Archive | July 2013

চোখের বালি ১৬/ Chokher Bali 16

১৬

বিহারী ভাবিল, “আর দূরে থাকিলে চলিবে না, যেমন করিয়া হউক, ইহাদের মাঝখানে আমাকেও একটা স্থান লইতে হইবে। ইহাদের কেহই আমাকে চাহিবে না, তবু আমাকে থাকিতে হইবে।’

বিহারী আহ্বান-অভ্যর্থনার অপেক্ষা না রাখিয়াই মহেন্দ্রের ব্যুহের মধ্যে প্রবেশ করিতে লাগিল। বিনোদিনীকে কহিল, “বিনোদ-বোঠান, এই ছেলেটিকে ইহার মা মাটি করিয়াছে, বন্ধু মাটি করিয়াছে, স্ত্রী মাটি করিতেছে– তুমিও সেই দলে না ভিড়িয়া একটা নূতন পথ দেখাও– দোহাই তোমার।”

মহেন্দ্র। অর্থাৎ–

বিহারী। অর্থাৎ আমার মতো লোক, যাহাকে কেহ কোনোকালে পোঁছে না–

মহেন্দ্র। তাহাকে মাটি করো। মাটি হইবার উমেদারি সহজ নয় হে বিহারী, দরখাস্ত পেশ করিলেই হয় না।

বিনোদিনী হাসিয়া কহিল, “মাটি হইবার ক্ষমতা থাকা চাই, বিহারীবাবু।”

বিহারী কহিল, “নিজগুণ না থাকিলেও হাতের গুণে হইতে পারে। একবার প্রশ্রয় দিয়া দেখোই-না।”

বিনোদিনী। আগে হইতে প্রস্তুত হইয়া আসিলে কিছু হয় না, অসাবধান থাকিতে হয়। কী বল, ভাই চোখের বালি। তোমার এই দেওরের ভার তুমিই লও-না, ভাই।

আশা তাহাকে দুই অঙ্গুলি দিয়া ঠেলিয়া দিল। বিহারীও এ ঠাট্টায় যোগ দিল না।

আশার সম্বন্ধে বিহারী কোনো ঠাট্টা সহিবে না, এটুকু বিনোদিনীর কাছে এড়াইতে পারে নাই। বিহারী আশাকে শ্রদ্ধা করে এবং বিনোদিনীকে হালকা করিতে চায়, ইহা বিনোদিনীকে বিঁধিল।

সে পুনরায় আশাকে কহিল, “তোমার এই ভিক্ষুক দেওরটি আমাকে উপলক্ষ করিয়া তোমারই কাছে আদর ভিক্ষা করিতে আসিয়াছে– কিছু দে, ভাই।”

আশা অত্যন্ত বিরক্ত হইল। ক্ষণকালের জন্য বিহারীর মুখ লাল হইল, পরক্ষণেই হাসিয়া কহিল, “আমার বেলাতেই কি পরের উপর বরাত চালাইবে, আর মহিনদার সঙ্গেই নগদ কারবার!”

বিহারী সমস্ত মাটি করিতে আসিয়াছে, বিনোদিনীর ইহা বুঝিতে বাকি রহিল না। বুঝিল, বিহারীর সম্মুখে সশস্ত্রে থাকিতে হইবে।

মহেন্দ্র বিরক্ত হইল। খোলসা কথায় কবিত্বের মাধুর্য নষ্ট হয়। সে ঈষৎ তীব্র স্বরেই কহিল, “বিহারী, তোমার মহিনদা কোনো কারবারে যান না– হাতে যা আছে, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।”

বিহারী। তিনি না যেতে পারেন, কিন্তু ভাগ্যে লেখা থাকিলে কারবারের ঢেউ বাহির হইতে আসিয়াও লাগে।

বিনোদিনী। আপনার উপস্থিত হাতে কিছুই নাই, কিন্তু আপনার ঢেউটা কোন্‌ দিক হইতে আসিতেছে!–বলিয়া সে সকটাক্ষহাস্যে আশাকে টিপিল। আশা বিরক্ত হইয়া উঠিয়া গেল। বিহারী পরাভূত হইয়া ক্রোধে নীরব হইল; উঠিবার উপক্রম করিতেই বিনোদিনী কহিল, “হতাশ হইয়া যাবেন না, বিহারীবাবু। আমি চোখের বালিকে পাঠাইয়া দিতেছি।”

বিনোদিনী চলিয়া যাইতেই সভাভঙ্গে মহেন্দ্র মনে মনে রাগিল। মহেন্দ্রের অপ্রসন্ন মুখ দেখিয়া বিহারীর রুদ্ধ আবেগ উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল। কহিল, “মহিনদা, নিজের সর্বনাশ করিতে চাও, করো– বরাবর তোমার সেই অভ্যাস হইয়া আসিয়াছে। কিন্তু যে সরলহৃদয়া সাধ্বী তোমাকে একান্ত বিশ্বাসে আশ্রয় করিয়া আছে, তাহার সর্বনাশ করিয়ো না। এখনো বলিতেছি, তাহার সর্বনাশ করিয়ো না।”

বলিতে বলিতে বিহারীর কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া আসিল।

মহেন্দ্র রুদ্ধরোষে কহিল, “বিহারী, তোমার কথা আমি কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না। হেঁয়ালি ছাড়িয়া স্পষ্ট কথা কও।”

বিহারী কহিল, “স্পষ্টই কহিব। বিনোদিনী তোমাকে ইচ্ছা করিয়া অধর্মের দিকে টানিতেছে এবং তুমি না জানিয়া মূঢ়ের মতো অপথে পা বাড়াইতেছ।”

মহেন্দ্র গর্জন করিয়া উঠিয়া কহিল, “মিথ্যা কথা। তুমি যদি ভদ্রলোকের মেয়েকে এমন অন্যায় সন্দেহের চোখে দেখ, তবে অন্তঃপুরে তোমার আসা উচিত নয়।”

এমন সময় একটি থালায় মিষ্টান্ন সাজাইয়া বিনোদিনী হাস্যমুখে তাহা বিহারীর সম্মুখে রাখিল। বিহারী কহিল, “এ কী ব্যাপার। আমার তো ক্ষুধা নাই।”

বিনোদিনী কহিল, “সে কি হয়। একটু মিষ্টমুখ করিয়া আপনাকে যাইতেই হইবে।”

বিহারী হাসিয়া কহিল, “আমার দরখাস্ত মঞ্জুর হইল বুঝি। সমাদর আরম্ভ হইল।”

বিনোদিনী অত্যন্ত টিপিয়া হাসিল; কহিল, “আপনি যখন দেওর তখন সম্পর্কের যে জোর আছে। যেখানে দাবি করা চলে সেখানে ভিক্ষা করা কেন। আদর যে কাড়িয়া লইতে পারেন। কী বলেন মহেন্দ্রবাবু।”

মহেন্দ্রবাবুর তখন বাক্যস্ফূর্তি হইতেছিল না।

বিনোদিনী। বিহারীবাবু, লজ্জা করিয়া খাইতেছেন না, না রাগ করিয়া? আর-কাহাকেও ডাকিয়া আনিতে হইবে?

বিহারী। কোনো দরকার নাই। যাহা পাইলাম তাহাই প্রচুর।

বিনোদিনী। ঠাট্টা? আপনার সঙ্গে পারিবার জো নাই। মিষ্টান্ন দিলেও মুখ বন্ধ হয় না।

রাত্রে আশা মহেন্দ্রের নিকটে বিহারী সম্বন্ধে রাগ প্রকাশ করিল– মহেন্দ্র অন্য দিনের মতো হাসিয়া উড়াইয়া দিল না– সম্পূর্ণ যোগ দিল।

প্রাতঃকালে উঠিয়াই মহেন্দ্র বিহারীর বাড়ি গেল। কহিল, “বিহারী, বিনোদিনী হাজার হউক ঠিক বাড়ির মেয়ে নয়– তুমি সামনে আসিলে সে যেন কিছু বিরক্ত হয়।”

বিহারী কহিল, “তাই না কি। তবে কাজটা ভালো হয় না। তিনি যদি আপত্তি করেন, তাঁর সামনে নাই গেলাম।”

মহেন্দ্র নিশ্চিন্ত হইল। এত সহজে এই অপ্রিয় কার্য শেষ হইবে, তাহা সে মনে করে নাই। বিহারীকে মহেন্দ্র ভয় করে।

সেইদিনই বিহারী মহেন্দ্রের অন্তঃপুরে গিয়া কহিল, “বিনোদ-বোঠান, মাপ করিতে হইবে।”

বিনোদিনী। কেন, বিহারীবাবু।

বিহারী। মহেন্দ্রের কাছে শুনিলাম, আমি অন্তঃপুরে আপনার সামনে বাহির হই বলিয়া আপনি বিরক্ত হইয়াছেন। তাই ক্ষমা চাহিয়া বিদায় হইব।

বিনোদিনী। সে কি হয়, বিহারীবাবু। আমি আজ আছি কাল নাই, আপনি আমার জন্যে কেন যাইবেন। এত গোল হইবে জানিলে আমি এখানে আসিতাম না।

এই বলিয়া বিনোদিনী মুখ ম্লান করিয়া যেন অশ্রুসংবরণ করিতে দ্রুতপদে চলিয়া গেল।

বিহারী ক্ষণকালের জন্যে মনে করিল, “মিথ্যা সন্দেহ করিয়া আমি বিনোদিনীকে অন্যায় আঘাত করিয়াছি।’

সেদিন সন্ধ্যাবেলায় রাজলক্ষ্মী বিপন্নভাবে আসিয়া কহিলেন, “মহিন, বিপিনের বউ যে বাড়ি যাইবে বলিয়া ধরিয়া বসিয়াছে।”

মহেন্দ্র কহিল, “কেন মা, এখানে তাঁর কি অসুবিধা হইতেছে।”

রাজলক্ষ্মী। অসুবিধা না। বউ বলিতেছে, তাহার মতো সমর্থবয়সের বিধবা মেয়ে পরের বাড়ি বেশি দিন থাকিলে লোকে নিন্দা করিবে।

মহেন্দ্র ক্ষুদ্ধভাবে কহিল, “এ বুঝি পরের বাড়ি হইল?”

বিহারী বসিয়া ছিল– মহেন্দ্র তাহার প্রতি ভর্ৎসনাদৃষ্টি নিক্ষেপ করিল।

অনুতপ্ত বিহারী ভাবিল, “কাল আমার কথাবার্তায় একটু যেন নিন্দার আভাস ছিল; বিনোদিনী বোধ হয় তাহাতেই বেদনা পাইয়াছে।’

স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলিয়া বিনোদিনীর উপর অভিমান করিয়া বসিল।

ইনি বলিলেন, “আমাদের পর মনে কর, ভাই!” উনি বলিলেন, “এতদিন পরে আমরা পর হইলাম!”

বিনোদিনী কহিল, “আমাকে কি তোমরা চিরকাল ধরিয়া রাখিবে, ভাই।”

মহেন্দ্র কহিল, “এত কি আমাদের স্পর্ধা।”

আশা কহিল, “তবে কেন এমন করিয়া আমাদের মন কাড়িয়া লইলে।”

সেদিন কিছুই স্থির হইল না। বিনোদিনী কহিল, “না ভাই, কাজ নাই, দুদিনের জন্য মায়া না বাড়ানোই ভালো।” বলিয়া ব্যাকুলচক্ষে একবার মহেন্দ্রের মুখের দিকে চাহিল।

পরদিন বিহারী আসিয়া কহিল, “বিনোদ-বোঠান, যাবার কথা কেন বলিতেছেন। কিছু দোষ করিয়াছি কি–তাহারই শাস্তি?”

বিনোদিনী একটু মুখ ফিরাইয়া কহিল, “দোষ আপনি কেন করিবেন, আমার অদৃষ্টের দোষ।”

বিহারী। আপনি যদি চলিয়া যান তো আমার কেবলই মনে হইবে, আমারই উপর রাগ করিয়া গেলেন।

বিনোদিনী করুণচক্ষে মিনতি প্রকাশ করিয়া বিহারীর মুখের দিকে চাহিল– কহিল, “আমার কি থাকা উচিত হয়, আপনিই বলুন-না।”

বিহারী মুশকিলে পড়িল। থাকা উচিত, এ কথা সে কেমন করিয়া বলিবে। কহিল, “অবশ্য আপনাকে তো যাইতেই হইবে, না-হয় আর দু-চার দিন থাকিয়া গেলেন, তাহাতে ক্ষতি কী।”

বিনোদিনী দুই চক্ষু নত করিয়া কহিল,”আপনারা সকলেই আমাকে থাকিবার জন্য অনুরোধ করিতেছেন– আপনাদের কথা এড়াইয়া যাওয়া আমার পক্ষে কঠিন– কিন্তু আপনারা বড়ো অন্যায় করিতেছেন।”

বলিতে বলিতে তাহার ঘনদীর্ঘ চক্ষুপল্লবের মধ্য দিয়া মোটা মোটা অশ্রুর ফোঁটা দ্রুতবেগে গড়াইয়া পড়িতে লাগিল।

বিহারী এই নীরব অজস্র অশ্রুজলে ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিল, “কয়দিনমাত্র আসিয়া আপনার গুণে আপনি সকলকে বশ করিয়া লইয়াছেন, সেইজন্যই আপনাকে কেহ ছাড়িতে চান না– কিছু মনে করিবেন না বিনোদ-বোঠান, এমন লক্ষ্মীকে কে ইচ্ছা করিয়া বিদায় দেয়!”

আশা এক কোণে ঘোমটা দিয়া বসিয়া ছিল, সে আঁচল তুলিয়া ঘনঘন চোখ মুছিতে লাগিল।

ইহার পরে বিনোদিনী আর যাইবার কথা উত্থাপন করিল না।

16.-img_3925_kal-87_size-13x19_price-8_000
16

Bihari thought to himself, ‘It would not be wise remaining aloof any longer; I have to place myself within this group by any means possible. They will not want that, but I will have to do that.’

He then frequently began to drop in on Mahendra’s little coterie without waiting to be invited by them. He said to Binodini, ‘This man has been spoilt by his mother, his friend and his wife – I urge you to not join the rest of us, but to take a new path.’

Mahendra said, ‘By which you mean…’

Bihari: ‘By which I mean, instead look to me, one who has always been neglected…’

Mahendra: ‘Spoil him rotten. It is not easy getting such indulgence, it is not just a matter of asking for it.’

Binodini smiled and said, ‘One must have the ability to be influenced by indulgence, dear sir.’

Bihari answered, ‘Even if I lack the ability, perhaps you might succeed with your talent. Why not try me once?’

Binodini: ‘It is difficult when one comes prepared, you must be less wary. What do you say, Chokher Bali? You must take charge of this friend of ours.’

Asha nudged Binodini while Bihari ignored the remark.

Binodini had already noticed that Bihari would never take part in teasing Asha. She could not bear it that he treated her lightly but respected Asha.

She said again, ‘This man is actually appealing to you for indulgence, while pretending to ask me. Give him something at least.’

Asha was extremely annoyed. Bihari turned red for a while and then laughed out saying, ‘You are trying to pass me off to another while Mahendra gets to barter with you!’

Binodini understood that Bihari was there to ruin her plans and that she would have to have her wits about her in his presence.

Mahendra was annoyed too. Such straightforward talk is the principal enemy of romance. He said with some bitterness, ‘Bihari, your friend does not engage in barter with any one, I am quite happy with what I have.’

Bihari said, ‘You might not have to go anywhere if the chance comes knocking at the door.’

Binodini: ‘I see you have nothing either, but where are your opportunities coming from then?’
She then looked at Asha and smiled archly. Asha left unhappily. Bihari knew when he was beaten and held his tongue in anger; when he too looked like he was leaving, Binodini teased him, saying, ‘Do not leave in such despair, I will call her back.’

As soon as Binodini left and Mahendra realised the pleasantries were over, he was enraged. Bihari looked at his unhappy face and all his emotions boiled over. He said, ‘Mahendra, ruin yourself if you wish for that has always been your way; but do not hurt the innocent one who relies on you with all her trusting heart. I am telling you, there is still time, do not ruin her life.’

Bihari’s voice betrayed his emotion.

Mahendra spoke with suppressed anger, ‘Bihari, I do not understand a word of what you just said, perhaps you should stop with the riddles.’

Bihari answered, ‘I will; Binodini draws you towards adultery and you are following her like a fool.’
Mahendra burst out harshly, ‘Lies! If you look upon the behavior of a good woman with such suspicion, perhaps you should not come into the inner quarters at all!’

Before he could say any more, Binodini returned with a plate filled with sweets and placed it before Bihari with a smile. Bihari said, ‘What is going on? I am not hungry at all.’

Binodini said, ‘How can that be? You must have one of these before you leave.’

Bihari said with a laugh, ‘Does this mean you have approved my plea for indulgence?’

Binodini smiled slyly and said, ‘You have every right as a brother-in-law to demand to be indulged. Why plead when one can exercise their rights? You can grab them with both hands. What do you say, Mahendrababu?’

Mahendrababu was rendered speechless.

Binodini: Biharibabu, are you not eating out of reticence or out of anger? Should I fetch a rather special person to request you?

Bihari: There is hardly any need for that. This is more than enough.

Binodini: Are you teasing me? One can never win with you! I have not succeeded at shutting you up, even with a mouthful of sweets!

That night Asha expressed her annoyance with Bihari to Mahendra once again. Unlike all the other times, Mahendra did not dismiss her words with a smile but joined in whole heartedly.

He went to Bihari’s house as soon as morning broke and said, ‘Bihari, Binodini is not a member of the family despite what we might think. She always seems to feel slightly uncomfortable when you are there.’

Bihari answered, ‘Is that so? I do feel bad now. Perhaps I should not do that if it displeases her so much.’

Mahendra was reassured by this; he had not hoped to solve the issue quite so easily. He used to fear Bihari for his ability to read him.

Bihari went to Mahendra’s house that very day and said to Binodini, ‘Madam, you must forgive me.’

Binodini: Why?

Bihari: I heard from Mahendra that you are annoyed with me as I come into the inner quarters of the house. I have come to ask forgiveness and leave.

Binodini: How is that possible Biharibabu! I have come only for a day or two, why should you leave on my account? I would not have come here at all if I had known there would be so many problems.

Binodini seemed to hold her tears back with difficulty as she quickly left with a sad face.

Bihari thought for a moment, ‘I have hurt her without cause on my false suspicions.’

That evening Rajlakshmi came to Mahendra and said anxiously, ‘Mahin, Bipin’s wife says she wants to go home.’

Mahendra asked, ‘Why, is she finding it difficult staying here?’

Rajlakshmi: Not as such but she says people will talk if a young widow stays with strangers for such a long time.

Mahendra angrily said, ‘Is this a house full of strangers then?’

He looked reproachfully at Bihari who was sitting there.

Bihari thought with some remorse that his remarks of the previous day had been somewhat critical and that Binodini must have been hurt by them.

Both husband and wife felt anguished by Binodini’s behavior.

One said, ‘Do you think of us as strangers?’

The other said, ‘How can we be strangers after all this time?’

Binodini asked, ‘Can you keep me here for ever?’

Mahendra answered, ‘Would we dare to do that?’

Asha said, ‘Why make us love you so much then?’

Nothing more was decided that day. Binodini said, ‘No, it is best that I go. There is little to be gained by extending these ties for two more days.’ She looked at Mahendra with mute appeal in her eyes as she said this.

Bihari came back the next day and said, ‘Madam, why are you talking about leaving? Have I done something wrong, that you are punishing me now?’

Binodini turned her face away and said, ‘Not at all, it is all my misfortune.’

Bihari: If you leave, I will be left wondering whether you left, angered with me.

Binodini looked at Bihari as she pleaded with him, ‘You tell me, is it right that I should stay?’

Bihari was trapped; how could he say that it would be right for her to stay. He answered, ‘You will have to leave of course, but why not stay a little while longer?’

Binodini cast her eyes downwards and murmured, ‘All of you are asking me to stay – and it is hard for me to leave despite that, but this is so unreasonable of you all!’

As she spoke huge tears began to fall rapidly down her long thick eyelashes.

Bihari grew anxious at this silent flood of tears and said, ‘You have charmed everyone with your qualities within this short time and that is why no one wants to let you go. If you do not mind me saying so, who would willingly send such a good woman away?’

Asha who had been sitting in a corner with her head covered began wiping her tears away.

After that, Binodini never talked about leaving.

Advertisements

চোখের বালি ১৫/Chokher Bali 15

১৫

বাহির হইতে নাড়া পাইলে ছাই-চাপা আগুন আবার জ্বলিয়া উঠে। নবদম্পতির প্রেমের উৎসাহ যেটুকু ম্লান হইতেছিল, তৃতীয়ক্ষপের ঘা খাইয়া সেটুকু আবার জাগিয়া উঠিল।

আশার হাস্যালাপ করিবার শক্তি ছিল না, কিন্তু বিনোদিনী তাহা অজস্র জোগাইতে পারিত; এইজন্য বিনোদিনীর অন্তরালে আশা ভারি একটা আশ্রয় পাইল। মহেন্দ্রকে সর্বদাই আমোদের উত্তেজনায় রাখিতে তাহাকে আর অসাধ্যসাধন করিতে হইত না।

বিবাহের অল্পকালের মধ্যেই মহেন্দ্র এবং আশা পরস্পরের কাছে নিজেকে নিঃশেষ করিবার উপক্রম করিয়াছিল– প্রেমের সংগীত একেবারেই তারস্বরের নিখাদ হইতেই শুরু হইয়াছিল– সুদ ভাঙিয়া না খাইয়া তাহারা একেবারে মূলধন উজাড় করিবারচেষ্টায় ছিল। এই খেপামির বন্যাকে তাহারা প্রাত্যহিক সংসারের সহজ স্রোতে কেমন করিয়া পরিণত করিবে। নেশার পরেই মাঝখানে যে অবসাদ আসে, সেটা দূর করিতে মানুষ আবার যে-নেশা চায় সে-নেশা আশা কোথা হইতে জোগাইবে। এমন সময় বিনোদিনী নবীন রঙিন পাত্র ভরিয়া আশার হাতে আনিয়া দিল। আশা স্বামীকে প্রফুল্ল দেখিয়া আরাম পাইল।

এখন আর তাহার নিজের চেষ্টা রহিল না। মহেন্দ্র-বিনোদিনী যখন উপহাস-পরিহাস করিত, তখন সে কেবল প্রাণ খুলিয়া হাসিতে যোগ দিত। তাসখেলায় মহেন্দ্র যখন আশাকে অন্যায় ফাঁকি দিত তখন সে বিনোদিনীকে বিচারক মানিয়া সকরুণ অভিযোগের অবতারণা করিত। মহেন্দ্র তাহাকে ঠাট্টা করিলে বা কোনো অসংগত কথা বলিলে সে প্রত্যাশা করিত, বিনোদিনী তাহার হইয়া উপযুক্ত জবাব দিয়া দিবে।

এইরূপে তিনজনের সভা জমিয়া উঠিল।

কিন্তু তাই বলিয়া বিনোদিনীর কাজে শৈথিল্য ছিল না। রাঁধাবাড়া, ঘরকন্না দেখা, রাজলক্ষ্মীর সেবা করা, সমস্ত সে নিঃশেষপূর্বক সমাধা করিয়া তবে আমোদে যোগ দিত। মহেন্দ্র অস্থির হইয়া বলিত, “চাকর-দাসীগুলাকে না কাজ করিতে দিয়া তুমি মাটি করিবে দেখিতেছি।” বিনোদিনী বলিত, “নিজে কাজ না করিয়া মাটি হওয়ার চেয়ে সে ভালো। যাও, তুমি কালেজে যাও।”

মহেন্দ্র। আজ বাদলার দিনটাতে–

বিনোদিনী। না সে হইবে না– তোমার গাড়ি তৈরি হইয়া আছে– কালেজে যাইতে হইবে।

মহেন্দ্র। আমি তো গাড়ি বারণ করিয়া দিয়াছিলাম।

বিনোদিনী। আমি বলিয়া দিয়াছি। — বলিয়া মহেন্দ্রের কালেজে যাইবার কাপড় আনিয়া সম্মুখে উপস্থিত করিল।

মহেন্দ্র। তোমার রাজপুতের ঘরে জন্মানো উচিত ছিল, যুদ্ধকালে আত্মীয়কে বর্ম পরাইয়া দিতে।

আমোদের প্রলোভনে ছুটি লওয়া, পড়া ফাঁকি দেওয়া, বিনোদিনী কোনোমতেই প্রশ্রয় দিত না। তাহার কঠিন শাসনে দিনে দুপুরে অনিয়ত আমোদ একেবারে উঠিয়া গেল, এবং এইরূপে সায়াহ্নের অবকাশ মহেন্দ্রের কাছে অত্যন্ত রমণীয় লোভনীয় হইয়া উঠিল। তাহার দিনটা নিজের অবসানের জন্য যেন প্রতীক্ষা করিয়া থাকিত।

পূর্বে মাঝে মাঝে ঠিক সময়মত আহার প্রস্তুত হইত না এবং সেই ছুতা করিয়া মহেন্দ্র আনন্দে কালেজ কামাই করিত। এখন বিনোদিনী স্বয়ং বন্দোবস্ত করিয়া মহেন্দ্রের কালেজের খাওয়া সকাল-সকাল ঠিক করিয়া দেয় এবং খাওয়া হইলেই মহেন্দ্র খবর পায়– গাড়ি তৈয়ার। পূর্বে কাপড়গুলি প্রতিদিন এমন ভাঁজ-করা পরিপাটি অবস্থায় পাওয়া দূরে থাক্‌, ধোপার বাড়ি গেছে কি আলমারির কোনো-একটা অনির্দেশ্য স্থানে আগোচরে পড়িয়া আছে, তাহা দীর্ঘকাল সন্ধান ব্যতীত জানা যাইত না।

প্রথম-প্রথম বিনোদিনী এই-সকল বিশৃঙ্খলা লইয়া মহেন্দ্রের সম্মুখে আশাকে সহাস্য ভর্ৎসনা করিত–মহেন্দ্রও আশার নিরুপায় নৈপুণ্যহীনতায় সস্নেহে হাসিত। অবশেষে সখিবাৎসল্যবশে আশার হাত হইতে তাহার কর্তব্যভার বিনোদিনী নিজের হাতে কাড়িয়া লইল। ঘরের শ্রী ফিরিয়া গেল।

চাপকানের বোতাম ছিঁড়িয়া গেছে, আশা আশু তাহার কোনো উপায় করিতে পারিতেছে না– বিনোদিনী দ্রুত আসিয়া হতবুদ্ধি আশার হাত হইতে চাপকান কাড়িয়া লইয়া চটপট সেলাই করিয়া দেয়। একদিন মহেন্দ্রের প্রস্তুত অন্নে বিড়ালে মুখ দিল–আশা ভাবিয়া অস্থির; বিনোদিনী তখনই রান্নাঘরে গিয়া কোথা হইতে কী সংগ্রহ করিয়া গুছাইয়া কাজ চালাইয়া দিল; আশা আশ্চর্য হইয়া গেল।

মহেন্দ্র এইরূপে আহারে ও আচ্ছাদনে, কর্মে ও বিশ্রামে, সর্বত্রই নানা আকারে বিনোদিনীর সেবাহস্ত অনুভব করিতে লাগিল। বিনোদিনীর রচিত পশমের জুতা তাহার পায়ে এবং বিনোদিনীর বোনা পশমের গলাবন্ধ তাহার কণ্ঠদেশে একটা যেন কোমল মানসিক সংস্পর্শের মতো বেষ্টন করিল। আশা আজকাল সখিহস্তের প্রসাধনে পরিপাটি-পরিচ্ছন্ন হইয়া সুন্দরবেশে সুগন্ধ-মাখিয়া মহেন্দ্রের নিকট উপস্থিত হয়, তাহার মধ্যে যেন কতকটা আশার নিজের, কতকটা আর-একজনের– তাহার সাজসজ্জা-সৌন্দর্যে আনন্দে সে যেন গঙ্গাযমুনার মতো তাহার সখীর সঙ্গে মিলিয়া গেছে।

বিহারীর আজকাল পূর্বের মতো আদর নাই– তাহার ডাক পড়ে না। বিহারী মহেন্দ্রকে লিখিয়া পাঠাইয়াছিল, কাল রবিবার আছে, দুপুরবেলা আসিয়া সে মহেন্দ্রের মার রান্না খাইবে। মহেন্দ্র দেখিল রবিবারটা নিতান্ত মাটি হয়, তাড়াতাড়ি লিখিয়া পাঠাইল, রবিবারে বিশেষ কাজে তাহাকে বাহিরে যাইতে হইবে।

তবু বিহারী আহারান্তে একবার মহেন্দ্রের বাড়ির খোঁজ লইতে আসিল। বেহারার কাছে শুনিল, মহেন্দ্র বাড়ি হইতে বাহিরে যায় নাই। “মহিনদা” বলিয়া সিঁড়ি হইতে হাঁকিয়া বিহারী মহেন্দ্রের ঘরে গেল। মহেন্দ্র অপ্রস্তুত হইয়া কহিল,”ভারি মাথা ধরিয়াছে।” বলিয়া তাকিয়ায় ঠেস দিয়া পড়িল। আশা সে কথা শুনিয়া এবং মহেন্দ্রের মুখের ভাব দেখিয়া শশব্যস্ত হইয়া উঠিল– কী করা কর্তব্য, স্থির করিবার জন্য বিনোদিনীর মুখের দিকে চাহিল। বিনোদিনী বেশ জানিত ব্যাপারটা গুরুতর নহে, তবু অত্যন্ত উদ্‌বিগ্নভাবে কহিল, “অনেকক্ষণ বসিয়া আছ, একটুখানি শোও। আমি ওডিকলোন আনিয়া দিই।”

মহেন্দ্র বলিল, “থাক্‌, দরকার নাই।”

বিনোদিনী শুনিল না, দ্রুতপদে ওডিকলোন বরফজলে মিশাইয়া উপস্থিত করিল। আশার হাতে ভিজা রুমাল দিয়া কহিল, “মহেন্দ্রবাবুর মাথায় বাঁধিয়া দাও।”

মহেন্দ্র বারবার বলিতে লাগিল, “থাক্‌-না।” বিহারী অবরুদ্ধহাস্যে নীরবে অভিনয় দেখিতে লাগিল। মহেন্দ্র সগর্বে ভাবিল, “বিহারীটা দেখুক, আমার কত আদর।’

আশা বিহারীর সম্মুখে লজ্জাকম্পিত হস্তে ভালো করিয়া বাঁধিতে পারিল না– ফোঁটাখানেক ওডিকলোন গড়াইয়া মহেন্দ্রের চোখে পড়িল। বিনোদিনী আশার হাত হইতে রুমাল লইয়া সুনিপুণ করিয়া বাঁধিল এবং আর-একটি বস্ত্রখণ্ডে ওডিকলোন ভিজাইয়া অল্প অল্প করিয়া নিংড়াইয়া দিল– আশা মাথায় ঘোমটা টানিয়া পাখা করিতে লাগিল।

বিনোদিনী স্নিগ্ধস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, “মহেন্দ্রবাবু, আরাম পাচ্ছেন কি।”

এইরূপে কণ্ঠস্বরে মধু ঢালিয়া দিয়া বিনোদিনী দ্রুতকটাক্ষে একবার বিহারীর মুখের দিকে চাহিয়া লইল। দেখিল, বিহারীর চক্ষু কৌতুকে হাসিতেছে। সমস্ত ব্যাপারটা তাহার কাছে প্রহসন। বিনোদিনী বুঝিয়া লইল, এ লোকটিকে ভোলানো সহজ ব্যাপার নহে– কিছুই ইহার নজর এড়ায় না।

বিহারী হাসিয়া কহিল, “বিনোদ-বোঠান, এমনতরো শুশ্রুষা পাইলে রোগ সারিবে না, বাড়িয়া যাইবে।”

বিনোদিনী। তা কেমন করিয়া জানিব, আমরা মূর্খ মেয়েমানুষ। আপনাদের ডাক্তারিশাস্ত্রে বুঝি এইমতো লেখা আছে।

বিহারী। আছেই তো। সেবা দেখিয়া আমারও কপাল ধরিয়া উঠিতেছে। কিন্তু পোড়াকপালকে বিনা-চিকিৎসাতেই চটপট সারিয়া উঠিতে হয়। মহিনদার কপালের জোর বেশি।

বিনোদিনী ভিজা বস্ত্রখণ্ড রাখিয়া দিয়া কহিল, “কাজ নাই, বন্ধুর চিকিৎসা বন্ধুতেই করুন।”

বিহারী সমস্ত ব্যাপার দেখিয়া ভিতরে ভিতরে বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিল। এ কয়দিন সে অধ্যয়নে ব্যস্ত ছিল, ইতিমধ্যে মহেন্দ্র বিনোদিনী ও আশায় মিলিয়া আপনা আপনি যে এতখানি তাল পাকাইয়া তুলিয়াছে তাহা সে জানিত না। আজ সে বিনোদিনীকে বিশেষ করিয়া দেখিল, বিনোদিনীও তাহাকে দেখিয়া লইল।

বিহারী কিছু তীক্ষ্ণস্বরে কহিল, “ঠিক কথা। বন্ধুর চিকিৎসা বন্ধুই করিবে। আমিই মাথাধরা আনিয়াছিলাম, আমি তাহা সঙ্গে লইয়া চলিলাম। ওডিকলোন আর বাজে খরচ করিবেন না।” আশার দিকে চাহিয়া কহিল, “বোঠান, চিকিৎসা করিয়া রোগ সারানোর চেয়ে রোগ না হইতে দেওয়াই ভালো।”

Kalighat-Paintings-04

15

The flames that had died down stirred to life again after some prodding. The spark that had gone out of Mahendra and Asha’s love for each other was back thanks to the presence of a third person.

Asha was not able to carry on the humorous banter her husband enjoyed, but Binodini was gifted in that art; this gave Asha a break from continually having to entertain Mahendra.

Within a short while after marriage the two of them had exhausted all their need for each other, their affections had been so violent from the beginning that the capital on which it was based was quickly depleted. How were they to turn this flood towards the gently flowing normalcy of daily life? When an addiction wears off, one needs a greater force to feel rejuvenated but Asha was scarcely the woman to provide that. Binodini arrived with all the ideas Asha needed to see her husband happy again; this was assurance enough for her to be at peace.

She had to try no longer. While Mahendra and Binodini joked and exchanged words, all she had to do was join in the laughter. When Mahendra cheated her at cards, she pleaded with Binodini to judge who was in the right. When Mahendra teased her or said something untoward, she hoped fervently that Binodini would defend her against his sharp remarks.

The three of them grew quite close daily.

But this did not mean that Binodini neglected any of her duties. She cooked, looked after the household, tended Rajlakshmi and after all of that, she joined in the entertainments.

Mahendra would grow impatient and say, ‘I can see you will quite spoil the servants with all the work you do on their behalf!’
Binodini: ‘Better that than having everything ruined by leaving it to others! Go to your classes!’
Mahendra: ‘It looks like rain…’
Binodini: ‘That will not be, your car waits and you must go.’
Mahendra: ‘But I told him not to wait…’
Binodini: ‘I told him to come back.’
She would then hand him his clothes. Mahendra would feebly protest saying, ‘You should have been born a Rajput woman, you could have dressed your man in armour and sent him into battle.’

Staying at home on a whim, wasting valuable study time- these were just the things Binodini would not suffer. Her iron hand meant that there were no more frivolous sessions during the day and the evenings became very precious to Mahendra. He used to wait eagerly for the day to end.

Previously, on occasion he had happily missed classes on the excuse that his lunch was not ready. Now Binodini herself made certain his meals were prepared on time. As soon as he had eaten he would be informed that his car was waiting. In the past there had been times when his clothes were misplaced, sometimes for days and often not even sent to the laundry but now they were always ironed and ready for him to wear.

In the beginning, Binodini would playfully chide Asha about the many mistakes she made in front of Mahendra – he too laughed indulgently at his wife’s inabilities. Eventually her love for Asha made Binodini take on many of her duties and the house was returned to its former glory.

If a button went missing, Asha would never know how to fix it quickly. It was left to Binodini to arrive, take the shirt from Asha and swiftly sew on a new button. One day Asha was at wit’s end when a cat stole some food from Mahendra’s plate, making it completely unsuitable for serving to him; it was Binodini who went to the kitchen and somehow worked a miracle there and saved the day for her. Asha was amazed!

Mahendra was quite enjoying himself, seeing Binodini’s care in every aspect of his life, in what he ate and wore, in how he spent his time and even when he rested. Woollen slippers she had made for his feet and a woollen muffler around his neck were like a gentle reminder of her fingers. When Asha appeared before him, always dressed by her friend, clothed, powdered and perfumed according to Binodini’s fancy– she seemed to be a plaything that had something of both the women in her, like the mingling of two rivers.

Bihari had fallen from favour these days and was not in as much demand as before. He wrote to Mahendra informing him that he would come on a visit the following day, a Sunday and have lunch with them. Mahendra did not wish to waste his Sunday by entertaining Bihari and quickly wrote back informing him that he would be going out that day.

Disregarding the letter, Bihari still went to Mahendra’s house after lunch. He found out from the servants that Mahendra had not gone any where and was very much at home. He called to him from the stairwell as he went to his room. When Mahendra saw Bihari, he was embarrassed and quickly said, ‘I have such a headache!’ as he leaned back on a pillow. Asha grew anxious when she heard this and as she watched Mahendra’s discomfort – but as was her habit, she looked to Binodini for advice. Binodini had guessed it was just a ruse but she still poured a great deal of concern into her voice as she said, ‘Perhaps you have been sitting up for a long time, perhaps you should lie down. I will go and get some eau-de-cologne.’

Mahendra said, ‘There is no need for all that.’

Binodini did not listen to him and quickly brought some eau-de-cologne mixed with iced water. Giving the handkerchief to Asha, she said, ‘Do wrap it around Mahendrababu’s head.’

Mahendra kept saying, ‘Just let it be!’ Bihari suppressed a smile and watched silently. Mahendra in the meantime thought with some pride, ‘Let him see how well I am loved!’

Asha could not tie the kerchief properly as her hands shook shyly in front of Bihari and a couple of drops of cologne rolled into Mahendra’s eyes. Binodini then took the cloth from her and tied it on expertly. She soaked another piece of cloth with cologne and gently wiped his face with that while Asha stood by and fanned him.

Binodini asked sweetly, ‘Dear sir, are you feeling better?’

She looked quickly at Bihari as she said the words and saw that his eyes were laughing. The whole business was a farce to him. Binodini understood that it would not be easy fooling this man, for nothing escaped his eyes.
Bihar laughed and said, ‘Madam, this kind of care does nothing to cure the disease but makes it harder to heal!’

Binodini: ‘How will I know, we are but ignorant women. Is that what your medical books say?’

Bihari: Of course. Even I feel a headache coming on at the sight of all this nursing. But my fate is such that I have to get better without this luxury. Mahendra is much luckier.’

Binodini put the moistened cloth aside and said, ‘There is no need for us then, now that a friend is here, let him take care of the patient.’

Bihari was growing annoyed as he watched all this. He had been busy with his studies for a few days and had no inkling that Mahendra, Binodini and Asha had created such a tangled mess between the three of them. Today he saw Binodini for what she was and she too began to understand Bihari a lot better.

Bihari said somewhat sharply, ‘You are right. I was the one who brought this headache on and I will take it with me as I leave. Do not waste your eau-de-cologne any more. He looked at Asha, saying, ‘Madam, it is better to not let the illness take hold than to have to treat it.’

আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে/Aji Je Rajani Jaay Phiraibo Taay Kemone/How will I turn back this night

আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে।
নয়নের জল ঝরিছে বিফল নয়নে॥
এ বেশভূষণ লহো সখী, লহো, এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ–
এমন যামিনী কাটিল বিরহশয়নে॥
আমি বৃথা অভিসারে এ যমুনাপারে এসেছি,
বহি বৃথা মন-আশা এত ভালোবাসা বেসেছি।
শেষে নিশিশেষে বদন মলিন, ক্লান্তচরণ, মন উদাসীন,
ফিরিয়া চলেছি কোন্‌ সুখহীন ভবনে॥
ওগো ভোলা ভালো তবে, কাঁদিয়া কী হবে মিছে আর।
যদি যেতে হল হায় প্রাণ কেন চায় পিছে আর।
কুঞ্জদুয়ারে অবোধের মতো রজনীপ্রভাতে বসে রব কত–
এবারের মতো বসন্ত গত জীবনে॥

রাগ: ভৈরবী-কীর্তন
তাল: রূপকড়া
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৬ আষাঢ়, ১৩০০
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ২৯ জুন, ১৮৯৩
রচনাস্থান: শিলাইদহ

How will I hold back this night so that it does not end so soon,

Tears fall incessantly from my frustrated eyes.

Take these clothes from me, and these flowers that seem now to mock my affection –

Alas, that I should spend such a night in the pain of separation!

I came to the river bank on false hopes of meeting my beloved,

What dreams of love did I have, to have loved so deeply.

At last, I find myself at the break of dawn, sad of face, slow of step, mind distracted

Returning to a loveless existence.

Then it surely must be best to forget you exist, what good do these tears do?

If I must leave then why does my heart feel so drawn to you?

For how long must I sit like a fool in the grove, hoping for just one sight

This must surely be the end of spring in this cursed life of mine.

Raga: Bhairavi Keertan
Beat: RupakRa
Written: 29th June, 1893

Follow the link to hear:
Ritu Guha sing : http://youtu.be/Amw1OmKkQFY

Tagore books Giveaway!

If you are a lover of Rabindranath Tagore’s writing and his songs, you will love this! A chance to win a three book set of translations of Tagore’s songs, stories and poems! Winners will be randomly picked from ‘Likes’, ‘Shares’ and ‘Comments’. They will be announced on the 13th of July, 2013 by midday
Facebook:
https://www.facebook.com/ruma.chakravarti
https://www.facebook.com/RumasBookLaunch
Blogs:
https://animikha.wordpress.com/
http://banglarmukh-ruma.blogspot.com.au/
Your books will be sent to you by registered post, wherever you are. Good luck!my books photo

আজু সখি, মুহু মুহু/Aju sakhi, muhu muhu/Today, dearest, every instant

আজু সখি, মুহু মুহু
গাহে পিক কুহু কুহু ,
কুঞ্জবনে দুঁহু দুঁহু
দোঁহার পানে চায়।
যুবনমদবিলসিত
পুলকে হিয়া উলসিত,
অবশ তনু অলসিত
মূরছি জনু যায়।
আজু মধু চাঁদনী
প্রাণউনমাদনী,
শিথিল সব বাঁধনী,
শিথিল ভই লাজ।
বচন মৃদু মরমর
কাঁপে রিঝ থরথর,
শিহরে তনু জরজর
কুসুমবনমাঝ।
মলয় মৃদু কলয়িছে ,
চরণ নহি চলয়িছে,
বচন মুহু খলয়িছে,
অঞ্চল লুটায়।
আধফুট শতদল
বায়ুভরে টলমল
আঁখি জনু ঢলঢল
চাহিতে নাহি চায়।
অলকে ফুল কাঁপয়ি
কপোলে পড়ে ঝাঁপয়ি,
মধু-অনলে তাপয়ি
খসয়ি পড়ু পায়।
ঝরই শিরে ফুলদল,
যমুনা বহে কলকল
হাসে শশি ঢলঢল —
ভানু মরি যায়।

রাগ: বেহাগ-কীর্তন
তাল: ঝাঁপতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1290
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883

RK best

Aju sakhi, muhu muhu
Gahe piko kuhu kuhu,
Kunjabane dnuhu dnuhu
Dnohar paane chaay
Yubanmadabiloshito
Pulokey hiya ulashito,
Abasho tanu alashito
Muracchi jonu jaay
Aju madhu chandni
Prana-unmadoni,
Shithilo sab bnadhoni,
Shithilo bhoi laajo.
Bachan mridu marmar
Knapey rijho thorothoro,
Shihore tonu jorojoro
Kusumabonmajh.
Moloy mridu koloyiche,
Charan nahi choloyiche,
Bachan muhu khalayiche,
Anchal lutaay.
Adhphuta shatadolo
Bayubhor tolomolo
Ankhi joni dholodholo
Chahitey nahi chaay.
Alokey phul knapoyi
Kapoley porey jhnapoyi,
Madhu-onoley tapoyi
Khoshoyi paroo paay.
Jhoroyi sheerey phooldol
Yamuna bahe kolokolo
Hashe shashi dholodholo –
Bhanu mori jaay.

RK best

Today, dearest

Today, dearest, every instant,
Fills with birdsong near and distant.
As they sit in pairs in the grove,
They look at each other with love.
Drunk with the nectar of youth,
They thrill again and again, forsooth
As passion slowly numbs all feeling,
They faint with unbearable longing,
Says Radha.

Today a honey hued moon rises
My heart sways ecstatic,
All rules and bonds slacken.
Shame does not restrict my expression,
Words are spoken softly with feeling.
The air trembles with thrill.
The fever makes my body shiver,
In the midst of the flowers of the forest,
Says Radha.

The breeze blows gently here and there
I can barely move another step further
My words stumble as my breath catches
My veil trails behind me neglected.
The half opened lotus looks on,
Its petals ruffled by the breeze.
Half opened eyes drunk with love,
I can barely look upon my surroundings.
The flowers I tucked in my hair,
Gently fall on my cheeks and face.
Heated by the sweet breeze,
They cast themselves about my feet.
A gentle rain of blossom upon my head
As the Yamuna flows.
The moon smiles as it looks down,
The sun sets at the end of the day,

As Bhanu sings in praise

Raga: Behag
Beat: Jhnap Taal
Written: 1883

Follow the links to hear:
Kanika Bandopadhyay: http://youtu.be/PJK_G__Hbz0
A dance performance to the song: http://youtu.be/40WNc1h36R0

Image: http://www.gangesindia.com/radha-krishna-pata-painting