Archive | March 2012

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম/You remain in silence, waiting within the recesses of my heart

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম

নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥

মম জীবন যৌবন    মম অখিল ভুবন

তুমি    ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥

জাগিবে একাকী     তব করুণ আঁখি,

তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি।

মম দুঃখবেদন    মম সফল স্বপন

তুমি    ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম॥

You remain in silence, waiting within the recesses of my heart

Like a dense night full of secrets awash with moonlight encircling me.

You have filled my life, my youth, my whole world,

with such glory, like the all enveloping night.

You lie wakeful, in solitary splendour, your glances shadowed  by pain

Your veil spread over me.

My sorrows and my shame, all my realised dreams that

You fill  with the fragrance of all the flowers of the night

রাগ: বেহাগ                        তাল: একতাল

রচনাকাল: 1895              রচনাস্থান: জোড়াসাঁকো

Follow the links

Debabrata Biswas: http://www.youtube.com/watch?v=l0uCi53CIBs

Advertisements

এরে ভিখারি সাজায়ে কী রঙ্গ তুমি করিলে/What game is this that you have played

এরে    ভিখারি সাজায়ে কী রঙ্গ তুমি করিলে,

হাসিতে আকাশ ভরিলে ॥

পথে পথে ফেরে, দ্বারে দ্বারে যায়,    ঝুলি ভরি রাখে যাহা-কিছু পায়–

কতবার তুমি পথে এসে, হায়,    ভিক্ষার ধন হরিলে ॥

ভেবেছিল চির-কাঙাল সে এই ভুবনে,    কাঙাল মরণে জীবনে।

ওগো মহারাজা, বড়ো ভয়ে ভয়ে    দিনশেষে এল তোমারি আলয়ে–

আধেক আসনে তারে ডেকে লয়ে   নিজ মালা দিয়ে বরিলে

What game is  this that you have played                        by making me want more and more,

while you fill  the skies with radiant laughter?

I walk the streets in anguish, going to  every door       I put away all that I am given

How many times did you come to me                             and take it all away?

I thought I was to be forever needy                      destitute in life and in death.

Oh King of my heart, I come to you so  timidly      my heart filled with fear, at day’s end,

But there, you were to  take me, by the hand and lead me, giving me your garland for my very own.

রাগ: পিলু-বারোয়াঁ
তাল: দাদরা            রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1914

                          

Follow the links to hear, Kanika Banerjee

http://www.youtube.com/watch?v=C83Ohi1kU8o

Debabrata Biswas

http://www.youtube.com/watch?v=U6osJDkebfM&feature=related

তোমার বাস কোথা যে পথিক ওগো, দেশে কি বিদেশে/Where do you live, Oh traveler? Is it near or is it far? Is it near by or far?

তোমার   বাস কোথা যে পথিক ওগো, দেশে কি বিদেশে।
        তুমি হৃদয়-পূর্ণ-করা ওগো, তুমিই সর্বনেশে॥
‘আমার   বাস কোথা যে জান না কি,
        শুধাতে হয় সে কথা কি
            ও মাধবী, ও মালতী !’
হয়তো জানি, হয়তো জানি, হয়তো জানি নে,
        মোদের  বলে দেবে কে সে॥
মনে করি, আমার তুমি, বুঝি নও আমার।
    বলো বলো, বলো পথিক, বলো তুমি কার।
‘আমি তারি যে আমারে   যেমনি দেখে চিনতে পারে,
                  ও মাধবী, ও মালতী !’
            হয়তো চিনি, হয়তো চিনি, হয়তো চিনি নে,
                  মোদের     বলে দেবে কে সে॥

 

 

Where do you live, Oh traveler?

Where do you live, Oh traveler?

Is it near or is it far?

You fill my soul with sweetness, yet in you lies ultimate ruin.

Do you not know where I came from,

Must you ask that of me?

Oh perfumed jasmine and lily!

Perhaps I do and perhaps I don’t,

But who will tell  us that?

I hope so much that you are mine yet I know that you cannot be tamed,

Tell me, Oh traveller who holds your heart?

I belong to those, that know me for their own,

Oh perfumed jasmine and lily!

Perhaps I do and perhaps I don’t,

But who will tell us that?

 

 

 

Follow the links to hear: Rezwana Chaudhury Bonnya

http://www.youtube.com/watch?v=dXV6P4zZlSw

ঘরে বাইরে /বিমলার আত্মকথা/Bimala’s Story

তিনি হয়তো ভাবলেন, আমি লুকিয়ে পুণ্য অর্জন করছি। কিন্তু, নয়, নয়, সে আমার পুণ্য নয়— সে আমার নারীর হৃদয়, তার ভালোবাসা আপনিই পূজা করতে চায়।

আমার শ্বশুর-পরিবার সাবেক নিয়মে বাঁধা। তার কতক কায়দা-কানুন মোগল পাঠানের, কতক বিধিবিধান মনুপরাশরের। কিন্তু আমার স্বামী একেবারে একেলে। এ বংশে তিনিই প্রথম রীতিমত লেখাপড়া শেখেন আর এম. এ. পাস করেন। তাঁর বড়ো দুই ভাই মদ খেয়ে অল্প বয়সে মারা গেছেন ; তাঁদের ছেলেপুলে নেই। আমার স্বামী মদ খান না, তাঁর চরিত্রে কোনো চঞ্চলতা নেই ; এ বংশে এটা এত খাপছাড়া যে সকলে এতটা পছন্দ করে না, মনে করে যাদের ঘরে লক্ষ্মী নেই অত্যন্ত নির্মল হওয়া তাদেরই সাজে। কলঙ্কের প্রশস্ত জায়গা তারার মধ্যে নেই, চাঁদের মধ্যেই আছে।

He might have thought I was gathering my blessings in secret. But no, not at all, those were  not my blessings, it was my woman’s heart; the love that lives there, it wants to give itself up in worship.

My in-laws followed the old ways. Some of their rules came from the Mughals and the Pathans, some from the laws laid down by Manu. But my husband was completely modern. He was the first in the family to get a proper education and earn a Masters degree. His two older brothers drank themselves to death at an early age; they had no children. My husband does not drink alcohol, there is no restlessness in his  nature. This is  so against the nature of the family that not everyone likes him, they are of the opinion that being so faultless is a sign of poverty. They do not put up with such imagined failings in the way the moon seems to embrace the marks upon her face.

বহুকাল হল আমার শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। আমার দিদিশাশুড়িই ঘরের কর্ত্রী। আমার স্বামী তাঁর বক্ষের হার, তাঁর চক্ষের মণি। এইজন্যেই আমার স্বামী কায়দার গণ্ডি ডিঙিয়ে চলতে সাহস করতেন। এইজন্যেই তিনি যখন মিস গিল্‌‍বিকে আমার সঙ্গিনী আর শিক্ষক নিযুক্ত করলেন তখন ঘরে বাইরে যত রসনা ছিল তার সমস্ত রস বিষ হয়ে উঠল, তবু আমার স্বামীর জেদ বজায় রইল।

সেই সময়েই তিনি বি. এ. পাস করে এম. এ. পড়ছিলেন। কলেজে পড়বার জন্যে তাঁকে কলকাতায় থাকতে হত। তিনি প্রায় রোজই আমাকে একটি করে চিঠি লিখতেন, তার কথা অল্প, তার ভাষা সাদা, তাঁর হাতের সেই গোটা গোটা গোল গোল অক্ষরগুলি যেন স্নিগ্ধ হয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকত।

একটি চন্দনকাঠের বাক্সের মধ্যে আমি তাঁর চিঠিগুলি রাখতুম আর রোজ বাগান থেকে ফুল তুলে সেগুলি ঢেকে দিতুম। তখন আমার সেই রূপকথার রাজপুত্র অরুণালোকে চাঁদের মতো মিলিয়ে গেছে। সেদিন আমার সত্যকার রাজপুত্র বসেছে আমার হৃদয়-সিংহাসনে। আমি তাঁর রানী, তাঁর পাশে আমি বসতে পেরেছি ; কিন্তু তার চেয়ে আনন্দ, তাঁর পায়ের কাছে আমার যথার্থ স্থান।

My parents-in-law had passed away a long time ago. My grandmother-in-law was  the matriarch of the home. My husband was her favourite. This was why he had managed to overcome some of the restrictions that were in place. This is why when he appointed Miss Gilbey as my companion and teacher, every tongue in the house dripped poison, but my husband was able to maintain his stand.

That was when he was studying his Masters course.He had to stay in Kolkata as that was where the college was. He wrote to me almost every day, a few words, in a simple fashion, the rounded even letters seeming to smile up at me from the page.

I used to put these letters away in a sandalwood box and cover them with fresh flowers from the garden each day. The fairy tale prince had now vanished like the moon surrendering to the sun during the daytime. My real prince was now seated on the throne of my heart. I was his queen, I was able to  sit next to him, but I had more pleasure in knowing my appropriate place was at his feet.

আমি লেখাপড়া করেছি, সুতরাং এখনকার কালের সঙ্গে আমার এখনকার ভাষাতেই পরিচয় হয়ে গেছে। আমার আজকের এই কথাগুলো আমার নিজের কাছেই কবিত্বের মতো শোনাচ্ছে। এ কালের সঙ্গে যদি কোনো-একদিন আমার মোকাবিলা না হত তা হলে আমার সেদিনকার সেই ভাবটাকে সোজা গদ্য বলেই জানতুম— মনে জানতুম মেয়ে হয়ে জন্মেছি এ যেমন আমার ঘর-গড়া কথা নয় তেমনি মেয়েমানুষ প্রেমকে ভক্তিতে গলিয়ে দেবে এও তেমনি সহজ কথা, এর মধ্যে বিশেষ কোনো-একটা অপরূপ কাব্যসৌন্দর্য আছে কি না সেটা এক মুহূর্তের জন্যে ভাববার দরকার নেই।

কিন্তু সেই কিশোর বয়স থেকে আজ এই যৌবনের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছতে না পৌঁছতে আর-এক যুগে এসে পড়েছি। যেটা নিশ্বাসের মতো সহজ ছিল এখন সেটাকে কাব্যকলার মতো করে গড়ে তোলবার উপদেশ আসছে। এখনকার ভাবুক পুরুষেরা সধবার পাতিব্রত্যে এবং বিধবার ব্রহ্মচর্যে যে কী অপূর্ব কবিত্ব আছে, সে কথা প্রতিদিন সুর চড়িয়ে চড়িয়ে বলছেন। তার থেকে বোঝা যাচ্ছে জীবনের এই জায়গায় কেমন করে সত্যে আর সুন্দরে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন কি কেবলমাত্র সুন্দরের দোহাই দিলে আর সত্যকে ফিরে পাওয়া যাবে?

I had been educated, thus my acquaintance with the  present was on my own terms in a language I knew. These words sound rather poetic to me. If I did not have to deal  with the present, I would have called that feeling prosaic – just as the fact that I am a woman by virtue of birth is not something I have made up, the tendency of women to distill respect from love is also natural; there is no need to  try and find a sense of the poetic in this natural progression of things.

But somewhere, in between my childhood and my youth, I arrived at a different place altogether. Something that had been as natural as breathing suddenly became something as complex as poetry. Today sentimental men talk increasingly loudly about the wonderful poetry in a married woman’s devotion to her duties and a widow’s celibacy. This will make it clear how there is a distinct schism between truth and beauty at this point. Can truth be brought back for the sake of beauty alone?

মেয়েমানুষের মন সবই যে এক-ছাঁচে-ঢালা তা আমি মনে করি নে। কিন্তু এটুকু জানি, আমার মনের মধ্যে আমার মায়ের সেই জিনিসটি ছিল, সেই ভক্তি করবার ব্যগ্রতা। সে যে আমার সহজ ভাব তা আজকে স্পষ্ট বুঝতে পারছি যখন সেটা বাইরের দিক থেকে আর সহজ নেই।

এমনি আমার কপাল, আমার স্বামী আমাকে সেই পূজার অবকাশ দিতে চাইতেন না। সেই ছিল তাঁর মহত্ত্ব। তীর্থের অর্থপিশাচ পাণ্ডা পূজার জন্যে কাড়াকাড়ি করে, কেননা সে পূজনীয় নয় ; পৃথিবীতে যারা কাপুরুষ তারাই স্ত্রীর পূজা দাবি করেথাকে। তাতে পূজারি ও পূজিত দুইয়েরই অপমানের একশেষ।

কিন্তু, এত সেবা আমার জন্যে কেন? সাজসজ্জা দাসদাসী জিনিসপত্রের মধ্যে দিয়ে যেন আমার দুই কূল ছাপিয়ে তাঁর আদরের বান ডেকে বইল। এই-সমস্তকে ঠেলে আমি নিজেকে দান করব কোন্‌ ফাঁকে! আমার পাওয়ার সুযোগের চেয়ে দেওয়ার সুযোগের দরকার অনেক বেশি ছিল। প্রেম যে স্বভাববৈরাগী ; সে যে পথের ধারে ধুলার ’পরে আপনার ফুল অজস্র ফুটিয়ে দেয়, সে তো বৈঠকখানার চীনের টবে আপনার ঐশ্বর্য মেলতে পারে না।

I do not believe that all feminine minds are made in the same mould. But I do know that one thing that  my mind had inherited from my mother was her eagerness to please through respect. Today, when that has become harder  to do outwardly, I begin to understand it as a part of my mentality.

My luck was such that my husband did not give me a chance to shower him with that devotion. That was his greatness. The priests at a temple who squabble over the offerings, do  so because they are not worth the worship themselves. Only the coward wants his wife to be devoted to him; that is demeaning to both the servile as well as to he who receives it.

But why was so much given to me?  He gave me servants and material  things, he gave me everything possible till I could have no more. How could I give these up and give myself to him? I needed to have a chance to give a lot more than the chance to receive. Love is by nature, needy. It blooms in the dust of neglect, rather than in a flower pot in a living room

আমাদের অন্তঃপুরে যে-সমস্ত সাবেক দস্তুর চলিত ছিল আমার স্বামী তাকে সম্পূর্ণ ঠেলতে পারতেন না। দিনে-দুপুরে যখন-তখন অবাধে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ হতে পারত না। আমি জানতুম ঠিক কখন তিনি আসবেন ; তাই যেমন-তেমন এলোমেলো হয়ে আমাদের মিলন ঘটতে পারত না। আমাদের মিলন যেন কবিতার মিল ; সে আসত ছন্দের ভিতর দিয়ে, যতির ভিতর দিয়ে। দিনের কাজ সেরে, গা ধুয়ে, যত্ন করে চুল বেঁধে, কপালে সিঁদুরের টিপ দিয়ে,কোঁচানো শাড়িটি প’রে, ছড়িয়ে-পড়া দেহ-মনকে সমস্ত সংসার থেকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে এনে একজনের কাছে একটি বিশেষ সময়ের সোনার থালায় নিবেদন করে দিতুম। সেই সময়টুকু অল্প, কিন্তু অল্পের মধ্যে সে অসীম।

আমার স্বামী বরাবর বলে এসেছেন, স্ত্রীপুরুষের পরস্পরের প্রতি সমান অধিকার, সুতরাং তাদের সমান প্রেমের সম্বন্ধ। এ নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে কোনোদিন তর্ক করি নি। কিন্তু আমার মন বলে, ভক্তিতে মানুষকে সমান হবার বাধা দেয় না। ভক্তিতে মানুষকে উপরের দিকে তুলে সমান করতে চায়। তাই সমান হতে থাকবার আনন্দ তাতে বরাবর পাওয়া যায়, কোনোদিন তা চুকে গিয়ে হেলার জিনিস হয়ে ওঠে না। প্রেমের থালায় ভক্তি পূজা আরতির আলোর মতো— পূজা যে করে এবং যাকে পূজা করা হয় দুয়ের উপরেই সে আলো সমান হয়ে পড়ে। আমি আজ নিশ্চয় জেনেছি, স্ত্রীলোকের ভালোবাসা পূজা করেই পূজিত হয়— নইলে সে ধিক্‌ ধিক্‌। আমাদের ভালোবাসার প্রদীপ যখন জ্বলে তখন তার শিখা উপরের দিকে ওঠে— প্রদীপের পোড়া তেলই নীচের দিকে পড়তে পারে।

My husband had been unable to give up completely all the old fashioned rules of the inner quarters. We could never meet whenever we pleased, whether during the day or at night.  I always knew exactly when he would come;  therefore we could were never spontaneous. Our unions were like rhyme in poetry; through rhythm and in punctuated breaks. At the end of  the day, after the housework was done, I would have a bath, do my hair with care, put on a red vermilion dot on my forehead, wear a folded saree, bring my body and mind back from the wanderings of the day and offer myself up to one person at a specific time, on a golden platter. That time was short but it meant the world.

My husband has always said, men and women hold equal rights to each other, therefore they must love equally. I never argued with him over this. But  my mind says that, respect does not prevent people from being equal. It seeks to lift people to  the same heights and make them equal. That is why the joy of being equal can be experienced continually. it never becomes tedious. The offering of respect and love is like the holy flame, both worshipped and worshipper are equally illuminated. I know with certainty today that a woman’s love is sanctified when it is offered, other wise it flickers wanly. When the flame of love burns, it rises higher, the oil spills from the lamp only when there is no flame.

প্রিয়তম, তুমি আমার পূজা চাও নি সে তোমারই যোগ্য, কিন্তু পূজা নিলে ভালো করতে। তুমি আমাকে সাজিয়ে ভালোবেসেছ, শিখিয়ে ভালোবেসেছ, যা চেয়েছি তা দিয়ে ভালাবেসেছ, যা চাই নি তা দিয়ে ভালাবেসেছ, আমার ভালোবাসায় তোমার চোখে পাতা পড়ে নি তা দেখেছি, আমার ভালোবাসায় তোমার লুকিয়ে নিশ্বাস পড়েছে তা দেখেছি। আমার দেহকে তুমি এমন করে ভালোবেসেছ যেন সে স্বর্গের পারিজাত, আমার স্বভাবকে তুমি এমনি করে ভালোবেসেছ যেন সে তোমার সৌভাগ্য! এতে আমার মনে গর্ব আসে, আমার মনে হয় এ আমারই ঐশ্বর্য যার লোভে তুমি এমন করে আমার দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছ। তখন রানীর সিংহাসনে বসে মানের দাবি করি ; সে দাবি কেবল বাড়তেই থাকে, কোথাও তার তৃপ্তি হয় না। পুরুষকে বশ করবার শক্তি আমার হাতে আছে এই কথা মনে করেই কি নারীর সুখ, না তাতেই নারীর কল্যাণ? ভক্তির মধ্যে সেই পর্বকে ভাসিয়ে দিয়ে তবেই তার রক্ষা। শংকর তো ভিক্ষুক হয়েই অন্নপূর্ণার দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু এই ভিক্ষার রুদ্রতেজ কি অন্নপূর্ণা সইতে পারতেন যদি তিনি শিবের জন্যে তপস্যা না করতেন?

আজ মনে পড়ছে সেদিন আমার সৌভাগ্যে সংসারে কত লোকের মনে কত ঈর্ষার আগুন ধিকিধিকি জ্বলেছিল। ঈর্ষা হবারই তো কথা— আমি যে অমনি পেয়েছি, ফাঁকি দিয়ে পেয়েছি। কিন্তু ফাঁকি তো বরাবর চলে না। দাম দিতেই হবে। নইলে বিধাতা সহ্য করেন না— দীর্ঘকাল ধরে প্রতিদিন সৌভাগ্যের ঋণ শোধ করতে হয়, তবেই স্বত্ব ধ্রুব হয়ে ওঠে। ভগবান আমাদের দিতেই পারেন, কিন্তু নিতে যে হয় নিজের গুণে। পাওয়া জিনিসও আমরা পাই নে এমনি আমাদের পোড়া কপাল।

Dearest, that you did not want me to worship you is typical of your nature, but it would have been better had you allowed it. You have loved me by dressing me up, by teaching me, by giving whatever I wanted and what I did not ask for, I have seen you forgetting to blink at the intensity of my love, I have seen you sigh at the intensity of my love. You have loved my body as though it was a heavenly flower, you have loved  my nature as though that was your good fortune. This has given me pride, it has made me  feel as though, you had come to ask for a share of my wealth. That is when I felt like  sitting  on the queen’s throne and demanding respect. This demand keeps increasing, it is never satisfied. Is it a woman’s happiness or her well being that depends on the knowledge that she can control men? This pride needs to be offered  up along with respect to render it harmless. Shiva came to Annapurna as a mendicant begging for alms, but would Annapurna have been able to bear Shiva’s ferocious aura if she had not prayed for him?

Today I remember how many people were overcome by the flickering flames of jealousy at my good  fortune at the time. Jealousy was natural. I had received without asking, hence it had to follow that I had received through deception. but deception cannot go on forever; a price must be paid. Other wise our Maker finds it intolerable – one has to pay one’s debt to good fortune each day for a long time, .only then does it become a constant truth. Our Maker can always give us, but the taking depends on ourselves. Sometimes even something we have received may remain out of reach, simply because of our misfortune.

:ঘরে বাইরে-বিমলার আত্মকথা/Bimala’s Story

ঘরে বাইরে
বিমলার আত্মকথা
মা গো, আজ মনে পড়ছে তোমার সেই সিঁথের সিঁদুর, চওড়া সেই লাল-পেড়ে শাড়ি, সেই তোমার দুটি চোখ— শান্ত, স্নিগ্ধ, গভীর। সে যে দেখেছি আমার চিত্তাকাশে ভোরবেলাকার অরুণরাগরেখার মতো। আমার জীবনের দিন যে সেই সোনার পাথেয় নিয়ে যাত্রা করে বেরিয়েছিল। তার পরে? পথে কালো মেঘ কি ডাকাতের মতো ছুটে এল? সেই আমার আলোর সম্বল কি এক কণাও রাখল না? কিন্তু জীবনের ব্রাহ্মমুহূর্তে সেই-যে উষাসতীর দান, দুর্যোগে সে ঢাকা পড়ে, তবু সে কি নষ্ট হবার?
Dear Mother,  today I remember the vermilion in the parting of your hair, the wide red bordered sari, your eyes – calm, comforting, thoughtful.I have seen  it like a mark of sunlight on the horizons of my mind,  early in the morning. The days of my life had set out on their journey with that golden treasure as a guarantee . What after that? Did the dark clouds rush in like marauders? Do I have any of that golden treasure in store? The boon given by the early morning goddess in the dawn of life, even if  it was obscured by storms, is it gone forever?

আমাদের দেশে তাকেই বলে সুন্দর যার বর্ণ গৌর। কিন্তু যে আকাশ আলো দেয় সে যে নীল। আমার মায়ের বর্ণ ছিল শামলা, তাঁর দীপ্তি ছিল পুণ্যের। তাঁর রূপ রূপের গর্বকে লজ্জা দিত।

আমি মায়ের মতো দেখতে এই কথা সকলে বলে। তা নিয়ে ছেলেবেলায় একদিন আয়নার উপর রাগ করেছি। মনে হত আমার সর্বাঙ্গে এ যেন একটা অন্যায়— আমার গায়ের রঙ, এ যেন আমার আসল রঙ নয়, এ যেন আর-কারো জিনিস, একেবারে আগাগোড়া ভুল।

সুন্দরী তো নই, কিন্তু মায়ের মতো যেন সতীর যশ পাই দেবতার কাছে একমনে এই বর চাইতুম। বিবাহের সম্বন্ধ হবার সময় আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে দৈবজ্ঞ এসে আমার হাত দেখে বলেছিল, এ মেয়েটি সুলক্ষণা সতীলক্ষ্মী হবে। মেয়েরা সবাই বললে, তা হবেই তো, বিমলা যে ওর মায়ের মতো দেখতে।

In our country, fair skin is considered to be beautiful. But the sky that provides us with light is dark blue. My mother was dark skinned but she had an inner glow of virtue. Her beauty would put to shame any pride in beauty.

Everyone says I look like my mother. When I was a child, I got angry with the mirror over this one day, I used to feel that my body had been wronged – the colour of my skin, this was not mine, it was as if it belonged to someone else, it was completely wrong for me.

I know I am not beautiful, but I prayed that I would be famous for being as a good wife as my mother. When my marriage was being arranged, an astrologer came from my in-laws’ house, looked at my palms and said, “this girl has the auspicious marks of good fortune, she will be as faithful as Lakshmi.” All  the women said, “Of course, that is because she looks like her mother”

রাজার ঘরে আমার বিয়ে হল। তাঁদের কোন্‌ কালের বাদশাহের আমলের সম্মান। ছেলেবেলায় রূপকথার রাজপুত্রের কথা শুনেছি, তখন থেকে মনে একটা ছবি আঁকা ছিল। রাজার ঘরের ছেলে, দেহখানি যেন চামেলি ফুলের পাপড়ি দিয়ে গড়া, যুগযুগান্তর যে-সব কুমারী শিবপূজা করে এসেছে তাদেরই একাগ্র মনের কামনা দিয়ে সেই মুখ যেন তিলে তিলে তৈরি। সে কী চোখ, কী নাক! তরুণ গোঁফের রেখা ভ্রমরের দুটি ডানার মতো, যেমন কালো, তেমনি কোমল।

স্বামীকে দেখলুম, তার সঙ্গে ঠিক মেলে না। এমন-কি, তাঁর রঙ দেখলুম আমারই মতো। নিজের রূপের অভাব নিয়ে মনে যে সংকোচ ছিল সেটা কিছু ঘুচল বটে, কিন্তু সেই সঙ্গে একটা দীর্ঘনিশ্বাসও পড়ল। নিজের জন্যে লজ্জায় না হয় মরেই যেতুম, তবু মনে মনে যে রাজপুত্রটি ছিল তাকে একবার চোখে চোখে দেখতে পেলুম না কেন?

I was married to a family bearing the title of Raja. Some Muslim emperor had granted them the honour in the past. I had heard of fairy tale princes as a child, there  was a picture in my mind. The prince would have a body made of flower  petals. His face would have been made from the most fervent prayers of the maidens who have worshipped Shiva through the ages. His young mustache would have been like the wings of a bumble bee, black and soft.

কিন্তু রূপ যখন চোখের পাহারা এড়িয়ে লুকিয়ে অন্তরে দেখা দেয় সেই বুঝি ভালো। তখন সে যে ভক্তির অমরাবতীতে এসে দাঁড়ায়, সেখানে তাকে কোনো সাজ করে আসতে হয় না। ভক্তির আপন সৌন্দর্যে সমস্তই কেমন সুন্দর হয়ে ওঠে সে আমি ছেলেবেলায় দেখেছি। মা যখন বাবার জন্যে বিশেষ করে ফলের খোসা ছাড়িয়ে সাদা পাথরের রেকাবিতে জলখাবার গুছিয়ে দিতেন, বাবার জন্যে পানগুলি বিশেষ করে কেওড়া-জলের-ছিটে-দেওয়া কাপড়ের টুকরোয় আলাদা জড়িয়ে রাখতেন, তিনি খেতে বসলে তালপাতার পাখা নিয়ে আস্তে আস্তে মাছি তাড়িয়ে দিতেন, তাঁর সেই লক্ষ্মীর হাতের আদর, তাঁর হৃদয়ের সেই সুধারসের ধারা কোন্‌ অপরূপ রূপের সমুদ্রে গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়ত সে যে আমার সেই ছেলেবেলাতেও মনের মধ্যে বুঝতুম।

But beauty is best when it touches the mind without needing to be recognised by the eyes. That way, when it arrives in the citadel of adoration, it needs no ornament. Adoration itself  renders everything beautiful. When my mother peeled fruit and placed the pieces on a white stone plate for my father’s breakfast, when she covered his paan in a damp handkerchief specially soaked in the essence of screwpine flowers, when she fanned him slowly during mealtimes to keep the flies at bay, the very hand of Lakshmi was  at work, the kindness of her heart was part of the vast ocean of  beauty that surrounded us – this was clear to me even as a child

সেই ভক্তির সুরটি কি আমার মনের মধ্যে ছিল না? ছিল। তর্ক না, ভালোমন্দের তত্ত্বনির্ণয় না, সে কেবলমাত্র একটি সুর! সমস্ত জীবনকে যদি জীবনবিধাতার মন্দির প্রাঙ্গণে একটি স্তবগান করে বাজিয়ে যাবার কোনো সার্থকতা থাকে, তবে সেই প্রভাতের সুরটি আপনার কাজ আরম্ভ করেছিল।

মনে আছে, ভোরের বেলায় উঠে অতি সাবধানে যখন স্বামীর পায়ের ধুলো নিতুম তখন মনে হত আমার সিঁথের সিঁদুরটি যেন শুকতারার মতো জ্বলে উঠল। একদিন তিনি হঠাৎ জেগে হেসে উঠে বললেন, ও কি বিমল, করছ কী!

Was there no trace  of that adoration in my heart? There was. There was no argument, no attempt to decide whether it was good or  bad, it was just a trace. If there is any glory in offering our lives as a prayer in the temple of fate, then surely, that adoration had started forming in my heart.

I remember, when I used to touch my husband’s feet very carefully to show him respect early in the mornings, I felt as though the vermilion mark in my hair parting was shining like a star. One day, he woke up suddenly and laughed, saying, “What is this Bimal, what are you doing?”

Follow the links to watch the much loved film by Satyajit Ray

http://www.youtube.com/watch?v=QZEqaUypt6Y&feature=related

ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি/Will you break all my doors down and release me?

ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে
ও বন্ধু আমার!
না পেয়ে তোমার দেখা, একা একা দিন যে আমার কাটে না রে ॥
বুঝি গো রাত পোহালো,
বুঝি ওই রবির আলো
আভাসে দেখা দিল গগন-পারে–
সমুখে ওই হেরি পথ, তোমার কি রথ পৌঁছবে না মোর-দুয়ারে ॥
আকাশের যত তারা
চেয়ে রয় নিমেষহারা,
বসে রয় রাত-প্রভাতের পথের ধারে।
তোমারি দেখা পেলে সকল ফেলে ডুববে আলোক-পারাবারে।
প্রভাতের পথিক সবে
এল কি কলরবে–
গেল কি গান গেয়ে ওই সারে সারে!
বুঝি-বা ফুল ফুটেছে, সুর উঠেছে অরুণবীণার তারে তারে ॥

Will you break all my doors down

Will you break all my doors down and release me?
Oh friend of mine.
Without you, all alone, the days are endless and long,.
Perhaps the night will soon be over,
Perhaps that is why the sun grows strong
And casts a faint glow over the darkened sky –
I see the path on which you will send
Your chariot to my door, will you not?
All the stars of the night sky
Gaze in eternal watch,
Waiting where night meets day,
As you show your face, they surrender to the sea of light and grace.
Travelers of the dawn light,
They arrive with fanfare and depart singing in praise
Perhaps the flowers will bloom and songs ring out
Taking tune from the sun’s harmony

Follow the links to hear:
Lopamudra Mitra sing the song at  http://www.youtube.com/watch?v=zo-HAadr6CQ
Dohar sing the original folk song at http://www.youtube.com/watch?v=GDT81y0d_QI

ও যে মানে না মানা/ He Does Not Listen To My Pleas To Go

kani

Kanika Bandopadhyay, Ustad Allauddin Khan, Sailajaranjan Mukhopadhyay and Suvo Guha Thakurta

kanik

Kanika Bandopadhyay

Suchitra-Kanika

Kanika Bandopadhyay and Suchitra Mitra

ও যে মানে না মানা।

আঁখি ফিরাইলে বলে, ‘না, না, না।’

যত বলি ‘নাই রাতি–     মলিন হয়েছে বাতি’

মুখপানে চেয়ে বলে, ‘না, না, না।’

বিধুর বিকল হয়ে খেপা পবনে

ফাগুন করিছে হাহা ফুলের বনে।

আমি যত বলি ‘তবে        এবার যে যেতে হবে’

দুয়ারে দাঁড়ায়ে বলে, ‘না, না, না।’

O je maane na maana

Ankhi phirailey bole, “Na, Na, Na”

Joto boli “Nai raati – molino hoyeche baati”

Mukhopaane cheye bole, “Na, Na, Na”

Bidhuro bikolo hoye khepa pobone

Phaguno koriche ha ha phoolero boney

Ami joto boli “tobe ebar je jetey hobe”

Duarey danraye bole, “Na, Na, Na”

He Does Not Listen To My Pleas To Go

He does not listen to my pleas to go

When I look away from him, he says, “No,  No, No”

The more I say, the night is gone, the lamp glows so low

Looking at me, he says, “No, No, No”

Forlorn, agitated in the restless wind

Spring  mourns the passing of time in the flowers of the forest

The more I say to him, it’s time to go

He stands at the door, and says, “No, No, No”

Follow the link to hear Kanika Banerjee sing the song in her own unique style:

http://www.youtube.com/watch?v=lpXvzxIBMrA