

Today the doors to the world open wide – shaken by the rhythm that sighs through the forest

              Swing high! Swing low! Swing to the sky!

     Who is this who plays by himself, all but lost to the world?

Oh bring your flute – bring out your sweet flute,

                        Let the tune ring high on the air of spring

     Scatter your tears for the day that is gone, and the smiles that we once smiled

The haunting call of the evening skies will sweeten this final night,

     As this last sea we will cross thrills to a flood of song.

 

 

Raga: Khambaj
Beat: Shashthi
Written: 1927
Score: Dinendranath Tagore

 

 Follow the link to hear:

Suchitra Mitra:

Srikanto Acharya:

 

নাহয় তোমার যা হয়েছে তাই হল/Nahoy Tomar Ja Hoyeche Tai Holo/ Why not accept what happens to you

 নাহয় তোমার যা হয়েছে তাই হল।

          আরো কিছু নাই হল, নাই হল, নাই হল॥

কেউ যা কভু দেয় না ফাঁকি   সেইটুকু তোর থাক্‌-না বাকি,

                   পথেই না হয় ঠাঁই হল॥

          চল্‌ রে সোজা বীণার তারে ঘা দিয়ে,

          ডাইনে বাঁয়ে দৃষ্টি তোমার না দিয়ে।

হারিয়ে চলিস পিছনেরে,   সামনে যা পাস কুড়িয়ে নে রে–

                   খেদ কী রে তোর যাই হল॥

রাগ: পিলু-বাউল
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৯ চৈত্র, ১৩২২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১১ এপ্রিল, ১৯১৬
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

tag baul

Baul by Abanindranath Tagore

***

 Why not accept what happens to you ?

         Seek no more, seek no more, let it be.

Hold onto that which people have given freely, let that be the sweetness you are left with.

                   Why not let the road be as a home to you?

          Walk along unwavering, to the music of your soul,

          Never worrying about what lies on either side.

Forget all that you leave behind, gather the new lying ahead –

                   Why mourn what was not meant to be, let it be.

Raga: Pilu Baul
Beat: Dadra
Written: 11th April, 1916
Written: Santiniketan
Score: Dinendranath Tagore

Follow the link to hear Suchitra Mitra: