Archive | July 2012

আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়/Adheko ghume noyon chume/ In half sleep, someone kisses my eyes to leave dreams behind

আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়।
শ্রান্ত ভালে যূথীর মালে পরশে মৃদু বায়॥
বনের ছায়া মনের সাথি, বাসনা নাহি কিছু–
পথের ধারে আসন পাতি, না চাহি ফিরে পিছু–
বেণুর পাতা মিশায় গাথা নীরব ভাবনায়॥
মেঘের খেলা গগনতটে অলস লিপি-লিখা,
সুদূর কোন্‌ স্ময়ণপটে জাগিল মরীচিকা।
চৈত্রদিনে তপ্ত বেলা তৃণ-আঁচল পেতে
শূন্যতলে গন্ধ-ভেলা ভাসায় বাতাসেতে–
কপোত ডাকে মধুকশাখে বিজন বেদনায়॥

রাগ: মিশ্র সোহিনী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): চৈত্র, ১৩৩২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1926
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

In half sleep

In half sleep, someone kisses my eyes to leave dreams behind
Touching my weary forehead and my jasmine garlands with a gentle breeze
The shadows of the forest are companion to my musings; I do not seek much more –
I make my seat beside the path; I do not look at what I leave behind –
The trembling bamboo leaves pour their songs into my silent thoughts.
The fleeting play of clouds upon the blue is a restful message,
That awakens a mirage of memories I thought long forgotten.
In the heat of the day, a grassy robe invites upon the ground
As my thoughts rise like perfume with the wind –
Doves call plaintively from flowered trees in solitary pain.

Raga: Mishra Sohini
Beat: Dadra
Written: 1926
Written in Santiniketan

Follow the links to hear Debabrata Biswas sing:

অন্ধকারের উৎস-হতে উৎসারিত আলো/Andhokarer utsho hotey utsharito alo/The blessed light that shines from where darkness springs

অন্ধকারের উৎস-হতে উৎসারিত আলো
সেই তো তোমার আলো!
সকল দ্বন্দ্ববিরোধ-মাঝে জাগ্রত যে ভালো
সেই তো তোমার ভালো ॥
পথের ধুলায় বক্ষ পেতে রয়েছে যেই গেহ
সেই তো তোমার গেহ।
সমরঘাতে অমর করে রুদ্রনিঠুর স্নেহ
সেই তো তোমার স্নেহ ॥
সব ফুরালে বাকি রহে অদৃশ্য যেই দান
সেই তো তোমার দান।
মৃত্যু আপন পাত্রে ভরি বহিছে যেই প্রাণ
সেই তো তোমার প্রাণ।
বিশ্বজনের পায়ের তলে ধূলিময় যে ভূমি
সেই তো স্বর্গভূমি।
সবায় নিয়ে সবার মাঝে লুকিয়ে আছ তুমি
সেই তো আমার তুমি ॥

রাগ: বৃন্দাবনী সারং
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৯ আশ্বিন, ১৩২১
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৬ অক্টোবর, ১৯১৪

The blessed light that shines from where darkness springs
That is your light!
The compassion that is a beacon in the midst of all troubles
That is your compassion.
The shelter that sits close to the dust of the road
That is where you seek shelter.
When terrible love makes us immortal by inflicting pain
That is your love.
When all is taken away, the invisible gift that remains
That is your gift.
The life that death holds in its power
That is your life.
The path that is daily trod underfoot by the world
There is where heaven lies.
You hide amongst everyone and embrace them all
And there you are mine.

Raga: Brindabani Sareng
Beat: Dadra
Written: 16 October, 1914

Follow the link to hear Swagatalakshmi Dasgupta sing:

and

Pandit Bhimsen Joshi sing the Raga:

সামান্য ক্ষতি/Shamanyo Kshoti/Very Little Harm

সামান্য ক্ষতি

বহে মাঘমাসে শীতের বাতাস,

স্বচ্ছসলিলা বরুণা।

পুরী হতে দূরে গ্রামে নির্জনে

শিলাময় ঘাট চম্পকবনে,

স্নানে চলেছেন শতসখীসনে

কাশীর মহিষী করুণা।

সে পথ সে ঘাট আজি এ প্রভাতে

জনহীন রাজশাসনে।

নিকটে যে ক’টি আছিল কুটির

ছেড়ে গেছে লোক, তাই নদীতীর

স্তব্ধ গভীর, কেবল পাখির

কূজন উঠিছে কাননে।

আজি উতরোল উত্তর বায়ে

উতলা হয়েছে তটিনী।

সোনার আলোক পড়িয়াছে জলে,

পুলকে উছলি ঢেউ ছলছলে–

লক্ষ মানিক ঝলকি আঁচলে

নেচে চলে যেন নটিনী।

কলকল্লোলে লাজ দিল আজ

নারী কণ্ঠের কাকলি।

মৃণালভুজের ললিত বিলাসে

চঞ্চলা নদী মাতে উল্লাসে,

আলাপে প্রলাপে হাসি-উচ্ছ্বাসে

আকাশ উঠিল আকুলি।

স্নান সমাপন করিয়া যখন

কূলে উঠে নারী সকলে

মহিষী কহিলা, “উহু! শীতে মরি,

সকল শরীর উঠিছে শিহরি,

জ্বেলে দে আগুন ওলো সহচরী–

শীত নিবারিব অনলে।’

Very Little Harm

In the month of Magh, the cold wind blows,

And clear flow the waters of the Baruna.

Far from the palace, a village serene

Stone strewn the banks, flowers bloom in the green,

A hundred girls step lightly on the path,

Accompanying Queen Karuna of Kashi to her bath.</p>

The path, the banks both lie empty this morn

By King’s orders they are left alone.

A few poor huts, no life stirs within

Bereft of movement, the river bank green

The birds unaware of the visit, fill the air with song

As they have joyfully done all life long.

Today the restless North Wind

Makes the water shimmer, anxious its mind.

Golden light makes the surface glitter,

And little waves tremble in rapture –

As though a million diamonds in the dress

Of a beautiful dancing seductress.

The murmurs of the river are drowned today

By peals of laughter from beauty at play.

Their lotus stem arms swirl through the water

Awakening the still river in tinkling answer

Words and repartee fill the air

The sky rings out in reply loud and clear.

Finally, when her bath was over

They climbed out of the water

The queen shivered ever so prettily

Saying the cold was too much to bear easily.

Handmaidens of mine, you must light a fire

The warmth of flames for myself I desire.

Image: http://karava.org/white_umbrella

পিনাকেতে লাগে টঙ্কার/Pinaketey Laage Tongkar/As Shiva draws his bow with a twang

পিনাকেতে লাগে টঙ্কার–
বসুন্ধরার পঞ্জরতলে কম্পন লাগে শঙ্কার॥
আকাশেতে লাগে ঘুর্ণি     সৃষ্টির বাঁধ চুর্ণি,
বজ্রভীষণ গর্জনরব প্রলয়ের জয়ডঙ্কার॥
স্বর্গ উঠিছে ক্রন্দি,    সুরপরিষদ বন্দী–
তিমিরগহন দু:সহ রাতে উঠে শৃঙ্খলঝঙ্কার।
দানবদম্ভ তর্জি     রুদ্র উঠিল গর্জি–
লণ্ডভণ্ড লুটিল ধুলায় অভ্রভেদী অহঙ্কার॥

রাগ: মেঘমল্লার
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): কার্তিক, ১৩৪০

As Shiva draws his bow with a twang

The earth quakes to its very bones with fear.

Skies swirl and creation crumbles,

As the drums of destruction herald victory with thunderous roll.

The heavens weep for the hostage gods –

In that dark dense night unbearable with the clanging of chains.

The Lord rebukes demonic pride with a roar of anger –

Sky high conceit comes crashing down, to mingle with the dust.

Raga: Meghmallar
Beat: Dadra
Written: 1933

Follow the link to hear Rajeswar Bhattacharya:

http://www.youtube.com/watch?v=sB75sGVe5GA&feature=related

http://blog.indiearth.com/shiva-tandava-vimanika-comics/

দুঃখের তিমিরে যদি জ্বলে তব মঙ্গল-আলোক/Dukkhero Timire Jodi Jwole/If the flame of your benediction should burn in the hour of darkest grief

দুঃখের তিমিরে যদি জ্বলে তব মঙ্গল-আলোক

তবে তাই হোক।

মৃত্যু যদি কাছে আনে তোমার অমৃতময় লোক

তবে তাই হোক ॥

পূজার প্রদীপে তব জ্বলে যদি মম দীপ্ত শোক

তবে তাই হোক।

অশ্রু-আঁখি- ‘পরে যদি ফুটে ওঠে তব স্নেহচোখ

তবে তাই হোক ॥

রাগ: গৌড়সারং-ইমন
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১১ মাঘ, ১৩৪৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ২৫ জানুয়ারি, ১৯৩৭
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: শান্তিদেব ঘোষ

If the flame of your benediction should burn in the hour of darkest grief

If the flame of your benediction should burn in the hour of darkest grief

Let it be so.

If death brings close your domain where death will cease to exist

Let it be so.

If the flame of worship is strengthened by the fires of my sorrow

Let it be so.

If in my tear laden eyes your gracious vision finds consummation

Let it be so.

Raga: Gaud-Sareng Yaman

Beat: Dadra

Written: 25th January, 1937

Santiniketan

Follow the link to hear:

Suchitra Mitra: http://www.youtube.com/watch?v=h6vJt5OGttI

আজি কমলমুকুলদল খুলিল/Aji Komolomukulodolo khulilo/Today the lotus blossom opens to the world

আজি কমলমুকুলদল খুলিল, দুলিল রে দুলিল–
মানসসরসে রসপুলকে পলকে পলকে ঢেউ তুলিল॥
গগন মগন হল গন্ধে, সমীরণ মূর্ছে আনন্দে,
গুন্‌গুন্‌ গুঞ্জনছন্দে মধুকর ঘিরি ঘিরি বন্দে–
নিখিলভুবনমন ভুলিল।
মন ভুলিল রে মন ভুলিল॥

রাগ: বাহার
তাল: ত্রিতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1317
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1910
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

Aji komolomukulodolo khulilo, dulilo re dulilo —
Manoshoshoroshe roshopuloke poloke poloke dheu tulilo.
Gogono mogono holo gondhe, shomirono muurche anonde,
Gungun gunjanchhonde modhukoro ghiri ghiri bonde —
Nikhilobhubonomono bhulilo.
Mono bhulilo re monobhulilo.

Today the lotus blossom opens its petals and sways

Today the lotus blossom opens its petals and sways

The mind fills with the sensations of thrill as waves rise in joy again and again.

The skies fill with  the enchantment of perfume, the breeze swoons with happiness,

The bees fill the air with their sweet buzzing as they greet the flower –

The vast world forgets itself in this purest of delights.

As my mind surrenders to beauty and love.

Raga: Bahar

Beat: Tritaal

Written: 1910

Follow the links to  listen:

A lovely bandish style rendition by Sharat Bose Mullick

http://www.youtube.com/watch?v=145lI_1r5j8

স্ত্রীর পত্র /Streer Potro/ A wife’s letter to her husband

কিন্তু আমি আর তোমাদের সেই সাতাশ নম্বর মাখন বড়ালের গলিতে ফিরব না। আমি বিন্দুকে দেখেছি সংসারের মাঝখানে মেয়েমানুষের পরিচয়টা যে কী তা আমি পেয়েছি। আর আমার দরকার নেই ।

তার পরে এও দেখেছি, ও মেয়ে বটে তবু ভগবান ওকে ত্যাগ করেন নি। ওর উপরে তোমাদের যত জোরই থাক্‌-না কেন, সে জোরের অন্ত আছে। ও আপনার হতভাগ্য মানবজন্মের চেয়ে বড়ো। তোমরাই যে আপন ইচ্ছামতো আপন দস্তুর দিয়ে ওর জীবনটাকে চিরকাল পায়ের তলায় চেপে রেখে দেবে, তোমাদের পা এত লম্বা নয়। মৃত্যু তোমাদের চেয়ে বড়ো। সেই মৃত্যুর মধ্যে সে মহান — সেখানে বিন্দু কেবল বাঙালি ঘরের মেয়ে নয়, কেবল খুড়ততো ভায়ের বোন নয়, কেবল অপরিচিত পাগল স্বামীর প্রবঞ্চিত স্ত্রী নয়। সেখানে সে অনন্ত।

সেই মৃত্যুর বাঁশি এই বালিকার ভাঙা হৃদয়ের ভিতর দিয়ে আমার জীবনের যমুনাপারে যেদিন বাজল সেদিন প্রথমটা আমার বুকের মধ্যে যেন বাণ বিঁধল। বিধাতাকে জিজ্ঞাসা করলুম, জগতের মধ্যে যা-কিছু সব চেয়ে তুচ্ছ তাই সব চেয়ে কঠিন কেন? এই গলির মধ্যকার চারি-দিকে-প্রাচীর-তোলা নিরানন্দের অতি সামান্য বুদ্‌বুদটা এমন ভয়ংকর বাধা কেন। তোমার বিশ্বজগৎ তার ছয় ঋতুর সুধাপাত্র হাতে করে যেমন করেই ডাক দিক-না, এক মুহূর্তের জন্যে কেন আমি এই অন্দরমহলটার এইটুকু মাত্র চৌকাঠ পেরতে পারি নে। তোমার এমন ভুবনে আমার এমন জীবন নিয়ে কেন ঐ অতি তুচ্ছ ইটঁকাঠের আড়ালটার মধ্যেই আমাকে তিলে তিলে মরতেই হবে। কত তুচ্ছ আমার এই প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, কত তুচ্ছ এর সমস্ত বাঁধা নিয়ম, বাঁধা অভ্যাস, বাঁধা বুলি, এর সমস্ত বাঁধা মার — কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দীনতার নাগপাশ বন্ধনেরই হবে জিত — আর হার হল তোমার নিজের সৃষ্টি ঐ আনন্দলোকের?

কিন্তু মৃত্যুর বাঁশি বাজাতে লাগল — কোথায় রে রাজমিস্ত্রির গড়া দেয়াল, কোথায় রে তোমাদের ঘোরো আইন দিয়ে গড়া কাঁটার বেড়া; কোন্‌ দুঃখে কোন্‌ অপমানে মানুষকে বন্দী করে রেখে দিতে পারে! ঐ তো মৃত্যুর হাতে জীবনের জয়পতাকা উড়ছে! ওরে মেজোবউ, ভয় নেই তোর! তোর মেজবউয়ের খোলস ছিন্ন হতে এক নিমেষও লাগে না।

তোমাদের গলিকে আর আমি ভয় করি নে। আমার সম্মুখে আজ নীল সমুদ্র, আমার মাথার উপরে আষাঢ়ের মেঘপুঞ্জ।

তোমাদের অভ্যাসের অন্ধকারে আমাকে ঢেকে রেখে দিয়েছিলে। ক্ষণকালের জন্য বিন্দু এসে সেই আবরণের ছিদ্র দিয়ে আমাকে দেখে নিয়েছিল। সেই মেয়েটাই তার আপনার মৃত্যু দিয়ে আবরণখানা আগাগোড়া ছিন্ন করে দিয়ে গেল। আজ বাইরে এসে দেখি, আমার গৌরব রাখবার আর জায়গা নেই। আমার এই আনাদৃত রূপ যাঁর চোখে ভালো লেগেছে, সেই সুন্দর সমস্ত আকাশ দিয়ে আমাকে চেয়ে দেখছেন। এইবার মরেছে মেজোবউ।

তুমি ভাবছ আমি মরতে যাচ্ছি– ভয় নেই, অমন পুরোনো ঠাট্টা তোমাদের সঙ্গে আমি করব না। মীরাবাঈও তো আমারই মতো মেয়েমানুষ ছিল– তার শিকলও তো কম ভারী ছিল না তাকে তো বাঁচবার জন্যে মরতে হয় নি। মীরাবাঈ তার গানে বলেছিল,’ছাড়ুক বাপ, ছাড়ুক মা, ছাড়ুক যে যেখানে আছে, মীরা কিন্তু লেগেই রইল, প্রভু– তাতে তার যা হবার তা হোক।’ এই লেগে থাকাই তো বেঁচে থাকা। আমিও বাঁচব। আমি বাঁচলুম।

তোমাদের চরণতলাশ্রয়ছিন্ন–

মৃণাল।

But I will not go back to your house at No 27 Makhan Boral Lane. I have seen Bindu and the way women are viewed in life. I do not need to see any more.

I have also seen that even although she was a woman, God did not abandon her. What ever power you all had over her was finite. She was greater than her accursed human life. You do not have the reach to crush her life for eternity under your feet as your will demands. Death is greater than you. There, in the embrace of Death, Bindu is not just a girl from a Bengali family, not just an ill treated cousin sister nor a betrayed wife of an insane man that we knew nothing about. There she is eternal.

The day that Death played his flute for the first time on the banks of the Yamuna of my life through the pain of that child’s broken heart; it pierced my soul. I asked my Fate why it was that the most ordinary of things was the hardest. Why did a tiny bubble of discontent spawned within the walled confines of this lane become such an obstacle? No matter how much your vast world beckons with the intoxicating beauty of its six seasons, why can I not cross that little threshold and step outside? Why do I have to spend this amazing gift of life within this wonderful world of yours behind such an insignificant hurdle, dying a little at a time as I must? How very contemptible is my daily life, how insignificant its routines, its habits, its rituals, its utterances, and even its deprivations – but still in the end, why must the serpentine coils of those restrictions win – and this world of happiness that you have created lose?

But the flute sang to me – where do these walls built by masons, where do the barbed wires of your domestic rules, what sorrow or insult has ever imprisoned  the human spirit. Look, there flies the pennant of Life in the grasp of Death. Second daughter in law, have no fear. It does not take a moment to shed the husk of your existence as a second daughter in law.

I do not fear your lane any more.  Before me stretches the blue ocean, above me a lies  a sky full of rain clouds.

The darkness of your customs had covered me. For a short while Bindu came and saw my worth through a rent in that cloak. She tore it off completely with her own death. Today I step outside to find there is hardly room enough to contain my pride. The Beautiful one who has liked this unloved form of mine surrounds me with his gaze from the skies above. Now the second daughter in law has died.

You think I am going to die, never fear, I would not dream of playing that old trick on you. Meerabai was a woman just like me – the chains that bound her were heavy indeed and yet she did not have to die in order to be released. She said in her song, ‘Let my father forsake me, let my mother, let everyone give up, but Meera stays with you. Lord Krishna – come what may.’

This staying on is what surviving is. I too will survive. in fact I have survived.

Sincerely

The one who is no more in need of shelter at your feet,

Mrinal.